প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
আহমদ ইবন সুলায়মান রাহাবী ও মূসা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলে শপথ করতেন তা ছিল, (لاَ وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ) না অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারীর শপথ।
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দ্বারা শপথ করতেন তা ছিল (لاَ وَمُصَرِّفِ الْقُلُوبِ) না, যিনি অন্তরসমূহকে ঘুরিয়ে দেন, তাঁর শপথ।
ইসহাক ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাত এবং জাহান্নাম সৃষ্টি করেন, তখন তিনি জিবরীল (আঃ)-কে এই বলে জান্নাতের দিকে পাঠান যে, জান্নাত এবং জান্নাতবাসীদের জন্য যা কিছু তাতে আমি প্রস্তুত করে রেখেছি, তা দেখে এসো। তিনি তা দেখে ফিরে এসে বললেনঃ আপনার পরাক্রমের শপথ! এই জান্নাতের কথা শুনতে পেলে কেউ তাতে প্রবেশ না করে ছাড়বে না। এরপর তাঁর আদেশে তা কষ্টকর ও অপছন্দনীয় বস্তু দ্বারা পরিবেষ্টন করা হলো। তারপর বললেন, সেখানে যাও এবং তা ও তার অধিবাসীদের জন্য যা প্রস্তুত করে রেখেছি তা দেখে এসো। তিনি গিয়ে লক্ষ্য করলেন যে, তা কষ্টদায়ক, মুসীবত ও অপছন্দনীয় বস্তু দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখা হয়েছে। তিনি বললেনঃ আপনার পরাক্রমের কসম! আমার আশংকা হচ্ছে যে, তাতে কেউ-ই প্রবেশ করবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ যাও জাহান্নাম এবং জাহান্নামবাসীদের জন্য আমি তাতে যা কিছু তৈরি করে রেখেছি, তা দেখে এসো। জিবরীল (আঃ) তার দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখলেন, তার এক অংশ অপর অংশের উপর চড়াও হচ্ছে। তিনি ফিরে এসে বললেনঃ আপনার পরাক্রমের শপথ! আমার আশংকা যে, এতে কেউ প্রবেশ করবে না। এরপর আল্লাহর আদেশে তাকে মুগ্ধকর বস্তু দ্বারা পরিবষ্টন করে দেয়া হলো। আল্লাহ্ বললেনঃ তুমি এখন গিয়ে তা দেখে এসো। তিনি গিয়ে দেখলেন যে, তাকে মুগ্ধকর বস্তু দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখা হয়েছে। তিনি ফিরে এসে বললেনঃ আপনার পরাক্রমের শপথ! এখন আমার আশংকা হচ্ছে যে, এতে প্রবেশ করা থেকে কেউ নাজাত পাবে না।
আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কারো শপথ করতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ না করে। কুরায়শ গোত্র তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।
উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ ও কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) .... সালিম (রহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উমর (রাঃ)-কে আমার পিতার কসম, আমার পিতার কসম! বলে শপথ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতাদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! এরপর আমি আর কখনও আমার পিতার নামে শপথ করিনি। নিজের থেকেও না এবং অন্য কারও থেকে বর্ণনাস্বরূপও না।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ ও সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এরপর থেকে আমি আর কখনও এরূপ শপথ করিনি; নিজের থেকেও ; অন্যের থেকে বর্ণনাস্বরূপও না।
আমর ইবন উসমান ইবন সাঈদ (রহঃ) .... উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রাঃ) বলেন, এরপর আমি আর কখনও এরূপ শপথ করিনি; নিজের থেকেও না এবং অন্যের থেকে বর্ণনাস্বরূপও না।
আবূ বকর ইবন আলী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বীয় পিতাদের, মাতাদের এবং মূর্তির নামে কসম করো না। কেবল আল্লাহর নামেই শপথ করবে। আর তোমরা শপথ করো না, যদি না তোমরা সত্যবাদী হও।
কুতায়বা ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) ... সাবিত ইবন যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের মিথ্যা শপথ করবে, সে ঐরূপই হবে, যেরূপ সে বলেছে। কুতায়বা (রহঃ) তার হাদীসে (مُتَعَمِّدًا) (ইচ্ছাকৃত) শব্দ উল্লেখ করেছেন, আর ‘ইয়াযীদ (كَاذِبًا) (মিথ্যা) শব্দ বলেছেন। আর যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করলো, আল্লাহ্ তা’আলা তাকে জাহান্নামের আগুনে ঐ বস্তু দ্বারা শাস্তি দিবেন।
মাহমূদ ইবন খালিদ (রহঃ) ... সাবিত ইবন যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের মিথ্যা শপথ করবে, সে ব্যক্তি ঐরূপ হয়ে যাবে, যেরূপ সে বলেছে। আর যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করবে, আখিরাতে তাকে ঐ বস্তু দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে।
হুসায়ন ইবন হুরায়স (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বললোঃ “ইসলামের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।” সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে সে যেমন বলেছে- তেমন, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে নিরাপদে ইসলামে ফিরে আসবে না। (অর্থাৎ গুনাহগার হবে)।
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ قُتَيْلَةَ، - امْرَأَةٌ مِنْ جُهَيْنَةَ - أَنَّ يَهُودِيًّا، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّكُمْ تُنَدِّدُونَ وَإِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ تَقُولُونَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ وَتَقُولُونَ وَالْكَعْبَةِ . فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا " وَرَبِّ الْكَعْبَةِ " . وَيَقُولُونَ " مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ " .
ইউসুফ ইন ঈসা (রহঃ) ... জুহায়না গোত্রের এক মহিলা থেকে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললোঃ আপনারা তো আল্লাহর সাথে শরীক ও তার সমকক্ষ স্থির করে থাকেন। আপনারা বলে থাকেনঃ যা আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন আর যা তুমি ইচ্ছা কর। আর আপনারা আরো বলে থাকেন, কাবার কসম! তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, যখন কসম করার ইচ্ছা করবে, তখন বলবেঃ কাবার রবের কসম! আরো বলবেঃ আল্লাহ্ যা চেয়েছেন। এরপর তুমি চেয়েছ।
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ أَنْبَأَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ وَلاَ بِالطَّوَاغِيتِ " .
আহমাদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের পিতাদের শপথ করো না; আর দেব-দেবীর কসমও করো না।
কাসীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাতের শপথ করে, সে যেন বলেঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্। আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলেঃ চল তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন কিছু সাদকা করে।
আবু দাউদ (রহঃ) ... মুসআব ইবন সা'দ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা কোন ব্যাপারে আলোচনা করছিলাম, আর আমি নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম। এক পর্যায়ে আমি লাত ও উযযার কসম করলাম। আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবী বললেনঃ তুমি অতি মন্দ কথা বলেছ। তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চল, তাঁকে এটা জানাও। আমরা মনে করি, তুমি কুফরী করেছ। আমি তাঁর নিকট এসে তাঁকে এ কথা জানালে তিনি আমাকে বললেন, তুমি তিনবার বলঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু”, আর শয়তান হতে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তিনবার আশ্রয় চাও এবং তোমার বামদিকে তিনবার থুথু ফেল। আর কখনও এরূপ কথা বলবে না।
আবু হুমায়দ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... মুসআব ইবন সা'দ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি লাত ও উযর শপথ করলাম। তখন আমার সাথীরা আমাকে বললোঃ তুমি বড় মন্দ কথা বললে। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তা বললে, তিনি বললেনঃ তুমি বলঃ “আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই।” আর তুমি তোমার বামদিকে তিনবার থুথু ফেল এবং আল্লাহর নিকট শয়তান হতে হতে আশ্রয় প্রার্থনা কর। আর কখনও এরূপ বলবে না।
মুহাম্মদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি কাজের আদেশ দিয়েছেন- জানাযার অনুগমন করার, রোগীকে দেখতে যাওয়ার, হাঁচির উত্তর দেয়ার, আমন্ত্রণ গ্রহণ করার, মযলুমের সাহায্য করার, কসম পূর্ণ করার এবং সালামের উত্তর দেয়ার।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ زَهْدَمٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا عَلَى الأَرْضِ يَمِينٌ أَحْلِفُ عَلَيْهَا فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَتَيْتُهُ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু মূসা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পৃথিবীর যে কোন বিষয়েই আমি শপথ করি; আর পরে তার বিপরীত বিষয়কে উত্তম দেখতে পাই, তখন আমি সেটাই করি।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ " وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ " . ثُمَّ لَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ فَأُتِيَ بِإِبِلٍ فَأَمَرَ لَنَا بِثَلاَثِ ذَوْدٍ فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ لاَ يُبَارِكُ اللَّهُ لَنَا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَحْمِلَنَا . قَالَ أَبُو مُوسَى فَأَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ بَلِ اللَّهُ حَمَلَكُمْ إِنِّي وَاللَّهِ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আশআরী সম্প্রদায়ের একদল লোকসহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বাহন চাওয়ার জন্য উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না এবং তোমাদেরকে দেব এমন কোন বাহনও আমার নিকট নেই। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, যেমন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। অতঃপর তার কাছে কিছু উট আসলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিনটি উট দেয়ার নির্দেশ দিলেন। যখন আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম, তখন আমাদের লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, এই সওয়ারীতে আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে বরকত দান করবেন না। কেননা যখন আমরা তার কাছে বাহন চাইবার জন্য উপস্থিত হই, তখন তিনি শপথ করে বলেনঃ আমি তোমাদেরকে সওয়ারী দেব না। আবু মূসা (রাঃ) বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এসে একথা উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে সওয়ারী দেইনি, বরং আল্লাহ্ তা'আলা তা তোমাদের দান করেছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যদি কোন বিষয়ের উপর শপথ করি, পরে অন্য বিষয়কে তার চেয়ে উত্তম দেখতে পাই, তখন আমি আমার শপথের কাফফারা আদায় করি এবং যেটা উত্তম সেটাই করি।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কিছুর শপথ করে, এরপর অন্য কিছুকে তার চাইতে উত্তম দেখতে পায়, তখন সে যেন নিজের কসমের কাফফারা দিয়ে দেয় এবং ঐ উত্তম কাজটি করে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন কিছুর শপথ করে, পরে সে অন্য কোন বস্তুকে তার চাইতে উত্তম দেখতে পায়, তখন সে যেন তার কসমের কাফফারা দিয়ে ঐ উত্তম কাজটি করে।
আহমদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... আব্দুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন তুমি শপথ করবে, তখন তুমি তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দেবে, এরপর যেটা উত্তম সেটা করবে।
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া কুতাঈ (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তুমি কোন কসম করবে, আর অন্য কোন বস্তু তা থেকে উত্তম দেখতে পাবে, তখন তুমি তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দেবে, আর যা উত্তম তা করবে।
ইসহাক ইবন মানসূর (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন বিষয়ে শপথ করে যদি অন্য কোন বিষয়কে তার চাইতে উত্তম দেখতে পায়; তবে সে যেন উত্তমকে গ্রহণ করে এবং পরে স্বীয় শপথের কাফফারা আদায় করে।
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে শপথ করে, তারপর অন্য বিষয়কে তার চাইতে উত্তম দেখতে পায়, সে যেন শপথ পরিত্যাগ করে উত্তমকে গ্রহণ করে এবং শপথের কাফফারা দিয়ে দেয়।
আমর ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কোন শপথ করার পর যদি অন্য কিছুকে তার চাইতে উত্তম দেখতে পায়, তবে সে যেন উত্তমকে গ্রহণ করে এবং শপথ ভঙ্গ করে।
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবু যার'আ (রহঃ) তাঁর চাচা আবুল আহওয়াস হতে, তিনি তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বললাম, এ বিষয়ে কী বলেন যে, আমি আমার চাচাত ভাইয়ের নিকট গিয়ে কিছু চাইলে সে আমাকে তা দেয় না এবং আত্মীয়তাও ঠিক রাখে না। কিন্তু তার কিছু প্রয়োজন হলে সে আমার নিকট এসে তা চায়। এজন্য আমিও শপথ করেছি যে, তাকে কিছুই দেব না এবং তার সাথে আত্মীয়তাও রক্ষা করবো না। তিনি আমাকে আদেশ করলেনঃ এখন তুমি যেটা উত্তম সেটা কর এবং তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দাও।
যিয়াদ ইবন আইয়ুব (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ যখন তুমি কোন শপথ করে অন্য বস্তুকে তা অপেক্ষা উত্তম দেখতে পাবে, তখন উত্তমটা করে ফেলবে এবং তোমার কসমের কাফফারা দিয়ে দেবে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যখন কোন শপথ করার পর অন্য কিছুকে তার চাইতে উত্তম দেখতে পাবে, তখন উত্তমটা করবে এবং নিজ শপথের কাফফারা দিয়ে দেবে।
মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যখন কোন কিছুর শপথ করার পর অন্য কিছুকে তার চাইতে উত্তম দেখতে পাবে, তখন ঐ উত্তমটা করবে এবং তোমার শপথের কাফফারা আদায় করবে।
ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন কিছুর মালিক নয়, ঐ বস্তুর মান্নত ও শপথ করতে পারবে না। আর গুনাহের কাজে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে শপথ হতে পারে না।
আহমাদ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে ইনশাআল্লাহ্ বলে, সে তা পূর্ণ করুক অথবা না করুক তার কাফারা দিতে হবে না।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নিয়্যতের উপর কাজের ফলাফল নির্ভর করে, যে যা নিয়্যত করে, সে তা-ই পাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তি পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য হিজরত করে, অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার নিয়্যতে হিজরত করে; সে যে নিয়্যতে হিজরত করে, তার হিজরত সে জন্যই হবে।
হাসান ইবন মুহাম্মদ যা’ফরানী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যয়নব বিনত জাহশের নিকট কিছুক্ষণ থাকতেন এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন। আমি এবং হাফসা পরামর্শ করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার নিকটই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনেন, সে যেন বলে, আপনার মুখ হতে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? এরপর তিনি আমাদের একজনের গৃহে আসলে তিনি তাকে তা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, বরং আমি যয়নব বিনতে জাহশের নিকট মধু পান করেছি। আমি আর কখনো তা পান করবো না; তখন অবতীর্ণ হয়ঃ (يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ) অর্থঃ হে নবী! আল্লাহ্ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? (৬৬ : ১)। (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ) অর্থঃ যদি তোমরা উভয়ে (আয়েশা ও হাফসা) অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। (৬৬ : ২) (وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ) অর্থঃ স্মরণ কর, নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। ...... (৬৬ : ৩), এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তিঃ “বরং আমি মধু পান করেছি”— সে সম্পর্কিত।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَيْتَهُ فَإِذَا فِلَقٌ وَخَلٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلْ فَنِعْمَ الإِدَامُ الْخَلُّ " .
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাঁর ঘরে ঢুকে দেখলাম, রুটির টুকরা এবং সিরকা রাখা হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ খাও, সিরকা উত্তম তরকারি।
আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... কায়স ইবন আবু গারাযা (রাঃ) বলেনঃ লোক আমাদেরকে দালাল বলতো। একদিন আমরা বেচাকেনা করছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে আগের নামের চাইতে উত্তম নামে আমাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ব্যবসায়ীর দল! ক্রয়-বিক্রয়ে অনেক সময় শপথ এবং মিথ্যা কথনও হয়ে যায়, (যদিও তোমরা অন্তরের সাথে তা বলো না)। অতএব তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে কিছু সাদকা মিলিয়ে নেবে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... কায়স ইবন আবু গারাযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকী নামক স্থানে ক্রয়-বিক্রয় করতাম। আমাদেরকে বলা হতো দালাল। এক সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ হে ব্যবসায়ীর দল! তিনি আমাদেরকে আমাদের পূর্ব নাম অপেক্ষা উত্তম নামে ডাকলেন। তিনি বললেনঃ এই ক্রয়-বিক্রয়ে শপথ ও মিথ্যা এসে যায়। অতএব তোমরা তাতে সাদকা মিলিয়ে নেবে।
মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... কায়স ইবন আবূ গারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসেন, তখন আমরা ছিলাম বাজারে। তিনি আমাদেরকে বললেনঃ এটা বাজার, এখানে মিথ্যা ও অপ্রয়োজনীয় কথাও হয়ে থাকে। অতএব তোমরা এতে কিছু সাদকা মিলিয়ে নাও।
আলী ইবন হুজুর ও মুহাম্মদ ইবন কুদামা (রহঃ) ... কায়স ইবন আবু গারাযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা মদীনায় ক্রয়-বিক্রয় করছিলাম। আমরা আমাদেরকে দালাল বলতাম এবং লোকেরাও আমাদেরকে দালাল বলতো। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে আমাদের এমন নামে ডাকলেন, যা ছিল আমরা আমাদেরকে এবং লোকেরা আমাদেরকে যে নামে ডাকতো, তা থেকে উত্তম। তিনি বললেনঃ হে ব্যবসায়ীর দল! তোমাদের ব্যাবসায়ে মিথ্যা এবং শপথ মিশ্রিত হয়ে থাকে। অতএব তোমরা এতে সাদকা মিশিয়ে নাও।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মান্নত করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি বলেছেনঃ তাতে মানুষের কোন লাভ হয় না। এর দ্বারা কৃপণের থেকে কিছু বের করা হয় মাত্র।
আমর ইবন মানসূর (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মান্নত করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেনঃ মান্নত কোন কিছুকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। এর দ্বারা কেবল কৃপণ হতে কিছু মাল বের করা হয়।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মান্নত কোন কিছুকে আগে বা পরে করতে পারে না। তা এমন বিষয়, যদ্বারা কৃপণ হতে কিছু মাল বের করা হয় মাত্র।
আবদুল্লাহ্ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মান্নত লোকের জন্য এমন কিছু আনতে পারে না, যা তার তাকদীরে নেই। তা এমন বিষয়, যা দ্বারা কৃপণের হাত হতে কিছু মাল বের করা হয় মাত্র।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَنْذِرُوا فَإِنَّ النَّذْرَ لاَ يُغْنِي مِنَ الْقَدَرِ شَيْئًا وَإِنَّمَا يُسْتَخْرَجُ بِهِ مِنَ الْبَخِيلِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মান্নত করো না। কেননা তা তাকদীরের বিপরীতে কোন কাজে আসে না। কিন্তু এর দ্বারা কৃপণ থেকে কিছু মাল বের হয়।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلاَ يَعْصِهِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কেউ মান্নত করে যে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে, তবে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যদি কেউ আল্লাহর নাফরমানী করার মান্নত করে, তবে সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে।
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যদি কেউ আল্লাহর আনুগত্য করার মান্নত করে, তবে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যদি কেউ আল্লাহর নাফরমানী করার মান্নত করে, তবে সে যেন তার নাফরমানী না করে।
মুহাম্মদ ইবন ‘আলা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কেউ আল্লাহর আনুগত্যের মান্নত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানী করার মান্নত করে, সে যেন তাঁর নাফরমানী না করে।
মুহাম্মদ ইন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে আমার সময়ের লোকই উত্তম, এরপর তারা, যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর তাদের পরবর্তী। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার স্মরণ নেই, তিনি তা দু’বার বলেছেন, না তিনবার। এরপর তিনি ঐসকল লোকের কথা বললেনঃ যারা খিয়ানত করে, আমানতদারী রক্ষা করে না। তারা সাক্ষ্য দেয়, অথচ তাদেরকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা হয় না; মান্নত করে অথচ মান্নত পূর্ণ করে না। আর তারা মোটা-তাজা হবে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ الأَحْوَلُ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ يَقُودُ رَجُلاً فِي قَرَنٍ فَتَنَاوَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَطَعَهُ قَالَ إِنَّهُ نَذْرٌ .
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন; যে অন্য একটি লোককে রশি দ্বারা বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তা ধরে কেটে ফেললেন। তখন সে ব্যক্তি বললোঃ সে ঐরূপ করার মান্নত করেছে।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAbu Ghuddah
SahihAl-Albani
HasanZubair Ali Zai
৯৬টির মধ্যে ৫০
৯৬টি বর্ণনা · নম্বর ৩৭৬১–৩৮৫৬
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।