প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি। বিশ্বকোষ যে হাদীস এই ভাষায় অনুবাদ করেনি, তার ইংরেজি দেখানো হয়েছে।
أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ سَيْفٍ قَالَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ حَضَرْنَا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَنَازَةَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِسَرِفَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذِهِ مَيْمُونَةُ إِذَا رَفَعْتُمْ جَنَازَتَهَا فَلاَ تُزَعْزِعُوهَا وَلاَ تُزَلْزِلُوهَا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ مَعَهُ تِسْعُ نِسْوَةٍ فَكَانَ يَقْسِمُ لِثَمَانٍ وَوَاحِدَةٌ لَمْ يَكُنْ يَقْسِمُ لَهَا .
আবু দাউদ সুলায়মান ইন সায়ফ (রহঃ) ... আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম ‘সারিফ, নামক স্থানে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ ইনি মায়মুনা (রাঃ)। তোমরা যখন তার জানাযা উঠাবে অধিক ঝাঁকুনী দেবে না এবং হেলাবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন, তিনি আট জনের জন্য সময় বন্টন করতেন, আর একজনের জন্য বন্টন করতেন না।
ইবরাহীম ইবন ইয়াকুব (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের সময় তাঁর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন, যাদের সাথে তিনি সংগত হতেন, সওদা (রাঃ) ব্যতীত। কেননা তিনি তাঁর দিন-রাত (-এর পালা) আয়েশা (রাঃ)-কে দান করেছিলেন।
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسًا، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ فِي اللَّيْلَةِ الْوَاحِدَةِ وَلَهُ يَوْمَئِذٍ تِسْعُ نِسْوَةٍ .
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাতে তাঁর সব সহধর্মিণীদের কাছে গমন করতেন। আর তখন তাঁর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ্ ইবন মুবারক মুখাররামী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সব মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তাঁদের নিজেদেরকে সমর্পণ করতেন। আমি তাঁদের এ কাজকে অসম্মানসূচক মনে করে বলতাম, কোন আযাদ মহিলা কি নিজেদেরকে সমর্পণ করতে পারেঅ্যা তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ অর্থঃ আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট থেকে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন। (সূরা আল-আহযাবঃ ৫১) তখন আমি বললামঃ আমি দেখছি, আপনার রব আপনার যা ইচ্ছা, তা দ্রুত পূর্ণ করেন।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইয়াযীদ মুকরী (রহঃ) ... সাহল ইবন সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উপস্থিত সাহাবীগণের মধ্যে ছিলাম। এ সময় একজন মহিলা বলে উঠলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমাকে আপনার জন্য দান করলাম, এখন এই ব্যাপারে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ একে আমার বিবাহে দান করুন। তিনি বললেনঃ যাও, একটি লোহার আংটি হলেও তা দ্বারা একে গ্রহণ কর। সে ব্যক্তি গেল কিন্তু কিছুই পেল না, একটি লোহার আংটিও না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি কুরআনের কোন সূরা থেকে কিছু মুখস্থ আছে? সে ব্যক্তি বললোঃ হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তখন কুরআনের সূরা থেকে যে অংশ তার মুখস্থ ছিল, এর সম্মানার্থে তাঁর কাছে বিবাহ দিলেন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ أَعْيَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَهَا حِينَ أَمَرَهُ اللَّهُ أَنْ يُخَيِّرَ أَزْوَاجَهُ - قَالَتْ عَائِشَةُ - فَبَدَأَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تُعَجِّلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِي أَبَوَيْكِ " . قَالَتْ وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَىَّ لاَ يَأْمُرَانِّي بِفِرَاقِهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ } فَقُلْتُ فِي هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَىَّ فَإِنِّي أُرِيدُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ .
মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন খালিদ নিশাপূরী (রহঃ) ... আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান (রহঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সহধর্মিণীগণের ইচ্ছা জানার আদেশ করলেন, আয়েশা (রাঃ) বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দিয়েই আরম্ভ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমার নিকট একটি কথা বলব, কিন্তু তুমি সে ব্যাপারে তোমার মাতাপিতার পরামর্শ গ্রহণের পূর্বে হঠাৎ সে সম্বন্ধে মতামত প্রকাশ করবে না। কারণ তিনি জানতেন, আমার মাতাপিতা তার কাছ থেকে বিচ্ছেদের অনুমতি আমাকে দেবেন না, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিণীদেগকে বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন এবং এর সাজসজ্জা কামনা কর; তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দেই। (সূরা আল-আহযাবঃ ২৮) আ মি বললামঃ এ ব্যাপারে আমি আমার পিতামাতার নিকট পরামর্শ করব? আমি তোমরা আল্লাহ্, আল্লাহর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি।
أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ الْعَسْكَرِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَدْ خَيَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ أَوَكَانَ طَلاَقًا .
বিশর ইবন খালিদ আসকারী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদেরকে তাঁর নিকট থাকবে কি থাকবে না- সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দিলেও এতে তাঁরা তালাক হননি।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ يَكُنْ طَلاَقًا .
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইখতিয়ার দিলে আমরা তাঁকেই গ্রহণ করলাম এবং তা তালাক বলে গণ্য হয়নি।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أُحِلَّ لَهُ النِّسَاءُ .
মুহাম্মদ ইন মানসূর (রহঃ) ... আতা (রহঃ) বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন নি, যে পর্যন্ত না তার জন্য হালাল করা হয়েছে মহিলাদের মধ্যে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকে গ্রহণ করার।
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পূর্বে আল্লাহ তাআলা তার জন্য হালাল করে দিয়েছিলেন যাকে ইচ্ছা তিনি মহিলাদের মধ্য থেকে বিবাহ করতে পারবেন।
আমর ইবন যুররা (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, আমি ইবন মাসউদ (রাঃ) এর সঙ্গে উসমান (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তখন উসমান (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন- অর্থাৎ কয়েকজন যুবকদের নিকট। আবূ আব্দুর রহমান বলেন, আমি দ্বারা কাদের বুঝানো হয়েছে, তা বুঝতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ধনবান হয়, সে যেন বিবাহ করে। কেননা, তা চক্ষু সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে ব্যক্তি ধনবান না হয়, তার রোযা তার কামভাবের নিয়ন্ত্রক।
বিশর ইবন খালিদ (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ)-কে বললেনঃ তোমার কি কোন স্ত্রীলোকের কথা জানা আছে, আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দেব। তখন আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) আলকামা (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষু সংযত করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার ক্ষমতা নেই সে যেন রোযা রাখে, তা-ই তার জন্য কামক্ষুধার নিয়ন্ত্রক।
হারূন ইবন ইসহাক হামদানী আল কূফী (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ রাখে, সে যেন বিবাহ করে; আর যে ব্যক্তি অসমর্থ, সে যেন রোযা রাখে। ইহা তার যৌন শক্তির নিয়ন্ত্রক। আবু আব্দুর রহমান বলেনঃ এ হাদীসের আসওয়াদ বর্ণনাকারী মাহফুজ নয়।
মুহাম্মাদ ইন মানসূর (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেনঃ হে যুবক দল! তোমাদের মধ্যে যে খরচ বহন করতে সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা তা চক্ষু সংযতকারী এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। আর যে অসমর্থ, সে যেন রোযা রাখে; রোযা তার যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রক।
মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে খরচাদি বহন করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে। অনুরূপ পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করলেন।
আহমদ ইবন হারব (রহঃ) ... আলকামা (রহঃ) বলেন, আমি মিনায় আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তাঁর সাথে উসমান (রাঃ)-এর সাক্ষাত হলো, তিনি তার নিকট দাঁড়িয়ে তাকে বলতে লাগলেনঃ হে আবু আব্দুর রহমান! আমি কি তোমাকে একজন যুবতী মেয়ে বিবাহ করাব? হয়তো তার সংস্পর্শে তোমার বিগত যৌবনের কিছুটা ফিরিয়ে দেবে। আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, তুমি তো একথা বললে, অথচ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেগকে বলেছেনঃ হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের খরচাদির সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ لَقَدْ رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عُثْمَانَ التَّبَتُّلَ وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لاَخْتَصَيْنَا .
মুহাম্মদ ইবন উবায়দ (রহঃ) ... সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উছমান ইবন মাউনকে চির কুমার অর্থাৎ খাসি হতে নিষেধ করেছেন, তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরা খাসি হয়ে যেতাম।
ইসহাক ইন ইবরাহীম (রহঃ) ... সামুরা ইবন জুন্দুব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামহতে বর্ণনা করেন যে, তিনি চির কৌমার্য হতে নিষেধ করেছেন। আবূ আব্দুর রহমান বলেন, কাতাদা (রহঃ) আশআস (রহঃ) হতে সঠিক স্মরণ শক্তির অধিকারী। আর আশআস (রহঃ)-এর হাদীস অত্যধিক বিশুদ্ধ। মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ... আবু সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একজন যুবক ব্যক্তি। আমি ব্যভিচারের ভয় করি, আমার ব্যাপারে। অথচ বিবাহের খরচ বহনের সামর্থ্যও আমার নেই। আমি কি খাসি হয়ে যাব? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনবার এমন জিজ্ঞাসা করার পর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ হুরায়রা! তোমার ভবিষ্যৎ কর্ম সম্বন্ধে লিখিত হয়ে গেছে, এখন তুমি ইচ্ছা হয়, খাসি হতে পার বা তা পরিত্যাগ করতে পার। আবু আব্দুর রহমান (রহঃ) বলেন, আওযায়ী (রহঃ) এ হাদীস যুহরী (রহঃ) হতে শ্রবণ করেননি। এ হাদীসটি সহীহ। এ হাদীসটি ইউনুস (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ খালানজী (রহঃ) ... সা'দ ইবন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমি আপনাকে কৌমার্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তিনি বললেনঃ তা করো না। তুমি কি শ্রবণ করনি যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً অর্থঃ আর আমি আপনার পূর্বেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে ছিলাম। (সূরা আর-রা'দঃ ৩৮)।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) বলেন, সাহাবায়ে কিরাম এর একদলের কেউ কেউ বললোঃ আমি স্ত্রী গ্রহণ করবো না, কেউ বললেনঃ আমি আহার করবো না। আর কেউ বললোঃ আমি বিছানায় শয়ন করবো না। আবার কেউ বললো এমন রোযা রাখব, আর কখনও রোযা ভঙ্গ করবো না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শ্রবণ করে আল্লাহর প্রশংসা করে বললেনঃ এ সকল দলের কি হলো-যারা এমন এমন কথা বলে! কিন্তু আমি (রাত্রির) কিছু অংশে নামায পড়ি, আবার নিদ্রা যাই; রোযা রাখি আবার রোযা ভঙ্গ করি এবং স্ত্রী গ্রহণ করি, যে আমার সুন্নত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকারের লোক যাদের প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে, আল্লাহ অবশ্য তাদের সাহায্য করবেন; যে মুকাতাব দাস কিতাবাতের অর্থ আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করে, যে বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচার হতে রক্ষা পেতে চায় এবং আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।
কুতায়বা (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, বিবাহ করার পর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আগমন করলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললামঃ জি হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কুমারী, না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কুমারী কেন বিবাহ করলে না, যে তোমার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতো, আর তুমি তার সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করতে।
হাসান ইন্ধন কাযা'আ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে আমার দেখা হলে তিনি বললেনঃ হে জাবির! আমার অজ্ঞাতে তুমি কি স্ত্রী গ্ৰহণ করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ কুমারী না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কেন কুমারী বিবাহ করলে না, তাহলে সে তোমার সাথে ক্ৰীড়া-কৌতুক করতো
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضى الله عنهما فَاطِمَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا صَغِيرَةٌ " . فَخَطَبَهَا عَلِيٌّ فَزَوَّجَهَا مِنْهُ .
হুসায়ন ইবন হুরায়াছ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, আবু বকর এবং উমর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-এর বিবাহের পয়গাম পাঠালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে তো অল্প বয়স্ক। এরপর আলী (রঃ) প্রস্তাব করলে তিনি তাঁর সাথে বিবাহ দিলেন।
কাছীর ইবন উবায়দ (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উতবা (রহঃ) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন উসমান, মারওয়ানের খেলাফতকালে বিনতে সাঈদ ইবন যায়দকে তিন তালাক দিলেন, অথচ তিনি ছিলেন তখন একজন পূর্ণ যুবক। আর বিনতে সাঈদ-এর মাতা ছিলেন বিনতে কায়স। তার খালা ফাতিমা বিনতে কায়স তার নিকট সংবাদ পাঠালো, সে যেন আব্দুল্লাহ্ ইবন আমরের ঘর হতে পৃথক হয়ে যায়। মারওয়ান এ খবর শুনে বিনতে সাঈদ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে আদেশ করলো, সে যেন তার ঘরে প্রত্যাবর্তন করে, এবং তাকে প্রশ্ন করলো, সে ইতিপূর্বে তার ঘরে থাকা অবস্থায় তাকে কিসে তার ঘর হতে বের করলো। ঘরে থেকে ইদ্দত কেন পূর্ণ করলো না? সে খলিফার নিকট সংবাদ পাঠালো, তার খালা তাকে এ আদেশ করেছেন। ফাতিমা বিনতে কায়স মনে করলেন, সে আবু আমর ইবন হাফসের বিবাহে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)-কে ইয়ামনে গর্ভনর করে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁর সাথে গিয়েছিলেন, সেখান হতে তিনি তাঁর নিকট এক তালাক পাঠালেন, যা ছিল তাঁর অবশিষ্ট তালাক এবং হারিছ ইবন হিশাম এবং আইয়াশ ইবন আবী রবীআকে তার খোরপোষ দিয়ে দিতে আদেশ করলেন। ফাতিমা হারিছ এবং আইয়াশ-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তার স্বামী তাদেরকে যে খোরপোষ দিতে বলেছিলেন, তা চেয়ে পাঠালেন। তাঁরা উভয়ে বললেনঃ আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট তার কোন খোরপোষ নেই; তবে যদি সে গর্ভবতী হয়। আর তার আমাদের ঘরে থাকার কোন অধিকার নেই, আমাদের অনুমতি ব্যতীত। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে গমন করে তা বর্ণনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হারিছ এবং আইয়াশ এর কথাই বিশ্বাস করলেন। তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেনঃ তুমি ইবন উম্মে মাকতুম, যাকে আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় কিতাবে 'অন্ধ' বলেছেন, তাঁর নিকট থাক। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তার নিকটই ইদ্দত পূৰ্ণ করলাম। তিনি ছিলেন দৃষ্টি শক্তিহীন ব্যক্তি। আমি তাঁর ঘরে আমার কাপড় খুলে রাখতাম। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উসামা ইবন যায়ীদ-এর নিকট বিবাহ দিলেন, মারওয়ান ইহা অবিশ্বাস করলেন। তিনি বললেন, তোমার পূর্বে এ হাদীস আমি কারও নিকট শ্রবণ করিনি। এ ব্যাপারে লোককে যা করতে দেখেছি, আমি সে ফয়সালা করবো। (সংক্ষিপ্ত)
ইমরান ইবন বাক্কার ইবন রাশিদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) বলেন, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন ঐ সকল লোকের মধ্যে যারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সালিম নামে এক ব্যক্তিকে পুত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন এবং তার সাথে তার ভ্রাতৃকন্যা হিন্দা বিনতে ওয়ালীল ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস-এর বিবাহ দেন। আর সে ছিল এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ-কে ছেলে হিসাবে গ্ৰহণ করেছিলেন। জাহিলী যুগে নিয়ম ছিল, যদি কেউ কাউকেও পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতো, লোক তাকে তার ছেলে বলেই ডাকতো এবং এ ছেলে ঐ লোকের ওয়ারিস হতো। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ অর্থঃ তোমরা তাদের ডাক তাদের পিতৃ-পরিচয়ে, ইহা আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সঙ্গত; যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই এবং বন্ধু। (সূরা আহযাবঃ ৫)। এরপর যার পিতৃ পরিচয় না থাকতো, সে বন্ধু বা ধৰ্মীয় ভাই হিসেবে পরিগণিত হতো। (সংক্ষিপ্ত)
মুহাম্মদ ইবন নাসর (রহঃ) ... রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস ছিলেন। ঐ সকল লোকদের একজন, যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন, তিনি সালিম নামক এক ব্যক্তিকে পুত্ৰ বানিয়ে নেন। আর সালিম ছিলেন এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ ইবন হারিছাকে পোষ্যপুত্র হিসাবে গ্রহণ করে ছিলেন। আবু হুযায়ফা ইবন উতবা তার ভাতিজি হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ইবন রবীআ-কে তার সাথে বিবাহ দিলেন। হিন্দা বিনত ওয়ালীদ ইবন উতবা ছিলেন প্রথম হিজরতকারিণীদের মধ্যে উত্তম। এরপর আল্লাহ্ তাআলা যখন যায়দ ইবন হারিছা সম্বন্ধে আয়াত নাযিল করলেনঃ ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ তখন প্রত্যেকেই স্বীয় পোষ্যপুত্ৰকে তার পিতার দিকে প্রত্যাবর্তিত করলো। যদি তাঁর পিতার নাম জানা না থাকতো, তা হলে তাকে ধর্মীয় ভাই হিসেবে গণ্য করা হতো।
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَحْسَابَ أَهْلِ الدُّنْيَا الَّذِي يَذْهَبُونَ إِلَيْهِ الْمَالُ " .
ইবন বুরায়দা (রহঃ) ... তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াদারদের বংশ মর্যাদা গণনা করা হয় সম্পদ দিয়ে।
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... জাবির (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় এক মহিলাকে বিবাহ করলেন। তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে জাবির, তুমি কি বিবাহ করেছো? তিনি বলেন, আমি বললামঃ জ্বি, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কুমারী, না বিবাহিতা? আমি বললামঃ বরং বিবাহিতা। তিনি বললেনঃ কেন একজন কুমারীকে বিবাহ করলে না, যে তোমার সাথে মন মাতানো ব্যবহার করতো? তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কয়েকজন বোন রয়েছে, আমর ভয় হলো, সে আমার এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি করবে। তিনি বললেনঃ তা হলে তাই ভাল। মহিলাদেরকে তাদের ধর্ম, সম্পদ, এবং সৌন্দর্যের উপর বিবাহ করা হয়ে থাকে। অতএব তুমি ধাৰ্মিক মেয়ে বিবাহ করবে। আল্লাহ ভাল করুন।
আব্দুর রহমান ইবন খালিদ (রহঃ) ... মা'কাল ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আরয করলোঃ আমি এমন এক মহিলার সন্ধান পেয়েছি, যে বংশ গৌরবের অধিকারিণী ও মর্যাদাবান, কিন্তু সে বন্ধ্যা, আমি কি তাকে বিবাহ করবো? তিনি তাকে নিষেধ করলেন। দ্বিতীয় দিন তাঁর নিকট আসলে তিনি নিষেধ করলেন। এরপর তৃতীয় দিন তাঁর খেদমতে আসলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ তোমরা অধিক সন্তান প্রসবা নারীকে বিবাহ করবে, যে তোমাদেরকে ভালবাসবে। কেননা, আমি তোমাদের দ্বারা সংখ্যাধিক্য লাভ করবো।
ইবরাহীম ইবন মুহাম্মদ তায়মী (রহঃ) ... আমর ইবন শুআয়ব তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, মরছাদ ইবন আবু মরছাদ গানবী (রহঃ) নামক এক ব্যক্তি ছিল খুব শক্তিশালী। সে মক্কা হতে মদীনায় কয়েদী বহন করতো। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে বহন করার জন্য ডাকলাম। মক্কায় এক দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোক ছিল— যার নাম ছিল আনাক। এ মহিলা ঐ ব্যক্তির প্ৰেমিকা ছিল। সে বের হয়ে দেওয়ালের ছায়ায় আমার কায়া দেখে বললোঃ এ ব্যক্তি কে? মরছাদ নাকি? তোমাকে মোবারকবাদ! হে মরছাদ! চল আজ রাত আমাদের নিকট অতিবাহিত কর, আমাদের মনযিলে। আমি বললামঃ হে আনাক! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যভিচার হারাম করেছেন। সে বলে উঠলোঃ হে তাঁবুবাসীগণ! এ দুলদুল যে তোমাদের কয়েদীকে বহন করে মক্কা হতে মদীনায় নিয়ে যায়। এরপর আমি 'খানদামা' নামক পাহাড়ে আশ্রয় নিলাম। আমাকে আটজন লোক তালাশ করতে এসে তারা আমার মাথার উপর দাঁড়িয়ে পেশাব করে দিল। তাদের পেশাব আমার গায়ে পড়লো। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে আমাকে দেখা হতে অন্ধ করে দিলেন। আমি আমার সাথীর নিকট এসে তাকে বহন করে যখন “আরাক’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন তার বেড়ী হতে রেহাই পেলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে পৌঁছে আরয করলামঃ আমি কি আনাক-কে বিবাহ করবো? তিনি নিশ্চুপ থাকলেন। তখন নাযিল হলোঃ الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ অর্থঃ আর ব্যভিচারিণী তাকে ব্যভিচার অথবা মুশরিক ব্যতীত কেউ বিবাহ করে না। (সূরা আন-নূরঃ ৩) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে একথা শুনিয়ে বললেনঃ তুমি তাকে বিবাহ করো না।
মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল করীম তা ইবন আব্বাস (রাঃ) পর্যন্ত মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন, আর হারূন তা মারফুরূপে বর্ণনা করেন নি। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমার এক স্ত্রী রয়েছে যে আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়, কিন্তু কোন স্পর্শকারীর হাত ফেরায় না। তিনি বললেনঃ তাকে তালাক দাও। সে বললোঃ আমি তার বিরহ বেদনা সহ্য করতে পারব না। তিনি বললেনঃ তা তাকে রেখে দাও। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, এ হাদীস ঠিক নয়। আবদুল করীম মযবুত রাবী নয়। আর হারূন ইবন রিয়াব তা হতে বিশ্বাসযোগ্য এবং তার হাদীস বিশুদ্ধতার নিকটবর্তী আবদুল করীমের হাদীস হতে।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহিলাদেরকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়, তার মাল সম্পদ, বংশ গৌরব, সৌন্দর্য এবং ধর্ম দেখে। তুমি ধাৰ্মিক নারীকে বিবাহ করে উপকৃত হও।
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন মহিলা উত্তম? তিনি বললেনঃ যে মহিলার প্রতি দৃষ্টিপাত স্বামীকে সন্তুষ্ট করে। সে আদেশ করলে তা সম্পন্ন করে, এবং তার বাড়ীর ও তার মালের ব্যাপারে যা অপছন্দ করে, সে তার বিরোধিতা করে।
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সমগ্ৰ পৃথিবী মানুষের ভোগ্য-বস্তু, আর পৃথিবীন্থ ভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো পুণ্যবতী স্ত্রী।
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি আনসারী মহিলাদের বিবাহ করবো না? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে অত্যধিক আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে।
আবদুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি এক আনসারী মহিলাকে বিবাহের পয়গাম দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি তাকে দেখেছো? সে ব্যক্তি বললোঃ না। এরপর তিনি তাকে দেখার আদেশ করলেন।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ خَطَبْتُ امْرَأَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا " . قُلْتُ لاَ . قَالَ " فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا " .
মুহাম্মদ ইবন আবদুল আযীয ইবন আবু রিযমা (রহঃ) ... মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমি এক মহিলাকে বিবাহ করার পয়গাম দিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে দেখে নাও। কেননা, এতে তোমাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক গভীর হবে।
উবায়দুল্লাহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবাহ করেন শাওয়াল মাসে এবং শাওয়াল মাসেই আমাদের বাসর হয়। আর আয়েশা (রাঃ) শাওয়ালে মহিলাদের বাসর হোক এটা পছন্দ করতেন। তিনি বলতেনঃ তার কোন স্ত্রী, তাঁর নিকট আমার চাইতে অধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত?
আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম (রহঃ) ... আমির ইবন শারাহীল শাবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)-কে, যিনি প্রথম মহিলা হিজরত কারাণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বলতে শুনেছেন, আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর মধ্যে আমার বিবাহের পয়গাম দিলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ক্রীতদাস উসামা ইবন যায়দ-এর জন্যও আমার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকে ভালবাসে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমার সাথে কথা বললেন, তখন আমি বললামঃ আমার ব্যাপার আপনার ইখতিয়ারে। আপনি যার সাথে ইচ্ছা আমার বিবাহ দিতে পারেন। তিনি বললেনঃ তুমি উম্মে শরীকের নিকট যাও। উম্মে শরীক সম্পদশালীণী আনসার মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় অত্যধিক দানকারীণী। তার নিকট বহু অতিথি মেহমানের সমাগম হয়ে থাকে। আমি বললামঃ আচ্ছা আমি তাই করব। পরে তিনি বললেনঃ না, তার নিকট যেও না, কারণ উম্মে শরীকের নিকট বহু মেহমানের সমাগম ঘটে। হয়তো তোমার উড়না পড়ে যাবে। অথবা তোমার কাপড় সরে যাবে তোমার পায়ের গোছা হতে, আর লোকেরা তোমার এমন স্থান দেখে ফেলবে, যা তুমি দেখাতে চাও না। আর এটা আমার পছন্দ হয় না। তাই তুমি তোমার চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট যাও। সে বনী ফিহরের লোক। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। (সংক্ষিপ্ত)
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبْ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ بَعْضٍ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন অন্যের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ مُحَمَّدٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنَاجَشُوا وَلاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلاَ يَبِعِ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلاَ يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلاَ تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَكْتَفِئَ مَا فِي إِنَائِهَا " .
মুহাম্মদ ইবন মানসূর ও সাঈদ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা একজনের দামের উপর বাড়িয়ে দাম বলবে না। আর কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পক্ষে বিক্ৰী করবে না, একজনের খরিদ করার উপর অন্যজন খরিদ করার প্রস্তাব দিবে না। আর এক ভাইয়ের বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের প্রস্তাব দিবে না। আর কোন স্ত্রীলোক যেন তার (দীনী) বোনের তালাক না চায়, তার পাত্রে যা আছে তা নিজে ভোগ করার মানসে।
হারূন ইবন আবদুল্লাহ ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়।
ইউনুস ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়, যে পর্যন্ত সে বিবাহ করে কিংবা ছেড়ে যায়।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبْ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি যেন তার অন্য ভাই-এর বিবাহের পয়গামের উপর বিবাহের পয়গাম না দেয়।
ইবরাহীম ইবন হাসান (রহঃ) ... ইবন জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি নাফি (রহঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ কারও খরিদ করার উপর অন্য কারোর খরিদ করার প্রস্তাব দিতে এবং একজনের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যজনের প্রস্তাব দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যে পর্যন্ত না ঐ প্রথম প্রস্তাবক ছেড়ে যায় অথবা তাকে অনুমতি দেয়।
হাজিব ইবন সুলায়মান (রহঃ) ... হারিছ ইবন আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন সাওবান (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, তারা উভয়ে ফাতিমা বিনতে কায়সকে তার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেনঃ আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়। সে আমাকে কিছু খোৱাক দিত। আমি বললামঃ আল্লাহর কসম যদি খোরাক ও থাকার বাসস্থান আমার প্রাপ্য হয়ে থাকে, তবে আমি তা চাইব। আমি ইহা গ্রহণ করব না। উকিল বললোঃ তোমার জন্য কোন খোরাক ও থাকার ঘর নেই। তখন আমি বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইহা জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য খোরাক ও বাসস্থান নেই, তুমি অমুক স্ত্রীলোকের কাছে থেকে ইদ্দত পালন কর। সে বললোঃ তার নিকট তার সাথীরা আসা-যাওয়া করে। এরপর তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি উম্মে মাকতুমের নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। কেননা সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেন, আমি হালাল হয়ে তাকে সংবাদ দিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কে কে তোমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে? আমি বললামঃ মুআবিয়া এবং অন্য একজন কুরায়শী ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুআবিয়া তো কুরায়শী যুবকদের মধ্যে একজন যুবক, তার কোন সম্পদ নেই। আর অন্য ব্যক্তি একজন মন্দ লোক, তার মধ্যে কোন মঙ্গল নেই; বরং তুমি উসামাকে বিবাহ কর। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ আমি তা পছন্দ করলাম না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তিনবার বললেন। এরপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।
মুহাম্মদ ইবন সালামা এবং হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ) বলেন, আবু আমর ইবন হাফস তাকে তিন তালাক দিয়ে ফেললেন, আর তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। তিনি তার উকিলকে কিছু যব দিয়ে তার নিকট পাঠালেন। কিন্তু ফাতিমা এতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমাদের উপর তোমার কোন পাওনা নেই। ফাতিমা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এসে এসকল কথা ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, তোমার কোন খোরাক পাওনা নেই। তিনি তাকে উম্মে শরীকের ঘরে থেকে ইদত পূর্ণ করতে আদেশ করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ ঐ মেয়ে লোক এমন যার কাছে আমার সাহাবীগণ বেশি যাতায়াত করে। বরং তুমি ইবন উম্মে মাকতুম-এর নিকট থেকে ইদ্দত পূৰ্ণ কর। সে একজন অন্ধ ব্যক্তি। তুমি তোমার উত্তম কাপড়-চোপড় খুলে রাখবে। যখন তুমি ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আমাকে সংবাদ দেবে। ফাতিমা (রাঃ) বলেনঃ যখন আমি ইদ্দত পূর্ণ করলাম, তখন তার নিকট বললামঃ মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান এবং জাহাম আমার বিবাহের পয়গাম দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আবু জাহাম তো এমন ব্যক্তি, যে কখনও স্কন্ধ হতে লাঠি নামিয়ে রাখে না। অর্থাৎ সে স্ত্রীকে কষ্ট দেয়। আর মুআবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোন মাল-সম্পদ নেই। আমি তা অপছন্দ করলাম। তিনি পুনরায় বললেন উসামা ইবন যায়দকে বিবাহ কর । এরপর "আমি তাকে বিবাহ করলাম। আল্লাহ তাতে মঙ্গল দান করলেন। তাকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAbu Ghuddah
SahihAl-Albani
HasanZubair Ali Zai
১৯৩টির মধ্যে ৫০
১৯৩টি বর্ণনা · নম্বর ৩১৯৬–৩৩৮৮
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।