প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হানযালী, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিমরা মদীনায় আসার পর একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করতেন। এজন্যে কেউ আযান দিত না। একদিন ব্যাপারটি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করল। তাদের একজন বলল, নাসারাদের নাকুসের অনুরূপ একটি নাকুস (ঘন্টা) ব্যবহার কর। তাদের অপরজন বলল, ইয়াহুদীদের শিঙ্গার অনুরূপ একটি শিঙ্গা ব্যবহার কর। উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমরা সালাতের জন্যে ডাকতে একটি লোক পাঠাও না কেন? রাসূলুল্লাহ বললেন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হে বিলাল! উঠো এবং সালাতের জন্যে ডাক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাতের শব্দ বেজোড় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইয়াহইয়া তার বর্ণনায় ইবনু উলাইয়্যাহ এর সূত্রে বলেছেন, তিনি আইয়ূব এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেন, কিন্তু 'কাদ্কা- মাতিস্ সলা-হ্' শব্দটি ব্যতীত (এটি দু'বার বলবে) বাকী শব্দগুলো একবার করে বলবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (লোকেদের) সালাতের সময় জানানোর উদ্দেশে একটা কিছু নির্দিষ্ট করার জন্যে সাহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করলেন। তারা বললেন, আগুন জ্বালানো হোক অথবা নাকুস (ঘণ্টা) বাজানো হোক। বিলালকে আযানের শব্দগুলো দু’বার এবং ইকামাতের শব্দগুলো একবার করে উচ্চারণ করার নির্দেশ দেয়া হল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... খালিদ আল হাযযা হতে উল্লেখিত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন লোকসংখ্যা বেড়ে গেল, সাহাবাগণ সালাতের সময় জানানোর একটি উপায় খুঁজে বের করার জন্যে পরস্পর আলোচনা করলেন ..... অতঃপর সাকাকী-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। এ বর্ণনায় أَنْ يُنَوِّرُوا نَارًا শব্দের পরিবর্তেأَنْ يُورُوا نَارًا শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে। (অর্থাৎ "আগুন জ্বালানো হোক" উভয় শব্দের অর্থ একই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) কে আযান জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাত বেজোড় সংখ্যায় বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, মালিক ইবনু আবদুল ওয়াহিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ মাহযুরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এ আযান শিক্ষা দিয়েছেনঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" (আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান)। পাঠে (চারবার)। "আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই), "আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই)। "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল), "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল)। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ", "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ-" দু'বার। "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" (সালাতের জন্যে এসো) দু'বার। "হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ" (কল্যাণের জন্যে এসো) দু'বার। ইসহাক তার বর্ণনায় আরো দুটি বাক্য উল্লেখ করেছেন, "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" এবং “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ يُؤَذِّنُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَعْمَى .
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু মাকতুম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মতিতে আযান দিতেন। তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২৯, ইসলামিক সেন্টারঃ ৭৪৪)।
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُغِيرُ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ وَكَانَ يَسْتَمِعُ الأَذَانَ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِلاَّ أَغَارَ فَسَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَى الْفِطْرَةِ " . ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَرَجْتَ مِنَ النَّارِ " . فَنَظَرُوا فَإِذَا هُوَ رَاعِي مِعْزًى .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রভাতে শক্রর উপর আক্রমণ করতেন। তিনি আযানের শব্দ শুনার জন্যে কান পেতে অপেক্ষায় থাকতেন। তিনি আযান শুনতে পেলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন, অন্যথায় আক্রমণ করতেন। তিনি এক ব্যক্তিকে "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" বলতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এ ব্যক্তি মুসলিম। সে পুনরায় বলল, "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেলে। অতঃপর লোকটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলেন, সে মেষপালের রাখাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদুল্লাহ বিন ’আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা, ওসীলাহ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওসীলাহ প্রার্থনা করবে তার জন্যে (আমার) শাফাআত অর্জন হয়ে যাবে”।
ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার" বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। যখন মুওয়াযযিন বলে "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সেও বলেঃ "আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা আলাস সলা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ "হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ "আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার" এর জবাবে সে বলেঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার"। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" এর জবাবে সে বলেঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ"। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান সালাতের আযানের শব্দ শুনে পালাতে পালাতে রাওহা পর্যন্ত চলে যায়। সুলাইমান (আমাশ) বলেন, আমি তাকে (আবূ সুফইয়ানকে) রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ স্থানটি মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ শয়তান যখন সালাতের আযান শুনতে পায় তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে যেন আযানের শব্দ তার কানে পৌঁছতে না পারে। মুওয়াযযিন যখন আযান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীর) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামাত শুনতে পায় আবার চলে যায় যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীদের অন্তরে) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ حُصَاصٌ " .
আবদুল হামীদ ইবনু বায়ান আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন আযান দেয় তখন শইতান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উমাইয়্যাহ্ ইবনু বিসতাম (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বানু হারিসাহ গোত্রের কাছে পাঠালেন। রাবী বলেন, আমার সাথে একটি বালক অথবা আমার এক সাথী ছিল। একটি বাগানের ভিতর থেকে তার নাম ধরে কে যেন তাকে ডাকল। আমার সাথী বাগানের মধ্যে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। আমি এ ঘটনা আমার পিতার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আমি যদি জানতে পারতাম যে তুমি এমন অবস্থার মুখামুখি হবে তবে তোমাকে পাঠাতাম না, কিন্তু যখন তুমি সেরূপ কোন শব্দ শুনতে পাও তখন সালাতের অনুরূপ আযান দিবে। কেননা আমি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয় শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যখন সালাতের আযান দেয়া হয়, শয়তান পিছন ঘুরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালিয়ে যায় যেন আযানের শব্দ সে শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং সালাত আদায়কারীদের মনে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ কর, এটা স্মরণ কর। সে কথাগুলো সালাতের আগে তার স্মরণও ছিল না। শেষ পর্যন্ত সালাত আদায়কারী দ্বিধায় পড়ে যে, সে বলতেও পারে না যে, কত রাকাআত পড়ল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَيْفَ صَلَّى " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ বর্ণনার শেষের অংশ নিম্নরূপঃ এমনকি লোকের খেয়ালই থাকে না যে, সে কিভাবে সালাত শেষ করল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, সাঈদ ইবনু মানসূর, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, 'আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... সালিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দেখেছি- যখন তিনি সালাত শুরু করতেন তখন উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। তিনি রুকূ’তে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার সময়ও এরূপ করতেন। কিন্তু তিনি দুই সাজদার মাঝখানে হাত উঠাতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন নিজের দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর তাকবীর তাহরীমা বলতেন। তিনি রুকু’তে যাওয়ার সময় এবং রুকূ’ থেকে উঠার সময়ও কাঁধ পর্যন্ত দুই (আল্লাহু আকবার) হাত তুলতেন। কিন্তু সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তিনি (এরূপ) করতেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কুহযায (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে ইবনু জুরায়জ (রহঃ) এর অবিকল বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, দুই হাত কাঁধ বরাবর উচু করতেন, অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবীরে তাহরীমা করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ কিলাবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মালিক বিন হুওয়াইরিস (রাযিঃ) কে দেখলেন যে, তিনি যখন রুকু’তে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখনও উভয় হাত উত্তোলন করলেন এবং যখন রুকূ’ থেকে মাথা তুললেন তখনো হাত উত্তোলন করলেন। তিনি আরো বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মালিক ইবন হুয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর বলতেন তার দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন, যখন রুকূ করতেন তখন দুই হাত কান বরাবর উঠাতেন এবং যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে একই ধরনের আমল করতেন”।
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّهُ رَأَى نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ .
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাযিঃ) বলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কানের লতি বরাবর হাত তুলতে দেখেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) তাদের সালাত আদায় করে দেখাতেন। তিনি প্রতিবার ঝুঁকে পড়ার সময় এবং সোজা হওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি সালাত শেষে বলতেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের চেয়ে অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন 'আল্লাহু আকবার' বলে সালাত শুরু করতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকু’তে যেতেন। তিনি রুকু থেকে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানাের সময় سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেন আল্লাহ তার কথা শুনে থাকেন) বলতেন। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আল্লাহ! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা) বলতেন। তিনি তাকবীর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময়ও তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাক'আতে সালাত শেষ করা পর্যন্ত তিনি এরূপই করতেন। দ্বিতীয় রাকাআতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُجَيْنٌ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ أَبِي هُرَيْرَةَ . إِنِّي أَشْبَهُكُمْ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে সালাত শুরু করতেন। ..... উপরের (ইবনু খুরায়য-এর) হাদীসের অনুরূপ। কিন্তু এ বর্ণনায় আবূ হুরাইরার কথা, "আমি তোমাদের সবার তুলনায় অধিক পরিমাণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করতে পারি" কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। মারওয়ান যখন আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে মদীনায় খলীফা নিযুক্ত করলেন- তিনি যখন ফরয সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলে শুরু করতেন। উপরের হাদীসের অনুরূপ। উক্ত হাদীসেই রয়েছে, তিনি সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে মসজিদে উপস্থিত লোকেদের দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি বললেনঃ সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ সালাত আদায় করতে পারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মুতাররিফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ) এর পিছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সাজদায় যেতেন আল্লাহু আকবার বলতেন, যখন সিজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখনও "আল্লাহু আকবার" বলতেন এবং দুই রাকাআত পূর্ণ করে (তাশাহুদ পড়ার পর) উঠার সময়ও 'আল্লাহু আকবার' বলতেন। আমরা যখন সালাত শেষ করলাম, ইমরান (রাযিঃ) আমার হাত ধরে বললেন, তিনি (আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুরূপ সালাত আদায় করালেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বললেন, তিনি (‘আলী) আমাদেরকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন নাকিদ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি (সালাতে) সূরাহ্ ফা-তিহাহ্ পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ তাহির, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৫৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ الَّذِي، مَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَجْهِهِ مِنْ بِئْرِهِمْ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ " .
আল হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করে না তার সালাতই হয় না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং 'আবদ ইবনু হুমায়দ এর সূত্রে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন 'আবদুর রাযযাক। তিনি বলেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন মামার যুহরী হতে উক্তরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬১, ইসলামিক সেন্টারঃ নেই)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে উন্মুল কুরআন (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করেনি তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ থেকে গেল, পূর্ণাঙ্গ হল না। এ কথাটা তিনবার বলেছেন। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে সালাত আদায় করব তখন কী করব? তিনি বললেন, তোমরা চুপে চুপে তা পড়ে নাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমার এবং আমার বান্দার মাঝে আমি সালাতকে অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে নিয়েছি এবং আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। বান্দা যখন বলে, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), আল্লাহ তা'আলা তখন বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। সে যখন বলে, الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (তিনি অতিশয় দয়ালু এবং করুণাময়); আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ বান্দা আমার প্রশংসা করেছে, গুণগান করেছে। সে যখন বলে, مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (তিনি বিচার দিনের মালিক), তখন আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে আল্লাহ আরো বলেনঃ বান্দা তার সমস্ত কাজ আমার উপর সমর্পণ করেছে। সে যখন বলে, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি) তখন আল্লাহ বলেন। এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। (এখন) আমার বান্দার জন্য রয়েছে সে যা চায়। যখন সে বলে,اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ (আমাদের সরল-সঠিক পথে পরিচালনা করুন। যেসব লোকদের আপনি নি'আমাত দান করেছেন, তাদের পথে নয় যাদের প্রতি আপনার গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তখন আল্লাহ বলেনঃ এসবই আমার বান্দার জন্যে এবং আমার বান্দার জন্যে রয়েছে সে যা চায়। সুফইয়ান বলেন, আমি 'আলা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ইয়াকূবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে এ হাদীস বর্ণনা করে শুনান। এ সময় তিনি রোগশয্যায় ছিলেন এবং আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ তাতে সূরাহ ফা-তিহাহ্ পাঠ করল না … সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ। তাদের উভয়ের হাদীসে রয়েছে, মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি, এর অর্ধেক আমার এবং আর অর্ধেক আমার বান্দার। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু জা'ফার আল মাফিরী (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সালাত আদায় করল, কিন্তু তাতে ফাতিহাতুল কিতাব (সূরাহ ফা-তিহাহ্) পাঠ করল না- তার এ সালাত ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। তাদের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... 'আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, সালাতের প্রতি রাকাআতে কুরআন থেকে পাঠ হবে (আমরা পাঠ করি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সালাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করেছেন, আমরাও সে সালাতে তোমাদের শুনিয়ে কুরআন পাঠ করি এবং যে সালাতে চুপিসারে কুরআন পাঠ করেছেন সে সালাতে আমরাও চুপিসারে কুরআন পাঠ করি। একজন লোক তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যদি সূরাহ ফা-তিহার বেশি না পড়ি তবে কি আমার সালাত যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, তুমি যদি সূরাহ ফাতিহার পর আরো আয়াত পাঠ কর তবে এটা তোমার জন্য কল্যাণকর আর যদি তুমি সূরাহ ফা-তিহাহ্ পাঠ করেই থেমে যাও তবে সেটাও তোমার জন্য যথেষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, প্রত্যেক সালাতেই কিরাআত পাঠ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সালাতে আমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করি। তিনি যে সালাতে আওয়াজ না করে চুপিসারে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে তোমাদের না শুনিয়ে নিম্নস্বরে কিরাআত পাঠ করি। যে ব্যক্তি সূরাহ ফাতিহাহ পাঠ করল তা তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আরো সূরাহ পাঠ করল, এটা তার জন্য বেশি ভাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّلاَمَ قَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى كَمَا كَانَ صَلَّى ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ " . ثُمَّ قَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا عَلِّمْنِي . قَالَ " إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا " .
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, অতঃপর এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে এসে তাকে সালাম দিলে তিনি তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেনঃ যাও পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতোই সালাত আদায় করল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে তাকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ওয়া 'আলাইকাস সালাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ যাও তুমি পুনরায় সালাত আদায় কর, কেননা তোমার সালাত আদায় হয়নি। তিনি পরপর তিনবার তাকে এ রকম নির্দেশ দিলেন। অতঃপর লোকটি বলল, সে সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দীন সহকারে পাঠিয়েছেন; আমি এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না। আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যখন সালাতে দাঁড়াও, তাকবীর বল, অতঃপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাজে সহজ মনে হয় তা থেকে পাঠ কর। অতঃপর রুকূ’তে যাও এবং শান্তভাবে রুকু’তে থাক। অতঃপর রুকূ’ থেকে সোজা মনে দাঁড়াও, অতঃপর সাজদায় যাও এবং সাজদার মধ্যে শান্তভাবে থাক, অতঃপর সিজদা থেকে উঠে আরামে বস। সমস্ত সালাত তুমি এভাবে আদায় কর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে। এক লোক মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদের) এক প্রান্তে বসা ছিলেন, হাদীসের পরবর্তী অংশ পূর্বের হাদীসের মতোই। কিন্তু এ বর্ণনায় আরো আছেঃ তুমি যখন সালাত আদায় করার ইচ্ছা পোষণ কর তখন ভাল করে ওযু করে নাও। অতঃপর কিবলামুখী হও, অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার বল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৬৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যুহর অথবা আসর এর সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে আমার পিছনে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى (সুরাহ আলা) পাঠ করেছ? এক ব্যক্তি বলল, আমি। এর মাধ্যমে কল্যাণই কামনা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছ থেকে কুরআন ছিনিয়ে নিচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... 'ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন। এক লোক তার পিছনে সূরাহ “সাব্বিহিসমা রাবিকাল আ'লা" পাঠ করল। সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ কে সূরাহ পাঠ করেছে? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেনঃ আমি অনুসন্ধান করেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) পাঠ ছিনিয়ে নিচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) ..... কাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি তোমাদের কেউ কেউ আমার কাছ থেকে (কুরআন) ছিনিয়ে নিচ্ছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৭২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
এই বর্ণনার কোনো মান উৎসে উল্লেখ নেই।
৩২১টির মধ্যে ৫০
৩২১টি বর্ণনা · নম্বর ৮৩৭–১১৬০
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।