প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ مِنْهُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَىْءٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ " .
রেওয়ায়ত ১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমি একজন মানুষ, তোমরা আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ লইয়া আস। এমনও হইতে পারে যে, একে অপরের তুলনায় অধিক চালাকী ও চাতুরির আশ্রয় লইবে এবং নিজ দাবি প্রমাণিত করিবে এবং আমি তাহার বাহ্যিক প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করিয়া তাহার পক্ষে রায় দিয়া দিব। সুতরাং এমতাবস্থায় যদি আমি অপরের হক কাহাকেও দিয়া দেই তবে তাহার জন্য উক্ত বস্তু গ্রহণ করা উচিত নহে। কেননা উহা তাহার জন্য আগুনের টুকরা।
রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, একদা উমর (রাঃ)-এর দরবারে এক ইহুদী ও এক মুসলিম কোন বিবাদ লইয়া আসিল। উমর (রাঃ) বুঝিতে পারিলেন যে, ইহুদীর দাবি সত্য। তাই ইহুদীর সপক্ষে রায় দিয়া দিলেন। ইহুদী সর্বশেষে বলিল, আল্লাহর কসম, আপনি হক ফায়সালা করিয়াছেন। ইহা শুনিয়া উমর (রাঃ) তাহাকে বেত্র দ্বারা আঘাত করিয়া বলিলেন, কিভাবে জানিতে পারিয়াছ যে, এই বিচার হক হইয়াছে? ইহুদী বলিল, আমি আমাদের আসমানী কিতাবে দেখিয়াছি যে, যে বিচারক সত্য ফয়সালা করে তাহার ডান দিকের এবং বাম দিকের কাধে একজন করিয়া ফেরেশতা থাকেন। তাহারা তাহাকে শক্তিশালী রাখে এবং সৎ পথ দেখাইতে থাকে যতক্ষণ সে হকের উপর থাকে। আর যদি সে হককে ছাড়িয়া দেয় তবে ফেরেশতারাও তাহাকে ছাড়িয়া ঊর্ধ্বজগতে উঠিয়া যায়।
রেওয়ায়ত ৩. যায়দ ইবন খালেদ জুহানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে সর্বোত্তম সাক্ষীর কথা বলিব? তাহা হইল, যে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই সাক্ষ্য প্রদান করে অথবা যে সাক্ষ্য প্রদান করে তাহাকে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই।
রেওয়ায়ত ৪. রাবিয়া ইবন আবি আবদির রহমান হইতে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ)-এর দরবারে ইরাক হইতে এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আমি এমন এক ব্যাপার লইয়া আসিয়াছি যাহার কোন আগ-পাছ কিছুই নাই। উমর (রাঃ) বলিলেন, “তাহা কি?” সে বলিল আমাদের দেশে মিথ্যা সাক্ষ্য ছড়াইয়া পড়িয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি কি সত্যই বলিতেছ? সে বলিল, হ্যাঁ, তখন উমর (রাঃ) বলিলেন, ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত কোন মুসলিমকে কয়েদ করা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর (রাঃ) বলেন যে, শক্র এবং দীনের ব্যাপারে দোষারোপ করা হইয়াছে এমন লোকদের সাক্ষ্য জায়েয হইবে না।
মালিক (রহঃ) বলেন যে, সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-সহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, যে ব্যক্তি অপবাদের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত তাহার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে কি? তাহারা বলিলেন, হ্যাঁ যখন সে তওবা করিয়াছে বলিয়া জানা যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন যে, ইমাম জুহরী (রহঃ)-কে ঐরুপ প্রশ্ন করা হইয়াছিল। তিনিও সুলায়মান ইবন ইয়াসারের মতো উত্তর দিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতও অনুরূপ, কেননা আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, যে ব্যক্তি নেককার স্ত্রীলোকের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাযির করিতে না পারে তবে তাহাদিগকে আশি দোররা মার, অতঃপর কোন সময় তাহার সাক্ষ্য কবুল করিও না, কেননা, ইহারাই পাপাচারী। হ্যাঁ, পরে যাহারা তওবা করিয়া নেয় এবং সংশোধন হইয়া যায় তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী ও দয়াবান। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন মতভেদ নাই যে, যাহার উপরে অপবাদের শাস্তি হইয়াছে অতঃপর সংশোধন হইয়াছে তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় এবং আমি যাহা এই ব্যাপারে জানিয়াছি, তাহার মধ্যে ইহাই খুব পছন্দনীয় কথা।
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ .
রেওয়ায়ত ৫. জাফর সাদিক (রহঃ) তাহার পিতা মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী ও কসমের উপর ফয়সালা করিয়াছেন।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত মাসআলা। কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি সন্তান রাখিয়া গেল। তাহাদের মধ্য হইতে কেহ বলিল, আমার পিতা বলিয়া গিয়াছেন অমুক ব্যক্তি আমার ছেলে। এই অবস্থায় একজনের সাক্ষ্যে পুত্রের সম্পর্ক প্রমাণিত হইবে না এবং সম্পত্তিও সে পাইবে না। তবে যে ছেলে স্বীকার করিয়াছে তাহার অংশ হইতে সে অংশ পাইবে। মালিক (রহঃ) ইহার ব্যাখ্যায় বলিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি দুই ছেলে রাখিয়া মারা গেল এবং ছয়শত দীনার রাখিয়া গেল। দুই ছেলে এখান হইতে তিনশত করিয়া পাইল। তাহার পর এক ছেলে বলিল আমাদের মৃত পিতা বলিয়াছিলেন যে, ঐ ব্যক্তি তাহার ছেলে। তখন সে স্বীকার করিল তাহার তিনশত দীনার হইতে একশত দীনার সেই ব্যক্তি পাইবে, কেননা, সে মৃত ব্যক্তির ছেলে হিসাবে এই অর্ধেক অংশ পাইবে। অর্থাৎ সে ছেলে প্রমাণিত হইলে দুইশত দীনার পাইত, এখন একশত দীনার পাইয়াছে। আর যদি দ্বিতীয় ছেলেও স্বীকার করে তবে তাহার নিকট হইতেও একশত পাইবে এবং তাহার হক পূর্ণ হইবে এবং তাহার বংশও মৃত ব্যক্তি হইতে প্রমাণিত হইল। তাহার আর একটি উদাহরণ এই : কোন স্ত্রীলোক তাহার পিতা অথবা স্বামীর ঋণের কথা স্বীকার করে আর অন্যান্য অংশীদার অস্বীকার করে, এ অবস্থায় সে নিজ অংশ অনুপাতে নিজ হইতে কর্জ আদায় করিবে। স্ত্রীলোকটি যদি এক-অষ্টমাংশ পায় তবে ঋণেরও এক-অষ্টমাংশ আদায় করিবে, আর যদি পিতার সম্পত্তি অর্ধেক পায় তবে ঋণেরও অর্ধাংশ আদায় করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন পুরুষ ঋণের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় যেমন স্ত্রীলোকটি স্বীকার করিয়াছে, যথা এই মৃতের নিকট তাহার এই পরিমাণ পাওনা আছে তবে ঋণদাতার নিকট হইতে কসম গ্রহণ করা হইবে এবং ঋণদাতার পূর্ণ কর্জ শোধ করা হইবে। কেননা এই ব্যাপার স্ত্রীলোকটির ব্যাপারের মতো নয়, কেননা পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। আর যদি কৰ্জদার কসম না করে, তবে যে স্বীকার করিয়াছে শুধু তাহার নিবাস হইতে কর্জদারকে দেওয়া হইবে তাহার হিস্যা অনুযায়ী।
মালিক (রহঃ) বলেন যে, যদি কোন বস্তু রেহেন রাখার পর তাহা রেহেন গ্রহীতার নিকট নষ্ট হইয়া যায় এবং রাহেন ও মুরতাহেন উভয়ই রেহেনের বস্তু ও পরিমাণ সম্পর্কে কোন দ্বিমত রাখে না, কিন্তু রেহেনের বস্তুর মূল্যে তাহাদের মতভেদ হয়, যেমন রাহেন বলে যে, তাহার মূল্য বিশ দীনার আর মুরতাহেন বলে যে, তাহার মূল্য দশ দীনার অথচ রেহেনকৃত বস্তুর মূল্য বিশ দীনারই ছিল। এই অবস্থায় রেহেন গ্রহীতাকে বলা হইবে যে, তুমি রেহেনের গুণ বর্ণনা কর। যদি সে বর্ণনা করে তবে তাহাকে এই ব্যাপারে কসমও দেওয়া হইবে। অতঃপর এই ব্যাপারে ওয়াকিফহাল এমন লোক তাহার মূল্য নির্ণয় করবে। যদি নির্ণয় করার মূল্য রেহেনের বস্তুর মূল্যের চাইতে অধিক হয় তবে মুরতাহেনকে বলা হইবে যে, অবশিষ্ট মূল্য রেহেনদাতাকে ফেরত দিয়া দাও। আর যদি সেই নির্ধারিত মূল্য রেহেনের বস্তুর মূল্যের চাইতে কম হয় তবে অবশিষ্ট মূল্য রাহেনকে ফেরত দিতে বলা হইবে। আর যদি সমান হয় তবে আর কোন কথাই থাকিবে না। মালিক (রহঃ) বলেন যে, দুইজনের মধ্যে যদি মতভেদ হয় রেহেনদাতা বলে যে, তোমার কাছে উহা আমি দশ দীনার রেহেন রাখিয়াছি, আর রেহেন গ্রহীতা বলে যে, আমি তোমার নিকট হইতে উহা বিশ দীনার প্রদান করার পরিবর্তে গ্রহণ করিয়াছি। আর জিনিস গ্রহীতার নিকট আছে, এই অবস্থায় গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। অতঃপর যদি ঐ অর্থের অংক রেহেনের বস্তুর মূল্যের সমান হয় তবে তো কোন কথাই নাই। আর যদি গ্রহীতার দাবি বিশ দীনার উহা হইতে মূল্য কম হয় তবে রেহেনদাতাকে কসম দেওয়া হইবে। সে মুরতাহেনের হক আদায় করিয়া তাহা (রেহেন বস্তু) গ্রহণ করিতেও পারে, নাও করিতে পারে। উহা দিয়া মুরতাহেন ডাহার হক গ্রহণ করিবে। মুরতাহেনকেই প্রথমে কসম দেওয়ান উত্তম, কারণ রেহেনের বস্তুটি তাহার কবজায় আছে। মালিক (রহঃ) বলেন যে, যদি রেহেন বিশ দীনার হইতে কম হয় তবে রেহেন গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। অতঃপর রেহেনদাতাকে বলা হইবে যে, তোমার এখন ইচ্ছা বিশ দীনার আদায় করিয়া নিজ বস্তু লইয়া যাইবে অথবা নিজেও কসম করিবে যে, এত অর্থে আমি উহা রেহেন রাখিয়াছিলাম। যদি কসম করিয়া নেয় তবে রেহেনগ্রহীতা রেহেনের বস্তুর চাইতে যতদূর কর্জের কথা অধিক বলিয়াছিল তাহা তাহার জিম্মী হইতে উঠিয়া যাইবে। আর যদি কসম না করে তবে তাহাকে মুরতাহেনের দাবি যাহা তাহা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি রেহেনের বস্তু নষ্ট হইয়া যায় এবং তাহাদের নিজ নিজ দাবির মধ্যে মতভেদ হইয়া যায় যেমন রেহেনগ্রহীতা বলে যে, রেহেনের অর্থ বিশ দীনার ছিল। আর রেহেনের মূল্য মাত্র দশ দীনার ছিল। পক্ষান্তরে রেহেনদাতা বলে যে, রেহেনের বস্তুর মূল্য বিশ দীনার এবং রেহেনের বাবদে প্রদত্ত অর্থ দশ দীনার ছিল, তবে এই অবস্থায় রেহেন গ্রহীতাকে বলা হইবে যে, তুমি রেহেনের বস্তুর বর্ণনা দাও। অতঃপর অভিজ্ঞ লোকগণ বর্ণনা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করবে। যদি মূল্য বিশ দীনারের চাইতে অধিক হয় তবে রেহেনগ্রহীতাকে হলফ করাইয়া যতদূর বেশি হয় দাতাকে দেওয়া হইবে। আর যদি বিশ দীনার হইতে কম হয় তবে রেহেন গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। মূল্য যাহা আদায় হইয়াছে তাহা তো গ্রহীতার, আর বাকির জন্য দাতার নিকট হইতে কসম লওয়া হইবে। যদি সে কসম করে তবে গ্রহীতা দাতার নিকট হইতে কিছুই নিতে পারিবে না। আর কসম না করিলে বিশ দীনার হইতে যত কম তত দীনার দাতার দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৯. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রহঃ) বালকদের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করিয়া তাহাদের মারামারির বিচার করিয়া দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই হুকুম যে, যদি বালকগণ একে অপরকে আহত করিয়া দেয় তবে তাহাদের সাক্ষ্য বৈধ। ইহা ছাড়া অন্য মামলায় তাহা বৈধ হইবে না। ইহা ঐ সময় হইবে যখন ঝগড়া করিয়া সেখানেই থাকে, অন্যত্র না গিয়া থাকে। যদি অন্যত্র চলিয়া যায় তবে তাহাদের সাক্ষ্য জায়েয নহে। যতক্ষণ না কোন নির্ভরযোগ্য মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং বালকগণও ঐখানেই থাকে।
রেওয়ায়ত ১০. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমার মিম্বরে যে মিথ্যা কসম করে সে যেন তাহার স্থান দোযখে বানাইয়া লয়।
রেওয়ায়ত ১১. আবু উমামা (রাঃ) হইতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করিয়া কোন মুসলিম ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাৎ করে তাহার জন্য আল্লাহ তা'আলা বেহেশত হারাম করিয়া দিবেন এবং দোযখ ওয়াজিব করিয়া দিবেন। সাহাবীগণ বলিলেন, যদি সামান্য জিনিসও হয় তবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, তিনি এই বাক্যকে তিনবার বলিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ১২. আবু গাতফান (রহঃ) হইতে বর্ণিত যে, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) ও ইবন মুতী-এর মধ্যে একটি ঘরের ব্যাপারে ঝগড়া হইয়া যায়। অবশেষে তাহারা ইহার বিচার মারওয়ানের নিকট লইয়া গেলেন। সেই সময় তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। মারওয়ান বলিলেন, যায়দ ইবন সাবিত মিম্বরের উপর উঠিয়া কসম করিয়া নিক। যায়দ (রাঃ) বললেন, আমি আমার স্থানে দাঁড়াইয়া কসম করিয়া লই। মারওয়ান বলিলেন, আল্লাহর কসম, ইহা হইতে পারে না। অন্য লোকেরা যেখানে তাহাদের হকের মীমাংসা করে সেখানেই করিতে হইবে। অতঃপর যায়দ (রাঃ) নিজ স্থানে দাঁড়াইয়া বলিতে লাগিলেন, আমি কসম করিয়া বলিতেছি যে, আমার দাবি সত্য, কিন্তু মিম্বরের উপর গিয়া কসম করিতে অস্বীকার করিতে লাগিলেন। মারওয়ান ইহাতে বিক্ষিত হইয়া গেলেন। মালিক (রহঃ) বলেন যে, এক-চতুর্থাংশ দীনারের কম দাবি হইলে মিম্বরের কসম করা জায়েয নাই, উহা তিন দিরহাম।
قَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَغْلَقُ الرَّهْنُ " .
রেওয়ায়ত ১৩. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “রেহেনকে বন্ধ করা উচিত নয়।” মালিক (রহঃ) বলেন যে ইহার ব্যাখ্যা আমাদের নিকট এই যে, (আল্লাহ্ই ভাল জানেন) এক ব্যক্তি কিছু জিনিস অপর ব্যক্তির নিকট রেহেন রাখিল কোন জিনিসের পরিবর্তে। আর রেহেন-এর বস্তুটি মূল্যবান যে জিনিসের পরিবর্তে রাখা হইয়াছে তাহার চাইতে। অতঃপর রেহেন (গচ্ছিতকারী) মুরতাহেনকে (যাহার নিকট রাখা হইয়াছে) বলিল, আমি যদি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার জিনিস লইয়া আসি তবে আমার জিনিস আমাকে দিবেন আর যদি আমি ঐ সময় না আসিতে পারি তবে গচ্ছিত মাল আপনার। এইরূপ করা জায়েয নাই এবং হালালও নহে। ইহাই নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। যদি নির্দিষ্ট দিনের পরে ঐ ব্যক্তি আসে তবে রেহেনের বস্তু তাহারই হইবে। আর এই শর্ত বাতিল হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কোন জন্তুকে নির্যাতন করে তবে যদি ঐ জন্তুর মূল্যের ক্ষতি হয় তবে জরিমানাস্বরূপ তাহাই দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন উট কাহারো উপর আক্রমণ করে এবং সে জান বাঁচানোর জন্য উটকে মারিয়া ফেলে অথবা জখম করে এবং এই হামলার কোন সাক্ষীও তাহার নিকট থাকে তবে তাহার উপর জরিমানা হইবে না। অন্যথায় উটের জরিমানা তাহাকে দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ১৫. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি নিজ দীন (ধর্ম)-কে পরিবর্তন করে তাহার গর্দান উড়াইয়া দাও। মালিক (রহঃ) বলেন যে, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা-“যে দীন পরিবর্তন করিয়া ফেলে তাহার গর্দান উড়াইয়া দাও”- এর অর্থ এই যে, কোন মুসলিম ইসলাম ধর্ম ছাড়িয়া দেয় ও ধর্মত্যাগী (যিনদীক) বা এই ধরনের কিছু হইয়া যায় তবে তাহদের উপর মুসলিমগণ বিজয়ী হইলে তাহাদিগকে কতল করিয়া দেওয়ার হুকুম। তাহাদিগকে তওবা করারও সময় দেওয়া হইবে না কারণ তাহাদের তওবার কোন মূল্য নাই। যেহেতু তাহাদের অন্তরে কুফর অংকিত হইয়া গিয়াছে, ফলে তাহারা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করিবে এবং অন্তরে কুফরী করিতে থাকিবে। আর যে ব্যক্তি কোন কারণে ইসলাম হইতে বাহির হইয়া যায় তবে তাহাকে তওবা করাইবে। আর যদি তওবা করিতে অস্বীকার করে তবে হত্যা করিয়া দিবে। আর যদি কোন কাফের অন্য কোন কুফরী ধর্ম গ্রহণ করে যেমন ইহুদী হইতে নাসারা হইয়া গেল তবে সে তাহার দীন পরিবর্তন করিয়াছে বলিয়া এই হাদীস বোঝা যায় না। এই হাদীস দ্বারা একমাত্র ইসলাম হইতে বহিষ্কার হওয়ার হুকুম প্রকাশ পায়।
রেওয়ায়ত ১৬. মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ)-এর নিকট হইতে এক ব্যক্তি উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিল। উমর (রাঃ) তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন সেখানের লোকের কি অবস্থা? সে সেখানের অবস্থা বর্ণনা করিল। অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, সেখানে কোন নূতন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার কাফের হইয়া গেলে তোমরা তাহাকে কি করিয়াছ? সে বলিল, তাহাকে বন্দী করিয়া শিরোচ্ছেদ করিয়াছি। উমর (রাঃ) বললেন, তোমরা যদি তাহাকে তিন দিন পর্যন্ত বন্দী করিয়া রাখিতে আর খাইতে শুধু ১টি রুটি দিতে এবং তওবা করাইতে তবে হয়ত সে তওবা করিত এবং আল্লাহর দীনের দিকে আসিয়া যাইত। অতঃপর উমর (রাঃ) বলিলেন, হে আল্লাহ আমি ঐ কাজে শামিল ছিলাম না, মারার হুকুমও দেই নাই, কিংবা তাহার খবর শুনিয়াও খুশী হই নাই।
حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ إِنْ وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِي رَجُلاً أَأُمْهِلُهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " .
রেওয়ায়ত ১৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, সা'দ ইবন উবাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে অপর লোককে দেখি তবে কি তাহাকে সময় দিব যতক্ষণ চারজন সাক্ষী যোগাড় না করিতে পারি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হ্যাঁ।
রেওয়ায়ত ১৮. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব হইতে বর্ণিত একজন সিরিয়াবাসী তাহার স্ত্রীর সাথে অপর একজনকে (লিপ্ত) দেখিতে পাইয়া তাহাকে অথবা দুইজনকে মারিয়া ফেলিল। মু'আবিয়া (রাঃ) আবূ মূসা আশ আরী (রাঃ)-এর নিকট লিখিয়া পাঠাইলেন যে, আলী (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া আমাকে জানাও তাহার কি সমাধান? অতঃপর আবু মূসা (রাঃ) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমার দেশের বলিয়া মনে হয় না। সত্য করিয়া বল কোন দেশের ঘটনা, আমার মনে হয় তুমি আমাকে পরীক্ষা করিতেছ। আবু মূসা (রাঃ) বলিলেন, মু'আবিয়া (রাঃ) আমার নিকট লিখিয়া পাঠাইয়াছেন আপনাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য; আলী (রাঃ) বলিলেন, আমি হইলাম আবুল হাসান (হাসানের পিতা) যদি চার জন সাক্ষী আনিতে পারে তবে যেন তাহাকে উত্তমরূপে বন্দী করা হয়।
রেওয়ায়ত ১৯. সুনাইন ইবন আবী জমিলা (রহঃ) বনী সুলায়মান বংশোদ্ভূত, তিনি উমর (রাঃ)-এর জামানায় একটি শিশু পাইয়াছিলেন। তিনি বলেন যে, তাহাকে আমি উঠাইয়া উমর (রাঃ)-এর দরবারে হাযির হইলাম। উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি তাহাকে কেন উঠাইয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে উঠাইয়া না আনিলে সে ধ্বংস হইয়া যাইত। এমন সময় পরিচিত এক ব্যক্তি বলিল, হে আমিরুল মু'মিনীন, আমি এই ব্যক্তিকে চিনি, সে খুব নেককার লোক। উমর (রাঃ) বলিলেন, সত্যই কি সে নেককার? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর উমর (রাঃ) বলিলেন, তুমি চলিয়া যাও, এই সন্তান আযাদ (মুক্ত), তুমি তাহার অভিভাবকত্ব পাইবে। আর আমরা তাহার খরচাদি বহন করিব। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হারানো প্রাপ্ত সন্তান আযাদ। তাহার অভিভাবকত্ব মুসলিমদের জন্য, তাহারাই তাহার উত্তরাধিকারী এবং তাহারাই তাহার পক্ষে হইতে দীয়্যত (ক্ষতিপূরণ) দেবে।
রেওয়ায়ত ২০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, উতবা ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) মৃত্যুর সময় তাহার ভাই সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাসকে বলিয়া গিয়াছিলেন যে, যামআ’-এর দাসীর সন্তান আমার, তুমি তাহাকে লইয়া আসিও। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন সা’দ ঐ সন্তানকে আনিলেন ও গ্রহণ করিলেন এবং তিনি বলিলেন, সে আমার ভাই-এর সন্তান। তিনি আমাকে মৃত্যুর সময় অঙ্গীকার করাইয়াছিলেন। এইদিকে আবদ ইবন যামআ (রাঃ) বলিলেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর ছেলে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। অবশেষে দুইজন বিতর্ক করিয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিলেন। সা'দ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সে আমার ভাইয়ের সন্তান, মৃত্যুকালে আমার ভাই আমাকে অঙ্গীকার করাইয়া গিয়াছিল। অতঃপর আবদ ইবন যামআ' বলিলেন, আমার ভাই আমার পিতার দাসীর গর্ভে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। তাহার পর সব শুনিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ‘হে আবদ ইবন যামআ', সে তোমারই ভাই, সে তোমারই কাছে থাকিবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, সন্তান তাহার মাতার স্বামীর অথবা মনিবেরই হইয়া থাকে আর ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরই নির্ধারিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওদা বিনুত যামআকে বলেন, হে সাওদা! এই সন্তান হইতে পর্দা কর, কেননা তাহার আকৃতি উৎবার সদৃশ। অতঃপর সে আর সাওদাকে তাহার মৃত্যু পর্যন্ত দেখে নাই।
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন আবী উমাইয়া (রাঃ) হইতে বর্ণিত যে, এক স্ত্রীলোকের স্বামীর ইন্তেকাল হয়। অতঃপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করার পর অন্য একজনের নিকট তাহার বিবাহ হয়। বিবাহের পর সেই স্বামীর নিকট সাড়ে চার মাস অতিবাহিত করার পর তাহার একটি পূর্ণাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হইল। অতঃপর তাহার স্বামী উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। উমর (রাঃ) অন্ধকার যুগের কয়েকজন বৃদ্ধা স্ত্রীলোককে ডাকাইলেন এবং তাহাদিগকে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। তখন তাহাদের একজন বলিল, আমি আপনাকে তাহার বৃত্তান্ত বলিতেছি। এই স্ত্রীলোকটি তাহার মৃত স্বামী হইতে গর্ভবতী হইয়াছিল। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তাহার রক্তস্রাব হইল, ইহাতে সন্তান শুকাইয়া যায়। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহের পর স্বামী তাহার সহিত সংগত হওয়ায় সন্তানের উপর পুরুষের বীর্য পতিত হয়। ইহাতে সন্তান নড়াচড়া করে এবং বড় হইতে থাকে। অতঃপর উমর (রাঃ) তাহাদের কথা সত্য বলিয়া মানিলেন এবং বিবাহ ভঙ্গ করিয়া দিলেন এবং বলিলেন যে, তোমাদের সম্বন্ধে কোন খারাপ কথা আমি শুনি নাই। অতঃপর সন্তানটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত বলিয়া সিদ্ধান্ত দিলেন।
রেওয়ায়ত ২২. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) অন্ধকার যুগের সন্তানকে যদি কেহ ইসলামের যুগে দাবি করিত তবে তাহার সাথে মিলাইয়া দিতেন। একবার দুইজন লোক একটি সন্তানকে নিজের বলিয়া দাবি করে। অতঃপর উমর (রাঃ) কেয়াফাবিদকে (লক্ষণ দেখিয়া পরিচয় নির্ণয়কারী) ডাকিয়া পাঠাইলেন। কেয়াফাবিশারদ সন্তানকে দেখিয়া বলিল, সন্তান দুইজনেরই। অতঃপর উমর (রাঃ) তাহাকে দোররা দ্বারা আঘাত করিলেন। তাহার পর সম্ভানের মাতাকে ডাকাইয়া বলিলেন তোমার বৃত্তান্ত খুলিয়া বল। সে একজনের দিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিল যে, সে আমার নিকট আসা-যাওয়া করিত এবং আমি আমার বাড়ির উটের ঘরের কাছে থাকিতাম। ঐ সময়ে সে আমার সাথে সঙ্গম করিত। অতঃপর সে যখন ধারণা করিতে পারিল যে, আমি গর্ভবতী হইয়াছি তখন সে আর কাছে আসিত না, আর আমার রক্তস্রাব দেখা যাইত। তারপর এই দ্বিতীয়জন তাহার পর আমার নিকট আসিল। সেও আমার সহিত সঙ্গম করিল। এখন আমি জানি না, এই সন্তান দুইজনের মধ্য হইতে কাহার। ইহা শুনিয়া কেয়াফাবিদ খুশিতে আল্লাহু আকবর (আল্লাহ্ মহান) বলিয়া উঠিল। অতঃপর উমর (রাঃ) সন্তানকে বলিলেন, যাহার সাথে খুশি তুমি যাইতে পার।
রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রহঃ) বলেন যে, উমর (রাঃ) অথবা উসমান (রাঃ) এই দুইজনের মধ্যে একজন এক স্ত্রীলোকের ফয়সালা করিয়াছিলেন। সেই স্ত্রীলোকটি ধোঁকা দিয়া একজনকে বলিল, আমি আযাদ এবং তাহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইল। অতঃপর তাহাদের সন্তান হইয়াছিল। ফয়সালা দেওয়া হইয়াছিল, স্বামী তাহার সন্তানের মতো বালক-বালিকা স্ত্রীলোকটির মনিবকে দিবে এবং নিজের সন্তান মুক্ত করিয়া লইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, এই স্থানে মূল্য দান করিয়া দেওয়াই উত্তম।
রেওয়ায়ত ২৪. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলেন যে, লোকদের হইল কি, তাহারা দাসীদের সাথে সহবাস করে এবং আযল[1] করে। ভবিষ্যতে যদি কোন দাসী আমার নিকট আসে এবং তাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে আমি ঐ সন্তানকে মনিবের সাথে মিলিত করিয়া দিব, এখন তোমরা চাই আযল কর, চাই আযল না কর।
রেওয়ায়ত ২৫. সফিয়া বিনত আবী উবায়দ (রহঃ) হইত বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলেন, মানুষের হইল কি? তাহারা দাসীর সাথে সহবাস করে। অতঃপর তাহাকে ছাড়িয়া দেয়। এখন হইতে যদি এমন কোন দাসী আমার নিকট আসে যাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে সন্তানের বংশ তাহার সাথে জুড়িয়া দিব। এখন তোমরা তাহাকে ছাড়িয়া দাও, চাই রাখিয়া দাও। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমার মত এই যে, যদি কোন দাসী ক্ষতিকর কার্য করে তবে তাহার ক্ষতিপূরণ তাহার মনিব আদায় করিবে। দাসীকে ক্ষতির পরিবর্তে দেওয়া যাইবে না। কিন্তু যদি জরিমানা তাহার মূল্যের চাইতে বেশি হয় তবে তাহা ভিন্ন কথা।
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ " .
রেওয়ায়ত ২৬. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যদি কেহ কোন পতিত জমি আবাদ করে তবে উহা তাহারই হইবে। উহাতে কোন জালিমের অধিকার নাই। মালিক (রহঃ) বলেন যে, জালিমের দখল বলিতে বোঝায় যে, জবরদস্তি কোন জমিতে গর্ত খনন, কিংবা গাছ লাগান, অথবা অন্য উপায়ে কজা করা। অথচ উহাতে তাহার কোন হক (অধিকার) নাই।
রেওয়ায়ত ২৮. আবদুল্লাহ ইবন আবী বকর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মাহযুর ও মুযায়ানব নামক দুইটি খাল সম্বন্ধে বলিয়াছেন যে, যাহার ক্ষেত খাল সংলগ্ন সে যেন টাখনু (পায়ের গোড়ালি) পর্যন্ত পানি রাখিয়া নিম্ন এলাকার ক্ষেতসমূহের জন্য পানি ছাড়িয়া দেয়।
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الْكَلأُ " .
রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, দরকারের চাইতে অধিক পানি বন্ধ রাখা উচিত নহে, কেননা তাহার ফলে উক্ত এলাকায় ঘাস জন্মানও বন্ধ হইয়া যাইবে।
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَمْنَعُ أَحَدُكُمْ جَارَهُ خَشَبَةً يَغْرِزُهَا فى جِدَارِهِ " . ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا لِي أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ وَاللَّهِ لأَرْمِيَنَّ بِهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ .
রেওয়ায়ত ৩২. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কোন মুসলিমের পক্ষে তাহার প্রতিবেশীকে স্বীয় ঘরের দেওয়ালে কোন কাঠ গাড়িতে নিষেধ করা উচিত হইবে না। অতঃপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, ব্যাপার কি, এই হাদীস শোনার পর তাহাদিগকে মুখ ফিরাইয়া রাখিতে দেখি কেন? আল্লাহর কসম, আমি এই হাদীস তোমাদের স্কন্ধের উপর ফেলিব অর্থাৎ খুব প্রচার করিব।
রেওয়ায়ত ৩৪. ইয়াহইয়া ইবন মাযেনী (রাঃ) বলেনঃ আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর একটি ছোট খাল আমার দাদার জমির উপর দিয়া প্রবাহিত হইতেছিল। আবদুর রহমান (রাঃ) চাহিলেন যেন খালটি অন্যত্র দিয়া প্রবাহিত হয়, যেন তাহার জমির নিকটবর্তী হয়। অতঃপর আমার দাদা নিষেধ করিলেন। আবদুর রহমান (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর নিকট এই বিষয়ে আলাপ করিলেন। উমর (রাঃ) পরে তাহাকে অনুমতি দান করিলেন।
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ মারা যায় এবং তাহার উঁচু-নীচু অনেক জমি থাকে, তবে যে জমিতে বৃষ্টির পানি দ্বারা ফসল হয় তাহা কূপের পানি দ্বারা যে জমিতে ফসল হয় তাহার সঙ্গে সমভাবে বন্টন হইবে না। অবশ্য সকল অংশীদার রাযী হইলে তবে জায়েয হইবে। আর বৃষ্টির পানি দ্বারা ফসল হয় এমন জমির নিম্ন জমির সাথে বন্টন হইতে পারে। এইরূপে যদি তাহার আরো সম্পদ থাকে এবং সকলই একই রকম দেখায় তবে প্রত্যেকের মূল্য নির্ধারিত করিয়া এক সাথেই বন্টন করবে। ঘর ও বাড়ির একই হুকুম।
রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহয়া ইবন আবদির রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, একদা হাতিব (রাঃ)-এর এক ক্রীতদাস কাহারো উট চুরি করিয়া জবাই করিয়া ফেলে। ইহার মামলা উমর (রাঃ)-এর দরবারে গেলে তিনি কাসীর ইবন সলত (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, ঐ ক্রীতদাসের হাত কাটিয়া ফেল। অতঃপর তিনি হাতিব (রাঃ)-এর দিকে তাকাইয়া বলিলেন, আমার মনে হয় যে, তুমি ক্রীতদাসদিগকে অনাহারে রাখ, আল্লাহর কসম, আমি ইহার জন্য তোমার এমন জরিমানা করিব যাহা তোমার জন্য খুব ভারী হইবে। তাহার পর উটের মালিককে উটের মূল্য সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলেন। সে বলিল, ইহার মূল্য চারিশত দিরহাম। উমর (রাঃ) তাহাকে আরও চারশত দিরহাম, মোট আটশত দিরহাম দিতে বলিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাদিগের উপর আমাদের আমল নাই কিন্তু আমাদের আমল এই কথার উপর যে, যেদিন উট খরিদ করা হইয়াছে সে দিনের মূল্য দিতে হইবে।
حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ أَبَاهُ بَشِيرًا أَتَى بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَمًا كَانَ لِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا " . فَقَالَ لاَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَارْتَجِعْهُ " .
রেওয়ায়ত ৩৯. নুমান ইবন বশীর (রাঃ) বলেন, তাহার পিতা বশীর (রাঃ) তাহাকে একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়া গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার এই ছেলেকে আমার একটি গোলাম হেবা করিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি কি তোমার প্রত্যেকটি ছেলেকেই এইরূপ হেবা করিয়াছ? তিনি বলিলেন, না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহা হইলে হেবা (দান) ফিরাইয়া নাও।
রেওয়ায়ত ৪০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আবু বকর (রাঃ) গাবা নামক স্থানের বাগানের কিছু খেজুর গাছ আমাকে দান করিলেন। যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর উৎপন্ন হইত। অতঃপর ইন্তিকালের সময় বলিতে লাগিলেন, হে কন্যা। আল্লাহর কসম, আমার পরে তোমা হইতে সচ্ছল কেহ থাকুক আমি তাহা পছন্দ করি না, আর তুমি দরিদ্র থাক তাহাও আমার সবচাইতে বেশি অপছন্দ। আমি তোমাকে এমন খেজুর গাছ দিয়াছিলাম যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর জন্মে। তুমি যদি তাহা দখলে রাখিতে এবং ফল সংগ্ৰহ করিতে থাকিতে তবে তাহা তোমার সম্পদ হইয়া যাইত। এখন তো তাহা ওয়ারিসদের সম্পত্তি। ওয়ারিস তোমার দুই ভাই ও দুই বোন, সুতরাং উহাকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে বন্টন করিও। আয়েশা (রাঃ) বলিলেন, হে আব্বাজান যত বড় সম্পদই হউক না কেন, আমি তাহা ছাড়িয়া দিতাম, কিন্তু আমার তো বোন শুধু একজন আসমা (রাঃ), অন্য জন কে? তিনি উত্তরে বলিলেন, (আমার স্ত্রী) বিন্ত খারেজা গর্ভবতী, তাহার গর্ভে যে সন্তান আছে আমার ধারণ তাহা মেয়েই হইবে।
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুর রহমান ইবন আবদুল কারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত উমর (রাঃ) বলিয়াছেন যে, মানুষের হইল কি? তাহারা নিজ পুত্র-সন্তানদের জন্য হেবা করে। অতঃপর তাহা নিজেই নিজ দখলে রাখিতে চায়, যদি ছেলে মারা যায় তবে বলে যে, আমার সম্পদ আমারই দখলে আছে, আমি কাহাকেও দান করি নাই, আর যদি নিজে মারা যায় তবে বলিয়া যায় যে, ইহা আমার ছেলেরই, আমি তাহাকে দান করিয়াছি। যদি কোন হেবা করার পরে তাহা চালু না করে এবং ছেলে ওয়ারিসসুত্রে মালিক হয় তবে তাহা বাতিল হইয়া যায়।
রেওয়ায়ত ৪২. আবু গাতফান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষার জন্য অথবা দানস্বরূপ হেবা করে সে ঐ হেবা আর ফিরাইয়া আনিতে পারিবে না। আর যদি কোন বিনিময়ের আশায় হেবা করে তবে তাহা ফিরাইতে পারিবে যখন তাহাদের সাথে মনোমালিন্য হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কেহ কোন জিনিস বিনিময়ের আশায় হেবা করে আর ঐ জিনিসের কোন ক্ষতি হয় তবে যাহাকে দিয়াছে তাহার গ্রহণ করার দিন যে দাম ছিল তাহা তাহাকে আদায় করিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৪৩. জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি কাহারো জন্য অথবা তাহার ওয়ারিসগণের জন্য কোন জিনিস মৃত্যু পর্যন্ত দান করে তবে উহা যাহাদিগকে দান করিয়াছে তাহাদের জন্য হইবে। দানকারীর নিকট উহা ফিরিয়া আসিতে পারে না। ইহা ওয়ারিসীর যোগ্য দান।
রেওয়ায়ত ৪৪. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মাকহুল দামেশকীকে কাসিম ইবন মুহাম্মদের নিকট মৃত্যু পর্যন্ত দান সম্বন্ধে প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন অর্থাৎ এই ব্যাপারে মানুষের কি মতামত তাহা জানিতে চাহিয়াছেন। তখন কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, আমি তো মানুষদিগকে নিজ সম্পদের মধ্যেও নিজ দানের ব্যাপারে নিজ নিজ শর্ত পূর্ণ করিতে দেখিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৪৫. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন উমর (রাঃ) হাফসা বিনত উমরের একটি গৃহের ওয়ারিস হইলেন। তিনি ঐ গৃহ যায়দ ইবন খাত্তাবের কন্যাকে আজীবন থাকার জন্য দিয়াছিলেন। অতঃপর যখন যায়দের কন্যার মৃত্যু হইল তখন ইবন উমর (রাঃ) উহা দখল করিলেন এবং তিনি উহাকে নিজস্ব মনে করিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৬. যায়দ ইবন খালেদ জুহানী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া কোথাও পাওয়া জিনিস সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহার পাত্রটি চিনিয়া রাখ এবং তাহার বন্ধনও চিনিয়া রাখ, অতঃপর এক বৎসর পর্যন্ত মানুষের কাছে ঘোষণা করিতে থাক। যদি মালিক পাওয়া যায় তবে ফেরত দিয়া দাও; অন্যথায় তুমি নিজে ব্যবহার করিতে পার। সে বলিল, যদি ছাড়া ছাগল পাওয়া যায় তবুও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তাহা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের কিংবা বাঘের হইবে। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, যদি ছাড়া উট পাওয়া যায় তবে কি করিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে উটের সাথে তোমার কি সম্পর্ক তাহার সাথে পান করার মতো পানি আছে এবং তাহার পা আছে যেখানে খুশী পানি পান করিয়া লইবে। গাছের পাতা খাইবে। শেষ পর্যন্ত তাহার মালিক উহা পাইয়া ফেলিবে।
রেওয়ায়ত ৪৭. মুয়াবিয়া ইবন আবদুল্লাহ জুহানী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেন যে, তিনি সিরিয়ার পথে এক মঞ্জিলে একটি তোড়া পাইলেন। তাহাতে আশিটি দীনার ছিল। তিনি ইহা উমর (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করিলেন। উমর (রাঃ) বলিলেন, ইহাকে মসজিদসমূহের দরজায় ঘোষণা কর। আর যাহারা সিরিয়া হইতে আসে তাহাদিগকে এক বৎসর পর্যন্ত জিজ্ঞাসা কর। যদি এক বৎসর অতিবাহিত হয় তাহা হইলে তখন তোমার ইচ্ছা।
রেওয়ায়ত ৪৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাস্তায় কিছু পাইল। সে উহা লইয়া ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি একটি জিনিস পাইয়াছি, এই ব্যাপারে আপনার মত কি? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে বললেন, তাহা প্রচার কর। সে বলিল, আমি তাহা করিয়াছি। ইবন উমর (রাঃ) বললেন, পুনরায় ঘোষণা কর। সে বলিল, তাহাও করিয়াছি। ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন, আমি তোমাকে ব্যবহার করিতে বলিব না। তুমি উহা নাও উঠাইতে পারিতে।
উৎসে উল্লিখিত মান
Mauquf SahihSalim al-Hilali
৫৬টির মধ্যে ৫০
৫৬টি বর্ণনা · নম্বর ১৩৯৯–১৪৫৪
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।