عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، أَوْ يُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অন্ধকার রাতের টুকরোর মত ফিতনাসমূহ আসার পূর্বে নেকীর কাজ দ্রুত ক’রে ফেল। মানুষ সে সময়ে সকালে মু’মিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে অথবা সন্ধ্যায় মু’মিন থাকবে ও সকালে কাফের হয়ে যাবে। তখন সে তার নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে বিক্রয় করবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিন ব্যক্তিকে কোন উযর উপস্থিত হওয়া অথবা আমলে বাধাদান করে আঁধারে ঢাকা রাতের অংশের ন্যায় এমন বৃহৎ ফিতনা ও সন্দেহের পরিস্থিতি তৈরী হওয়ায় অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ার আগেই সৎ আমলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া এবং বেশী বেশী করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। (সন্দেহের) যে পরিস্থিতিতে হক বাতিলের সাথে মিশ্রিত হয়ে যাবে, তখন মানুষের জন্যে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়বে, এর মধ্যে কঠিনতম ব্যাপারটি হচ্ছে মানুষের বিপথগামী হয়ে পড়া, এমনকি কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকলেও সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে, আবার কেউ সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে অথচ সকালে কাফির হয়ে যাবে এবং দুনিয়ার অস্থায়ী ধন-সম্পদের বিনিময়ে সে তার দীনকে পরিত্যাগ করেবে।
শিক্ষা
- দীনকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। কোন বাধা আসার আগেই সৎ আমলের প্রতি দ্রুত অগ্রসর হওয়া।
- শেষ যামানায় একের পর এক পথভ্রষ্টকারী ফিতনার ধারাবাহিক আবির্ভাবের প্রতি ইশারা করা হয়েছে এবং যখনই কোন ফিতনা চলে যাবে সেখানে তার পিছে পিছে অন্য একটি ফিতনার আগমন ঘটবে।
- যখন কোন মানুষের দীন দূর্বল হয়ে পড়বে এবং সেখান থেকে তার অধঃপতন ঘটবে দুনিয়াবী কোন বিষয় যেমন ধন-সম্পদ অথবা অন্য কোন বস্তুর কারণে, তাহলে সেটি তার পথ-বিচ্যুতি, দীন পরিত্যাগ এবং ফিতনায় নিমজ্জিত হওয়ার কারণ হবে।
- এ হাদীসটিতে দলীল রয়েছে যে সৎ আমল ফিতনা থেকে নাজাতের কারণ।
- ফিতনা দুই প্রকার: সংশয়-সন্দেহের ফিতনা, এর চিকিৎসা হচ্ছে ইলম, এবং প্রবৃত্তির ফিতনা, যার চিকিৎসা হচ্ছে ঈমান এবং সবর।
- এ হাদীসে আরো ইঙ্গিত রয়েছে যে, যার আমল কমে যাবে, তার দিকে ফিতনা দ্রুত গতিতে ধাবিত হবে। আর যার আমল বেশী হবে, সে যেন তার আমলের কারণে ধোঁকায় না পতিত হয় বরং সে আরো বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 110) (118).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 169).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 16).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 122).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «الإيمانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أو بِضْعٌ وسِتُّونَ شُعْبَةً: فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ: لا إله إلا الله، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “ঈমানের সত্তর অথবা ষাটের বেশী শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম (শাখা) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন (শাখা) রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস (পাথর কাঁটা ইত্যাদি) দূরীভূত করা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
ঈমান শুধু একটি চরিত্র বা এক শাখার নাম নয়; বরং ঈমান হলো অনেক শাখার নাম। সত্তর বা ষাটের অধিক। কিন্তু সবোর্ত্তম শাখা হলো একটি কালেমা। আর তা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আর সর্বাধিক সহজ শাখা হলো পথচারীদের জন্যে কষ্টদায়ক প্রত্যেক বস্তুই হটান, হোক সেটি পাথর অথবা কাঁটা ইত্যাদি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
সূত্র
- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ.
- شرح رياض الصالحين، للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
- نزهة المتقين بشرح رياض الصالحين، تأليف مصطفى سعيد الخن، مصطفى البغا، محي الدين مستو، علي الشربجي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة، بيروت، لبنان، الطبعة الرابعة عشر، 1407ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1418ه.
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، المؤلف: محمد علي بن محمد بن علان الصديقي، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت، لبنان، الطبعة: الرابعة، 1425هـ - 2004م.
- تطريز رياض الصالحين، تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبد العزيز آل حمد، دار العاصمة، الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنِ الْبَرَاءِ رضي الله عنه: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ فِي الْأَنْصَارِ: «لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ، مَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللهُ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللهُ».
আল-বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছেন:
“তাদেরকে কেবল মু’মিনরাই ভালোবাসে এবং তাদের প্রতি কেবল মুনাফিকেই বিদ্বেষ রাখে। যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসবে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে, আল্লাহও তার প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, মদীনাবাসী আনসারদের ভালোবাসা পরিপূর্ণ ঈমানের আলামত। এর কারণ তারা ইসলাম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সহযোগিতায়, মুসলিমদেরকে আশ্রয় প্রদানে এবং তাদের জান ও মাল আল্লাহর পথে ব্যয়ে অগ্রগামী ছিলেন। তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফিকের আলামত। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি আনসার সাহাবীদেরকে ভালোবাসবে, আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে, আল্লাহও তার প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন।
শিক্ষা
- এতে আনসারী সাহাবীদের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। তাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের আলামত এবং নিফাকী থেকে মুক্তির প্রমাণ ।
- আল্লাহর ওলীদের ভালোবাসা এবং তাদেরকে সহযোগিতা করা বান্দাহর জন্যে আল্লাহর ভালোবাসা প্রাপ্তির একটি কারণ।
- প্রাথমিক প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (5/ 32) (3783).
صحيح مسلم (1/ 85) (75).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 447).
تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص257).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (6/ 258).
شرح النووي على مسلم (2/ 63).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 350).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن جابر رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَرَأَيْتَ إِذَا صَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ، وَصُمْتُ رَمَضَانَ، وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ، وَحَرَّمْتُ الْحَرَامَ، وَلَمْ أَزِدْ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا، أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَاللهِ لَا أَزِيدُ عَلَى ذَلِكَ شَيْئًا.
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কী মনে করেন , যদি আমি ফরয সালাতসমূহ আদায় করি, রমাদানের সিয়াম পালন করি, হালালগুলোকে হালাল মানি এবং হারামসমূহকে হারাম মনে করি, আর এর থেকে বেশি কিছু পালন না করি, তবুও কি আমি জান্নাতে যেতে পারব? তিনি উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ।” তখন প্রশ্নকারী বললেন: আল্লাহর কসম! আমি এগুলোর থেকে বেশি কিছুই করব না।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায় করবে, এর অতিরিক্ত কোন নফল সালাত আদায় না করে থাকে, রমাদানে সিয়াম পালন করে এবং কোন নফল সিয়াম না করে থাকে, আর হালালসমূহকে হালাল মনে করে ও তা পালন করে এবং হারামসমূহকে হারাম মনে করে আর তা থেকে দূরে থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
শিক্ষা
- একজন মুসলিমকে ফরয ইবাদত পালনে এবং হারাম বর্জনে যত্নবান হতে হবে। আর তার লক্ষ্য হবে জান্নাতে প্রবেশ করা।
- হালাল কাজ করা ও তাকে হালাল মনে করা এবং হারাম পরিহার ও তা হারাম মনে করার গুরুত্ব।
- ফরয আমলসমূহ পালন করা ও হারামসমূহ বর্জন করা জান্নাতে যাওয়ার কারণ।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 44) (15).
جامع العلوم والحكم (1/513). شرح الأربعين النووية للعثيمين (ص: 215).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين للعباد (ص 77).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي مالكٍ الأشعريِّ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَآنِ -أَوْ تَمْلَأُ- مَا بَيْنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَالصَّلَاةُ نُورٌ، وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو، فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا».
আবূ মালিক আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ মিযান-দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সদাকাহ হচ্ছে দলিল এবং সবর হচ্ছে আলো। আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। সকল মানুষই ভোর করে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। অতঃপর সে তাকে মুক্ত করে অথবা তাকে ধ্বংস করে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
এখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অযু ও গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা যায়, আর এটি সালাত আদায়ের একটি শর্ত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “الحمد لله” ‘আলহামুদ লিল্লাহ’ মিযানকে পরিপূর্ণ করে দেয়”, এটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রশংসা এবং তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা, যা কিয়ামাতের দিনে ওযন করা হবে এবং তাতে আমলের পাল্লা (মিযান) পূর্ণ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’: এটি হচ্ছে: আল্লাহকে সকল ধরণের অপূর্ণতার গুণ থেকে মুক্ত ঘোষণা করা এবং তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল এমন পূর্ণতার গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা এবং সেই সাথে তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান অন্তরে ধারণ করা, যা আসমান জমিনকে পূর্ণ করে দেয়। “সালাত হচ্ছে নূর”: বান্দার অন্তরের, চেহারার, কবরের এবং তার হাশরের নূর। “সাদাকাহ হচ্ছে বুরহান (দলিল)”: তথা মুমিনের ঈমানের সত্যতার দলিল। আর এটি এমন মুনাফিক থেকে পৃথককারী যে সাদকাহর প্রতিশ্রুত প্রতিদানকে স্বীকার না করায়, তা থেকে (নিজেকে) বিরত রাখে। আর “সবর হচ্ছে আলো”: এটি হচ্ছে নিজেকে উৎকণ্ঠা-অস্থিরতা ও রাগ থেকে সংবরণ করা। এটি সূর্যের ন্যায় এমন আলো যার সাথে উষ্ণতা ও দহন ক্ষমতা রয়েছে; কেননা এটি একটি কঠিন বিষয় এবং এটি নিজের সাথে এবং আকাংখিত বিষয়ের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করার নাম। সুতরাং সবরকারী ব্যক্তি সঠিক পথে আলোকিত, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে। সবর হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের উপরে টিকে থাকা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং দুনিয়াতে বিভিন্ন প্রকার বালা মুসিবত ও কষ্টকর বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা। “আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে দলিল”: এটি অর্জিত হবে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। অথবা “তোমার বিপক্ষে দলিল”: কুরআন অনুযায়ী আমল না করলে অথবা কুরআন তিলাওয়াত পরিত্যাগ করলে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিটি মানুষ প্রচেষ্টা রত থাকে, তারা ছড়িয়ে পড়ে, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় আর তারপরে তাদের বাড়ি থেকে বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে তারা বের হয়ে পড়ে। সুতরাং তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহর আনুগত্যের উপরে দৃঢ়পদ থাকে। ফলে তারা নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেয়। অপরপক্ষে অনেকে রয়েছে, যারা এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাপের মধ্যে নিপতিত হয়। ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করার মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে।
শিক্ষা
- পবিত্রতা দুই প্রকার: বাহ্যিক পবিত্রতা, যা অযু ও গোসলের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা, যা তাওহীদ, ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
- হাদীসে সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। কেননা সালাত হচ্ছে বান্দার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাতের নূর।
- সাদাকাহ হচ্ছে ঈমানের সত্যতার দলিল।
- এখানে কুরআন অনুযায়ী আমল করা ও তা সত্য বলে বিশ্বাস করার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে, যাতে কুরআন তোমার বিপক্ষে নয়; বরং পক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করে।
- অন্তরকে যদি তুমি আনুগত্যের (সাওয়াবের) কাজে নিমগ্ন না করতে পার, তবে সে তোমাকে পাপাচারে নিমগ্ন করে দেবে।
- প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই আমল (কাজ) করতে হয়। হয়ত সে আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে বাঁচিয়ে নেবে অথবা পাপের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে।
- সবর অবশ্য কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে ও সাওয়াবের আশায় হতে হবে। আর এতে রয়েছে কষ্ট।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 203) (223)، شرح الأربعين لابن دقيق العيد (ص 84)، شرح الأربعين النووية للعثيمين (ص: 231)، الرياض الزكية شرح الأربعين النووية للخضير (ص 293)، فتح القوي المتين في شرح الأربعين للعباد (ص 79)
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ».
যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাতভর আসমান থেকে বৃষ্টি হওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াতে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন: “তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন?” তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: “আজকে আমার বান্দারা কেউ মুমিন আবার কেউ কাফির হয়ে সকাল করেছে। যে বলেছে: আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, সে আমার উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে: অমুক অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যক্তি আমাকে অস্বীকারকারী (কাফির) এবং নক্ষত্রের উপরে ঈমান আনায়নকারী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়া -মক্কার নিকটবর্তী একটি গ্রাম-এ ফজর সালাত আদায় করলেন। আর তা ছিল আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর। যখন তিনি সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি তার চেহারা মানুষের দিকে ফিরালেন। এরপরে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মহান প্রতাপশালী রব কী বলেছেন, তা কি তোমরা জান? তখন তারা জবাব দিলেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, বৃষ্টি হলে মানুষ দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে: একটি দল আল্লাহর উপরে বিশ্বাসী আর অপর দল আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে অবিশ্বাসী। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে: আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, আর বৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলার দিকেই সম্পৃক্ত করবে; সে ব্যক্তি
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। পক্ষান্তরে যে বলবে: আমরা অমুক অমুক তারকা বা গ্রহের কারণে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি; সে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকারকারী এবং নক্ষত্রের উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী। কেননা আল্লাহ নক্ষত্রকে শরী‘আতের দিক থেকে অথবা তাকদীরের দিক থেকে কোন রকম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেননি। অন্যদিকে যে ব্যক্তি বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রকৃতির ঘটনাগুলোকে গ্রহ-নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত:জনিত গতিবিধির সাথে সম্পৃক্ত করে, এ বিশ্বাসে যে, সেগুলোই প্রকৃত কর্তা, তাহলে সে বড় ধরণের কাফির।
শিক্ষা
- বৃষ্টি হওয়ার পরে এ কথা বলা মুস্তাহাব: “আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।”
- যারা বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য নি‘আমাতকে সৃষ্টিগতভাবে গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে, তারা বড় ধরনের কুফরে জড়িত কাফির। আর যদি সেগুলোকে কারণ মনে করে সম্পৃক্ত করে, তাহলে সে ছোট কুফরে জড়িত ব্যক্তি; কেননা সেটি শর‘য়ী অথবা বস্তুগত কোন কারণ নয়।
- নি‘আমাত কুফরের কারণ, যদি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আবার তা ঈমানের কারণ, যদি তার শুকরিয়া আদায় করা হয়।
- এ কথা বলা নিষিদ্ধ: “অমুক অমুক গ্রহের কারণে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।” যদিও সে তা সময়কে উদ্দেশ্য করে বলে, তবৃুও শিরকের পথ উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় তা বর্জনীয়।
- নি‘আমাত প্রাপ্ত হওয়া ও দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার সময়ে অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সংযুক্ত রাখা আবশ্যক।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 169) (846)، صحيح مسلم (1/ 83) (71)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 484)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 260).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي عَلَى الحَوْضِ حَتَّى أَنْظُرَ مَنْ يَرِدُ عَلَيَّ مِنْكُمْ، وَسَيُؤْخَذُ نَاسٌ دُونِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ مِنِّي وَمِنْ أُمَّتِي، فَيُقَالُ: هَلْ شَعَرْتَ مَا عَمِلُوا بَعْدَكَ، وَاللَّهِ مَا بَرِحُوا يَرْجِعُونَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ».
আসমা বিনতু আবী বাকর রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি হাউযের কাছে উপস্থিত হব, এমনকি আমি তোমাদের মধ্য হতে আমার নিকটে আগত ব্যক্তিদেরকে দেখতে পাব আর তারপরই একদল মানুষকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব! আমার লোক, আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত। তখন বলা হবে: তুমি কী অনুধাবন করতে পেরেছ যে, তারা তোমার পরে কী ধরণের আমল করেছে? আল্লাহর কসম, তারা তাদের পিছনের দিকে অতিদ্রুত ছিটকে পড়েছিল।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামাতের দিনে তার হাউযের কাছে তিনি উপনীত হবেন, যাতে তিনি তার উম্মাতের মধ্য হতে হাউযের কাছে আসা ব্যক্তিদেরকে দেখতে পান। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে থাকা কিছু মানুষকে দূরে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন তিনি বলবেন: হে আমার রব! (তারা) আমার লোক এবং আমার উম্মাত। তখন বলা হবে: তুমি কী জান যে, তাদের থেকে তোমার পৃথক হওয়ার পরে কী আমল করেছিল? আল্লাহর কসম! তারা তাৎক্ষণিক তাদের পিছনে ফিরে গিয়েছিল, এবং দীন থেকে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল< সুতরাং তারা তোমার লোকও নয় আবার তারা তোমার উম্মাতও নয়।
শিক্ষা
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের প্রতি দয়া ও তাদের (মুক্তির) প্রতি আগ্রহ।
- হাদীসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বিরোধীতার ভয়াবহতা রয়েছে।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র
صحيح البخاري (8/ 121) (6593)، صحيح مسلم (4/ 1793) (2292)، عمدة القاري (23/144)، البحر المحيط الثجاج (37/322).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com