মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

জাহেলী যুগের বিষয়াদি

৭টি হাদীস

“হে মানব সকল! দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকেদেরকে দীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।”

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ الْعَقَبَةِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ: «الْقُطْ لِي حَصًى» فَلَقَطْتُ لَهُ سَبْعَ حَصَيَاتٍ، هُنَّ حَصَى الْخَذْفِ، فَجَعَلَ يَنْفُضُهُنَّ فِي كَفِّهِ وَيَقُولُ: «أَمْثَالَ هَؤُلَاءِ فَارْمُوا» ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ، فَإِنَّما أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ الْعَقَبَةِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ: «الْقُطْ لِي حَصًى» فَلَقَطْتُ لَهُ سَبْعَ حَصَيَاتٍ، هُنَّ حَصَى الْخَذْفِ، فَجَعَلَ يَنْفُضُهُنَّ فِي كَفِّهِ وَيَقُولُ: «أَمْثَالَ هَؤُلَاءِ فَارْمُوا» ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ، فَإِنَّما أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ». রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল ’আকাবার ভোরে তাঁর উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় বলেন: “আমার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করে আন।” আমি তাঁর জন্য সাতটি কঙ্কর সংগ্রহ করলাম। তা ছিল আকারে ক্ষুদ্র। তিনি তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন: “এই আকারের ক্ষুদ্র কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।” অতঃপর তিনি বলেন: “হে মানব সকল! দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকেদেরকে দীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।”
এটি ইবনে মাজাহ, নাসায়ী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বর্ণনা করেন যে, তিনি বিদায় হজ্জের সময় কোরবানির দিন জামারাত আল-‘আক্বাবা তে পাথর মারার সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন। তিনি তাকে তার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলে তিনি (ইবনু আব্বাস) তাঁর জন্য সাতটি কঙ্কর সংগ্রহ করলেন, যার মধ্যে প্রতিটি ছিল ছোলা বা হেজেলনাটের আকার, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন: “এই আকারের ক্ষুদ্র কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।” অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি, চরমপন্থা এবং সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, কারণ পূর্ববর্তী জাতিগুলো দ্বীনের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন, বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

শিক্ষা
  1. দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়িকে নিষিদ্ধ করা, এর খারাপ পরিণতি এবং এটি ধ্বংসের কারণ তা ব্যাখ্যা করা।
  2. আমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা যে ভুলগুলো করেছে তা এড়াতে তাদের অবস্থা থেকে শিক্ষা নেয়া।
  3. সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সূত্র

سنن النسائي (5/ 268)(3057). سنن ابن ماجه (4/ 228) (3029). مسند أحمد (5/ 298) (3248). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص165). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص179).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (জাহিলিয়্যাতের যুগে যাদু নষ্ট করার একটি পদ্ধতি) নুশরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, তা শয়তানের কাজ।

عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن النُّشْرَةِ؟ فقال: هي من عمل الشيطان.
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (জাহিলিয়্যাতের যুগে যাদু নষ্ট করার একটি পদ্ধতি) নুশরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তিনি বললেন, তা শয়তানের কাজ”।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা জাহিলিয়্যাতের যুগে যেভাবে করা হতো যেমন যাদুকে যাদু দ্বারা চিকিৎসা করা ইত্যাদির বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, এটি শয়তানের কর্ম বা তার মাধ্যমে সংগঠিত হয়। কারণ, তা সাধারণত বিভিন্ন প্রকার যাদু এবং শয়তানী কর্ম দ্বারা হয়ে থাকে। এ গুলো সবই হলো শির্ক এবং হারাম। আর বৈধ নুসরাহ হলো ঝার-ফুঁক দ্বারা অথবা যাদু অনুসন্ধান করে তা কুরআন পড়তে পড়তে হাত দ্বারা নষ্ট করা অথবা বৈধ ঔষুধ দ্বারা যাদুর চিকিৎসা করা।

শিক্ষা
  1. কোনো ক্ষতিতে পড়া হতে বেঁচে থাকার জন্য অজানা বিষয়ে আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা।
  2. জাহিলিয়্যাতের যুগের লোকেরা যেভাবে ঝাড়ফুঁক করত, সেভাবে ঝাড়ফুঁক করা নিষিদ্ধ। কারণ, এটি যাদু এবং যাদু কুফর।
  3. শয়তানের যাবতীয় কর্মই হারাম।
সূত্র

1- الملخص في شرح كتاب التوحيد، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، دار العاصمة، الرياض، الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م. 2- الجديد في شرح كتاب التوحيد، محمد بن عبد العزيز السليمان القرعاوي، تحقيق: محمد بن أحمد سيد، مكتبة السوادي، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م. 3- سنن أبي داود، سليمان بن الأشعث أبوداود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، صيدا، بيروت. 4- مسند الإمام أحمد بن حنبل، أحمد بن حنبل أبو عبدالله الشيباني، تحقيق: شعيب الأرنؤوط و عادل مرشد، وآخرون، تحت إشراف: عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م. 5- سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها، محمد ناصر الدين الألباني، مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ : “কোন সংক্রামণ নেই, কোন পাখির গণনা নেই, কোন পেঁচার কুলক্ষণ নেই, সফর মাসের কোন অকল্যাণ নেই। আর কুষ্ঠ রোগী থেকে পালিয়ে যাও, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে পালিয়ে যাও।”

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ : “কোন সংক্রামণ নেই, কোন পাখির গণনা নেই, কোন পেঁচার কুলক্ষণ নেই, সফর মাসের কোন অকল্যাণ নেই। আর কুষ্ঠ রোগী থেকে পালিয়ে যাও, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে পালিয়ে যাও।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় জাহেলী যুগের কাজের বর্ণনা করেছেন এগুলো থেকে সতর্ক করার জন্য এবং এটা জানানোর জন্য যে, সব কিছুই আল্লাহর হাতে আর আল্লাহর আদেশ এবং তাকদীর ছাড়া কোন কিছুই হয় না, আর এগুলো হচ্ছে: প্রথমত: জাহেলী যুগের লোকেরা ধারণা করত যে, রোগ নিজ থেকেই অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়, এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাদেরকে এ বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছেন যে, রোগ এক রোগী থেকে অন্য রোগীর মধ্যে নিজে থেকেই স্থানান্তর হয়, বরং আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন সমগ্র জগতের মহাপরিচালক; আর তিনিই রোগ দিয়ে থাকেন এবং তিনি এটাকে তুলে নেন, তাঁর লেখা এবং ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই ঘটে না। দ্বিতীয়ত: জাহেলী যুগের মানুষেরা যখন কোন সফর অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হত তখন তারা পাখি উড়িয়ে দিত, যদি সেটি ডানে উড়ে যেত, তাহলে তারা সুসংবাদ মনে করত, আর যদি সেটি বামে উড়ে যেত, তাহলে তারা তাকে কুলক্ষণ মনে করত এবং ফিরে যেত, এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাখির মাধ্যমে কুলক্ষণ বিচার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এটি একটি বাতিল বিশ্বাস। তৃতীয়ত: জাহেলী যুগের লোকেরা বলত: যখন কোন পেঁচা কারো বাড়িতে উড়ে আসে, তখন তা ঐ বাড়ির জন্য মুসীবত নিয়ে আসে। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেঁচার মাধ্যমে অমঙ্গল নির্ণয় নিষিদ্ধ করেছেন। চতুর্থত: সফর মাসে অকল্যাণ রয়েছে এমন বিশ্বাস থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, সফর হচ্ছে চন্দ্র মাসের দ্বিতীয় মাস। বলা হত যে, সফর হচ্ছে পেটে থাকা এক ধরণের সাপ, যা মানুষ ও গবাদি পশুকে আক্রান্ত করে, তারা ধারণা করত যে, এটি খোস-পাঁচড়া থেকেও অধিক সংক্রামক; এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিশ্বাসকে নাকচ করেছেন। পঞ্চমত: তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে একজন ব্যক্তি সিংহ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। আর এটি হচ্ছে মানুষের জন্য সতর্কতা অবলম্বন, উক্ত রোগ থেকে রক্ষা চাওয়া এবং আল্লাহ উপকরণগত যেসব বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন, সেই কাজ সম্পাদন করা। কুষ্ঠ রোগ হচ্ছে: এমন একটি রোগ যাতে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর উপরে তওয়াক্কুল ও নির্ভর করা এবং বৈধ উপকরণসমূহ গ্রহণ করা।
  2. আল্লাহর ফয়সালা এবং তাকদীরের উপরে ঈমান রাখা আবশ্যক। আর উপকরণের বিষয়ও আল্লাহর হাতে, তিনিই এটির কার্যকারিতা বহাল রাখেন অথবা এর প্রভাবকে নষ্ট করে দেন।
  3. কতিপয় মানুষ কিছু রঙ যেমন কালো এবং লাল, অথবা কতিপয় সংখ্যা, নাম বা বিকলাঙ্গ ব্যক্তির মাধ্যমে যে অশুভ বা কুলক্ষণ নির্ণয় করে থাকে, তা বাতিল করা হয়েছে।
  4. হাদীসটিতে কুষ্ঠরোগী এবং অনুরূপ ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্তদের নিকটে যাওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি এমন একটি কারণ বা উপকরণ যা আল্লাহ তা‘আলা স্বাভাবিকভাবে চালু রেখেছেন যে, এটি কারণসমূহের দিকে মানুষকে পৌছে দেয়, সুতরাং উপকরণগুলি নিজে থেকে স্বয়ং সম্পন্ন নয়, বরং আল্লাহই সেই সত্তা যিনি ইচ্ছা করলে তার শক্তি নষ্ট করে দিতে পারেন ফলে তার প্রভাব অকার্যকর হয়ে পড়ে আর যদি তিনি ইচ্ছা করেন তা বহাল রাখেন ফলে তার প্রভাব কার্যকর হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 126) (5707). صحيح مسلم (4/ 1742) (2220). فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، لعبد الرحمن التميمي (ص307). القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 565). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص228). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص253). التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص77).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গালে চপেটাঘাত করে, জামার বুক ছিড়ে এবং জাহিলিয়তের প্রথায় চিৎকার করে , তারা আমাদের দলভুক্ত নয়”।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الخُدُودَ، وَشَقَّ الجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الجَاهِلِيَّةِ».
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) গালে চপেটাঘাত করে, জামার বুক ছিড়ে এবং জাহিলিয়তের প্রথায় চিৎকার করে , তারা আমাদের দলভুক্ত নয়”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাক-ইসলামী (জাহেলি) যুগের লোকদের কিছু কর্ম থেকে নিষেধ ও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: আমাদের দল ভুক্ত নয়: প্রথমটি: যে গালে আঘাত করে, গালকে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন; কারণ এটিই বেশী হয়। অন্যথায় মুখের বাকি অংশে আঘাত করাও নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি: চরম অস্থিরতার কারণে জামার মাথা প্রবেশ করানোর জায়গা থেকে ছিড়ে ফেলা। তৃতীয়টি: প্রাক-ইসলামী যুগের লোকদের মত চিৎকার করা, যেমন হায়, ধ্বংস, বিলাপ, ডাকা এবং অন্যান্য কথাবার্তা।

শিক্ষা
  1. হাদীসের এই সতর্কবাণী ইঙ্গিত করে যে এই কাজগুলো বড় গুনাহ।
  2. বিপদের মুখে ধৈর্য ধারণ করা ওয়াজিব এবং আল্লাহর বেদনাদায়ক তাকদীরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হারাম। এটি প্রকাশ পায়: বিলাপ, চিৎকার, চুল উপড়ে ফেলা, জামা ছিড়ে ফেলা বা অন্যান্য কর্মের মাধ্যমে।
  3. যেসব বিষয়ে শরীয়ত অনুমোদন করেনি সেসব বিষয়ে প্রাক-ইসলামী যুগের অনুকরণ করা হারাম।
  4. দুঃখ এবং কান্নার মধ্যে কোন সমস্যা নেই, কারণ এটি আল্লাহর তাকদীরের ওপর সবর করার বিপরীত নয়; বরং এটি একটি রহমত যা আল্লাহ আত্মীয় ও প্রিয়জনদের হৃদয়ে রেখেছেন।
  5. একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হল আল্লাহর তাকদীরে সন্তুষ্ট থাকা; যদি সে সন্তুষ্ট থাকতে না পারে, তবে ধৈর্য ধরা তার ওপর ওয়াজিব।
সূত্র

صحيح البخاري (2/ 81) (1294). صحيح مسلم (1/ 99) (103). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص287). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (2/ 379) .

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় (আমার উম্মাত নয়) যে শুভ- অশুভ নির্ণয় করে অথবা যার জন্য শুভ-অশুভ নির্ণয় করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি যাদু করে বা যার জন্য যাদু করা হয়,

عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «‌لَيْسَ ‌مِنَّا ‌مَنْ ‌تَطَيَّرَ أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ، أَوْ تَكَهَّنَ أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ، أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ، وَمَنْ عَقَدَ عُقْدَةً، وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ».
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় (আমার উম্মাত নয়) যে শুভ- অশুভ নির্ণয় করে অথবা যার জন্য শুভ-অশুভ নির্ণয় করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি যাদু করে বা যার জন্য যাদু করা হয়, এবং যে ব্যক্তি কোনো (সুতা-তাগা ইত্যাদিতে) গিট দেয়। আর যদি কেউ কোনো গণক-জ্যোতিষী বা অনুরূপ ভাগ্য বা ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর অবর্তীণ দ্বীনের সাথে অবশ্যই কুফরী করল।”
এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মত থেকে যারা কতক কাজ করে, তাদেরকে "তারা আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়" বলে সতর্ক করেছেন সে কাজগুলো হলো: প্রথম: (من تَطَيَّرَ أو تُطُيِّرَ) “যে ব্যক্তি শুভ-অশুভ নির্ণয় করে অথবা যে ব্যক্তির জন্য শুভ-অশুভ নির্ণয় করা হয়।” এর মূল হলো: সফর অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা অন্য কোন কাজ শুরু করার আগে একটি পাখি উড়িয়ে দেওয়া। পাখিটি যদি ডান দিকে উড়ে যায়, তবে সেটাকে শুভ মনে করে উক্ত কাজটি সম্পন্ন করা। আর পাখিটি যদি বাম দিকে উড়ে যায়, তবে সেটাকে অশুভ মনে করে কাজটি করা থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এ ধরনের কাজ নিজে বা অন্য কে দিয়ে এ কাজ করানো জায়েয নেই। এ ধরনের শুভ-অশুভ নির্ণয় করার মধ্যে পাখি বা পশু বা বিকলাঙ্গ ব্যক্তি, সংখ্যা বা দিন নির্ধারণ বা অন্য সকল প্রকারের শ্রুত বা দৃশ্য সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়: (من تَكَهَّنَ أو تُكُهِّنَ له) “অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য ভাগ্য নির্ণয় করা হয়।” সুতরাং যে ব্যক্তি তারকারাজি ও অন্যান্য কোন কিছুর সাহায্যে অদৃশ্যের ইলম জানার দাবী করবে অথবা যে ব্যক্তি গায়েব জানে এমন দাবিদার , যেমন গনক ইত্যাদি এমন কারো কাছে গমন করবে এবং সে যা বলে তা যদি বিশ্বাস করে, যেহেতু সে গায়েবের ইলম জানে বলে দাবী করে, তবে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাযিলকৃত বিধানের সাথে কুফরী করল। তৃতীয়: (من سحر أو سحر له) “অথবা যে ব্যক্তি যাদু করে বা যার জন্য যাদু করা হয়।” সে নিজে নিজের জন্য যাদু করে অথবা অন্য কারো মাধ্যমে যাদু করায়, যাতে তার দ্বারা কারো উপকার বা তার ক্ষতি করতে চায় , অথবা যে ব্যক্তি কোনো (সুতা-তাগা ইত্যাদিতে) গিট দেয়, নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক ব্যবহার করে যাদু করে এবং তাতে ফুঁ দেয়।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা ও তাকদীরের উপর ঈমান আনায়ন করা ফরয। শুভ-অশুভ নির্ণয় করা, কোন কিছুতে কল্যাণ-অকল্যাণ মনে করা, যাদু করা, গণকগীরি করা অথবা এধরনের লোকদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হারাম।
  2. গায়েবের ইলমের দাবী করা তাওহীদ পরিপন্থী শির্ক ।
  3. গণকের কথা বিশ্বাস এবং তার কাছে গমন করা হারাম। হাতের তালুর রেখা গণনা, হস্তরেখা, রাশিফল এগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত; যদিও তা শুধু তথ্যের জন্যে হয়, ইত্যাদি কাজও হারাম।
সূত্র

مسند البزار = البحر الزخار (9/ 52) (3578). شرح السنة للبغوي (12/ 182). مجموع الفتاوى (35/ 173). القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 543). التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص315). الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص242). الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص217).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকে বা ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।

عن أبي ذر رضي الله عنه مرفوعًا: (ليس من رجل ادَّعَى لغير أبيه -وهو يعلمه- إلا كفر، ومن ادعى ما ليس له، فليس منا وَلَيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ من النار، ومن دعا رجلا بالكفر، أو قال: عدو الله، وليس كذلك، إلا حَارَ عليه).
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, “যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকে বা ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে যে ব্যক্তি এ তিন আমলের থেকে কোন একটি আমলে লিপ্ত হবে তার জন্য রয়েছে কঠিন হুমকি এবং বিশেষ ভয় প্রদর্শন। সুতরাং যে সবগুলোতে লিপ্ত হবে তার অবস্থা কি হবে? প্রথম: “যে ব্যক্তি তার পিতা ও বংশ সম্পর্কে জানে অথচ অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে এবং না জানার বান করে। দুই: যে ব্যক্তি জানা সত্ত্বেও এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, যেমন বংশের দাবী বা মালের দাবী বা কোন পাওনার দাবী, বা কোন আমলের দাবী বা কোন জ্ঞানের দাবী বা নিজের মধ্যে কোন মূল্যবান গুনের দাবী করল যার দ্বারা মানুষকে তার দিকে আকৃষ্ট করল। অথচ সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী তখন তার শাস্তি হবে অনেক বড়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে দায়মুক্ত। আর তার বিষয় হলো সে যেন তার জন্য জাহান্নামের একটি স্থান গ্রহণ করে নেয়। কারণ, সে তাঁরই অধিবাসী। তিন, আর একজন নিরপরাধকে ‘কাফের’ ইয়াহুদী, খৃষ্টান বা সে ‘আল্লাহর দুশমন’ বলে, অপবাদ দেওয়া। এ ধরনের ক্ষেত্রে সে যা বলেছে তা তার ওপরই বর্তাবে। কারণ, এ সব খারাপ গুনে গুণান্বিত হওয়ার জন্য সে নিজেই বেশি হকদার তার অপেক্ষা যে একজন মুসলিম যে খারাপ আমল ও কথা থেকে মুক্ত।

সূত্র

صحيح البخاري، دار طوق النجاة، ط 1422هـ. صحيح مسلم، ط دار إحياء التراث العربي، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي. تيسير العلام، للبسام، الناشر: مكتبة الصحابة، الأمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة العاشرة، 1426هـ - 2006 م. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط دار الفكر بدمشق، الطبعة الأولى 1381هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

ঐ কথাটি সত্য যা জিন শয়তান (ঊর্ধ্বজগৎ হতে) ত্বরিত শুনে নেয়। অতঃপর মোরগের করকরানোর মতো শব্দ করে তার বন্ধুর কানে পৌঁছিয়ে দেয়। এরপর সে একশর অধিক মিথ্যা কথা তার সাথে মিলিয়ে দেয়।”

عن عائشة رضي الله عنها قالت: سَأَلَ أُنَاسٌ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْكُهَّانِ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسُوا بِشَيْءٍ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، فَإِنَّهُمْ يُحَدِّثُونَ أَحْيَانًا بِالشَّيْءِ يَكُونُ حَقًّا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تِلْكَ الْكَلِمَةُ مِنَ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الْجِنِّيُّ فَيَقُرُّهَا فِي أُذُنِ وَلِيِّهِ قَرَّ الدَّجَاجَةِ، فَيَخْلِطُونَ فِيهَا أَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ كَذْبَةٍ».
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কতিপয় লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গনক-জ্যোতিষীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: “তারা কিছুই নয়।” তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কোন কোন সময় এমন কথা বলে, যা সত্য ও সঠিক হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “ঐ কথাটি সত্য যা জিন শয়তান (ঊর্ধ্বজগৎ হতে) ত্বরিত শুনে নেয়। অতঃপর মোরগের করকরানোর মতো শব্দ করে তার বন্ধুর কানে পৌঁছিয়ে দেয়। এরপর সে একশর অধিক মিথ্যা কথা তার সাথে মিলিয়ে দেয়।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেসব লোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়, যারা ভবিষ্যতের গায়েব সম্পর্কে (জ্যোতিষী) সংবাদ দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন: তোমরা তাদের কথাকে পরোয়া করবে না, তাদের কথা গ্রহণ করবে না এবং তাদেরকে গুরুত্ব দিবে না। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাদের কোন কোন কথা কখনো কখনো সত্য ও সঠিক হয়ে থাকে। যেমন তারা অমুক মাসে অমুক দিনে সংঘটিত হবে বলে কোন কোন গায়েবের সংবাদ দিয়ে থাকে, যা তাদের সংবাদ অনুযায়ী বাস্তবে সংঘটিত হয়ে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: জিনরা ঊর্ধ্বজগতে ওৎ পেতে ত্বরিত কোন কোন সংবাদ শুনে নেয়। ফলে তারা তাদের গণক বন্ধুদের সেসব শোনা সংবাদ পৌঁছে দেয়। অতপর গণকরা শয়তানের আকাশ থেকে শোনা কথার সাথে তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে শত শত মিথ্যা মিলিয়ে মানুষের কাছে প্রকাশ করে।

শিক্ষা
  1. গণকের কথা বিশ্বাস করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর তারা যা বলে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। যদিও মাঝে মধ্যে দু‘ একটি সত্য কথা বলে থাকে।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন উপলক্ষে আসমানকে শয়তানদের থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে তারা অহীর বা অন্য কোন সংবাদ শুনতে না পারে। কিন্তু কেউ চুরি করে শুনতে চাইলে অগ্নিশিখা তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
  3. জিনেরা কতক মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 47) (6213). صحيح مسلم (4/ 1750) (2228). نزهة المتقين (2/ 1143). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 557). بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (3/ 177). مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (7/ 2904). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 404).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com