ورُوي عن الحسن أنه قال: "لا يحل السحر إلا ساحر".
হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাদুকর ছাড়া কেউ যাদু খণ্ডন করতে পারে না।
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি খাত্তাবী বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
‘নুশরা’ হলো যাদু ভাঙ্গা। হাসান এর কথার বাহ্যিক অর্থ নুশরাহ নিষিদ্ধ প্রমাণ করে। কারণ, যাদুর চিকিৎসা কেবল সে ব্যক্তি করতে পারে যার কাছে যাদু বিদ্যার জ্ঞান রয়েছে। ফলে এটিই যাদুকে সমপর্যায়ের যাদু দ্বারা ভাঙ্গার নামান্তর। আর তা অবশ্যই শয়তানের কর্ম। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো, যাদুর চিকিৎসা কোনো বৈধ ঔষধ ও কুরআনের তিলাওয়াতের দ্বারা করা বৈধ। আর যাদুর চিকিৎসা যাদু দ্বারা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সূত্র
1-فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر، الطبعة: السابعة، 1377هـ - 1957م.
2-القول المفيد على كتاب التوحيد، دار ابن الجوزي، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الثانية, محرم، 1424هـ.
3-الملخص في شرح كتاب التوحيد، دار العاصمة الرياض، الطبعة: الأولى 1422هـ - 2001م.
4-الجديد في شرح كتاب التوحيد، مكتبة السوادي، جدة، المملكة العربية السعودية، الطبعة: الخامسة، 1424هـ - 2003م.
5-التمهيد لشرح كتاب التوحيد، دار التوحيد، تاريخ النشر: 1424هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ، أَوْ تَكَهَّنَ أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ، أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ، وَمَنْ عَقَدَ عُقْدَةً، وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ».
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় (আমার উম্মাত নয়) যে শুভ- অশুভ নির্ণয় করে অথবা যার জন্য শুভ-অশুভ নির্ণয় করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য করা হয়, অথবা যে ব্যক্তি যাদু করে বা যার জন্য যাদু করা হয়, এবং যে ব্যক্তি কোনো (সুতা-তাগা ইত্যাদিতে) গিট দেয়। আর যদি কেউ কোনো গণক-জ্যোতিষী বা অনুরূপ ভাগ্য বা ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর অবর্তীণ দ্বীনের সাথে অবশ্যই কুফরী করল।”
এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মত থেকে যারা কতক কাজ করে, তাদেরকে "তারা আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়" বলে সতর্ক করেছেন সে কাজগুলো হলো:
প্রথম: (من تَطَيَّرَ أو تُطُيِّرَ) “যে ব্যক্তি শুভ-অশুভ নির্ণয় করে অথবা যে ব্যক্তির জন্য শুভ-অশুভ নির্ণয় করা হয়।” এর মূল হলো: সফর অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা অন্য কোন কাজ শুরু করার আগে একটি পাখি উড়িয়ে দেওয়া। পাখিটি যদি ডান দিকে উড়ে যায়, তবে সেটাকে শুভ মনে করে উক্ত কাজটি সম্পন্ন করা। আর পাখিটি যদি বাম দিকে উড়ে যায়, তবে সেটাকে অশুভ মনে করে কাজটি করা থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এ ধরনের কাজ নিজে বা অন্য কে দিয়ে এ কাজ করানো জায়েয নেই। এ ধরনের শুভ-অশুভ নির্ণয় করার মধ্যে পাখি বা পশু বা বিকলাঙ্গ ব্যক্তি, সংখ্যা বা দিন নির্ধারণ বা অন্য সকল প্রকারের শ্রুত বা দৃশ্য সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়: (من تَكَهَّنَ أو تُكُهِّنَ له) “অথবা যে ব্যক্তি ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য ভাগ্য নির্ণয় করা হয়।” সুতরাং যে ব্যক্তি তারকারাজি ও অন্যান্য কোন কিছুর সাহায্যে অদৃশ্যের ইলম জানার দাবী করবে অথবা যে ব্যক্তি গায়েব জানে এমন দাবিদার , যেমন গনক ইত্যাদি এমন কারো কাছে গমন করবে এবং সে যা বলে তা যদি বিশ্বাস করে, যেহেতু সে গায়েবের ইলম জানে বলে দাবী করে, তবে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাযিলকৃত বিধানের সাথে কুফরী করল।
তৃতীয়: (من سحر أو سحر له) “অথবা যে ব্যক্তি যাদু করে বা যার জন্য যাদু করা হয়।” সে নিজে নিজের জন্য যাদু করে অথবা অন্য কারো মাধ্যমে যাদু করায়, যাতে তার দ্বারা কারো উপকার বা তার ক্ষতি করতে চায় , অথবা যে ব্যক্তি কোনো (সুতা-তাগা ইত্যাদিতে) গিট দেয়, নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক ব্যবহার করে যাদু করে এবং তাতে ফুঁ দেয়।
শিক্ষা
- আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা ও তাকদীরের উপর ঈমান আনায়ন করা ফরয। শুভ-অশুভ নির্ণয় করা, কোন কিছুতে কল্যাণ-অকল্যাণ মনে করা, যাদু করা, গণকগীরি করা অথবা এধরনের লোকদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হারাম।
- গায়েবের ইলমের দাবী করা তাওহীদ পরিপন্থী শির্ক ।
- গণকের কথা বিশ্বাস এবং তার কাছে গমন করা হারাম। হাতের তালুর রেখা গণনা, হস্তরেখা, রাশিফল এগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত; যদিও তা শুধু তথ্যের জন্যে হয়, ইত্যাদি কাজও হারাম।
সূত্র
مسند البزار = البحر الزخار (9/ 52) (3578).
شرح السنة للبغوي (12/ 182).
مجموع الفتاوى (35/ 173).
القول المفيد على كتاب التوحيد، لابن عثيمين (1/ 543).
التمهيد لشرح كتاب التوحيد، لصالح آل الشيخ (ص315).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، لمحمد القرعاوي (ص242).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، لصالح الفوزان (ص217).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتبَسَ علْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتبَسَ شُعبَة مِن السِّحرِ، زادَ ما زادَ».
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি জ্যোতিষ বিদ্যার কিছু শিক্ষা করলো, সে যেন যাদু বিদ্যার একটা শাখা আয়ত্ত করলো, এখন তা যতো বৃদ্ধি পাবে যাদুবিদ্যাও ততো বাড়বে।”
এটি আবূ দাউদ, ইবন মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, জ্যোতিষ বিদ্যা, রাশিফল, মহাবিশ্বের বিভিন্ন কক্ষপথের ঘূর্ণায়ণ, এগুলোর কক্ষপথে প্রবেশ ও বাহিরের ফলে পৃথিবীতে অমুকের মৃত্যু বা অমুকের জন্ম বা কারো অসুস্থতা ইত্যাদি ঘটনাবলী সংঘটিত হয় যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে বলে যারা প্রমাণ পেশ করে, যে ব্যক্তি এসবের কিছু শিক্ষা করলো বা গ্রহণ করলো, তাহলে সে যেন যাদু বিদ্যার কিছু অংশ শিক্ষা করলো। এখন তা যতো বৃদ্ধি পাবে তার যাদুবিদ্যাও ততো বাড়বে।
শিক্ষা
- নক্ষত্র দ্বারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া (জ্যোতিষশাস্ত্র) হারাম। কারণ, এটি গাইবী ইলমের দাবী করার সমান।
- হারাম জ্যোতিষশাস্ত্র যাদুবিদ্যার একটি প্রকার, যা তাওহীদের পরিপন্থী। পক্ষান্তরে তারকারাজির দিকে নজর যদি দিক নির্ণয় বা কিবলা নির্ধারণ বা কোন মৌসুমের ও মাসের শুরু ইত্যাদি জানার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করে তবে তা হারাম হবে না; বরং তা মুবাহ।
- জ্যোতিষশাস্ত্র যতো বেশি শিক্ষা অর্জিত হবে, তার যাদুবিদ্যার বিভিন্ন শাখাও ততোবেশি শিক্ষা লাভ হবে।
- তারকারাজিতে রয়েছে তিনটি উপকারিতা, যা আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাবে (আল-কুরআনে) বর্ণনা করেছেন: আকাশকে সুশোভিত করা, পথ নির্দেশক চিহ্ন, শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ।
সূত্র
سنن أبي داود (6/ 50) (3905).
سنن ابن ماجه (4/ 670) (3726).
مسند أحمد (3/ 454) (2000).
الجديد في شرح كتاب التوحيد، للقرعاوي (ص230).
الملخص في شرح كتاب التوحيد، للفوزان (ص206).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا، فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ».
যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাতভর আসমান থেকে বৃষ্টি হওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াতে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন: “তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন?” তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: “আজকে আমার বান্দারা কেউ মুমিন আবার কেউ কাফির হয়ে সকাল করেছে। যে বলেছে: আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, সে আমার উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে: অমুক অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যক্তি আমাকে অস্বীকারকারী (কাফির) এবং নক্ষত্রের উপরে ঈমান আনায়নকারী।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদাইবিয়া -মক্কার নিকটবর্তী একটি গ্রাম-এ ফজর সালাত আদায় করলেন। আর তা ছিল আগের রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর। যখন তিনি সালাম ফিরালেন এবং সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি তার চেহারা মানুষের দিকে ফিরালেন। এরপরে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের মহান প্রতাপশালী রব কী বলেছেন, তা কি তোমরা জান? তখন তারা জবাব দিলেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, বৃষ্টি হলে মানুষ দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে: একটি দল আল্লাহর উপরে বিশ্বাসী আর অপর দল আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে অবিশ্বাসী। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে: আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি, আর বৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলার দিকেই সম্পৃক্ত করবে; সে ব্যক্তি
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর ব্যাপারে বিশ্বাস স্থাপনকারী (মুমিন) এবং নক্ষত্রের (প্রভাবের) ব্যাপারে অস্বীকারকারী। পক্ষান্তরে যে বলবে: আমরা অমুক অমুক তারকা বা গ্রহের কারণে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি; সে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকারকারী এবং নক্ষত্রের উপরে বিশ্বাস স্থাপনকারী। কেননা আল্লাহ নক্ষত্রকে শরী‘আতের দিক থেকে অথবা তাকদীরের দিক থেকে কোন রকম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেননি। অন্যদিকে যে ব্যক্তি বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রকৃতির ঘটনাগুলোকে গ্রহ-নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত:জনিত গতিবিধির সাথে সম্পৃক্ত করে, এ বিশ্বাসে যে, সেগুলোই প্রকৃত কর্তা, তাহলে সে বড় ধরণের কাফির।
শিক্ষা
- বৃষ্টি হওয়ার পরে এ কথা বলা মুস্তাহাব: “আমরা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।”
- যারা বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য নি‘আমাতকে সৃষ্টিগতভাবে গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে সম্পৃক্ত করে, তারা বড় ধরনের কুফরে জড়িত কাফির। আর যদি সেগুলোকে কারণ মনে করে সম্পৃক্ত করে, তাহলে সে ছোট কুফরে জড়িত ব্যক্তি; কেননা সেটি শর‘য়ী অথবা বস্তুগত কোন কারণ নয়।
- নি‘আমাত কুফরের কারণ, যদি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আবার তা ঈমানের কারণ, যদি তার শুকরিয়া আদায় করা হয়।
- এ কথা বলা নিষিদ্ধ: “অমুক অমুক গ্রহের কারণে আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি।” যদিও সে তা সময়কে উদ্দেশ্য করে বলে, তবৃুও শিরকের পথ উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় তা বর্জনীয়।
- নি‘আমাত প্রাপ্ত হওয়া ও দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার সময়ে অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সংযুক্ত রাখা আবশ্যক।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 169) (846)، صحيح مسلم (1/ 83) (71)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 484)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 260).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن جابرٍ رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكَ الصَّلَاةِ».
জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাত ত্যাগ করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পতিত হওয়ার মাঝে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া। কারণ, সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় রোকন আর ইসলামে তার গুরুত্ব অনেক বেশী। অতএব যে সালাত ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করে ত্যাগ করবে সে সকল মুসলিমের নিকট কাফির। আর যদি শিথিলতা ও অলসতাবশত একেবারেই তা ত্যাগ করে সেও কাফির। এই মাসআলার ওপর সাহাবীদের ঐক্যমত্য বর্ণনা করা হয়েছে। আর যদি কখনো ছাড়ে কখনো পড়ে সেও এই কঠিন হুশিয়ারির সম্মুখীন।
শিক্ষা
- সালাত ও সালাতের প্রতি যত্নশীল থাকার গুরুত্ব। কারণ তা কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্যকারী।
- সালাত ত্যাগ ও নষ্ট করা বিষয়ে কঠিন সতর্ক বাণী।
সূত্র
صحيح مسلم (1/ 88) (82)، المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (1/ 271)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (2/ 622).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْعَهْدَ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ».
বুরায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।”
এটি তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ও অমুসলিম কাফির, মুনাফিকদের মাঝে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের কথা বর্ণনা করেছেন। কাজেই যে তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।
শিক্ষা
- সালাতের বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্যকারী।
- ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হবে, তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা দ্বারা নয়।
সূত্র
سنن النسائي (1/ 231) (463)، سنن الترمذي (4/ 365) (2621)، سنن ابن ماجه (2/ 181) (1079)، مسند أحمد (38/ 20) (22937)، فيض القدير (4/ 395)، ذخيرة العقبى في شرح المجتبى (6/ 192) (6/ 193).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com