عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لم يتكلَّم في المهد إلا ثلاثة: عيسى ابن مريم، وصاحب جرَيج، وكان جُريج رجلًا عابِدا، فاتخذ صَوْمَعَة فكان فيها، فأتته أمه وهو يصلي، فقالت: يا جريج، فقال: يا رَبِّ أُمِّي وصلاتي فأقبل على صلاته فانْصَرفت. فلمَّا كان من الغَدِ أتَتْهُ وهو يصلي، فقالت: يا جُريج، فقال: أي رَبِّ أمِّي وصلاتي، فأقبل على صلاته، فلمَّا كان من الغَدِ أتَتْهُ وهو يصلي، فقالت: يا جُريج، فقال: أي رَبِّ أمِّي وصلاتي، فأقبل على صلاته، فقالت: اللَّهُمَّ لاَ تُمِتْهُ حتى يَنظر إلى وجوه المُومِسَاتِ. فتذاكر بَنُو إسرائيل جُريجا وعبادته، وكانت امرأة بَغِيٌّ يُتَمَثَّلُ بحُسنها، فقالت: إن شِئتم لأَفْتِنَنَّهُ، فتَعرَّضت له، فلم يَلتَفت إليها، فأتت راعِيا كان يَأوِي إلى صَوْمَعَتِهِ، فَأَمْكَنَتْه من نَفسِها فوقع عليها، فحملت، فلمَّا ولدت، قالت: هو من جُريج، فَأتَوْهُ فَاسْتَنْزَلُوهُ وهدَمُوا صَومَعتَه، وجَعَلوا يَضربونه، فقال: ما شَأنُكم؟ قالوا: زَنَيْتَ بهذه البَغِيِّ فولَدَت منك. قال: أين الصَّبي؟ فجاؤَوا به فقال: دَعوني حتى أُصلَّي، فصلَّى فلمَّا انْصرف أتى الصَّبي فَطَعن في بَطنه، وقال: يا غُلام مَنْ أبوك؟ قال: فلانٌ الراعي، فأقبلوا على جُريج يقبلونه ويَتمسَّحون به، وقالوا: نَبْنِي لك صَوْمَعَتَكَ من ذهب. قال: لا، أعِيدُوها من طين كما كانت، ففعلوا. وبينا صبي يَرضع من أُمِّهِ فمرَّ رجل راكب على دابة فَارِهة وَشَارَةٍ حسَنَة، فقالت أمه: اللهم اجعل ابْني مثل هذا، فَترك الثَّدْي وأقْبَلَ إليه فنَظَر إليه، فقال: اللَّهم لا تجعلني مثْلَه، ثم أقْبَلَ على ثَدْيه فجعل يَرتضع»، فكأني أنظر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يَحكي ارتْضَاعه بِأصْبَعِهِ السَّبَّابَة في فِيه، فجعل يَمُصُّهَا، قال: «ومَرُّوا بجارية وهم يَضْرِبُونها، ويقولون: زَنَيْتِ سَرقت، وهي تقول: حَسبي الله ونعم الوكيل. فقالت أمه: اللَّهم لا تجعل ابني مِثلها، فترك الرَّضاع ونظر إليها، فقال: اللَّهم اجعلني مِثْلَها، فَهُنَالك تَرَاجَعَا الحديث، فقالت: مرَّ رجلٌ حَسَنُ الهَيْئَةِ ، فقلت: اللَّهم اجعل ابْنِي مِثْلَه، فقلت: اللَّهم لا تَجْعَلْنِي مِثْله، ومَرُّوا بهذه الأَمَة وهم يَضربونها ويقولون: زَنَيْتِ سَرقت، فقلت: اللَّهم لا تجعل ابني مِثلها، فقلت: اللَّهم اجعلني مِثلها؟! قال: إن ذلك الرَّجُل كان جبَّارا، فقلت: اللَّهم لا تجعلني مِثْله، وإن هذه يقولون: زَنَيْتِ، ولم تَزْنِ وسَرقْتِ، ولم تَسْرِقْ، فقلت: اللَّهم اجْعَلْنِي مِثْلَهَا».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনজন শিশু ছাড়া কেউ দোলনায় কথা বলে নি: মারইয়াম পুত্র ঈসা, আর জুরাইজের (সাক্ষী) শিশু। জুরাইজ ইবাদতগুজার মানুষ ছিল। সে একটি উপাসনালয় বানিয়েছিল এবং সেখানেই ছিল। একদা তার মা তার নিকট আসে, তখন সে সালাত পড়ছিল। তার মা বলল, হে জুরাইজ, সে বলল, ‘হে আমার রব! আমার মা ও আমার সালাত (দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ; কোনটিকে প্রাধান্য দিব), তারপর সে সালাতে মশগুল থাকল আর তার মা ফিরে গেল। পরবর্তী দিন যখন তার মা আসল, তখনও সে সালাত পড়ছিল। তার মা এসে ডাক দিল, হে জুরাইজ!’ সে বলল, ‘হে আমার রব! আমার মা ও আমার সালাত (কী করি?)’ সুতরাং সে সালাতে মশগুল থাকল।পরবর্তী দিন তার মা আসল তখনও সে সালাত পড়ছিল। তার মা বলল, হে জুরাইজ!’ সে বলল, ‘হে আমার রব! আমার মা ও আমার সালাত (কী করি?)’ সুতরাং সে সালাতে মশগুল থাকল। তখন তার মা তাকে বদ-দো‘আ করল, ‘হে আল্লাহ! বেশ্যাদের মুখ না দেখিয়ে তাকে মরণ দিয়ো না।’ বনী ইসরাঈলরা জুরাইজ ও তার ইবাদতের চর্চা করতে লাগল। এক মহিলা ছিল, যার দৃষ্টান্তমূলক রূপ-সৌন্দর্য ছিল। সে বলল, ‘তোমরা চাইলে আমি তাকে ফিতনায় ফেলতে পারি।’ সুতরাং সে নিজেকে তার কাছে পেশ করল। কিন্তু জুরাইজ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করল না। ফলে সে এক রাখালের কাছে এল, যে জুরাইজের ইবাদতখানায় আশ্রয় গ্রহণ করতো। বেশ্যাটি তাকে দেহ সমর্পণ করলে রাখাল তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় এবং সে গর্ভবতী হয়। অতঃপর যখন সে সন্তান জন্ম দিল, তখন বলল, ‘এটি জুরাইজের সন্তান।’ সুতরাং লোকেরা জুরাইজের কাছে এসে তাকে ইবাদতখানা থেকে বের করল, তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে দিল এবং তাকে মারতে লাগল। জুরাইজ বলল, ‘তোমাদের কী হয়েছে? লোকেরা বলল, ‘তুমি এই বেশ্যার সাথে ব্যভিচার করেছ, তার ফলে সে সন্তান জন্ম দিয়েছে।’ সে বলল, ‘সন্তানটি কোথায়?’ অতঃপর লোকেরা শিশুটি নিয়ে এল, তখন সে বলল, ‘আমাকে সালাত পড়ার সুযোগ দাও।’ সুতরাং সে সালাত পড়ে শিশুটির কাছে এসে তার পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস করল, ‘হে শিশু! তোমার পিতা কে?’ সে জবাব দিল, ‘অমুক রাখাল।’ তখন তারা জুরাইজের কাছে এসে তাকে চুমা দিতে লাগল এবং তাকে মাসেহ করতে লাগলো। তারা বলল, ‘আমরা তোমার ইবাদতখানাকে স্বর্ণ দিয়ে বানিয়ে দিব।’ সে বলল, ‘না, মাটি দিয়েই তৈরী করে দাও, যেমন পূর্বে ছিল।’ সুতরাং তারা তাই করল। (তৃতীয় শিশুর ঘটনা হচ্ছে বনী ইসরাঈলের) এক শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল। এমন সময় তার পাশ দিয়ে উৎকৃষ্ট সওয়ারীতে আরোহী এক সুদর্শন পুরুষ গেল। তার মা দো‘আ করে বলল, ‘হে আল্লাহ! আমার ছেলেটিকে তার মত করো।’ শিশুটি তখন মায়ের দুধ ছেড়ে দিয়ে সেই আরোহীর দিকে ফিরে বলল, ‘হে আল্লাহ আমাকে তার মত করো না।’ তারপর মায়ের দুধের দিকে ফিরে দুধ চুষতে লাগল। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের তর্জনীকে মুখে চুষে শিশুটির দুধ পান দেখাতে লাগলেন। আমি যেন তা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, আর লোকেরা একটি দাসীকে মারতে মারতে নিয়ে গেল। তারা বলছিল, ‘তুই যিনা করেছিস, চুরি করেছিস!’ আর দাসীটি বলছিল, ‘হাসবিয়াল্লাহু ওয়ানি‘মাল ওয়াকীল।’ (আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ও তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।) তা দেখে মহিলাটি দো‘আ করল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে তার মত করো না।’ ছেলেটি সাথে সাথে মায়ের দুধ ছেড়ে দাসীটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো।’ অতঃপর মা-বেটায় কথোপকথন করল। মা বলল, ‘একটি সুন্দর আকৃতির লোক পার হলে আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে তার মত করো। তখন তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো না। আবার ওরা ঐ দাসীকে নিয়ে পার হল আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে তার মত করো না। কিন্তু তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো! (এর কারণ কী?)’ শিশুটি বলল, ‘(তুমি বাহির দেখে বলেছ, আর আমি ভেতর দেখে বলেছি।) ঐ লোকটি স্বৈরাচারী ছিল, তাই আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো না। আর ঐ দাসীটিকে ওরা বলছে, তুই ব্যভিচার করেছিস, চুরি করেছিস, অথচ সে এসব করে নি। তাই আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
লেখক রহ. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখ করেন, (তিনজন ছাড়া কেউ দোলনায় কথা বলে নি।) প্রথমত: মারইয়ামের পুত্র ঈসা আলাইহিস সালাম। ঈসা আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। তিনি কোলে কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত: জুরাইজের শিশু। জুরাইজ ইবাদতগুযার মানুষ ছিল। আল্লাহ জুরাইজকে সে অপবাদ থেকে মুক্ত করেন, যা তারা তার উপর আরোপ করেছিল। তার সম্মানার্থে এ নিদর্শন আল্লাহ প্রকাশ করেন। অর্থাৎ বাচ্চাটি কর্তৃক তার নির্দোষ হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া। আর তৃতীয় ব্যক্তি যে দোলনায় কথা বলে, সে হলো দুধ পান করাবস্থায় নিজ মায়ের সাথে কথোপকথনকারী, যখন একজন লোক একটি মুল্যবান ও সুন্দর ঘোড়ায় চড়ে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়ের স্তন থেকে বাচ্চাটির দুধ পান করার দৃশ্যটিও বর্ণনা করেন। তিনি বাস্তব বিষয়টি তুলে ধরার লক্ষে তার তর্জনী মুখে দিয়ে চুষতে থাকেন।) তখন শিশুটি বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো না।’ তারপর লোকেরা একটি দাসীকে নিয়ে আসল তারা তাকে মারছিল এবং বলছিল, ‘তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস!’ আর দাসীটি বলছিল, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট ও তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। তা দেখে বাচ্চাটির মা যিনি তাকে দুধ পান করাচ্ছিল বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে তার মতো করো না।’ শোনে ছেলেটি সাথে সাথে মায়ের দুধ ছেড়ে দাসীটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো করো।’ অতঃপর মা-ছেলে কথোপকথন করল। মা বলল, ‘একটি সুন্দর আকৃতির লোক পার হলে আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে তার মত করো। তখন তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো না। শিশুটি বলল, ‘ঐ লোকটি ছিল স্বৈরাচারী ও হটকারী। তাই আমি আল্লাহর কাছে চাইলাম, যেন তিনি আমাকে তার মতো না বানায়। আর ঐ দাসীটি যাকে তারা বলছে, তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস, আর সে বলছে, আল্লাহই আমার যথেষ্ট এবং তিনি আমার উত্তম অভিভাবক। আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত করো।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি আমাকে ব্যভিচার ও চুরি থেকে পবিত্র বানাও এবং আল্লাহর নিকট আমার যাবতীয় বিষয় সোপর্দকারী বানাও। তার কথাতে রয়েছে: আমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম অভিভাবক।
সূত্র
كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ.
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م.
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ، الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ.
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426 هـ.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ.
دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الإلكترونية ، لا يوجد بها بيانات نشر.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
دروس وعبر من صحيح القصص النبوي، تأليف: شحاتة محمد صقر، الناشر: مكتبة دار العلوم، البحيرة، مصر.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَأَنْ أَخِرَّ مِنَ السَّمَاءِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَكْذِبَ عَلَيْهِ، وَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ فَإِنَّ الحَرْبَ خَدْعَةٌ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ».
‘আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি যখন তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন আমার এমন অবস্থা হয় যে, তাঁর উপর মিথ্যারোপ করার চেয়ে আকাশ হতে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় এবং আমরা নিজেরা যখন আলোচনা করি তখন কথা হল এই যে, যুদ্ধ ছল-চাতুরী মাত্র। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “শেষ যুগে একদল যুবকের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন। তারা মুখে খুব ভাল কথা বলবে। তারা ইসলাম হতে বেরিয়ে যাবে যেভাবে তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান গলদেশ পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে না। যেখানেই এদের সঙ্গে তোমাদের দেখা মিলবে, এদেরকে তোমরা হত্যা করে ফেলবে। যারা তাদের হত্যা করবে তাদের এই হত্যার পুরস্কার আছে কিয়ামতের দিন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: যদি তোমরা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা বলতে শুনো, তাহলে আমি কোন উপনাম ব্যবহার করব না, ইঙ্গিতও করব না এবং গোপনও করব না। বরং, আমি খোলামেলা কথা বলব। আমার কাছে আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে মিথ্যা বলার চেয়ে সহজ এবং হালকা। আর যদি আমি নিজের এবং জনগণের মধ্যে কথা বলি, তাহলে যুদ্ধ হলো প্রতারণা। আমি হয়তো একটা উপনাম ব্যবহার করতে পারি, অথবা ইঙ্গিত দিতে পারি, অথবা লুকিয়ে রাখতে পারি। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: শেষ যুগে অল্প বয়স ও দুর্বল বিবেকের যুবকরা আসবে, যারা কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করবে এবং ঘন ঘন তা পাঠ করবে। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং তার সীমানা লঙ্ঘন করবে যেমন তীর তার লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের গলার বাইরে যাবে না। সুতরাং যেখানেই তাদের পাও, হত্যা করো, কারণ তাদের হত্যা করা কিয়ামতের দিন তাদের হত্যাকারীর জন্য সাওয়াব (পুরস্কার) হবে।
শিক্ষা
- খাওয়ারিজদের কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা।
- হাদীসটি নবুওয়তের একটি নিদর্শন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরে তাঁর উম্মতের উপর কী ঘটবে তা আমাদের জানিয়েছেন এবং তিনি যেমন বলেছেন তেমনই ঘটেছে।
- যুদ্ধে ইশারা এবং ইঙ্গিত ব্যবহার করা জায়েয। যুদ্ধে প্রতারণা করা যেতে পারে ইশারা, অতর্কিত আক্রমণ, অথবা অনুরূপ কিছু করে, চুক্তি বা নিরাপত্তা ভঙ্গ করে নয়, কারণ এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
- আন-নওয়াবী (তারা সর্বোত্তম মানুষের মত কথা বলবে) সম্পর্কে বলেছেন: বাহ্যিকভাবে তাদের কথার মত হবে: "আল্লাহ ছাড়া কোন বিচার নেই" এবং অনুরূপভাবে আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহ্বান করার মত কিছু।
- ইবনু হাজার তার বক্তব্য (তাদের ঈমান তাদের গলা অতিক্রম করবে না) সম্পর্কে বলেন: এর অর্থ হলো, ঈমান তাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ যা গলায় এসে থেমে যায় এবং এর বাইরে যায় না, তা হৃদয়ে পৌঁছায় না।
- আল-কাধি বলেন: আলেমরা একমত যে খারেজি এবং তাদের মতো বিদআত এবং বিদ্রোহী লোকেরা যখনই ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, জমাতের মতামতের বিরোধিতা করবে এবং বিদ্রোহ করবে, তখন তাদের সতর্ক করে এবং তাদের কাছে ওজর পেশ করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ওয়াজিব।
সূত্র
صحيح البخاري (4/ 200) (3611).
صحيح مسلم (2/ 746) (1066).
النهاية في غريب الحديث والأثر (259)(866).
البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (20/ 264) (20/ 258).
إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (6/ 58).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُكُمْ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» قَالَ عِمْرَانُ: لاَ أَدْرِي أَذَكَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ، وَيَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلاَ يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ».
ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী যুগ।” (বর্ণনাকারী) ‘ইমরান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু’যুগ অথবা তিন যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “অতঃপর এমন লোকের আগমন ঘটবে যাদের বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না, যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে; অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না, তারা মান্নত করবে; কিন্তু তা পূরণ করবে না, তারা হবে চর্বিওয়ালা মোটাসোটা।(১)”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, একই যুগে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম স্তর হল সেই স্তর যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ রয়েছেন। এরপর তাদের পরবর্তী স্তর হল সেই মুমিনগণ যারা সাহাবীদের দেখেছেন কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি। এরপর তাদের পরবর্তী স্তর হল তাবেঈনদের অনুসারীগণ। বর্ণনাকারী সাহাবী চতুর্থ শতাব্দীর লোকদের উল্লেখ করতে দ্বিধা করেছেন। তারপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাদের পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং মানুষ তাদের উপর আস্থা রাখবে না। তাদের সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই তারা সাক্ষ্য দেবে এমনকি । তারা প্রতিশ্রুতি দেবে কিন্তু তা পূরণ করবে না। তারা খাদ্য ও পানীয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ভোগ-বিলাসে মত্ত হবে, এমনকি তাদের মধ্যে মেদবহুলতা প্রকাশ পাবে।"
শিক্ষা
- সমগ্র দুনিয়ার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো সেই যুগ যাতে নবীজি (সা.) এবং তাঁর সাহাবীরা জীবনযাপন করেছেন। সহীহ বুখারিতে নবীজি (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি যুগের পর যুগ হয়ে মানব জাতির সর্বোত্তম যুগে আবির্ভূত হয়েছি। আমি সেই যুগেই জন্মেছি যে যুগ আমার জন্য নির্ধারিত ছিল।"
- ইবন হাজার (রহ.) বলেছেন: এই হাদিসটি ইঙ্গিত দেয় যে সাহাবিরা তাবেয়িদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এবং তাবেয়িরা তাবেয়িদের অনুসারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে কি এই শ্রেষ্ঠত্ব সমষ্টিগতভাবে নাকি এককভাবে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য? এটি একটি আলোচনার বিষয়, এবং অধিকাংশ আলেম দ্বিতীয়টি গ্রহণ করেছেন।"
- এ হাদীস প্রথম তিন প্রজন্মের (সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন) পথ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার প্রতি ইঙ্গিত করে। কারণ, যার যুগ নবুয়তের যুগের কাছাকাছি, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত অনুসরণ, জ্ঞান অর্জন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণে অধিক যোগ্য ও উত্তম।
- নযর (মানত) হলো, কোন বান্দাহ কোনো ইবাদত বা আনুগত্যের কোন কাজ নিজের উপর বাধ্যতামূলক করা; যা শরীয়ত তার উপর বাধ্যতামূলক করেনি। এটি এমন সব কথার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা এই বাধ্যবাধকতার ইঙ্গিত দেয়।
- খিয়ানত, মানত পূরণ না করা এবং দুনিয়া প্রতি আকর্ষণের নিন্দা করা হয়েছে।
- যদি কোনো ব্যক্তি তার অধিকারের বিষয়টি জানে, তবে তার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য না চাইলে সাক্ষ্য দেওয়ার নিন্দা করা হয়েছে; তবে যদি সে না জানে, তবে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদীসের অর্ন্তভূক্ত হবে: 'আমি কি তোমাদেরকে বলব, সর্বোত্তম সাক্ষী কে? যে সাক্ষ্য চাওয়ার আগে নিজেই তা নিয়ে আসে।" সহীহ মুসলিম।
সূত্র
صحيح البخاري (3/ 171) (2651).
صحيح مسلم (4/ 1964) (2535)، (3/ 1344) (1719).
النهاية في غريب الحديث والأثر (747).
نيل الأوطار (8/ 341).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীস