عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قِيلَ: يا رسُول الله، مَن أَكرم النَّاس، قال: اتقاهم، فقالوا: لَيس عن هذا نَسأُلُك، قال: «فَيُوسُفُ نَبِيُّ الله ابنُ نَبِيِّ الله ابنِ نَبِيِّ الله ابنِ خَلِيلِ اللهِ» قالوا: لَيس عَن هذا نَسأَلُك، قال: «فعَن مَعَادِن العَرَب تسأَلُوني؟ خِيَارُهُم في الجاهِليَّة خِيَارُهُم في الإِسلام إذا فَقُهُوا».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হল যে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেন, “তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে আল্লাহ-ভীরু।” অতঃপর তাঁরা (সাহাবীরা) বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি না।’ তিনি বললেন, “তাহলে ইউসুফ (সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি), যিনি স্বয়ং আল্লাহর নবী, তাঁর পিতা নবী, পিতামহও নবী এবং প্রপিতামহও নবী ও আল্লাহর বন্ধু।” তাঁরা বললেন, ‘এটাও আমাদের প্রশ্ন নয়।’ তিনি বললেন, “তাহলে তোমরা কি আমাকে আরবের বংশাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? (তবে শোন!) তাদের মধ্যে যারা জাহেলী যুগে ভালো, তারা ইসলামেও ভালো; যদি দ্বীনী জ্ঞান শিখে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
বংশ, মূল ও গোড়ার দিক বিবেচনায় সম্মানিত ব্যক্তি হলো যারা জাহিলিয়্যাতের যুগে সম্মানি। তবে শর্ত হলো যখন তারা দীন সম্পর্কে জানবে। যেমন, বনু হাশেম সম্পর্কে এ কথা প্রসিদ্ধ যে তারা ইসলামের কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানি। তবে শর্ত হলো তারা আল্লাহর দীন ব্যাপারে জ্ঞাত এবং দীনের বিধানাবলী জানতে হবে। যদি দীনের বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান না থাকে তবে বংশীয় মর্যাদা তার কোন উপকারে আসবে না। যদিও সে উচ্চ বংশের এবং আরবদের মধ্যে বংশীয় ও শিকড়ের দিক দিয়ে অনেক উচ্চ হয়ে থাকে। সে আল্লাহর নিকট সম্মানি কোন ব্যক্তি নন এবং সে কোন উত্তম ব্যক্তিও নন। সুতরাং মানুষ তার বংশের কারণে সম্মানের অধিকারী হবেন। তবে শর্ত হলো তার কাছে দীনের জ্ঞান থাকতে হবে।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
تطريز رياض الصالحين للشيخ فيصل المبارك، ط1، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة، الرياض، 1423هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
رياض الصالحين للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ.
شرح العقيدة الواسطية لابن عثيمين، تحقيق: سعد فواز الصميل، ط5، دار ابن الجوزي، الرياض، المملكة العربية السعودية، 1419هـ.
شرح رياض الصالحين للشيخ ابن عثيمين، دار الوطن للنشر، الرياض، 1426هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لما خلق الله آدم صلى الله عليه وسلم قال: اذهب فَسَلِّمْ على أولئك -نَفَرٍ من الملائكة جلوس- فاستمع ما يُحَيُّونَكَ؛ فإنها تَحِيَّتُكَ وتحية ذُرِّيتِكَ. فقال: السلام عليكم، فقالوا: السلام عليك ورحمة الله، فَزَادُوهُ: ورحمة الله».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, আল্লাহ আদাম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করে বললেন: তুমি যাও। বসে থাকা ফিরিশতাদের ঐ দলটিকে সালাম দাও। তারা কি উত্তর দেয় তা তুমি মনোযোগসহ শোন। কারণ এটাই হবে তোমার ও তোমার বংশধরের সম্ভাষণ। তাই তিনি গিয়ে বললেন: ‘আস্সালামু আলাইকুম’। তারা জবাবে বললেন: ‘আস্সালামু ‘আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। তারা তাঁর জবাবে ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বাক্যটি বাড়িয়ে বললেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটির অর্থ: “আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর তাঁকে একদল ফিরিশতাদের কাছে গিয়ে তাদের সালাম দিতে এবং মনোযোগ সহকারে তাদের সালামের জবাব শোনতে নির্দেশ দিলেন। কারণ, তাঁর ও তাদের মধ্যকার আদান প্রদান সম্ভাষণই হবে তাঁর ও তার পরবর্তীতে রাসূলগণের দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত বংশধরের শরীয়ত সম্মত সম্ভাষণ।” তাই তিনি গিয়ে বললেন: ‘আসসালামু আলাইকুম’। তারা জবাবে বললেন: ‘আসসালামু ‘আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। তারা তাঁর জবাবে ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বাক্যটি বাড়িয়ে বললেন। পরবর্তীতে এটিই হয়ে গেল শরীয়ত নির্ধারিত সম্ভাষণ ও তার জবাব।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، نشر: دار ابن الجوزي.
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة محمد قاسم، عني بتصحيحه ونشره: بشير محمد عيون، الناشر: مكتبة دار البيان، دمشق - الجمهورية العربية السورية، مكتبة المؤيد، الطائف - المملكة العربية السعودية، عام النشر: 1410 هـ - 1990 م.
عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: كَأَنِّي أَنْظُر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يَحْكِي نَبِيًّا من الأنبياء، صلوات الله وسلامه عليهم، ضربه قومه فَأَدْمَوْهُ، وهو يمَسحُ الدَم عن وجهِهِ، يقول: «اللهم اغفر لِقَوْمِي؛ فإنهم لا يعلمون».
ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীদের মধ্যে কোনো এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করতে দেখেছি; (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াসসালাম) যাঁকে তাঁর স্বজাতি প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। আর তিনি নিজ চেহারা থেকে রক্ত পরিষ্কার করছেন এবং বলছেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও। কেননা, তারা জানে না।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বের কোনো একজন নবীর ঘটনা বর্ণনা করেন যে, তার কাওমের লোকেরা তাকে মেরে রক্তাক্ত করল। তখন তিনি তার চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন আর তাদের জন্য গুনাহ মাফের দো‘আ করছিলেন। এটি ছিল চুড়ান্ত পর্যায়ের ধৈর্য ও সহনশীলতা। তিনি শুধু তাদের জন্য গুনাহ মাফের দো‘আই করেননি, বরং তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে, বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়ার কারণে তাদের পক্ষ থেকে ওযরও পেশ করেন।
সূত্র
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1418ه.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة .
شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، أبو زكريا محيي الدين النووي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة الثانية، 1399ه.
تطريز رياض الصالحين، فيصل بن عبد العزيز المبارك، المحقق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ - 2002 م.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে সর্বত্তম হচ্ছে জুমু‘আর দিন। এদিনে আদামকে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, এ দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছিল। আর জুমু‘আর দিন ছাড়া কিয়ামত কায়েম হবে না।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, যে সমস্ত দিনে সূর্য ওঠে তার মধ্যে জুমু‘আহর দিন উত্তম। জুমু‘আহর দিনের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তা‘আলা এদিনে আদাম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন, এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছিলেন, এ দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছিল এবং পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল আর জুমু‘আর দিনেই কিয়ামাত অনুষ্টিত হবে।
শিক্ষা
সপ্তাহের অন্যান্য দিন অপেক্ষা জুমু‘আর দিনের ফযীলত।
জুমু‘আর দিনে সৎ আমল বৃদ্ধি করা, আল্লাহ তা‘আলার রহমত লাভের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং তাঁর ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
হাদীসে উল্লেখিত জুমু‘আর দিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ যেগুলি বর্ণনা করা হয়েছে, এ ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে: এগুলো জুমু‘আর দিনের ফযীলত হিসেবে নয়; কেননা আদামকে বের করে দেওয়া এবং কিয়ামাত কায়েম হওয়া ফযীলত হিসেবে ধর্তব্য নয়, আবার কেউ কেউ বলেছেন: এগুলোও ফযীলত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে; কেননা আদমকে বের করে দেওয়া তার বংশধরদের মধ্য হতে নবী, রাসূল ও নেককার বান্দাদের অস্তিত্বের কারণ আর কিয়ামাত কায়েম হওয়া নেককার বান্দাদের পুরষ্কার প্রাপ্তি এবং আল্লাহ তাদের জন্য যে সম্মান প্রস্তুত রেখেছেন তা অর্জনের ক্ষেত্র দ্রুত তৈরী হয়।
এ বর্ণনা ছাড়াও জুমু‘আর দিনের অনেকগুলি বৈশিষ্ট্য অন্যান্য হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: এ দিনে আদামের তাওবা গ্রহণ করা হয়েছিল, এ দিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন, এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোন মুমিন ব্যক্তি সালাত আদায় করে কোন জিনিস চাইলে আল্লাহ তা প্রদান করেন।
বছরের শ্রেষ্ট দিন হচ্ছে আরাফার দিন, বলা হয়ে থাকে: নহরের (কুরবানীর) দিন, সপ্তাহের শ্রেষ্ট দিন হচ্ছে জুমু‘আর দিন এবং বছরের শ্রেষ্ট রাত হচ্ছে লাইলাতুল কদর।
সূত্র
صحيح مسلم (2/ 585) (854).
بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 313).
نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 824).
مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعبيد الله المباركفوري (4/ 422).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 164).
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: لما كان يوم حُنين آثر رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسًا في القِسْمَة، فأعطى الأَقْرَع بن حَابِس مئة من الإبل، وأعطى عُيينة بن حِصن مثل ذلك، وأعطى نَاسًا من أشراف العَرب وآثَرَهُم يومئذ في القِسْمَة. فقال رجل: والله إن هذه قِسْمَة ما عُدل فيها، وما أُريد فيها وجه الله، فقلت: والله لأُخبرن رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتيته فأخبرته بما قال، فتغير وجهه حتى كان كالصِّرفِ. ثم قال: «فمن يَعْدِل إذا لم يعدل الله ورسوله؟» ثم قال: «يَرحم الله موسى، قد أُوذي بأكثر من هذا فصبر». فقلت: لا جَرم لا أرفع إليه بعدها حديثًا.
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বন্টনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে প্রাধান্য দিলেন। তিনি আকরা বিন হাবেসকে একশত উঁট দিলেন এবং উয়াইনা বিন হিসনকেও তার অনুরূপ দিলেন। অনুরূপ আরবের আরো কিছু সম্ভ্রান্ত মানুষকেও সেদিন দিলেন এবং গনিমতের সম্পদ বণ্টনে তাদেরকে অন্যদের উপর প্রাধান্য দিলেন। এক লোক তখন বলল, আল্লাহর কসম! এই বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কামনা করা হয়নি! ইবনে মাসউদ বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এই সংবাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেবো। অতএব আমি তাঁর কাছে এসে কথাটি জানিয়ে দিলাম। ফলে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণধারণ করলো। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি ইনসাফ না করেন, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।অবশেষে আমি মনে মনে বললাম যে, আমি এর পরে কোনো কথা তাঁর কাছে পৌঁছাবো না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা হুনাইনের যুদ্ধে অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের পর তায়েফের যুদ্ধে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণ উট, ছাগল, দিরহাম ও দীনার গণীমত লাভ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জি‘রানায় অবতরণ করেন। এটি হলো তায়েফের দিক থেকে হারামের সীমানার শেষ প্রান্তে একটি জায়গা। সেখানে অবতরণ করে এ যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গণীমতের মাল বন্টন করেন। তিনি আকরা বিন হাবেস এবং উয়াইনা বিন হিসনকে একশটি করে উট প্রদান করেন। এ ছাড়াও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে আরবের সম্ভ্রান্ত কিছু লোককেও গণীমত প্রদান করেন। এ অনুদান ও সম্পদ পাওয়ার কারণে যখন তাদের ইসলাম সুন্দর হলো তখন তাদের পথ ধরে তাদের অনুসারীরাও ইসলাম গ্রহণ করলো। তাতে ইসলামের শক্তি ও সম্মান অর্জিত হলো। আর যারা ঈমানে শক্তিশালী ছিল তাদের নিকট ঈমানের মতো সম্পদ থাকার কারণে অনুদান থেকে তাদের বিরত রাখলেন। বিভিন্ন গোত্রের সরদার ও সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে গণীমত বন্টন করা ও কতককে না দেওয়ার বিষয়ে রাসূলের অবস্থা দেখে এক লোক বলল, আল্লাহর কসম! এ বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে দৌঁড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলেন। সে পূর্বে শপথ করেছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করবে। যখন বিষয়টি তাকে জানানো হলো, তিনি কঠিন ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে খাঁটি লালবর্ণ ধারণ করলো। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসূল যদি ইনসাফ না করেন তবে কে ইনসাফ করবে? তার কথাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি একথা বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূলের অবস্থা অবলোকন করেন তখন তিনি মনে মনে বললেন, যখন এসব লোকের থেকে এ ধরণের অপছন্দনীয় কথা শুনবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার সংবাদ দেব না। কেননা তিনি এর কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় প্রচন্ড রাগের আলামত প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বিশেষ করে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের উপর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকবে, তখন এ জাতীয় কথা তাঁকে না শুনানোর প্রতিজ্ঞা করলেন।
সূত্র
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، كنوز إشبيليا، الرياض، الطبعة: الأولى 1430هـ، 2009م.
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1418 هـ، 1997م.
تطريز رياض الصالحين، فيصل بن عبد العزيز المبارك، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة: الأولى 1423هـ، 2002م.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الطبعة الأولى.
شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري بن علان، نشر دار الكتاب العربي، لم أقف على رقم الطبعة.
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ، 2007م.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت،الطبعة: لا يوجد بيان لرقم الطبعة، 1423هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كان داود -عليه السلام- لا يأكلُ إلا من عمل يده».
وعن المقدام بن معد يكرب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما أكل أحد طعاما قط خيرا من أن يأكل من عمل يده، وإن نبي الله داود صلى الله عليه وسلم كان يأكل من عمل يده».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দাঊদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের উপার্জন ছাড়া খেতেন না। ”মিকদাম বিন মা‘দীকারিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিজের হাতের উপার্জন থেকে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাঊদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের উপার্জন থেকে খেতেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানউভয় বর্ণনাসহ সহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, দাঊদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের উপার্জন ছাড়া খেতেন না। দাউদ আলাইহিস সালাম একজন কারিগর ছিলেন। তিনি লৌহবর্মসহ বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতেন। যেহেতু আল্লাহর নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাদের নিজ হাতের উপার্জন যেমন, শিল্প অথবা কৃষিকাজ অথবা বকরি চড়ানো অথবা অন্যান্য উপার্জন থেকে খেতেন সেহেতু অন্যান্য সৃষ্টির জন্য এ সকল কাজের মাধ্যমে উপার্জন করে মানুষের কাছে চাওয়া থেকে বিরত থাকা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও মানান সই।
সূত্র
بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، الناشر: دار ابن الجوزي ، سنة النشر: 1418 هـ- 1997م
نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397 هـ، الطبعة الرابعة عشر 1407 هـ
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي ، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل ، الطبعة: الأولى، 1428 هـ
تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، تأليف: عبد الرحمن بن ناصر آل سعدي، تحقيق: عبد الرحمن بن معلا اللويحق، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1420هـ
التنوير شرح الجامع الصغير، تأليف: محمد بن إسماعيل الصنعاني، تحقيق: د/ محمد إسحاق محمد إبراهيم ، الناشر: مكتبة دار السلام، الطبعة: الأولى، 1432 هـ
فتح الباري شرح صحيح البخاري، تأليف: أحمد بن علي بن حجر، رقمه وبوب أحاديث: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار المعرفة - بيروت، 1379 هـ.
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كان زكريا -عليه السلام- نجَّارا».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ সনদে বর্ণিত, “যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানিয়ে দেন যে, যাকারিয়্যা আলাইহিস সালাম যে কর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতো তা ছিল, কাঠমিস্ত্রির কাজ।
সূত্র
- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ.
- صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي.
- كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه.
- شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি যে ব্যাপারে তোমাদেরকে (বর্ণনা না দিয়ে) ছেড়ে দিয়েছি, সে ব্যাপারে তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ সে ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করো না)। কারণ, তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অধিক প্রশ্ন করার এবং তাদের নবীদের সঙ্গে মতভেদ করার ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোনো জিনিস থেকে নিষেধ করব, তখন তোমরা তা থেকে দূরে থাক। আর যখন আমি তোমাদেরকে কোনো কাজের আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন কর।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, শরী‘আতের আহকাম তিন ধরণের: কিছু বিষয়ে চুপ, কিছু বিষয়ে নিষেধ এবং কিছু বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত:যে বিষয়ে শরী‘আহ নীরব রয়েছে: যেখানে কোন বিধান নেই, এ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে মূলনীতি হল, সেগুলি বাধ্যতামূলক নয়; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন না করা আবশ্যক ছিল, এ ভয়ে যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে আবশ্যক অথবা হারামের বিধান নাযিল না হয়ে যায়; কেননা আল্লাহ তা‘আলা সেগুলিকে বান্দাদের উপরে রহমত হিসেবে ছাড় দিয়েছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পরে, যদি মুফতির কাছে প্রশ্ন করা হয় অথবা দীনের প্রয়োজনে এমন বিষয়সমূহ শেখার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা জায়িয, বরং সেটি আদিষ্ট বিষয়ও বটে। পক্ষান্তরে যদি তা কৃত্রিমতা অথবা সমস্যা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে সেটি হচ্ছে এ হাদীসের মধ্যে আগত প্রশ্নের নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য; কেননা এটি কখনো কখনো বনী ইসরাঈলের সাথে যা ঘটেছিল সেদিকে ধাবিত করতে পারে, যখন তাদেরকে একটি গরু যবাই করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যদি তখন যে কোন একটি গরু যবাই করত, তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট হত, কিন্তু তারা কঠিন করার কারণে তাদের উপর কঠিন করে দেওয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয়: নিষেধাজ্ঞা: এগুলো হচ্ছে এমন বিষয়, যেগুলো ছেড়ে দিলে সওয়াব হবে আর করলে তার কর্তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং এগুলোর প্রত্যেকটি বিষয় থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
তৃতীয়: আদেশ: এগুলো হচ্ছে এমন বিষয়, যেগুলো করলে সওয়াব আর ছেড়ে দিলে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং এগুলোকে সাধ্য অনুযায়ী পালন করতে হবে।
শিক্ষা
কোনটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সে গুলো নিয়ে আমাদের ব্যস্ত থাকা উচিত, যা প্রয়োজন নেই তা অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং যা ঘটেনি তা জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া উচিত।
এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা নিষিদ্ধ যা সমস্যাগুলিকে জটিল করে তুলতে পারে এবং এমন সন্দেহের দরজা খুলে দিতে পারে যা অনেক মতবিরোধের দিকে ধাবিত করে।
নিষিদ্ধ কাজ পূর্ণভাবে পরিত্যাগের জন্য আদেশ করা হয়েছে; কেননা এতে কোন সমস্যা নেই, আর এ কারণে এগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞাটি ‘আম বা সার্বিকভাবে প্রযোজ্য হবে।
আদিষ্ট বিষয়ে সাধ্যমত আমল করার আদেশ করা হয়েছে; কেননা হতে পারে ব্যক্তির উপরে কখনো তা কঠিন হয়ে যাবে অথবা সেগুলো করতে অক্ষম হবে। আর এ কারণে সাধ্য মোতাবেক পালন করার আদেশ করা হয়েছে।
অধিক হারে প্রশ্ন করা হতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আলেমগণ প্রশ্নকে দুইভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত: দীনের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ শেখার জন্য প্রশ্ন করা। সাহাবীদের প্রশ্ন এ জাতীয় ছিল। আর দ্বিতীয় প্রকার প্রশ্ন হলো, কৃত্রিম ও অহংকার বশত। এ ধরনের প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ।
এ উম্মতকে তাদের নবীর বিরোধিতা করতে নিষেধ করা যেমনটি আগেকার উম্মতদের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল।
অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে বেশী বেশী প্রশ্ন করা এবং নবীদের সাথে মতবিরোধ করা ধংসের কারণ, বিশেষভাবে এমন বিষয়ে যেখানে পৌঁছা সম্ভব নয়, যেমন: গায়েবের বিষয়সমূহ, যে বিষয় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কিয়ামাতের দিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি ইত্যাদি।
কঠিন বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করে বলেছেন: আল্লাহ যদি তাঁর বান্দাকে জ্ঞানের বরকত থেকে বঞ্চিত করতে চান, তবে তিনি তাদের মুখে কুটিল প্রশ্ন দিয়ে দেন, তাতে করে তাদেরকেই তুমি সবচেয়ে কম জ্ঞানী দেখতে পাবে। ইবনু ওয়াহব বলেছেন, আমি মালিক-কে বলতে শুনেছি: ইলম নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা ব্যক্তির অন্তর থেকে জ্ঞানের আলো দূর করে দেয়।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 94) (7288).
صحيح مسلم (2/ 975) (1337).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 236).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 181).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 268).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com