عَن أُمِّ الدَّرْدَاءِ وَ أَبِي الدَّرداءِ رَضيَ اللهُ عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: «دَعْوَةُ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ مُسْتَجَابَةٌ، عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ، قَالَ الْمَلَكُ الْمُوَكَّلُ بِهِ: آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ».
উম্মু দারদা ও আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে "আমীন এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই"।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, একজন মুসলিমের দোআ তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে কবুল করা হয়। কারণ এটি আন্তরিকতার দিক থেকে আরও স্পষ্ট এবং প্রার্থনাকারীর মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন এবং যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে, তখন তার কাছে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন: আমিন এবং তুমি যেমন প্রার্থনা করেছ তেমনি তোমার জন্যও হোক।
শিক্ষা
- মুমিনদের একে অপরের প্রতি সদয় হতে উৎসাহিত করা, এমনকি দোআর মাধ্যমেও।
- অনুপস্থিতিতে দোআ করা পড়া ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের আন্তরিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
- অনুপস্থিতিতে দোআ করার শর্তারোপ; কারণ এতে আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের উপস্থিতির আরও বেশি প্রকাশ ঘটে।
- দোআ কবুল হওয়ার একটি কারণ হলো, একজন মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করবে।
- আন-নওয়াবী বলেন: মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করার মধ্যে ফয়ীলত রয়েছে। যদি কেউ মুসলিমদের একটি দলের জন্য দুআ করে, তাহলে এই ফযীলত অর্জিত হবে। আবার যদি কেউ সকল মুসলিমদের জন্য দুআ করে, তাহলে স্পষ্টত এই মর্যাদা অর্জিত হবে। প্রাথমিক যুগের কিছু মুসলিম যখন নিজেদের জন্য দুআ করতে চাইতেন, তখন তাদের মুসলিম ভাইয়ের জন্যও একই দুআ করতেন। কারণ এটি কবুল করা হয়, আর সেও একই দোআ লাভ করে।
- ফেরেশতার কিছু কাজের বয়ান এবং তাদের মধ্যে এমনও আছেন যাকে আল্লাহ এই কাজ করার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
সূত্র
صحيح مسلم (4/ 2094) (2733).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (2/ 585).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1018).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 48).
كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (17/ 510).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي ذر رضي الله عنه مرفوعاً: «إني أرى ما لا ترون، أطَّتِ السماء وحُقَّ لها أن تَئِطَ، ما فيها موضع أربع أصابع إلا ومَلَكٌ واضع جبهته ساجدا لله تعالى، والله لو تعلمون ما أعلم، لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا، وما تلذذتم بالنساء على الفُرُشِ، ولخرجتم إلى الصُّعُداتِ تَجْأَرُون إلى الله تعالى».
আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “আমি যা দেখছি তোমরা তা দেখছ না, আসমান চিৎকরে উঠছে, আর চিৎকার করা তার জন্যে ঠিক আছে। তাতে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা এমন নেই যেখানে কোনো ফিরিশতা নিজের মাথা আল্লাহর জন্যে সাজদার নিমিত্তে অবনত করে নি। আল্লাহর কসম, আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, অবশ্যই তোমরা কম হাসতে ও অনেক বেশি কাঁদতে, আর নারীদের নিয়ে বিছানায় আরাম করতে না, বরং উচ্চ স্বরে আল্লাহর পানাহ চাইতে চাইতে টিলায় গিয়ে উঠতে।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান লিগাইরিহী
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি এমন কিছু দেখছি ও জানি তোমরা যা দেখ না ও জান না। উটের পিঠে চড়লে যেমন শব্দ হয় আসমান তেমনই শব্দ করে উঠেছে। আর এই শব্দ করা তার জন্যে ঠিক আছে। কারণ, তাতে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা এমন নেই যেখানে কোনো ফিরিশতা নিজের মাথা আল্লাহর জন্যে সাজদার নিমিত্তে অবনত করে নি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রতিশোধ গ্রহণ যেরূপ জানি তোমরা যদি সেরূপ জানতে, অবশ্যই তার শাসনের ভয়ে তোমরা কম হাসতে ও অনেক বেশি কাঁদতে, আর অধিক ভয়ের কারণে নারীদের নিয়ে বিছানায় আরাম করতে পারতে না, বরং উচ্চ স্বরে আল্লাহর পানাহ চাইতে চাইতে টিলায় গিয়ে উঠতে।
সূত্র
- دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد بن علان الشافعي، دار الكتاب العربي، بيروت.
- بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى، 1418ه.
- نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ.
- سنن الترمذي، لمحمد بن عيسى، الترمذي، تحقيق وتعليق: أحمد محمد شاكر ومحمد فؤاد عبد الباقي وإبراهيم عطوة عوض، شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي - مصر، الطبعة: الثانية، 1395هـ - 1975م.
- مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي، مؤسسة الرسالة، الطبعة: الأولى، 1421هـ - 2001م.
- سنن ابن ماجه :لابن ماجه أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
- صحيح الجامع الصغير وزياداته، الألباني، دار المكتب الإسلامي.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «صلاة الرجل في جماعة تَضعُفُ على صلاته في بيته وفِي سُوقِه خمسا وعشرين ضِعفًا، وذلك: أَنَّه إِذَا تَوَضَّأ، فَأَحسَن الوُضُوء، ثمَّ خرج إلى المسجد لاَ يُخرِجُهُ إلاَّ الصلاة؛ لَم يَخْطُ خُطوَةً إِلاَّ رُفِعَت له بِها درجة، وَحُطَّ عَنهُ بها خطيئة، فإذا صلَّى لم تزل الملائكة تُصَلِّي عليه، ما دام في مُصَلاَّه: اللهُمَّ صَلِّ عليه، اللهم اغفِر له، اللهم ارْحَمه، ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة».
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে সলাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মাসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন - “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, নিজ ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় করা অপেক্ষা জামা‘আতে সালাত আদায় করার সাওয়াব ও বিনিময় অনেক বেশি। অর্থাৎ একা সালাত, যেমনটি বুঝে আসে তার বিপরীতে জামাতের সালাত উল্লেখ করায়। এ ছাড়াও সাধারণত ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় একাই হয়ে থাকে। অধিকের পরিমাণ হলো পঁচিশ গুণ। আর তার বাণী: “এবং উহা” যদি উহা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় একা সালাতের ওপর জামা‘আতে আদায় করা সালাতের ফযীলত, তাহলে তা মসজিদের জামা‘আতের সাথে খাস হওয়াকে দাবি করে। আর তার বাণী: ‘অবশ্যই তা’ বিষয়টি হলো যখন কোন ব্যক্তি ওযূ করে এবং ওযূকে সে সুন্দরভাবে করে। অর্থাৎ সুন্নাত ও আদাবসহ ওযূকে পূর্ণ করে। তারপর সে মসজিদের দিকে সালাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। তাকে কেবল সালাতই বের করল। তবে যদি তাকে সালাত ছাড়া অন্য কিছু বের করল বা সালাতের সাথে অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আগত সাওয়াব সে পাবে না। তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। অর্থাৎ, ছোট গুনাহ যা আল্লাহর হকের সাথে সম্পৃক্ত। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য রহমাত ও মাগফিরাতের দু‘আ করতে থাকেন। অর্থাৎ যতক্ষণ তাতে বসে থাকে। অথবা এর অর্থ যতক্ষণ সেখানে অবস্থান করে যদিও কাত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ওযূ না ভেঙ্গে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত মালাকগণ বলে “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। অর্থাৎ, যত সময় তার অপেক্ষা করতে থাকে।
সূত্র
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى، 1381هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة، 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى، 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم-، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية، 1408هـ.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم : «هذا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عليك السَّلام» قالت: قلت: وعليه السلام ورحمة الله وبركاته.
وهكذا وقع في بعض روايات الصحيحين: «وبركاته» وفي بعضها بحذفها، وزيادة الثقة مقبولة.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “ইনি জিবরীল, তোমাকে সালাম পেশ করছেন।” তিনি বললেন, আমিও উত্তরে বললাম, وعليه السلام ورحمة الله وبركاته “তার উপরও সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত।” সহীহ বুখারী ও মুসলিমের কতক বর্ণনায় এসেছে: «وبركاته» আর কতক বর্ণনায় এ শব্দটি নেই। তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর «وبركاته» অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আমাদের সংবাদ দেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “হে আয়েশা! এই তো জিবরীল, তিনি তোমার ওপর সালাম পাঠ করছেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমার প্রতি সালাম পাঠ করছেন। অর্থাৎ তোমাকে সালাম হাদিয়া দিয়েছেন এবং তোমাকে ইসলামের সম্ভাষণ দ্বারা সম্ভাষিত করেছেন। তিনি বললেন, "وعليه السلام ورحمة الله وبركاته" (তার ওপরও সালাম, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত)। এভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহ তা‘আলার বাণী অনুযায়ী তাকে প্রদত্ত সালামের চেয়ে উত্তম বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ( وإذا حييتم بتحية فحيوا بأحسن منها أو ردوها ) [النساء: 86] “আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তমভাবে সালাম দাও অথবা সেটাই ফেরত দাও”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৬] অতঃপর সুন্নাত হলো, যখন কোনো ব্যক্তি কারো নিকট সালাম পৌঁছায় সে যেন " وعليه السلام ورحمة الله وبركاته " বলে উত্তর দেয়। কারণ, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের বাহ্যিক অর্থ তাই প্রমাণ করে। আর যদি বলে, "عليك وعليه السلام أو عليه وعليك السلام ورحمة الله وبركاته" “তোমার ওপর ও তার ওপর সালাম” অথবা বলে, “তার ওপর ও তোমার ওপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকত” তাহলে আরো উত্তম। কারণ, যে সালাম পৌঁছালো সে মুহসিন (দায়িত্বের অতিরিক্ত অনুগ্রহকারী)। তাকে তুমি দো‘আর মাধ্যমে প্রতিদান দেবে। যখন কোনো ব্যক্তি বলে, আমার পক্ষ থেকে অমুকের ওপর সালাম পৌঁছে দাও তখন অসিয়ত বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব কিনা এ ব্যাপারে আলেমগণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেন, যদি তুমি তার দায়িত্ব নিয়ে থাক, তোমার ওপর ওয়াজিব হবে। কারণ, আল্লাহ বলেন, ( إن الله يأمركم أن تؤدوا الأمانات إلى أهلها )[ النساء : 58] “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন হকদারের নিকট আমানত পৌঁছে দাও।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৮] অতএব, দায়িত্ব নিলে তুমি তা বহন করলে। আর যদি বলে, অমুককে সালাম দেবে, এবং চুপ থাকে অথবা তুমি তাকে বলেছ যদি স্মরণ থাকে, তখন যদি স্মরণ না থাকে তাহলে ওয়াজিব হবে না। আর যদি স্মরণ থাকে তখন সালাম পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু উত্তম হলো কাউকে এ ধরনের দায়িত্ব না দেওয়া। কারণ, অনেক সময় তা পালন করা কষ্টকর হয়। উত্তম হলো এ কথা বলা, আমার সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে তাকে সালাম দিবে। কিন্তু সালাম বহনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ায় কোনো উপকার নেই। কারণ, অনেক সময় লজ্জায় হ্যাঁ বলে, অতঃপর ভুলে যায় অথবা বেশি দেরি হয় ইত্যাদি এ ধরনের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সূত্র
نزهة المتقين، تأليف جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى: 1397ه.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
شرح رياض الصالحين، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، الناشر: دار الوطن للنشر، الطبعة: 1426هـ.
رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د.ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة الأولى، 1428هـ.
دليل الفالحين، تأليف: محمد بن علان، الناشر: دار الكتاب العربي، نسخة الكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر.
منار القاري، تأليف: حمزة محمد قاسم، الناشر: مكتبة دار البيان، عام النشر: 1410هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ المَصْدُوقُ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرْسَلُ إلَيْهِ المَلَكُ فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ، وَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ: بِكَتْبِ رِزْقِهِ، وَأَجَلِهِ، وَعَمَلِهِ، وَشَقِيٍّ أَوْ سَعِيدٍ؛ فَوَالَّذِي لَا إلَهَ غَيْرُهُ إنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إلَّا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا».
আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি ’সত্যবাদী’ এবং ’সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক-রক্তপিন্ড হয়, তারপর তেমনি সময়ে মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ্ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, ’আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের ’আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাক্দীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের ’আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত ’আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত ’আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
ইবনু মাস‘ঊদ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার বর্ণনার ব্যাপারে সত্যবাদী এবং তিনি সত্যবাদী হিসেবে প্রত্যায়িত, যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা তাকে সত্যায়ন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয় তোমাদের যে কোন ব্যক্তির সৃষ্টির ধরন হলো: যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে গমন করে, তখন স্ত্রীর গর্ভে পৃথক হওয়া বীর্য চল্লিশ দিন পর্যন্ত নুত্বফা হিসেবে (নিষিক্ত অবস্থায় থাকে। এরপরে তা ‘আলাক্বায় পরিণত হয়, আর তা হল- জমাট রক্তপিণ্ড। আর এ অবস্থায় দ্বিতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপর তা চিবানো যাওয়া পরিমাণ মাংসের টুকরাতে পরিণত হয়। আর এ অবস্থায় তৃতীয় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়। তারপরে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তৃতীয় চল্লিশ দিন পার হওয়ার পরে উক্ত ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন। এবং ফেরেশতাকে চারটি বিষয় লিখার আদেশ দেওয়া হয়: তা হচ্ছে- তার রিযিক, উক্ত ব্যক্তি তার গোটা জীবনে কী পরিমাণ নি‘আমাত ভোগ করবে। এবং তার সময়কাল, তথা- দুনিয়াতে তার অবস্থান কাল। তার আমল: সে কী হবে? দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কসম করেছেন যে, একজন ব্যক্তি জান্নাতীদের আমলই করতে থাকে। তার্গেআমললো মানুষের বাহ্যিক দৃষ্টিতে নেক আমলই হয়। এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র একগজ দূরত্ব বাকী থাকে, অর্থ্যাৎ: জান্নাতে প্রবেশ করা ও তার মধ্যে মাত্র এতটুকু দূরত্ব থাকে, যেভাবে কোন ভুমিতে প্রবেশের সময় একগজ পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, এ সময়ে সে জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করে, আর এটিই তার শেষ অবস্থা হয়, এ কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। কেননা আমল কবূল হওয়ার জন্য তার উপরে সুদৃঢ় থাকা এবং (অবস্থার) পরিবর্তন না করা শর্ত। অপরপক্ষে মানুষের মধ্যে এমন একদল মানুষ রয়েছে, যারা জাহান্নামীদের মত আমল করে সেখানে প্রবেশের কাছাকছি চলে যায়, এমনকি তার মধ্যে এবং জাহান্নামের মধ্যে মাত্র একগজ যমীন পরিমাণ দূরত্ব বাকী থাকে। তখন তার ভাগ্য-লিখন ও তার জন্য নির্ধারিত বিষয় তার দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে জান্নাতীদের মত আমল করতে থাকে এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।
শিক্ষা
- মানব সৃষ্টির পর্যায়গুলোর বিবরণ।
- ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ঈমান
- প্রতিটি কাজের শেষ ও চূড়ান্ত গন্তব্য পূর্ব-নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ও তাকদীরের প্রতিই প্রত্যাবর্তিত হবে।
- আমলের আকৃতিতে প্রতারিত হওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে; কেননা শেষ আমলই ধর্তব্য।
সূত্র
صحيح البخاري (9/ 135) (7454)، (4/ 111) (3208).
صحيح مسلم (4/ 2036) (2643).
عمدة القاري شرح صحيح البخاري (15/ 130).
شرح الأربعين النووية للعثيمين (ص: 84).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com