মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

হারাম বেচাকেনা

১০টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে ও গ্রাম্য লোকের পক্ষ হয়ে শহুরে লোককে বিক্রিয় করতে নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تُتَلَقَّى الرُّكْبَانُ، وأن يبيع حاضرٌ لِبَادٍ، قال: فقلت لابن عباس: ما قوله حاضرٌ لِبَادٍ؟ قال: لا يكون له سِمْسَارًا».
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “(বাজারের) বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে না। আর কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে।” তিনি বললেন, আমি ইবন আব্বাসকে বললাম ‘কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে’ এর অর্থ কী? তিনি বললেন, ‘সে তার দালাল হবে না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। কারণ, এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ে বিক্রেতা, ক্রেতা অথবা অন্য কারো ক্ষতি হয়। প্রথমত: পণ্য নিয়ে আগতদের বাজারে পৌঁছার আগে তাদের পণ্য বা জন্তু ক্রয় করে নেওয়া। তারা বাজারের মূল্য সম্পর্কে না জানাতে লোকটি কম মূল্যে তাদের থেকে পণ্য ক্রয় করে নেয়। এতে অনেক সময় তারা তাদের বিক্রয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং যে লাভ বা উপার্জনের জন্য এত কষ্ট ও দূরপথ অতিক্রম করল এবং আত্মাকে কষ্ট দিল তা থেকে তারা বঞ্চিত হয়। ফলে সে বিনা কষ্টে তার জন্য শীতল খাদ্যে পরিণত হল। দ্বিতীয়ত: গ্রাম্য লোকটি শহরে পণ্য আনে যাতে সে ঐদিনের মূল্যে বিক্রি করে ফিরে যাবে বা তার প্রয়োজন পূরণ হয় এবং তার জন্য যথেষ্ট হয় এমন মূল্যে বিক্রি করে সে চলে যাবে। কিন্তু শহরের লোক এসে তাকে বলে তুমি পণ্যটি আমার কাছে রেখে যাও যাতে মূল্য বৃদ্ধি পেলে আমি ধীরে ধীরে তা বিক্রি করতে পারি। এতে শহরবাসী ক্ষতি গ্রস্থ হয়। ফলে শরী‘আত এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন যাতে শহর থেকে দূরে অবস্থানকারী ব্যবসায়ী এবং শহরের অধিবাসী উভয়ের অধিকার সংরক্ষণ হয়।

সূত্র

تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ. الإلمام بشرح عمدة الأحكام لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ. خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز النجدي، الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992م. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন, আর তা হলো এমনভাবে বাগানের ফল বিক্রয় করা যে, যদি খেজুর হয় তাহলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে। আর যদি আঙ্গুর হয় তাহলে মেপে কিসমিসের বদলে। আর যদি ফসল হয় তাহলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি থেকে নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن المُزَابَنَةِ: أن يبيع ثَمَرَ حَائِطِهِ إن كان نَخْلًا: بتَمْرٍ كَيْلًا، وإن كان كَرْمًا: أن يبيعه بزبيب كَيْلًا، أو كان زَرْعًا: أن يبيعه بكَيْلِ طعام، نهى عن ذلك كله».
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন, আর তা হলো এমনভাবে বাগানের ফল বিক্রয় করা যে, যদি খেজুর হয় তাহলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে। আর যদি আঙ্গুর হয় তাহলে মেপে কিসমিসের বদলে। আর যদি ফসল হয় তাহলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি থেকে নিষেধ করেছেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। আর তা হল, একই ধরনের জানা বস্তুকে অজানা বস্তর বিনিময়ে বিক্রি করা। কারণ, এ ধরনের বিক্রিতে ক্ষতি নিহিত। এ ছাড়াও উভয় পণ্য সমান হওয়ার বিষয়টি অজান থাকায় তা সুদের দিকে নিয়ে যায়। এর একাধিক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হয়েছে যা এ বিক্রিকে স্পষ্ট করে ও তার বর্ণনা দেয়। আর তা হলো যেমন, বাগানের ফল বিক্রয় করা। যদি খেজুর হয় মেপে শুকনো খেজুরের বদলে। আর যদি আঙ্গুর হয় মেপে কিসমিসের বদলে, আর যদি ফসল হয় মেপে একই জাতীয় ফসলের বদলে বিক্রি করা। তিনি এ ধরনের বিক্রি নিষেধ করেছেন। কারণ তাতে রয়েছে বিভিন্ন খারাবী ও ক্ষতি।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري، مطبعة السعادة، الطبعة الثانية 1392هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق، مكتبة الصحابة، الشارقة، الطبعة العاشرة 1426هـ. خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل بن عبد العزيز المبارك، الطبعة: الثانية، 1412هـ - 1992م. صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة، (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুনাবাযা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলো, বিক্রয় চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রেতার কাপড়টি উল্টানো-পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। তিনি ‘মুলামাসা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হলো, কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা)।

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه مرفوعاً: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الْمُنَابَذَةِ-وهي طرح الرجل ثوبه بالبيع إلى الرجل قبل أن يقلبه، أو ينظر إليه-، ونهى عن الْمُلَامَسَةِ -والملامسة: لمس الرجل الثوب ولا ينظر إليه-».
আবূ সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুনাবাযা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন। আর তা হলো, বিক্রয় চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো-পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। তিনি ‘মুলামাসা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হলো কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা)।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজানা বস্তুর বেচাকেনা করতে নিষেধ করেছেন। কেননা, এতে ক্রেতা বা বিক্রেতার ক্ষতি নিহিত। হয় ক্রেতা কিনে ঠকে বা বিক্রেতা বিক্রি করে ঠকে। যেমন, বিক্রয়কৃত বস্তুটি ক্রেতা বা বিক্রেতা বা উভয়ের কাছে অস্পষ্ট। এ ধরণের বেচা-কেনার একটি হলো, ‘মুনাবাযা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়। আর তা হলো, বিক্রয় চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রেতা কাপড়টি উল্টানো-পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। এ ধরণের আরেকটি নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় হলো, ‘মুলামাসা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়। তা হলো, কাপড়টি না দেখে বা উল্টানো-পাল্টানোর আগে শুধু স্পর্শ করে বেচা-কেনা সম্পন্ন করা। এ দু-ধরণের বেচা-কেনা বিক্রিত বস্তুর ব্যাপারে অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতার অভিযোগ সৃষ্টি করে। ক্রেতা বা বিক্রতা যে কেউ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কেউ অতিরিক্ত লাভবান হবে এবং অন্যজন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে তা মাইসার তথা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত— যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ।

সূত্র

- صحيح البخاري -الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه - خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام- فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي - الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ তা‘আলা ফলন বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) হালাল করবে?

عن أنس بن مالك رضي الله عنه مرفوعاً: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الثمار حتى تُزْهِي. قيل: وما تُزْهِي؟ قال: حتى تَحمَرَّ. قال: أرأيت إن مَنَعَ اللهُ الثمرة، بِمَ يستحِلُّ أحدُكُم مال أخيه؟».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ তা‘আলা ফলন বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) হালাল করবে?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয় তা। আর ঐ সময় ফল কেনাতে ক্রেতার কোনো ফায়দা হয় না। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে। খেজুরের ক্ষেত্রে উপযুক্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে বর্ণ ধারণ করা বা হলুদ বর্ণ হওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেচা কেনা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেন, দেখ, যদি তার ওপর কোনো বিপদ আসে অথবা কিছু অংশের ওপর বিপদ আসে তাহলে তোমরা তোমাদের ভাই ক্রেতার সম্পদ কিসের বদলে হালাল করবে, তাকে উপকারী কিছু না দিয়ে কীভাবে তার অর্থ গ্রহণ করবে?

সূত্র

صحيح البخاري ، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه. -تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه. -خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام- فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي - الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م -فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام للشيخ ابن عثيمين- المكتبة الإسلامية القاهرة- تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي- الطبعة الأولى 1427-

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عمر- رضي الله عنهما- مرفوعاً: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الثمرة حتى يبدو صلاحها، نهى البائع و المُبْتَاعَ».
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র

- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. -الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه. -تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه. -فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام للشيخ ابن عثيمين- المكتبة الإسلامية القاهرة- تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي- الطبعة الأولى 1427ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসের উত্তরাধিকার (মীরাস বা রেখে যাওয়া সম্পদের অধিকার) বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عمر- رضي الله عنهما- مرفوعاً: «أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الوَلاءِ وعن هِبَتِهِ».
আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসের ওয়ালা বা উত্তরাধিকার (রেখে যাওয়া সম্পদের অধিকার) বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুক্তদাসের সম্পর্ক বংশের সম্পর্কের মত। এ হিসেবে যে, দু’টোর কোনোটিই বেচা-কেনা, দান ও অন্য কোনোভাবে উপার্জন করা যায় না। এ জন্যে তাতে বেচা-কেনা ও অন্য কোনোভাবে কর্তৃত্ব করা বৈধ নয়। এটি মুক্তদাস ও মুক্তকারী মনিবের মধ্যে একটি বন্ধন ও সম্পর্ক যার দ্বারা মনিবের (প্রথম ব্যক্তির) মীরাস হাসিল হয় মুক্তদাস (দ্বিতীয় ব্যক্তি) থেকে। এটি বিক্রি ও হেবা করতে নিষেধ করার কারণ তা বংশের মত ছিন্ন করলেও ছিন্ন হয় না। সুতরাং যদি কোনো মানুষ তার ভাইয়ের বংশ (সম্পর্ক/ নসব) বিক্রি করে তবে তার বিক্রি শুদ্ধ হবে না। অথবা যদি তার সন্তানের নসব বিক্রি করে তবে তার বিক্রি শুদ্ধ হবে না। অথবা তার চাচাতো ভাইয়ের নসব বিক্রি করে তবে তার বিক্রি শুদ্ধ হবে না। মুক্তদাসের বিষয়টিও অনুরূপ। (অর্থাৎ যিনি মুক্ত করেছেন তিনি মুক্ত করার কারণে তার উত্তরাধিকার স্বত্বের মালিক হয়েছেন সুতরাং তার থেকে অন্য কারও কাছে বিক্রি কিংবা দান করলে তাও শুদ্ধ হবে না।)

সূত্র

- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. -الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه. -تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর গর্ভস্থ ভ্রুণের বাচ্চা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع حَبَلِ الحَبَلَةِ ،وكان بيعا يتبايعه أهل الجاهلية، وكان الرجل يبتاع الجَزُورَ إلى أن تُنتِجَ الناقة، ثم تُنتِج التي في بطنها. قيل: إنه كان يبيع الشارف -وهي الكبيرة المسنة- بنتاج الجنين الذي في بطن ناقته.
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর গর্ভস্থ ভ্রুণের বাচ্চা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যা ছিল জাহিলী যুগের এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি। যেমন কোন ব্যক্তি একটি উট ক্রয় করত এবং মূল্য দেওয়ার অঙ্গীকার এভাবে করতো যে, যখন এই উটনী বাচ্চা দিবে এবং সে বাচ্চা আবার বাচ্চা দিবে তখন সে মূল্য পরিশোধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, উটনীর পেটে যে বাচ্চা রয়েছে সে বাচ্চার বিনিময়ে বয়স্ক উট ক্রয় করা।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ প্রকার বেচা-কেনা হারাম বেচা-কেনার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রকার বেচাকেনার দুটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সে দু’টি হলো: এক— এর অর্থ হলো আটকে রাখা। যেমন, কোন পণ্য উটের বাচ্চা প্রসব করা অতঃপর পেটের বাচ্চার বাচ্চা প্রসব করার মেয়াদ পর্যন্ত বাকীতে বিক্রি করল। এ ধরণের বেচা-কেনা করা নিষেধ। কেননা, এতে বস্তুর মূল্য পরিশোধের সময় অজ্ঞাত থাকে। আর স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী সময়ের ভিত্তিতে বস্তুর মূল্যে প্রভাব ফেলে। দুই— এর আরেকটি অর্থ হলো, অস্তিত্বহীন অজ্ঞাত বস্তু বিক্রয় করা। আর তা হলো এভাবে যে, বয়স্ক উটনীর পেটে যে বাচ্চা রয়েছে সে বাচ্চা বিক্রয় করা। এ ধরণের বেচা-কেনাও নিষিদ্ধ। কেননা, এতে রয়েছে বড় ধরণের ক্ষতি ও প্রতারণা। ভূমিষ্টতব্য বাচ্চাটি কী উট হবে নাকি উটনী হবে? উটনীটি কী একটি বাচ্চা প্রসব করবে নাকি দু’টি? বাচ্চাটি কি জীবিত থাকবে নাকি মৃত? এছাড়াও এতে রয়েছে বাচ্চা হস্তগত করার সময়ের অজ্ঞতা। আর এ ধরণের বেচা-কেনাকে বাইয়ে‘ মাজহূল তথা অজানা বস্তুর বেচা-কেনা বলা হয়। এতে ক্ষতি বা লাভ অধিক হয়। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হতে পারে। অর্থাৎ উপরোক্ত মাস‘আলাটির চারটি ধরণ রয়েছে। সেগুলো হলো: এক— উটনীর গর্ভ বিক্রি করা। দুই— উটনীর পেটের বাচ্চার বাচ্চা বিক্রয় করা। এতে বিক্রয়কৃত বস্তুর মাঝে অজ্ঞতা দেখা দেয়। তিন— বিক্রিত বস্তুর মূল্য বাকীতে আদায় করা। অর্থাৎ উটের বাচ্চা প্রসব অথবা উটের বাচ্চার বাচ্চা প্রসব করা পর্যন্ত বিক্রিত বস্তুটি ক্রয়কারীর মালিকানাধীন বাকীতে পরিশোধের চুক্তিতে থাকা। চার— বিক্রিত বস্তুটি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করা; তবে মূল্য অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাকী রাখা।

সূত্র

- صحيح البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري -مطبعة السعادة- الطبعة الثانية 1392هـ. -تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426هـ. -فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، للشيخ ابن عثيمين -المكتبة الإسلامية القاهرة- تحقيق صبحي رمضان وأم إسراء بيومي، الطبعة الأولى 1427ه-.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা (জমিনের নির্দিষ্ট অংশের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি চাষ করা, যেমন ক্ষেতের উত্তরাংশে যা উৎপাদিত হবে তা কৃষকের), মুহাকালা (গম বীজে থাকা অবস্থায় তা খড় থেকে কাটা পরিশোধিত গমের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা) ও মুযাবানা (গাছের ভেজা খেজুরের বিনিময় শুকনো খেজুর বিক্রি করা) এবং ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গাছে থাকা অবস্থায় ফল দিনার বা দিরহামের বিনিময়ে ছাড়া যেন বিক্রি করা না হয়; তবে ‘আরায়্যার (শুকনো খেজুরের বিনিময় ভেজা খেজুর অনুমান— প্রবল ধারণা দ্বারা পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما مرفوعاً: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن المُخَابَرَةِ والمُحَاقَلَةِ، وعن المُزَابنة، وعن بيع الثَّمَرَة حتى يَبدُو صَلاحُها، وأن لا تبُاع إلا بالدينار والدرهم، إلا العَرَايَا.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা (যমীনের নির্দিষ্ট অংশের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি চাষ করা, যেমন ক্ষেতের উত্তরাংশে যা উৎপাদিত হবে তা কৃষকের), মুহাকালা (গম বীজে থাকা অবস্থায় তা খড় থেকে কাটা পরিশোধিত গমের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা) ও মুযাবানা (গাছের ভেজা খেজুরের বিনিময় শুকনো খেজুর বিক্রি করা) এবং ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গাছে থাকা অবস্থায় ফল দিনার বা দিরহামের বিনিময়ে ছাড়া যেন বিক্রি করা না হয়; তবে ‘আরায়্যার (শুকনো খেজুরের বিনিময় ভেজা খেজুর অনুমান— প্রবল ধারণা দ্বারা পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফল-ফলাদির সাথে সম্পৃক্ত কয়েক ধরণের বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন। যেহেতু এতে ক্রেতা বা বিক্রেতা বা উভয়ের জন্য রয়েছে ক্ষতি। এ ধরণের বেচা-কেনার মধ্যে রয়েছে, মুখাবারা পদ্ধতিতে বেচা-কেনা। তাহলো, (সমগ্র যমীনের) ইনসাফ ভিত্তিক (গড় উৎপাদন) হিসেব না করে যমীনের নির্দিষ্ট অংশে উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি চাষ করা। এমনিভাবে তিনি গাছের ডগায় থাকা গমের বিনিময়ে খড় মুক্ত গমের ক্রয়-বিক্রয় করতে; অনুরূপভাবে গাছের কাঁদিতে থাকা খেজুরের বিনিময় শুকনো খেজুর ক্রয়-বিক্র করতে; অনুরূপভাবে ফল উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, তবে তিনি শুকনো খেজুরের বিনিময় ভেজা খেজুর অনুমান করে -যা প্রবল ধারণা দ্বারা পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়- বিক্রি করতে অনুমতি দিয়েছেন। খারাস হলো, প্রবল ধারণা দ্বারা নির্ধারণ করা। তবে তাতে শর্ত হলো, পাঁচ ওসাক বা এর কম হতে হবে। যেহেতু অন্য হাদীসে এ শর্তটি এসেছে।

সূত্র

- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري، مطبعة السعادة، الطبعة الثانية 1392ه. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق، مكتبة الصحابة، الشارقة، الطبعة العاشرة، 1426ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১০টির মধ্যে ৮
১০টি হাদীস
  1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে ও গ্রাম্য লোকের পক্ষ হয়ে শহুরে লোককে বিক্রিয় করতে নিষেধ করেছেন।
  2. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন, আর তা হলো এমনভাবে বাগানের ফল বিক্রয় করা যে, যদি খেজুর হয় তাহলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে। আর যদি আঙ্গুর হয় তাহলে মেপে কিসমিসের বদলে। আর যদি ফসল হয় তাহলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি থেকে নিষেধ করেছেন।
  3. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘মুনাবাযা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আর তা হলো, বিক্রয় চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রেতার কাপড়টি উল্টানো-পাল্টানো অথবা দেখে নেওয়ার আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা ক্রেতার দিকে নিক্ষেপ করা। তিনি ‘মুলামাসা’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতেও নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হলো, কাপড়টি না দেখে স্পর্শ করা (এতেই বেচা-কেনা সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা)।
  4. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ তা‘আলা ফলন বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) হালাল করবে?
  5. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই নিষেধ করেছেন।
  6. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসের উত্তরাধিকার (মীরাস বা রেখে যাওয়া সম্পদের অধিকার) বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।
  7. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর গর্ভস্থ ভ্রুণের বাচ্চা ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
  8. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা (জমিনের নির্দিষ্ট অংশের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি চাষ করা, যেমন ক্ষেতের উত্তরাংশে যা উৎপাদিত হবে তা কৃষকের), মুহাকালা (গম বীজে থাকা অবস্থায় তা খড় থেকে কাটা পরিশোধিত গমের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা) ও মুযাবানা (গাছের ভেজা খেজুরের বিনিময় শুকনো খেজুর বিক্রি করা) এবং ফল খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গাছে থাকা অবস্থায় ফল দিনার বা দিরহামের বিনিময়ে ছাড়া যেন বিক্রি করা না হয়; তবে ‘আরায়্যার (শুকনো খেজুরের বিনিময় ভেজা খেজুর অনুমান— প্রবল ধারণা দ্বারা পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রয় করার অনুমতি দিয়েছেন।
  9. তোমরা (পণ্যবাহী) কাফেলার সাথে (শহরে প্রবেশের পূর্বে) সাক্ষাৎ করবে না। তোমাদের কেউ যেন কারো ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না। শহরবাসী যেন গ্রামবাসীদের পক্ষে বিক্রয় না করে। তোমরা উট ও বকরীর দুধ আটকিয়ে রাখবে না।
  10. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসীকে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারণামূলক দালালী করবে না। কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com