عن عبد الله بن عُمَر رضي الله عنه قال: «اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ بن عَبْدِ الْمُطَّلِب رسول الله صلى الله عليه وسلم : أن يبيت بمكة ليالي مِنى، من أجل سِقَايَتِه فأذن له».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হাজীদের পানি পান করানোর আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মিনার দিনগুলোতে মক্কায় রাত কাটানোর অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আইয়ামুত তাশরীকের দিনগুলোতে মিনায় রাত্রি যাপন করা হজের একটি অন্যতম ওয়াজিব যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে করেছেন। কেননা উপরোক্ত দিন ও রাতগুলো মিনাতে যাপন করা আল্লাহর আনুগত্য ও হজের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। অন্যদিকে হাজীদেরকে পানি পান করানোও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উপায়। কেননা এ কাজটি আল্লাহর ঘরে হজ করতে আসা হাজীগণ ও মেহমানদের খিদমত। তাই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে মিনায় রাত যাপন না করারা অনুমতি দিয়েছেন যাতে তিনি পান করানোর দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল সামগ্রিক কল্যাণকর কাজ। যাতে প্রমাণিত হয় অন্য কেউ ছিল না যে তার মতো কাজটি করতে পারবে। আর যার কোন সমস্যা নেই সে এ বিশেষ ছাড় পাবে না।
সূত্র
تيسير العلام، للبسام، الناشر: مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة الطبعة، العاشرة، 1426هـ - 2006 م.
تنبيه الأفهام، للعثيمين، طبعة مكتبة الصحابة الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة الأولى 1426هـ.
صحيح البخاري، لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر، الناشر: دار طوق النجاة، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، مصر، الطبعة الأولى.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الله بن عبَّاس رضي الله عنهما قال: «أُمِرَ الناس أن يكون آخر عَهْدِهِمْ بالبيت، إلا أنه خُفِّفَ عن المرأة الحائض».
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে; তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ তাওয়াফ শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
সম্মানীত এ ঘরের জন্যে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা। এ গৃহটি আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর সমীপে বিনয় ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশের নিদর্শন। ফলে মানুষের বক্ষে এ ঘরের ব্যাপারে রয়েছে ভীতি। অন্তরে রয়েছে সম্মানবোধ, এ ঘরের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসা।
এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজীদেরকে সবশেষে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে বিদায় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বশেষ এ তাওয়াফটি বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়। কিন্তু হায়েযগ্রস্ত মহিলাদের জন্য এ তাওয়াফ মাফ করা হয়েছে। যেহেতু তারা হায়েয অবস্থায় অপবিত্র থাকায় মসজিদে প্রবেশ করলে তা নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাদের থেকে বিদায়ী তাওয়াফ ফিদিয়া ব্যতীতই মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিধানটি হজের ব্যাপারে প্রযোজ্য, উমরার ব্যাপারে নয়।
তাইসীরুল ‘আল্লাম, 434পৃ; তাম্বীহুল আফহাম, 2/584 ও তা’সীসুল আহকাম, 3/436।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ.
الإفهام في شرح عمدة الأحكام لابن باز، تحقيق: سعيد القحطاني، مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية، الرياض، الطبعة: الأولى 1435هـ.
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، فيصل بن عبد العزيز المبارك، الطبعة: الثانية 1412هـ، 1992م.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، القاهرة، الطبعة: الأولى.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: « تَمَتَّعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الوَدَاع بالعُمرَة إلى الحج وأهدَى، فَسَاقَ مَعَهُ الهَدْيَ مِن ذِي الحُلَيفَة، وَبَدَأَ رَسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهَلَّ بالعمرة، ثُمَّ أَهَلَّ بالحج، فَتَمَتَّعَ النَّاس مع رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهَلَّ بالعمرة إلَى الحج، فَكَان مِن النَّاس مَنْ أَهْدَى، فَسَاقَ الهَدْيَ مِن ذي الحُلَيفَة، وَمِنهُم مَنْ لَمْ يُهْدِ، فَلَمَّا قَدِمَ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قَالَ للنَّاس: مَنْ كَانَ مِنكُم أَهْدَى، فَإِنَّهُ لا يَحِلُّ مِن شَيء حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ، وَمَن لَم يَكُن أَهْدَى فَلْيَطُفْ بالبَيت وَبالصَّفَا وَالمَروَة، وَلْيُقَصِّر وَلْيَحْلِل، ثُمَّ لِيُهِلَّ بالحج وليُهدِ، فَمَن لم يجد هَدْياً فَلْيَصُم ثَلاثَةَ أَيَّام فِي الحج وَسَبعة إذَا رَجَعَ إلى أَهلِهِ فَطَافَ رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ، وَاستَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَيْءٍ، ثُمَّ خَبَّ ثَلاثَةَ أَطْوَافٍ مِنْ السَّبْعِ، وَمَشَى أَربَعَة، وَرَكَعَ حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بالبيت عِند المَقَام رَكعَتَين، ثُمَّ انصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا، وطاف بِالصَّفَا وَالمَروَة سَبعَةَ أَطوَاف، ثُمَّ لَم يَحلِل مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ منه حَتَّى قَضَى حَجَّهُ، وَنَحَرَ هَدْيَهُ يوم النَّحرِ، وَأَفَاضَ فَطَافَ بالبيت، ثُمَّ حَلَّ مِن كُلِّ شَيء حَرُمَ مِنهُ، وَفَعَلَ مِثل مَا فَعَلَ رَسول اللَّه صلى الله عليه وسلم : مَن أَهدَى وَسَاقَ الهَديَ مِن النَّاسِ».
«رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ يَقْدَمُ مكَّة إذا اسْتَلَمَ الرُّكْنَ الأَسْوَدَ -أَول ما يَطُوفُ- يَخُبُّ ثَلاثَةَ أَشْوَاطٍ».
ইব্নু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন ও কুরবানী করেছেন। তিনি যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধেন, এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হাজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক যুল হুলাইফা থেকে হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্ পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হাজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহর এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হাজ্জের ইহরাম বাঁধবে ও কুরবানী করবে, তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হাজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ্ পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হাজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হয়নি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন”। “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন তিনি মক্কায় আগমন করেন তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদকে চুমু দেন এবং প্রথম তিন চক্করে রমল করেন”।
উভয় বর্ণনা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনাবাসীর মীকাত যুল-হুলাইফা হজ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন, যে হজে তিনি বাইতুল্লাহকে ও হজের মানাসেককে বিদায় জানালেন, লোকদেরকে বিদায় জানালেন আর তাদেরকে তার রিসালাত পৌছালেন এবং তার ওপর সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন, তাতে তিনি হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধলেন। ফলে তিনি ছিলেন হজ্জে কিরানকারী। আর কিরানকারী মূলত তামাত্তুকারী। লোকেরা রাসূলুল্লাহর সাথে তামাত্তু করলেন। তাদের অনেকেই দুই নুসুকের (হজ ও উমরার) ইহরাম বাঁধলেন। আর কেউ কেউ উমরার ইহরাম বেঁধেছেন তা শেষ করে হজ করার নিয়তে। আবার কতক লোক শুধু হজের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তিন প্রকার হজের যে কোনটি পালনে স্বাধীনতা দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার কতক সাহাবী যুল হুলাইফাহ থেকে হাদী-কুরবারী জন্তু সাথে নিয়ে গেছেন। আর কিছু লোক কুরবারীর জন্তু সাথে নিয়ে যাননি। যখন তারা মক্কার নিকটে পৌঁছলেন ইফরাত ও কিরানকারীদের থেকে যারা কুরবানীর পশু নিয়ে যাননি তাদেরকে হজ বাতিল করে উমরা সম্পন্ন করতে উৎসাহ প্রদান করেন। তারপর যখন তারা তাওয়াফ ও সা‘ঈ করল তাদেরকে তিনি জোর দিলেন যেন তারা চুল কেটে তাদের উমরা থেকে হালাল হয় অতঃপর হজের ইহরাম বাঁধে ও কুরবানীর পশু প্রেরণ করে। কারণ, তারা একই সফরে দুটি মানসেক পালন করতে এসেছে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা দশদিন সাওম পাল করবে। হাজ্জের সময় তিনদিন, এই সিয়ামের সময় উমরার ইহরাম করার পর থেকে শুরু হয় এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাক্কায় পৌঁছলেন, প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং সাত চক্কর তাওয়াফ করলেন। তিন চক্কর রামল করলেন। কারণ, এটি ছিল আগমনের পরের তাওয়াফ। আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। দুটি আলামতের মাঝে তিনি দৌড়ালেন। আর বাকী অংশ তিনি স্বাভাবিক হাঁটলেন। তারপর হাজ্জ সমাধান করা, নহরের দিন কুরবানী করা আগ পর্যন্ত তিনি তার ইহরাম থেকে হালাল হননি। তারপর যখন তিনি তার হজ শেষ করে, জামরায় পাথর মারলেন, কুরবারীর পশু জবেহ করলেন, নহরের দিন মাথা মুন্ডালেন, এটি হল প্রথম হালাল, তখন সাজ সকালে বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ান দিলেন এবং তাওয়াফ করলেন। অতঃপর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। এমনকি নারীগণও হালাল হয়ে গেল। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরাও সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন।
সূত্র
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط1، دار الفكر، دمشق، 1381هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408 هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن حَفْصَة زَوْج النَّبِي رضي الله عنها قالت: «يَا رَسُولَ اللَّه، مَا شَأن النَّاس حَلُّوا مِنَ العُمرَة، وَلَم تَحِلَّ أنت مِنْ عُمْرَتِكَ؟ فَقَال: إنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي، وَقَلَّدتُ هَدْيِي، فَلا أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ».
নবীর সহধর্মিণী হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল, তারা ‘উমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে গেল, অথচ আপনি ‘উমরাহ হতে হালাল হচ্ছেন না? তিনি বললেন, আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি এবং কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি। কাজেই কুরবানী করার পূর্বে হালাল হতে পারি না”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
বিদায়ী হজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। তিনি হাদী সাথে নেন এবং মাথায় আঠালো বস্তু লাগান যা তাকে বিক্ষিপ্ততা থেকে বিরত রাখবে। কারণ, তার ইহরাম দীর্ঘ হবে। সাহাবীদের কতক তার ইহরামের মতো আর কতক হজে তামাত্তুকারী হিসেবে উমরার ইহরাম বাঁধেন। তাদের অধিকাংশই হাদী প্রেরণ করেননি এবং কতক হাদী প্রেরণ করেছেন। তারপর যখন তারা মক্কায় পৌঁছল, তাওয়াফ ও সা‘ঈ করল, মুফরিদ ও কারেন হজকারী যারা হাদী নিয়ে আসেনি তাদের নির্দেশ দিলেন তারা যেন তাদের হজকে পরিবর্তন করে এবং তাকে উমরায় রুপান্তর করে। আর তারা হালাল হয়ে যাবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যারা তার সাথে হাদী নিয়ে এসেছে তারা তাদের ইহরামের ওপর বাকী থাকলো, তারা হালাল হলো না। তখন রাসূলের স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে জিজ্ঞাসা করল, কেন লোকেরা হালাল হলো অথচ আপনি হালাল হলেন না? তিনি বললেন, আমি মাথায় আঠালো বস্তু লাগিয়েছি, কুরবানীর জানোয়ারের গলায় মালা ঝুলিয়েছি এবং তা সাথে নিয়ে এসেছি। হালাল হওয়ার জন্য এটি আমার জন্য বাঁধা প্রদানকারী যতক্ষণ না তা তার জায়গায় পৌঁছবে। আর তা হলো কুরবানীর দিন, হজের সমাপ্তির দিন।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ، 2006م.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ، 2005م.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام -صلى الله عليه وسلم- لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ، 1988م.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عبد الرحمن بن يزيد النَّخَعِي: «أنه حج مع ابن مسعود فرآه يَرمي الجَمْرَةَ الكبرى بسبع حصَيات، فجعل البيت عن يساره، ومِنى عن يمينه، ثم قال: هذا مَقَامُ الذي أُنْزِلَتْ عليه سورة البقرة صلى الله عليه وسلم ».
‘আবদুর রাহমান ইবন ইয়াযীদ আন-নাখ‘ঈ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে হজ আদায় করলেন। তিনি তাকে দেখলেন বাইতুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, এটিই ঐ সত্ত্বার দাঁড়ানোর স্থান, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
কুরবানীর দিন ও তাশরীকের দিনসমূহে পাথর নিক্ষেপ করা একটি মহান ইবাদাত; তাতে রয়েছে আল্লাহর জন্য বিনয় হওয়া, তার আদেশ পালন করা এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুকরণ করা। কুরবানীর দিন হাজীগণ যে আমলটি প্রথম করে সেটি হচ্ছে বড় জামরায় পাথর মারা, যেন এটিই সকল আমলের ভূমিকাস্বরূপ হয়। সুতরাং জামরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁড়ানোর স্থানে দাঁড়াবে। পবিত্র কা‘বাকে ডানে এবং মিনাকে বামে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবে। আর প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলবে। যেমন, এভাবেই দাঁড়িয়েছিল ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। আর তিনি শপথ করে বলেন যে, এটিই ছিল সে মহান ব্যক্তির দাঁড়ানোর স্থান, যার উপর সূরা বাকারাহ অবতীর্ণ হয়েছে।
সূত্র
تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ.
تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ.
الإفهام في شرح عمدة الأحكام، للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز، تحقيق: سعيد بن علي بن وهف القحطاني، الطبعة الأولى، 1435 هـ
خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، تأليف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك، الطبعة الثانية، 1412 هـ
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري ، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عُرْوَةَ بن الزُّبَيْرِ قال: «سُئل أُسَامَةُ بن زَيْدٍ -وأنا جالس- كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسيرُ حِينَ دَفَعَ؟ قال: كان يَسيرُ العَنَقَ، فإذا وجد فَجْوَةً نَصَّ».
উরওয়াহ ইবন যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা উসামা ইবন যায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আমি তখন বসা ছিলাম, বিদায় হজ্জে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফা থেকে ফিরে আসার সময় কেমন গতিতে পথ চলেছিলেন? উসামা বলেন, তিনি সাধারণ গতিতে চলতেন। আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, তখন দ্রুত চলতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
‘আরাফা থেকে মুযদালিফা পর্যন্ত উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে একই বাহনে বসা ছিলেন । তিনি আরাফা থেকে মুযদালাফার দিকে ফিরে আসার সময় পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। কেউ তার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চলার গতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি সাধারণ দ্রত গতিতে চলতেন। মানুষের ভীড়ের মধ্যে এটি ছিল সহজ গতিতে চলা। যেন কেউ কষ্ট না পায়। আর যখন প্রশস্ত ফাঁকা জায়গা পেতেন, যেখানে কোনো মানুষ নেই সেখানে তার বাহনকে সেদিকে পরিচালিত করতেন। তখন একটু দ্রুত চলতেন। কেননা সেখানে দ্রুত চললেও কেউ কষ্ট পেতো না।
সূত্র
عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ.
تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426هـ.
تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ.
صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ.
صحيح مسلم ، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها قالت: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نَذْكُرُ إلا الحج، حتى جِئْنَا سَرِف فَطَمِثْتُ، فدخل عليَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبْكِي، فقال: «ما يُبْكِيك؟» فقلت: والله، لوَدِدْتُ أنَّي لم أكُن خرجت العَام، قال: «ما لك؟ لَعَلَّكِ نَفِسْتِ؟» قلت: نعم، قال: «هذا شيء كَتَبه الله على بنات آدم، افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تَطُوفي بالبيت حتى تَطْهُري» قالت: فلمَّا قدمت مكة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه «اجْعَلُوها عُمرة» فأحَلَّ الناس إلا من كان معه الهَدْي، قالت: فكان الهَدْي مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وذَوِي اليَسَارَة، ثم أهَلُّوا حين راحُوا، قالت: فلمَّا كان يوم النَّحر طَهَرْت، فأمَرَني رسول الله صلى الله عليه وسلم فَأَفَضْتُ، قالت: فَأُتِيَنَا بِلَحم بَقَر، فقلت: ما هذا؟ فقالوا: أَهْدَى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- عن نِسَائه البقر، فلمَّا كانت ليلة الحَصْبَةِ، قلت: يا رسول الله، يرجع الناس بحجة وعُمرة وأرجع بِحَجَّة؟ قالت: فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر، فَأَرْدَفَنِي على جَمَلِه، قالت: فإني لأذْكُر، وأنا جَارية حَدِيثَةُ السِّن، أَنْعَسُ فيُصِيب وجْهِي مُؤْخِرَة الرَّحْل، حتى جِئْنَا إلى التَّنْعِيم، فَأَهْلَلْتُ منها بِعُمْرة؛ جزاء بِعُمْرَة الناس التي اعْتَمَرُوا.
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম, আমার মাসিক ঋতু শুরু হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন এমন সময় যে আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি যদি এ বছর হাজ্জ করতে না আসতাম! তিনি বললেন, কি হয়েছে তোমার? সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এটা আদাম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করো না”। তিনি বলেন, আমি যখন মাক্কায় পৌঁছলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবীদের বললেন, তোমরা এটাকে উমরা করে ফেলল। ফলে যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে হালাল হয়ে গেল। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর, ‘উমার ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকদের সাথে কুরবানীর দিন পশু (হাদী) ছিল। অতঃপর (ইতিপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে তারা সবাই (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তাওয়াফে ইফাযাহ করলাম। আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠান হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কি? তারা বলল, রসূলুল্লাহ তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। যখন হাসবার রাত এল, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করব। তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরকে নির্দেশ দিলেন, ফলে সে আমাকে তার উটের পেছনে বসিয়ে রওনা হলেন। ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালনের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। অবশেষে আমরা তান‘ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- মানুষের উমরার পরিবের্ত, যা তারা সম্পন্ন করেছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসের অর্থ: “আমরা কেবল হাজ্জের উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওনা হলাম”। অর্থাৎ মদীনা থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বের হওয়া ছিল যিল কা‘দা মাসের পাঁচ দিন বাকী থাকতে শনিবার। মদীনায় চার রাকা‘আত যোহর পড়েন তারপর যুল হুলাইফার দিকে রওয়ানা করেন এবং সেখানে গিয়ে আসর দুই রাকা‘আত আদায় করেন।
“আমরা হজ ছাড়া আর কোন কিছুই স্মরণ করতাম না”।
অপর বর্ণনায় “হজ ছাড়া আর কিছুই দেখতাম না”। কিন্তু তার থেকে অপর একটি বিশুদ্ধ বর্ণনা এসেছে, “আমাদের কেউ উমরার ইহরাম আবার কেউ হজের ইহরাম বেঁধেছে। আর আমি তাদের মধ্য থেকে ছিলাম যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে”। সুতরাং তার কথা—“আমরা হজ ছাড়া আর কোন কিছুই স্মরণ করতাম না” এবং তার কথা “হজ ছাড়া আর কিছুই দেখতাম না”—নিম্নের সম্ভাবনাগুলো রাখে:
প্রথম অবস্থা: এ দ্বারা তার উদ্দেশ্য মূল হিসেবে ফরয হজ। তারা যে হজের ইহরাম বেঁধেছে তার প্রকার বর্ণনা করা উদ্দেশ্য নয়।
দ্বিতীয় অবস্থা: এ দ্বারা উদ্দেশ্য মীকাতে পৌঁছা এবং ইহরামে প্রবেশের পূর্বে মদীনা থেকে বের হওয়ার সময়।
তৃতীয় অবস্থা: এ দ্বারা উদ্দেশ্য তিনি ছাড়া অন্যান্য সাহাবীগণের অবস্থা। তিনি নিজে নয়।
“এমনকি আমরা সারিফ নামক স্থানে পৌঁছলাম”। অর্থাৎ তারা এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছল যাকে সারিফ বলা হয়। এটি মক্কার কাছাকাছি একটি স্থান।
“আমার মাসিক শুরু হয়ে গেল।”
অর্থাৎ সে ঋতুমতী হয়ে পড়ল—রাদিয়াল্লাহু আনহা—
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন?
আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি চাচ্ছি যে, যদি আমি এ বছর বের না হতাম”।
তার যা হওয়ার তা হওয়ার পরেই তিনি কাঁদছেন এবং তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন যে, যদি এ বছর তাদের সাথে হজ পালন না করতেন। কারণ, তিনি ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু তার মাসিক হয়ে গেছে তাই তার হজের আমলসমূহ বাধা গ্রস্ত হবে এবং এ কারণে তার থেকে কল্যাণ ছুটে যাবে।
তিনি তাকে বললেন, কি হয়েছে তোমার? সম্ভবত তুমি ঋতুমতী হয়েছ?
আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এটা আদম এর কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ ঋতুবতী হওয়া এমন একটি বিষয় যা নির্ধারিত এবং আদমের কন্যাদের ওপর লিপিবদ্ধ। তা শুধু তোমার জন্য খাস নয় এবং তোমার হাতেও নয়। সুতরাং কান্নার কোন কারণ নেই।
“তুমি হাজ্জ পালনকারীগণ যা করে তাই কর কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো না।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন যে, মাসিক হজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধা নয় এবং এতে ইহরামের কোন ক্ষতি হয় না। সে সেসব কর্ম করবে যা হাজীগণ করেন, যেমন আরাফা, মিনা ও মুযদালিফায় অবস্থান ও পাথর নিক্ষেপ করা, তবে তাওয়াফ ছাড়া। যতক্ষণ না ঋতু থেকে পবিত্র হবে এবং গোসল না করবে তাওয়াফ করা থেকে বিরত থাকবে।
তিনি বলেন, আমি যখন মক্কায় পৌঁছলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সহাবীদের বললেন, তোমরা এটাকে ‘উমরা করে ফেলো।
তার উদ্দেশ্য হচ্ছে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আগমন করলেন, যারা হাদী নিয়ে আসে নাই তাদেরকে তাদের ইহরাম উমরা বানিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি হজের ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু সে হাদী প্রেরণ করেনি সে অবশ্যই তার হজের ইহরামকে উমরায় রূপান্তর করবে। সুতরাং সে তাওয়াফ করবে, সাঈ করবে এবং চুল কাটবে। অতঃপর সে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেল। মুসলিমের অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে যার সাথে হাদী ছিল না তাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম কিসের হালাল? তিনি বললেন, সবই হালাল।
“তিনি বলেন যাদের সাথে হাদী বা কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত সকলে হালাল হলো।”
তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর ‘উমার ও অন্যান্য স্বচ্ছল লোকের সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) ছিল।
তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যার সাথে হাদী ছিল না সে তাওয়াফ, সাঈ এবং চুল কসর করার পর তার ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বকর ও উমার—রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে যারা হাদী নিয়ে এসেছেন তারা মুহরিম অবস্থায় থেকে গেলেন। কারণ, তারা হাদী নিয়ে এসেছেন, আর যে হাদী নিয়ে আসে তার জন্য তার ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করা বৈধ নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি হাদী নিয়ে না আসতাম তাহলে আমি তেমনই করতাম যেমনটি আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছি। “(হজ উমরায়) পরিবর্তন করা হলো। অতঃপর তারা (অর্থাৎ ইতিপূর্বে যারা ইহরাম খুলে ফেলেছিল, মিনার দিকে) অগ্রসর হবার প্রাক্কালে (হাজ্জের) ইহরাম বাঁধল।”
অর্থাৎ, যারা তাওয়াফ, সাঈ ও চুল কসর করেছে তারা যিল হজ মাসের আট তারিখ তারবিয়ার দিবসে মিনায় রওয়ানা হওয়ার সময় হজের ইহরাম বেঁধেছে।
তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন পবিত্র হলাম।
অর্থাৎ যিল হজের দশ তারিখ নহরের দিন তিনি তার মাসিক থেকে পবিত্র হলেন। নহর করে নাম রাখার কারণ হলো এ দিন কুরবানির পশুকে নহর বা জবেহ করা হয়। তারপর সূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাওয়াফে ইফাযাহ করার নির্দেশ দিলেন। অর্থাৎ মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তাওয়াফে ইফাযাহ করার নির্দেশ দিলেন। তাই তিনি তাওয়াফে ইফাযাহ করলেন।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য গরুর গোশত পাঠান হ’ল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কি? অর্থাৎ তার জন্য এবং তার সাথে থাকা নারীদের জন্য গরুর গোস্ত পাঠালেন। তারপরও তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।
তারা বলল, রসূলুল্লাহ তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রত্যেক স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন।
“যখন হাসবার রাত এলো” অর্থাৎ তাশরীকের দিনগুলোর পর যখন মিনা থেকে বের হওয়ার রাত এলো। একে হাসবা বলার কারণ, হলো তারা মিনা থেকে বের হয়ে মুহাস্সাব নামক স্থানে অবতরণ করলেন এবং সেখানে রাত যাপন করলেন। সহীহ বুখারীতে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাবে একটু ঘুমান। তারপর তিনি বাইতুল্লাহতে যান এবং তার তাওয়াফ করেন।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হাজ্জ ও ‘উমরাহ পালন করে প্রত্যাবর্তন করবে, আর আমি শুধু হাজ্জ করে প্রত্যাবর্তন করব?
সবাই তামাত্তুকারী হওয়ার কারণে তারা আলাদা একটি হজ এবং একটি উমরা নিয়ে ফিরছে আর আমি ফিরে যাব অথচ আমার আলাদা কোন উমরা নাই। কারণ, তিনি ছিলেন কারেন। আর উমরা স্পষ্টত কিরানকারীর মধ্যে প্রবেশ করে গেছে। আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত: লোকেরা দ্বিগুণ সাওয়াব নিয়ে ফিরবে আর আমি একগুন সাওয়াব। মূলত: তিনি চাইছিলেন যে, তার জন্যও হজ ছাড়া আলাদা একটি উমরা হোক যেমনটি সকল উম্মুহাতুল মু’মিনীনের হয়েছিল এবং তারা ছাড়া অন্যান্য সাহাবী যারা হজকে উমরায় রূপান্তর করেছেন। তারা উমরা পালন করে তারবীয়ার দিনের পূর্বে হালাল হয়ে যায়। তারপর তারবীয়ার দিন তারা মক্কা থেকে হজের ইহরাম বাঁধে। ফলে তাদের একটি আলাদা উমরা এবং আলাদা হজ হয়। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মাত্র একটি উমরা হয় যা তার কিরান হজের সাথে একত্র। রওয়ানা হওয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হজের জন্য তোমার তাওয়াফ করা তোমার উমরার জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু তিনি মানলেন না এবং অন্যদের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ উমরা করতে চাইলেন। তিনি বলেন, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহকে নির্দেশ দিলেন এবং তদনুযায়ী তিনি আমাকে তার উটের পেছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ভাই আব্দুর রহমান ইবন আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন তাকে নিয়ে তানঈম যেতে যাতে তিনি অন্যদের মতো একটি উমরা নিয়ে ফিরেন। তখন তিনি তাকে তার পিছনে চড়ালেন। যেমনটি সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত।
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি ছিলাম অল্প বয়স্কা এবং আমার মনে আছে যে, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আমার মাথা বারবার পালনের খুঁটির সাথে আঘাত খাচ্ছিল। অর্থাৎ, যখন আব্দুর রহমান ইবন আবূ বকর তাকে তার পিছনে বহন করল এবং তাকে নিয়ে সে তানয়ীম যাচ্ছিল, তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। অধিক তন্দ্রার কারণে তার মাথা বার বার পড়ে যাচ্ছিল। ফলে পালনের খুঁটির ওপর আঘাত খাচ্ছিল।
“এভাবে আমরা তান‘ঈম পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমি আবার ‘উমরার ইহরাম বাঁধলাম- যা লোকেরা ইতিপূর্বে আদায় করেছে। অর্থাৎ, তারা যখন তান‘ঈম পৌঁছল তখন লোকেরা প্রথমে যে উমরা করেছিল তার জায়গায় সে রকম একটি পূর্ণাঙ্গ উমরার ইহরাম বাঁধলেন। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা আদায় করার পর তাকে বললেন, এটি তোমার উমরার স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ এটি সেই উমরার স্থলাভিষিক্ত যা তুমি হজ থেকে আলাদা করে অর্জন করতে চেয়েছিলে। কিন্তু তোমাকে তা পালন করতে তোমার মাসিক বিরত রেখেছিল।
সূত্র
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
لسان العرب، محمد بن مكرم بن منظور الأنصاري، دار صادر، بيروت، الطبعة: الثالثة 1414هـ.
كشف المشكل من حديث الصحيحين، جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن الجوزي، تحقيق: علي حسين البواب، الناشر: دار الوطن، الرياض.
المصباح المنير في غريب الشرح الكبير، أحمد بن محمد بن علي الفيومي، الناشر: المكتبة العلمية، بيروت.
النهاية في غريب الحديث والأثر، مجد الدين أبو السعادات المبارك بن الأثير، تحقيق: طاهر أحمد الزاوى، محمود محمد الطناحي، نشر: المكتبة العلمية، بيروت، الطبعة: 1399هـ، 1979م.
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، أبو زكريا محيي الدين النووي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: الثانية 1392هـ.
إكمال المعلم بفوائد مسلم، عياض بن موسى اليحصبي السبتي، المحقق: يحيى إسماعيل، الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر، الطبعة: الأولى، 1419هـ، 1998م.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، اعتنى بإخراجه عبدالسلام بن عبد الله السليمان، الرسالة، بيروت، الطبعة: الأولى 1427هـ، 2006م.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة 1423هـ، 2003م.
فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، محمد بن صالح العثيمين، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأم إسراء بنت عرفة، المكتبة الإسلامية، الطبعة: الأولى 1427هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীস