মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও বায়তুল মাকদিসের সাথে সম্পৃক্ত বিধানসমূহ

৫টি হাদীস

মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে আর হিজরত নেই; কিন্তু জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট রয়েছে। আর যখন তোমাদের জিহাদে যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে।

عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة: «لا هجرة بعد الفتح، ولكن جهاد ونية. وإذا اسْتُنْفِرْتُم فَانْفِرُوا. وقال يوم فتح مكة: «إن هذا البَلد حَرَّمَهُ الله يوم خلق الله السموات والأرض، فهو حَرَامٌ بحُرْمَةِ الله إلَى يوم القيامة، وإنه لم يحل القتال فيه لِأَحَدٍ قَبْلِي، ولم يَحِلَّ لي إلا ساعة من نهار، حرام بِحرمة الله إلى يوم القيامة، لا يُعْضَدُ شَوْكُهُ، وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ، وَلاَ يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إلا من عَرَّفَهَا، ولاَ يُخْتَلَى خَلاَهُ». فقال العباس: يا رسول الله، إلا الإِذْخِرَ؛ فإنه لِقَيْنِهِمْ وبيوتهم؟ فقال: «إلا الإِذْخِرَ».
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বললেন, “মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে আর হিজরত নেই; কিন্তু জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট রয়েছে। আর যখন তোমাদেরকে জিহাদে যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন একথাও বলেছেন, এ নগরীকে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে সম্মানিত করেছেন। কাজেই তা আল্লাহ প্রদত্ত সম্মানের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। আমার আগে এখানে যুদ্ধ করা কারো জন্য হালাল ছিলো না। আমার জন্যও তা দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। অতএব আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত সম্মানের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত তা সম্মানিত থাকবে। এখানকার কাঁটা কর্তন করা যাবে না; শিকারকে উত্যক্ত করা যাবে না; আর পথে পড়ে থাকা বস্তু কেউ উঠাবে না; তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে, যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাঁটা যাবে না। তখন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, ইযখির ব্যতীত। কেননা তা কর্মকারের ও ঘরের কাজে লাগে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইযখির ব্যতীত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বক্তব্য প্রদান করতে দাঁড়ালেন। অতঃপর বললেন, কোনো হিজরত নেই, অর্থাৎ মক্কা থেকে। কেননা মক্কা ইসলামের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জিহাদ অবশিষ্ট আছে। আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও আমীরের আনুগত্য পালনে যাকে জিহাদে যাওয়ার জন্য বলা হবে, তাকে তিনি জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি মক্কা নগরীর মর্যাদা বর্ণনা করেন। কেননা যখন থেকে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে মক্কা সম্মানিত। এখানে যুদ্ধ করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে আর কারোও জন্য হালাল ছিলো না, তাঁর পরেও কারো জন্য হালাল নয়। তবে তার জন্যে তা দিনের কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। অতঃপর তার সম্মান আগের মতো ফিরে এসেছে। অতঃপর তিনি মক্কা নগরীর আরো সম্মান উল্লেখ করেন এবং বলেন, হারামের কাঁটা কর্তন করা যাবে না; তার শিকারকে উত্যক্ত করা যাবে না; তার পথে পড়ে থাকা বস্তু উঠানো যাবে না; তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাঁটা যাবে না। তবে তিনি মক্কাবাসীদের প্রয়োজনে ইযখির কাঁটার অনুমতি দেন। দেখুন, তাইসীরুল আল্লাম, পৃ. ৩৮৪; তানবীহুল আফহাম, (৩/৫১৫); তা’সীসুল আহকাম, (৩/৩৫১)

সূত্র

عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ. تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. صحيح البخاري ، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري ، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

পাঁচ প্রকার প্রাণী; সবগুলোই ক্ষতিকর। এগুলোকে হারামেও হত্যা করা যাবে। কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর।

عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «خمسٌ من الدَّوَابِّ كُلُّهُنَّ فَاسِقٌ، يُقْتَلنَ في الحَرَمِ: الغرابُ، وَالحِدَأَةُ، وَالعَقْرَبُ، وَالفَأْرَةُ، وَالكَلْبُ العَقُورُ». وفي رواية: « يقتل خَمْسٌ فَوَاسِق في الْحِلِّ وَالْحَرَمِ ».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, “পাঁচ প্রকার প্রাণী; সবগুলোই ক্ষতিকর। এগুলোকে হারামেও হত্যা করা যাবে। কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর।” অন্য বর্ণনায় এসেছে: পাঁচটি ক্ষতিকর প্রাণী হারাম ও হারামের বাইরে হত্যা করা যাবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দিচ্ছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচ প্রকার প্রাণীকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন চাই হারামে হোক বা হালাল স্থানে হোক, যেগুলো সবই ফিসকের সাথে গুণান্বিত। অতঃপর তিনি এই পাঁচ প্রকার প্রাণীর বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। এই পাঁচ প্রকার প্রাণী ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত। ক্ষতি করা ও আক্রমণ করার দিক থেকে এগুলোর স্বভাব অন্যসব প্রাণী থেকে ভিন্ন। তাই গণনা করে এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আর এ রকম যত প্রাণী ক্ষতিকর তাও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কষ্ট দেয়া ও আক্রমণ করার কারণে এগুলো হত্যা করা হবে। হারাম এসব প্রাণীকে আশ্রয় দেয় না এবং ইহরাম অবস্থায় এ সবকে আশ্রয় দেওয়াও যায় না।

সূত্র

عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ. تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহ মক্কা থেকে হস্ত বাহিনীকে বিরত রেখেছেন। তার ওপর তার রাসূল ও মু’মিনদের বিজয়ী করেছেন। আর এ শহর আমার পূর্বে কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার পরে কারো জন্য বৈধ নয়। আর আমার জন্যও দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছে। আর তা হলো এ সময়টুকু।

عن أبي هُريرة رضي الله عنه قال: «لَمَّا فَتَحَ الله -تَعَالَى- عَلَى رَسُولِهِ مَكَّةَ قَتَلَتْ خزاعةُ رَجُلاً مِنْ بَنِي لَيْثٍ بِقَتِيلٍ كَانَ لَهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَامَ النبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ، وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ، وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لأَحَدٍ كَانَ قَبْلِي، وَلا تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي، وَإِنَّمَا أُحِلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ: حَرَامٌ، لا يُعْضَدُ شَجَرُهَا، وَلا يُخْتَلَى خَلاهَا، وَلا يُعْضَدُ شَوْكُهَا، وَلا تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إلاَّ لِمُنْشِدٍ، وَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ: فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ: إمَّا أَنْ يَقْتُلَ، وَإِمَّا أَنْ يُودِيَ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ- يُقَالُ لَهُ: أَبُو شَاهٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ الله، اُكْتُبُوا لِي فَقَالَ رَسُولُ الله: اُكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ، ثُمَّ قَامَ الْعَبَّاسُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ الله، إلاَّ الإذْخِرَ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ فِي بُيُوتِنَا وَقُبُورِنَا، فَقَالَ رَسُولُ الله: إلاَّ الإِذْخِرَ».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলের হাতে মক্কা বিজয় সম্পাদন করার পর খুযা‘আহ গোত্র জাহিলিয়্যাতের যুগে নিহত তাদের এক লোকের বদলায় বনী লাইসের এক লোককে হত্যা করল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহ মক্কা থেকে হস্ত বাহিনীকে বিরত রেখেছেন। তার ওপর তার রাসূল ও মু’মিনদের বিজয়ী করেছেন। আর এ শহর আমার পূর্বে কারো জন্য বৈধ ছিল না এবং আমার পরে কারো জন্য বৈধ নয়। আর আমার জন্যও দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছে। আর তা হলো এ সময়টুকু। এটি সম্মানিত শহর। তার গাছ কাঁটা যাবে না, কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না এবং ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না এবং কর্তন করা যাবে না এখানকার কাঁচা ঘাস ও তরুলতাগুলোকে। আর যার কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, তার জন্য রয়েছে দুটি স্বাধীনতা। হয় তাকে হত্যা করা হবে অথবা তার দিয়্যত পরিশোধ করা হবে। এ কথা শোনে ইয়ামনী একলোক দাঁড়ালো যাকে আবূ শাহ বলা হয়। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য লিখে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আবূ শাহের জন্য লিখে দাও। তারপর ‘আব্বাস দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির ব্যতীত। কেননা, ইযখির আমাদের ঘরে ও কবরসমূহে আমরা ব্যবহার করি। তখন নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, ইযখির ব্যতীত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু সংবাদ দেন—মক্কা বিজয়ের পর খুযা‘আহ গোত্রের এক লোক জাহিলিয়্যাতের যুগে তাদের নিহত হওয়া এক লোকের বদলায় হুযাইলের একজন লোককে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে হাদীসে বর্ণিত ভাষণটি প্রদান করেন। তিনি মক্কা সম্মানিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেন। হস্ত বাহিনীকে মক্কা থেকে বিরত রাখা এবং তার জন্য দিনের কিছু সময় বৈধ করার কথা বলেন। এখানে কিছু সময় দ্বারা নির্ধারিত কোন সময় নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো বিজয়ের দিন দিনের বেলা। কারণ, সেদিন সকাল থেকে আসর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহর জন্য বৈধ করা হয়। আর তিনি জানিয়ে দেন যে, তারপর তার সম্মানিত হওয়া পূর্বের মতো ফিরে আসে। হেরমের সীমানার মধে তার কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না, তার ঘাস ছিড়া যাবে না, তার গাছ কাঁটা যাবে না তবে ইযখার ঘাস ব্যতিত। আর ঘোষণা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ এ স্থানে পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নিতে পারবে না।

সূত্র

صحيح البخاري، تحقيق زهير الناصر، دار طوق النجاة، ط 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي. تأسيس الأحكام للنجمي، دار المنهاج ،1427هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، دار الصحابة، الشارقة، الطبعة الأولى 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নিশ্চয় যামানা (কাল) নিজের ঐ অবস্থায় ফিরে এল যেদিন আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। (অর্থাৎ দুনিয়া সৃষ্টি করার সময় যেরূপ বছর ও মাসগুলো ছিল, এখন পুনর্বার সে পুরাতন অবস্থায় ফিরে এল এবং আরবের মুশরিকরা যে নিজেদের মন মত মাসগুলোকে আগে-পিছে করেছিল তা এখন থেকে শেষ করে দেওয়া হল।) বছরে বারটি মাস; তার মধ্যে চারটি হারাম (সম্মানীয়) মাস।

عن أبي بكرة -ضي الله عنه- مرفوعاً: «إِنَّ الزمانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَاوَاتِ والأَرْضَ: السنةُ اثنا عَشَرَ شَهْرًا، منها أربعةٌ حُرُمٌ: ثلاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو القَعْدَةِ، وذُو الحَجَّةِ، والمحرمُ، ورَجَبُ مُضَرَ الذي بين جُمَادَى وشَعْبَانَ، أَيُّ شَهْرٍ هَذَا؟» قلنا: اللهُ ورسولُهُ أَعْلَمُ، فسكتَ حتى ظننا أنه سَيُسَمِّيهِ بغير اسمه، قال: «أَلَيْسَ ذَا الحَجَّةِ؟» قُلْنَا: بَلَى. قال: «فأَيُّ بَلَدٍ هَذَا؟» قلنا: اللهُ ورسولُهُ أَعْلَمُ، فسكتَ حتى ظننا أنه سُيَسَمِّيهِ بغير اسمه. قال: «أَلَيْسَ البَلْدَةَ؟» قلنا: بلى. قال: «فأَيُّ يَوْمٍ هَذَا؟» قُلْنَا: اللهُ ورسولُهُ أَعْلَمُ، فسكتَ حتى ظَنَنَّا أنه سيسميه بغير اسمه. قال: «أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ؟» قلنا: بَلَى. قال: «فَإِّنَّ دِمَاءَكُمْ وأَمْوَالَكُمْ وأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا في بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، وَسَتَلْقَونَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ، أَلَا فَلَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُم رِقَابَ بَعْضٍ، أَلَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ، فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يَبْلُغُهُ أَنْ يكونَ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَهُ»، ثُمَّ قال: «أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ، أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ؟» قلنا: نعم. قال: «اللَّهُمَّ اشْهَدْ».
আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “নিশ্চয় যামানা (কাল) নিজের ঐ অবস্থায় ফিরে এল যেদিন আল্লাহ তা‘আলা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। (অর্থাৎ দুনিয়া সৃষ্টি করার সময় যেরূপ বছর ও মাসগুলো ছিল, এখন পুনর্বার সে পুরাতন অবস্থায় ফিরে এল এবং আরবের মুশরিকরা যে নিজেদের মন মত মাসগুলোকে আগে-পিছে করেছিল তা এখন থেকে শেষ করে দেওয়া হল।) বছরে বারটি মাস; তার মধ্যে চারটি হারাম (সম্মানীয়) মাস। তিনটি পরস্পরঃ যুল ক্বা‘দাহ, যুলহিজ্জাহ ও মুহাররাম। আর (চতুর্থ হল) মুদ্বার গোত্রের রজব; যা জুমাদা ও শা‘বান এর মধ্যে রয়েছে। এটা কোন্ মাস?’’ আমরা বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’ অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তার নাম ব্যতীত অন্য নাম বলবেন। তিনি বললেন, ‘‘এটা যুল-হিজ্জাহ নয় কি?’’ আমরা বললাম, ‘অবশ্যই।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘এটা কোন্ শহর?’’ আমরা বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’ অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তার নাম ব্যতীত অন্য নাম বলবেন। তিনি বললেন, ‘‘এ শহর (মক্কা) নয় কি?’’ আমরা বললাম, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘‘আজ কোন্ দিন?’’ আমরা বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’ অতঃপর তিনি চুপ থাকলেন। আমরা ভাবলাম, তিনি হয়তো এর অন্য নাম বলবেন। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘এটা কি কুরবানীর দিন নয়?’’ আমরা বললাম, ‘অবশ্যই।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘নিশ্চয় তোমাদের রক্ত, তোমাদের মাল এবং তোমাদের সম্ভ্রম তোমাদের (আপসের মধ্যে) এ রকমই হারাম (ও সম্মানীয়) যেমন তোমাদের এ দিনের সম্মান তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাসে রয়েছে। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সুতরাং তোমরা আমার পর এমন কাফের হয়ে যেও না যে, তোমরা এক অপরের গর্দান মারবে। শোনো! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিতকে (এ সব কথা) পৌঁছে দেয়। কারণ, যাকে পৌঁছাবে সে শ্রোতার চেয়ে অধিক স্মৃতিধর হতে পারে।’’ অবশেষে তিনি বললেন, ‘‘সতর্ক হয়ে যাও! আমি কি পৌঁছে দিলাম?’’ আমরা বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে কুরবানীর দিনে ভাষণ দিলেন। তিনি ভাষণে সংবাদ দিলেন যে, সে বছর কাল যথাস্থানে ফিরে এসেছে। আগ-পিছ করার পরও আল্লাহ তা‘আলা সম্মানিত মাসসমূহে যে বিধান দিয়েছেন সে বিধান অনুপাতে মাসগুলো যথাস্থানে ফিরে এসেছে, যদিও জাহিলি যুগে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। কেননা, তারা জাহেলি যুগে আগ-পিছ করত, ফলে তারা হারাম মাসসমূহকে (তাদের সুবিধা মতো) হালাল করত আর হালাল মাসকে করত হারাম। কিন্তু রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম তাদেরকে বলছেন যে, মাসের সংখ্যা বারোটি: মুহাররম, সফর, রবি‘উল আউয়াল, রবি‘উস সানী, জুমাদাল ঊলা, জুমাদাস সানিয়্যাহ, রজব, শা‘বান, রামাদান, শাওয়াল, যিলক্বা‘দ ও যিলহাজ। এ হলো বারোটি মাস। আল্লাহ যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই তিনি তাঁর বান্দাহদের জন্য এগুলো নির্ধারণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন যে, এ বারো মাসের মধ্যে চার মাস সম্মানিত (হারাম) মাস। তিনটি লাগাতার আরেকটি আলাদা। পরপর আসা তিন মাস হলো, যিলক্বা‘দ, যিলহাজ ও মুহাররাম। আল্লাহ এগুলো সম্মানিত মাস করেছেন। এ মাসসমূহে যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ। অধিকন্তু এ মাসগুলোতে মানুষ আল্লাহর ঘর কা‘বায় হজ পালন করতে আসে। তাই আল্লাহ এ মাসসমূহকে সম্মানিত করেছেন যাতে লোকজন আল্লাহর ঘর যিয়ারত করতে যাওয়ার সময় উক্ত মাসসমূহে কেউ যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। আর এটি মহান আল্লাহর হিকমত। অতঃপর রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“এবং মুদার গোত্রের রজব মাস যা জুমাদাস সানিয়্যাহ ও শা’বানের মধ্যবর্তী মাস”। এটি চতুর্থ (সম্মানিত) মাস। আরবগণ জাহেলি যুগে এ মাসে উমরা পালন করত। তাই তারা রজব মাসকে উমরার জন্য এবং উপরোক্ত তিন মাসকে হজের জন্য রেখে দিতো। ফলে এ মাসটি তাদের কাছে সম্মানিত মাস বলে গণ্য ছিলো এবং এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিলো, যেমনিভাবে যিলক্বা‘দ, যিলহাজ ও মুহাররাম মাসে যুদ্ধ হারাম ছিলো। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্ন করলেন, এটি কোন মাস? এটি কোন শহর? এটি কোন দিন? তিনি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও গুরুত্ব প্রদান করতে এ প্রশ্নগুলো করেছেন। কেননা, বিষয়গুলো ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কোন মাস? তারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই অধিক জানেন। তারা অসম্ভব মনে করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রসিদ্ধ মাস জিলহজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন, তাই তারা তাদের শিষ্টাচারের কারণে বলেন নি এটি যিলহাজ মাস। কেননা, বিষয়টি সবারই জানা। বরং তারা আদব রক্ষা করে বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। এরপর তিনি চুপ থাকলেন। কেননা, মানুষ কিছু কথা বলে একটু চুপ থাকলে শ্রোতা তার কথার প্রতি অধিক মনোযোগী হয়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ ছিলেন। আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ মাসের অন্য কোনো নাম রাখবেন। (তারপর) তিনি বললেন, এটি কি যিলহাজ মাস নয়? তারা বলল, হ্যাঁ। তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কোন শহর? তারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই অধিক জানেন। অথচ তারা জানতেন যে, এটি মক্কা নগরী। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের শিষ্টাচার ও সম্মানবোধের কারণে জানা সত্ত্বেও তারা উত্তর দেননি যে, হে আল্লাহর রাসূল! এ কথা তো সকলেরই জানা। তবুও কেন জিজ্ঞেস করছেন? বরং তারা বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তারপর তিনি চুপ থাকলেন। আমরা ধারণা করলাম যে, হয়তো তিনি এ শহরের অন্য কোনো নাম রাখবেন। তারপর তিনি বললেন, এটি কি বালদাহ (মক্কা) শহর নয়? মক্কার একটি নাম হলো বালদাহ। তারা বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আজ কোন দিন? তারা পূর্বের মতোই জবাব দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন, এটি কি কুরবানীর দিন নয়? তারা বললেন, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তারা জানতেন মক্কা সম্মানিত নগরী, যিলহাজ মাস সম্মানিত মাস এবং কুরবানীর দিন সম্মানিত দিন। অর্থাৎ, এগুলো হারাম ও সম্মানিত। অতঃপর তিনি বললেন, “(জেনে রাখো) তোমাদের জান, মাল ও সন্মান, তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের এ দিন, আজকের এ মাস ও আজকের এ শহর তোমাদের জন্য সম্মানিত ও হারাম।” অতঃপর তিনি বললেন, “(জেনে রাখো) তোমাদের জান, তোমাদের মাল, তোমাদের সন্মান, তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের এ দিন, আজকের এ মাস ও আজকের এ শহর তোমাদের জন্য সম্মানিত ও হারাম।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান, মাল ও সম্মান এ তিনটি জিনিসকে গুরুত্বের সাথে হারাম করেছেন। এগুলো সবই সম্মানিত। রক্ত জীবন ও জীবনের সাথে সম্পৃক্ত সব কিছুকে শামিল করে। সম্পদ কম হোক বা বেশি হোক সবই এর অন্তর্ভুক্ত। সম্মান বলতে যিনা-ব্যভিচার, সমকামীতা এবং মানহানি সবকিছুই শামিল করে। এছাড়াও গীবত, গালাগালি ও অভিশাপও এর অন্তর্ভুক্ত। কোনো মুসলিম ভাইয়ের উক্ত তিনটি বিষয় বিনষ্ট করা অপর মুসলিমের জন্যে হারাম। অতঃপর তিনি বলেন, “খবরদার! তোমরা আমার মৃত্যুর পরে কাফির হয়ো না যে, একে অপরের গর্দানে আঘাত করবে।” কেননা, কোন মুসলিম একে অপরের গর্দান কাটলে সে আর মুসলিম থাকে না; সে তখন কাফির হয়ে যায়। কেননা, কাফির ব্যতীত কেউ মুসলিমের রক্ত হালাল মনে করে না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ব্যক্তিকে অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে তাঁর এ বাণী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সেদিন তাঁর ভাষণ প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলো এবং সে ভাষণ শ্রবণ করেছে সে যেন উম্মতের বাকীদের কাছে এ বাণী পৌঁছে দেয়। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আরো সংবাদ দেন যে, অনেক সময় যে প্রত্যক্ষভাবে শ্রবণ করেছে তার থেকে প্রচারকৃত ব্যক্তি অধিকতর সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেদিনের উক্ত অসিয়াত যারা সেদিন উপস্থিত ছিলেন তাদের জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনিভাবে কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হাদীস শ্রবণ করবেন তাদের জন্যও এ অসিয়াত প্রযোজ্য। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “জেনে রাখ, আমি কি (আল্লাহর বাণী তোমাদের কাছে) পৌঁছিয়ে দিয়েছি? জেনে রাখ, আমি কি (আল্লাহর বাণী তোমাদের কাছে) পৌঁছিয়ে দিয়েছি? তিনি সাহাবীদেরকে এ কথা জিজ্ঞেস করলেন। তারা সকলেই বললেন, হ্যাঁ। নিশ্চয় আপনি আল্লাহর বাণী আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অতপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষ্য থাকুন।”

সূত্র

نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، نشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة: الرابعة عشر، 1407ه 1987م. شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426ه. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، للهلالي، ط1، نشر: دار ابن الجوزي، 1415ه. صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“(এক) স্বামী কিংবা মাহরাম(যার সাথে কখনো বিবাহ জায়েয নেই) ব্যতীত কোন মহিলা দু’দিনের পথ সফর করবে না।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -وَكَانَ غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ غَزْوَةً- قَالَ: سَمِعْتُ أَرْبَعًا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَعْجَبْنَنِي، قَالَ: «لاَ تُسَافِرِ المَرْأَةُ مَسِيرَةَ يَوْمَيْنِ إِلَّا وَمَعَهَا زَوْجُهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ، وَلاَ صَوْمَ فِي يَوْمَيْنِ: الفِطْرِ وَالأَضْحَى، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَلاَ بَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ، وَلاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلَّا إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ: مَسْجِدِ الحَرَامِ، وَمَسْجِدِ الأَقْصَى، وَمَسْجِدِي هَذَا».
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: (যিনি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন) তিনি বলেন, চারটি বিষয় যা আমি আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি এ বিষয়গুলো আমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে। তিনি বলেন: “(এক) স্বামী কিংবা মাহরাম(যার সাথে কখনো বিবাহ জায়েয নেই) ব্যতীত কোন মহিলা দু’দিনের পথ সফর করবে না। (দুই)‘ঈদুল ফিতর এবং ‘ঈদুল আযহা- এ দুই দিন কেউ সাওম পালন করবে না। (তিন)‘আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্য উদয় পর্যন্ত কেউ কোন সালাত আদায় করবে না। (চার)আর মাসজিদে হারাম,মাসজিদে আকসা এবং আমার এই মাসজিদ (মাসজিদে নাববী) এ তিন মাসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মাসজিদের জন্য সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে না।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন: প্রথমত: মহিলাদেরকে তাদের স্বামী বা কোনো মাহরাম অর্থাৎ যার সাথে চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ নিষিদ্ধ, যেমন পিতা,পুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে, চাচা, মামা ইত্যাদি ব্যতীত দু'দিনের পথের সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন সাওম পালনে নিষেধ করা হয়েছে। এটি মানত, নফল বা কাফফারা যে ধরনের সাওমই হোক না কেন, এই দুই দিন সাওম পালন করা নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত: আসরের সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নফল সালাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। চতুর্থত: এই তিনটি মসজিদ (মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসা) ছাড়া অন্য কোনো স্থানের বিশেষ ফযীলত বা সেখানে নেকি বৃদ্ধির বিশ্বাস করে সেখানে সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে অধিক নেকির আশায় সালাত পড়ার উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না, কারণ নেকি কেবল এই তিন মসজিদে বৃদ্ধি পায়।

শিক্ষা
  1. নারীর জন্য মাহরাম ছাড়া ভ্রমণ নিষিদ্ধ।
  2. নারীর জন্য অন্য নারী মাহরাম নয়; যেমন হাদীসে বলা হয়েছে: "তার স্বামী বা মাহরাম পুরুষ।"
  3. যে ভ্রমণকে সফর বলা হয়, নারীকে স্বামী বা মাহরাম ছাড়া সে সফর থেকে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসটি প্রশ্নকারীর অবস্থা ও তার অবস্থান অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে।
  4. নারীর মাহরাম হলো তার স্বামী বা এমন ব্যক্তি যার সাথে চিরতরে তার বিবাহ নিষিদ্ধ, যেমন পিতা, পুত্র, চাচা, মামা, বা দুধ সম্পর্ক যেমন দুধ সম্পর্কীয় পিতা বা দুধ সম্পর্কীয় চাচা, অথবা বিবাহ সম্পর্কিত মাহরাম যেমন, শ্বশুর। মাহরাম ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন, বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ হতে হবে। কারণ মাহরাম থাকার উদ্দেশ্য হলো নারীর নিরাপত্তা দেয়া, তাঁকে রক্ষা করা ও তার বিষয়ে দেখাশোনা ও প্রয়োজনিয় দায়িত্ব পালন করা ।
  5. ইসলামী শরীয়ত নারীর যত্ন, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
  6. ফজর ও আসরের সালাতের পর সাধারণ নফল সালাত পড়া জায়েয নয়। তবে ফরয সালাতের কাজা বা বিশেষ কারণযুক্ত সালাত, যেমন মসজিদে প্রবেশের সালাত (তাহিয়্যাতুল মসজিদ), এগুলো পড়া জায়েয।
  7. সূর্যোদয়ের পরপরই সালাত পড়া নিষিদ্ধ। সূর্য কিছুটা উপরে উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যা প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নেয়।
  8. আসর সলাতের সময় সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
  9. তিন মসজিদে ভ্রমণের বৈধতা রয়েছে।
  10. তিন মসজিদের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
  11. কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা জায়েয নয়, এমনকি যদি নবী (সা.)-এর কবরের উদ্দেশ্যেও হয়। তবে মদিনায় অবস্থানকারীর জন্য বা শরীয়তসম্মত বা বৈধ উদ্দেশ্যে মদিনায় আগমনকারীর জন্য তার কবর যিয়ারত করা জায়েয।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 43) (1995). صحيح مسلم (2/ 975) (827). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لابن حجر العسقلاني (4/ 75). توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، للبسام (3/ 544). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (3/ 311). سبل السلام، لمحمد الصنعاني (1/ 598). مجموع فتاوى ومقالات، لابن باز(6/ 321). الشرح الممتع على زاد المستقنع، لابن عثيمين (6/ 516). شرح سنن أبي داود، عبد المحسن العباد (65/ 8 بترقيم الشاملة آليا).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com