মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সাওম পালনকারীর উপর যা হারাম

৩টি হাদীস

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিনের সাওম থেকে নিষেধ করেছেন। ফিতর ও নাহারের দিন। আর আপাদমস্তক এক কাপড়ে জড়িয়ে থাকা ও ইয়াহতিবা থেকে নিষেধ করেছেন এবং ফজর ও আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صوم يومين: الفطر والنحر، وعن اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ، وأن يَحْتَبِيَ الرجل في الثوب الواحد، وعن الصلاة بعد الصبح والعصر».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিনের সাওম থেকে নিষেধ করেছেন। ফিতর ও নাহারের দিন। আর আপাদমস্তক এক কাপড়ে জড়িয়ে থাকা ও ইয়াহতিবা থেকে নিষেধ করেছেন এবং ফজর ও আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিন সাওম পালন করা, দুই ধরনের কাপড় পরিধান করা এবং দুই সালাত থেকে নিষেধ করেছেন। যে দুই দিন সাওম পালন করা নিষিদ্ধ, তা হলো ফিতরের দিন এবং কুরবানীর দিন। এ দু’দিন সাওম পালন নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো, খানা-পিনা ও আনন্দের দিনে সাওম পালন করা মুনাসিব নয়। আর দুই ধরনের কাপড় পরিধান হলো আপাদমস্তক এক কাপড়ে ঢাকা ও এক কাপড়ে ইহতেবা করা। (ইহতিবা হচ্ছে পাছার উপর বসে দুই হাটু দাঁড় করিয়ে হাত দিয়ে পেচিয়ে ধরা কিংবা কাপড় দিয়ে বাঁধা)। আর সহীহ বুখারীর বর্ণনায় “যদি তার লজ্জাস্থানের উপর কোনো কাপড় না থাকে” বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। আর দুই সালাত হলো, ফজরের সালাতের পর এবং আসরের সালাতের পর সালাত আদায় করা। কাফির, যারা সূর্য অস্ত যাওয়া বা উদয় হওয়ার সময় সূর্যপূজা করে তাদের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এ নিষেধ। তবে যদি ফরয সালাত আদায় না করে তবে এ দুই সময়ের মধ্যে তা আদায় করা বৈধ। অনুরূপভাবে কোনো কারণের সাথে সম্পৃক্ত সালাত আদায়ও বৈধ।

সূত্র

عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ. تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমু‘আর দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

عن محمد بن عباد بن جعفر قال: «سألت جابر بن عبد الله رضي الله عنهما : أَنَهَى النبي صلى الله عليه وسلم عن صوم يوم الجمعة ؟ قال: نعم». وفي رواية: «وَرَبِّ الْكَعْبَة».
মুহাম্মাদ ইবন আব্বাদ ইবন জাফর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুমুআর দিনে নফল সাওম পালনে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।” অন্য বর্ণনায় এসেছে: “কা‘বার রবের কসম”।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জুমুআর দিন যেহেতু মুসলিমদের জন্য ঈদ, তাই শরীয়ত প্রণেতা ঐ দিনকে সাওম বা সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন; বরং সাওম পালন করতে চাইলে তার পূর্বে বা পরে একদিন মিলিয়ে নিবে। অথবা অভ্যাসের রোজার অন্তর্ভুক্ত হলে রাখতে পারবে। এটা এই জন্য যে, সাধারণ লোকেরা যেন ধারণা না করে যে, জুমুআর দিনকে অন্যান্য দিনের চেয়ে অতিরিক্ত ইবাদত বা আমল দ্বারা বিশেষিত করা ওয়াজিব।

সূত্র

عمدة الأحكام، تأليف: عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، تحقيق: محمود الأرناؤوط، دار الثقافة العربية ومؤسسة قرطبة، الطبعة الثانية، 1408هـ. تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমি একদা ঈদে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর মাংস খাও।

عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ، قَالَ: شَهِدْتُ العِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: هَذَانِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا: يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ، وَاليَوْمُ الآخَرُ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ.
বনূ আযহারের আযাদকৃত গোলাম আবূ ‘উবাইদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা ঈদে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিনে সাওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ঈদুল ফিতরের দিন) যে দিন তোমরা তোমাদের সাওম ছেড়ে দাও। আরেক দিন, যেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর মাংস খাও।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। ঈদুল ফিতর হলো রমযান মাসের রোযা ভাঙার দিন, আর ঈদুল আযহা হলো কোরবানির পশু খাওয়ার দিন।

শিক্ষা
  1. ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং তাশরিকের দিনগুলিতে রোযা রাখা নিষিদ্ধ; কারণ এটি কুরবানীর দিনের অংশ, তবে যারা কুরবানীর পশুর উপর সামর্থ হবে না তাদের ছাড়া, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য তাশরিকের দিনগুলিতে রোযা রাখা জায়েয।
  2. ইবনু হাজার বলেন: বলা হয়েছে: দুই দিন নির্ধারণ করার সুবিধা হলো তাদের রোযা ভাঙার বাধ্যবাধকতার কারণ নির্দেশ করা, যা হল রোযা থেকে পৃথক হওয়া এবং তার পরে সিয়াম ভাঙার মাধ্যমে এর পূর্ণতা দেখানো এবং তার সীমা বর্ণনা করা। আর অন্যটি হল আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যবাই করা পশুর উদ্দেশ্যে যাতে তার থেকে খেতে পারে।
  3. খতীবের উচিত তার খুতবায় তার সময়ের সাথে সম্পর্কিত বিধানগুলি উল্লেখ করা এবং উপযুক্ত উপলক্ষগুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।
  4. কুরবানীর পশু খাওয়ার বৈধতা।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 42) (1990). صحيح مسلم (2/ 799) (1137). تيسير العلام، لعبد الله البسام (ص344). تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، لابن عثيمين (3/ 461). الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص426). خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص161).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com