মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

অযুর পদ্ধতি

৯টি হাদীস

যে ব্যক্তি আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করল, তারপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করল তাতে সে তার মনে কনো কিছু উদয় করলো না, আল্লাহ্ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন

عَنْ ‌حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه: أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، وَقَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ».
‘উসমান ইবনু ‘আফফান -এর মুক্ত করা দাস হুমরান হতে বর্ণিত। সে দেখেছে, ‘উসমান ইবনু আফফান উযূর পানি নিয়ে ডাকলেন। তারপর তিনি পানির পাত্র হতে তাঁর উভয় হাতের উপর ঢাললেন এবং তাঁর দুই হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন ও নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তাঁর মুখমন্ডল তিনবার ও তাঁর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, অতঃপর তাঁর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর প্রত্যেক পা তিনবার ধুলেন; তারপর বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি। এবং তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করল, তারপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করল তাতে সে তার মনে কনো কিছু উদয় করলো না, আল্লাহ্ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ব্যবহারিক পদ্ধতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে অযুর বিবরণ শিক্ষা দিয়েছেন যেন তা সবচেয়ে বেশী স্পষ্ট হয়। তিনি একটি পাত্রে পানি তলব করলেন এবং তাঁর দুই হাতে তিনবার পানি ঢাললেন, তারপর তাঁর ডান হাত পাত্রে প্রবেশ করালেন। তার দ্বারা পানি নিয়ে তাঁর মুখে নাড়লেন ও বের করলেন। তারপর নিজের শ্বাস দ্বারা নাকের ভেতর পানি নিলেন। তারপর বের করলেন ও নাক ঝাড়লেন। তারপর তাঁর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর তাঁর দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, তারপর তাঁর হাত পানি দ্বারা ভিজিয়ে একবার মাথার ওপর মাসেহ করলেন। তারপর তাঁর দুই পা টাখনুসহ তিনবার ধৌত করলেন। যখন তিনি অযু হতে ফারিগ হলেন তাদের সংবাদ দিলেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই অযুর ন্যায় অযু করতে দেখেছেন। এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর অযুর ন্যায় যে অযু করবে এবং আল্লাহর সামনে তাঁর অন্তরকে হাজির রেখে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, আল্লাহ এই পরিপূর্ণ অযু ও একনিষ্ঠ সালাতের বিনিময় দান করবেন। এ দুটি আমল তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবে।

শিক্ষা
  1. ঘুম থেকে না ওঠে থাকলেও অযুর শুরুতে পাত্রের ভেতর দুই হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে দুই হাত ধৌত করা মুস্তাহাব। আর যদি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয় তখন দুই হাত ধৌত করা ওয়াজিব।
  2. শিক্ষকের পক্ষে ছাত্রকে বুঝানো এবং ইলমকে তাঁর গভীরে প্রোথিত করার সবচেয়ে নিকটতম নিয়ম প্রয়োগ করা উচিত। আর তারই একটি অংশ হলো ব্যবহারিক নিয়মে শিক্ষা প্রদান করা।
  3. মুসল্লির কর্তব্য হলো, অন্তরে উদয় হওয়া দুনিয়ার ব্যস্ততা সংক্রান্ত কল্পনাগুলো প্রতিহত করা, কারণ সালাতের ভেতর অন্তরের উপস্থিতি হলো তার পূর্ণতা ও সম্পন্ন হওয়ার নিদর্শন। অন্যথায় কল্পনাসমূহ থেকে নিরাপদ থাকা অসম্ভব, কাজেই তার ওপর আবশ্যক হলো নিজের নফসের সাথে জিহাদ করা এবং তাতে লাগামহীন না হওয়া।
  4. অযুতে ডান দিককে প্রাধান্য দেওয়া মুস্তাহাব।
  5. কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া ও নাক পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
  6. মুখমন্ডল, দুই হাত ও দুই পা তিনবার ধৌত করা মুস্তাহাব। আর একবার হলো ওয়াজিব।
  7. আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করার বিষয়টি হাদীসে উল্লিখিত বিবরণ মোতাবেক অযু ও দুই রাকাত সালাত: উভয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে।
  8. অযুর অঙ্গসমূহ হতে প্রত্যেক অঙ্গের একটি সীমা রয়েছে: দৈর্ঘ্যে (লম্বালম্বি) মুখমন্ডলের সীমা হলো: মাথার স্বাভাবিক চুল গঁজানোর স্থান থেকে দাড়ি ও থুতনির নীচ পর্যন্ত। আর প্রস্থে সীমা হলো কান থেকে কান পর্যন্ত। হাতের সীমা হলো: হাতের আঙ্গুলের মাথা থেকে বাহু ও প্রগণ্ডাস্থি (বাহুর ওপরের অংশ) এর জোড়া (কনুই) পর্যন্ত। মাথার সীমা হলো: মুখমন্ডলের চারপাশ থেকে চুল গঁজানোর স্বাভাবিক স্থান থেকে ঘাড়ের ওপর পর্যন্ত, আর কান মাসেহ করা মাথার-ই অংশ। পায়ের সীমা হলো: পা ও পায়ের গোছার মধ্যবর্তী জোড়াসহ পুরো পা ধৌত করা।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 44) (164). صحيح مسلم (1/ 204) (226). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 16). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص26). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 24).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

অতঃপর তিনি তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর মতো অযু করলেন।

عَنْ يحيى بنِ عُمَارةَ المَازِنِيِّ قَالَ: شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنَ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثَلاَثَ غَرَفَاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الكَعْبَيْنِ.
ইয়াহইয়া ইবন ‘উমারাহ আল-মাযেনী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদা ‘আমর ইবনু আবূ হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযু সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। অতঃপর তিনি পানির একটি পাত্র আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর মতো অযু করলেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর উভয় হাত সামনে থেকে পেছনে নিয়ে মাসেহ করলেন। তারপর টাখনুসহ দুই পা ধুলেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর পদ্ধতি এ হাদীসে বাস্তব চিত্রে বর্ণনা করেছেন। প্রথমত তিনি পানির ছোট একটি পাত্র চাইলেন। অতঃপর তিনি শুরুতেই হাতের তালুদ্বয় ধৌত করার মাধ্যমে অযু আরম্ভ করলেন। অতঃপর তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে পাত্রের বাহিরে তিনবার তালুদ্বয় ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝাড়লেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। অতঃপর পুনরায় পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তাঁর মাথা হাত দিয়ে সামনের থেকে পেছনের ঘাড়ের উপরি অংশ পর্যন্ত, অতঃপর তা আবার মাথার সামনের অংশে ফিরে এনে (সম্পূর্ণ মাথা) মাসেহ করলেন। অতঃপর টাখনুসহ দুই পা ধুলেন।

শিক্ষা
  1. শিক্ষার্থীদের ইলম হৃদয়াঙ্গম হওয়া এবং তার অন্তরে গেঁথে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা। আর হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া এর অন্যতম উপায়।
  2. অযুতে কোন অঙ্গ তিনবার আবার কোন অঙ্গ দু’বার ধৌত করা জায়েয, তবে ফরয হলো একবার।
  3. অযুতে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ফরয, যেমনটি হাদীসে এসেছে।
  4. মুখমণ্ডলের সীমা হলো দৈর্ঘ্যে মাথার স্বাভাবিক চুল গজানোর স্থান থেকে দাড়ি ও থুতনির নীচ পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কান থেকে আরেক কান পর্যন্ত।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 48) (186). صحيح مسلم (1/ 210) (235). الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 18). الإفهام في شرح عمدة الأحكام، لابن باز (ص72). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص29). تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، لابن عثيمين (1/ 27). شرح العمدة للسعدي (ص 50).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয় সে যেন তিনবার নাকে পানি দেয়। কারণ শয়তান তার নাসারন্ধ্রে রাত যাপন করে”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلْيَسْتَنْثِرْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيَاشِيمِهِ».
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয় সে যেন তিনবার নাকে পানি দেয়। কারণ শয়তান তার নাসারন্ধ্রে রাত যাপন করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তিকে তিনবার ইস্তেনসার করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইস্তিনসার হল নাকে পানি প্রবেশ করিয়ে তা বের করে ফেলা। কারণ, শয়তান নাসারন্ধ্রে -পুরো নাকের ভেতর- রাত যাপন করে।

শিক্ষা
  1. যে কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হলে নাক থেকে শয়তানের প্রভাব দূর করার জন্যে তিনবার ইস্তেনসার করার বিধান রয়েছে; অযু করার সময় হলে ইস্তেনসার করার বিষয়টি বেশী গুরুত্ব পায়।
  2. ইস্তেনসার ইস্তেনশাকের উপকারিতার পরিপূর্ণতা; কারণ ইস্তেনশাক হল নাকের ভেতরের অংশ পরিস্কার করা; আর ইস্তেনসার পানির সাথে সেই ময়লা দূর করে দেয়।
  3. এটিকে "يَبيت" (রাত যাপন) শব্দ থেকে রাতের ঘুমের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কারণ, বাইতুতাহ রাতের ঘুমে হয়; অধিকন্তু রাতের ঘুমটি দীর্ঘ ও গভীর হয়।
  4. হাদীসটিতে প্রমাণ রয়েছে যে, মানুষের অজান্তে শয়তান তার সাথে সম্পৃক্ত থাকে।
সূত্র

صحيح البخاري (4/ 126) (3295). صحيح مسلم (1/ 212) (238). توضيح الأحكام، للشيخ للبسام (1/ 211). سُبل السلام، للصنعاني (1/ 64). فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (1/ 179). منحة العلَّام، لعبد الله الفوزان (1/ 166).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহর নিকট এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি আনা হলে তিনি তার বাহুকে ঘষতে আরম্ভ করেন।

عن عبد الله بن زيد رضي الله عنه مرفوعاً: «أن النبي صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِثُلُثَيْ مُدٍّ فجعل يَدْلُكُ ذِرَاعَه».
আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহর নিকট এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি আনা হলে তিনি তার বাহুকে ঘষতে আরম্ভ করেন।”
ইবন খুযাইমাহ এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এ হাদীসটিতে আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ-রাদিয়াল্লাহু আনহু- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর পানির পরিমাণ সম্পর্কে সংবাদ দেন। অর্থাৎ, তিনি এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা ওযূ করতেন। এতেই কোন প্রকার অপচয় ছাড়া উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যেত। তিনি তার বাহুকে ঘষতেন। আর এ ঘষা ছিল ধোয়ার সমস্ত অঙ্গে পানি পৌছানোর জন্যে।

সূত্র

مسند الإمام أحمد، تأليف: أحمد بن محمد بن حنبل، تحقيق: شعيب الأرناؤوط وغيره، الناشر: الناشر: مؤسسة الرسالة ، الطبعة: الأولى، 1421 هـ. صحيح ابن خزيمة، تأليف: أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة ، المحقق: د. محمد مصطفى الأعظمي، الناشر: المكتب الإسلامي، بيروت. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان وتمييز سقيمه من صحيحه، وشاذه من محفوظه، محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: دار باوزير للنشر والتوزيع، الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করলেন। আর অযুতে তিনি মাথার অগ্রভাগ এবং পাগড়ি ও মোজার উপর মাসাহ করলেন।

عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه : أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ، فمسح بِنَاصِيَتِهِ، وعلى العِمَامة والخُفَّين.
মুগীরা বিন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করলেন। আর অযুতে তিনি মাথার অগ্রভাগ এবং পাগড়ি ও মোজার উপর মাসাহ করলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

মুগীরা বিন শু‘বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করার সময় মাথার অগ্রভাগ তথা কপাল মাসেহ করেছেন। তা হচ্ছে, মাথার চুলের অগ্রভাগ। অতঃপর সম্পূর্ণ পাগড়ির উপর মাসেহ করেছেন। মাথার সামান্য অংশ মাসেহ করাকে যথেষ্ট মনে করেননি; বরং সম্পূর্ণ পাগড়ির উপর মাসেহ করেছেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যাস হলো মোজার উপর মাসেহ করা। যেমন এ হাদীসে ও অন্যান্য হাদীসে এসেছে। সুবুলুস সালাম (১/৭২, ৮১), তাসহীলুল ইলহাম (১/১৩৫)

সূত্র

صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. سبل السلام شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن إسماعيل بن صلاح الصنعاني، الناشر: دار الحديث الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن صالح الفوزان، الناشر: دار ابن الجوزي الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 1431 هـ. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অযু করতেন তখন তার দুই কনুইর উপর পানি পৌঁছাতেন।

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا توضأ أدار الماء على مِرْفَقَيْهِ.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওযূ করতেন তখন তার দুই কনুইর ওপর পানি পৌঁছাতেন।
এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। - এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটি স্পষ্ট করে যে, অযুর ওয়াজিব হলো, দুই হাত কনুইসহ ধোয়া। দুই কনুইকে অন্তভুর্ক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, দুই হাত ধোয়ার মধ্যে কনুইদ্বয়ও অন্তভুর্ক্ত। হাদীসটি যদিও দুর্বল কিন্তু অন্যান্য দলিল তার অর্থকে প্রমাণ করে।

সূত্র

سنن الدارقطني، تحقيق: شعيب الأرنؤوط وآخرون، ط1، مؤسسة الرسالة، بيروت، لبنان، 1424 هـ. سنن البيهقي الكبرى، أحمد بن الحسين بن علي أبو بكر البيهقي، مكتبة دار الباز - مكة المكرمة ، 1414 – 1994، تحقيق: محمد عبد القادر عطا. السلسلة الصحيحة، المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: مكتبة المعارف – الرياض, الطبعة الأولى, 1422ه. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، شرحه الشيخ د. صالح بن فوزان الفوزان، اعتنى بإخراجه: عبد السلام السليمان، ط 1، 1427ه/2006م. توضيح الأحكام من بلوغ المرام للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، عبدالله بن عبد الرحمن البسام ، مكتبة الأسدي، مكة، ط الخامسة، 1423هـ. منحة العلام في شرح بلوغ المرام، تأليف عبد الله بن صالح الفوزان، ط 1، 1427هـ، دار ابن الجوزي - الرياض.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।

عَنِ ‌ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً مَرَّةً.
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো যখন উযূ করতেন তখন উযূর অঙ্গসমূহের প্রত্যেকটি অঙ্গ একবার করে ধৌত করতেন। যেমন তিনি একবার চেহারা ধৌত করতেন—কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া চেহারারই অন্তর্ভুক্ত—, এবং দুই হাত ও দুই পা একবার করে ধৌত করতেন। এটা হলো ওয়াজিব পরিমাণ।

শিক্ষা
  1. উযূর অঙ্গগুলো ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো একবার। আর যা বেশী হবে তা মুস্তাহাব।
  2. কোন কোন সময় একবার একবার ধৌত করা বৈধ।
  3. মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে বৈধ হলো একবার।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 43) (157)، إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (1/ 244).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার দু’বার করে ধুয়েছেন।

عَنْ ‌عَبْدِ اللهِ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ.
আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার দু’বার করে ধুয়েছেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সময় যখন উযূ করতেন, উযূর অঙ্গসমূহ হতে প্রত্যেক অঙ্গকে দু’বার করে ধুতেন—কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া চেহারার অন্তর্ভুক্ত—, এবং দুই হাত ও দুই পা দুইবার (ধুতেন)।

শিক্ষা
  1. অঙ্গসমূহ ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো একবার। আর যা বেশী হবে তা মুস্তাবাহ।
  2. কখনো কখনো অঙ্গগুলো দুইবার দুইবার ধৌত করা বৈধ।
  3. মাথা মাসেহ করার ক্ষেত্রে বৈধ হলো একবার।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 43) (158)، إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري (1/ 244).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
৯টির মধ্যে ৮
৯টি হাদীস
  1. যে ব্যক্তি আমার এই উযূর ন্যায় উযূ করল, তারপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করল তাতে সে তার মনে কনো কিছু উদয় করলো না, আল্লাহ্ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন
  2. অতঃপর তিনি তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অযুর মতো অযু করলেন।
  3. “যখন তোমাদের কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয় সে যেন তিনবার নাকে পানি দেয়। কারণ শয়তান তার নাসারন্ধ্রে রাত যাপন করে”।
  4. রাসূলুল্লাহর নিকট এক মুদের দুই তৃতীয়াংশ পানি আনা হলে তিনি তার বাহুকে ঘষতে আরম্ভ করেন।
  5. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করলেন। আর অযুতে তিনি মাথার অগ্রভাগ এবং পাগড়ি ও মোজার উপর মাসাহ করলেন।
  6. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অযু করতেন তখন তার দুই কনুইর উপর পানি পৌঁছাতেন।
  7. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একবার উযূ করেছেন।
  8. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উযূতে দু’বার দু’বার করে ধুয়েছেন।
  9. “পায়ের গোড়ালিসমূহের জন্য আগুনের শাস্তি। তাই তোমরা পূর্ণমাত্রাই ওযু করো।”

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com