উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফাতিমা বিনত আবূ হুবায়শ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমার ইস্তিহাযা (মেয়েদের অনিয়মিত রক্ত ঝরা) হয়েছে এবং পবিত্র হচ্ছি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
“না, ওটা শিরার (ধমনী) রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার আগে নিয়মিত যতদিন হায়য হতো সে কয়দিন সালাত অবশ্যই ছেড়ে দাও। তারপর গোসল করে নিবে ও সালাত আদায় করবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
ফাতিমা বিনত আবূ হুবায়শ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন:
আমার হায়েযের রক্ত বন্ধ হয় না, হায়েযের সময় শেষ হলেও তা চলতে থাকে। এটি কি হায়েযের বিধানের মতোই? তাই আমি কি সালাত ছেড়ে দিবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: ওটা ইস্তিহাযার (অনিয়মিত) রক্ত। এটি শিরার (ধমনীর) রক্ত, যা জরায়ুর নিম্নস্তরের শিরা হতে বের হয়। এটি মূলত মাসিক হায়েযের রক্ত নয়। অতএব ইস্তিহাযা হওয়ার আগে সাধারণ সময়ে যতদিন হায়েয(মাসিক স্রাব) হতো সে কয়দিন সালাত ও সাওম ও অন্যান্য ইবাদত যা হায়েয অবস্থায় ছেড়ে দিতে হয়, সেগুলো ছেড়ে দিবে। অতঃপর যখন হায়েযের সময়সীমা শেষ হবে, তারপরে তুমি হায়েয থেকে মুক্ত হলে । সুতরাং তুমি রক্তাক্ত জায়গাটি প্রথমে ধুয়ে নিবে। অতঃপর তোমার শরীর উত্তমরূপে ধৌত করবে, অপবিত্রতা দূর করতে পরিপূর্ণভাবে গোসল করবে। অতঃপর সালাত আদায় করবে।
শিক্ষা
নারীর হায়েযের সময়সীমা শেষ হলে গোসল করা ফরয।
ইস্তিহাযা(অনিয়মিত স্রাব) অবস্থায় সালাত আদায় করা ফরয।
হায়েয: এটি হলো সৃষ্টিগত ও স্বভাবজনিত রক্তস্রাব যা প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের যৌনাঙ্গ থেকে নির্ধারিত দিনগুলোতে বের হয়।
ইস্তেহাযা: এমন রক্তস্রাব যা অভ্যাসগত সময়ের বাহিরে জরায়ুর নিম্নস্তর হতে বের হয়, জরায়ুর গভীর থেকে নয় ।
হায়েয ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য: হায়েযের রক্ত কালো, ঘন, দুর্গন্ধময়। অন্যদিকে ইস্তেহাযার রক্ত লাল, পাতলাএবং এটি দুর্গন্ধযুক্ত নয়।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 72) (325).
صحيح مسلم (1/ 262) (333).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام (ص77).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 63).
خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام، لفيصل آل مبارك (ص40).
عن عائشة رضي الله عنها قالت: "إن أم حبيبة اسْتُحِيضَتْ سبع سنين، فسألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك؟ فأمرها أن تغتسل، قالت: فكانت تغتسل لكل صلاة".
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাহায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন। আয়েশা বলেন, অতঃপর তিনি প্রতি সলাতের জন্য গোসল করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার ইস্তেহাযাতে করনীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন। তখন সে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের জন্য গোসল করতেন। আর সাত বছর ধরে সে ইস্তেহাযায় আক্রান্ত ছিলেন।
সূত্র
تأسيس الأحكام للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ.
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة لأحكام لابن عثيمين، ط1، مكتبة الصحابة، الإمارات، 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق ، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ.
মু'আযাতা সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশাকে জিজ্ঞেস করে বললাম: হায়েযা (ঋতুবতী) নারী সাওম কাযা করে কিন্তু সালাত কাযা করে না কেন? তিনি বললেন, তুমি কি হারূরিয়্যাহ (খারিজি)? আমি বললাম আমি হারূরিয়্যাহ নয়। তবে জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন, আমাদের (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে) ঋতু হত, তখন আমাদের সাওম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত, কিন্তু সালাত কাযার নির্দেশ দেওয়া হত না।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা
মু'আযাতা আল-আদাউইয়া উম্মুল মুমেনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন ঋতুবতী মহিলারা সিয়াম কাযা আদায় করে কিন্তু সালাত কাযা আদায় করে না? তিনি তাকে বলল: তুমি কি খারেজী হারুরীদের একজন যারা একগুঁয়ে এবং হৎকারীতার কারণে বেশি বেশি প্রশ্ন করে? আমি বললাম: আমি হারুরী (খারেজীরা) নই, কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করছি। তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমাদের ঋতুস্রাব হত, তখন আমাদের সিয়াম কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত, কিন্তু সালাত কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত না।
শিক্ষা
যে কেউ একগুঁয়েমি বা তর্কের জন্য প্রশ্ন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা।
হারুরী কুফার কাছে "হারুরা" নামক একটি শহরের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে, যা খারেজীদের একটি সম্প্রদায়। তাদের সাথে তার তুলনা করেছেন, কারণ তারা নিজেদের ব্যাপারে কঠোর ছিল, তারা অনেক প্রশ্ন করত এবং তাতে একগুঁয়েমি ছিল।
যারা শিক্ষা ও নির্দেশনার জন্য প্রশ্ন করেন, শিক্ষক তাদের সামনে ব্যাখ্যা করবেন।
নস (দলিল) দিয়ে উত্তর দেওয়াই উত্তম; কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রশ্নকর্তাকে ভাবার্থ বলেননি, কারণ দলীল দিয়ে উত্তর দেওয়াই প্রতিবাদীদের লা জায়াব করার সঠিক পদক্ষেপ।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের শাসনের প্রতি আত্মসমর্পণ করা, যদিও বান্দা হিকমত না জানে।
ইমাম নববী বলেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর বক্তব্যের অর্থ হল, খারেজিদের একটি দল ঋতুবতী মহিলার উপর তার ঋতুস্রাবের সময় যে সালাতগুলো ছুটে যায়, সেগুলো কাযা করার নির্দেশ দেয়, যা মুসলিমদের ঐকমত্যের পরিপন্থী। আয়েশা যে প্রশ্নটি করেছেন তা ছিল অস্বীকারের প্রশ্ন, যার অর্থ: এটি খারেজিদের পথ এবং এটি কতই না খারাপ পথ।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 71) (321).
صحيح مسلم (1/ 265) (335).
الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري (1/ 68).
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص81).
عن عَائِشَة رضي الله عنها قالت: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يَتَكِّئُ فِي حِجرِي، فَيَقرَأُ القرآن وأنا حَائِض».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন পড়তেন অথচ আমি ঋতুবতী”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উল্লেখ করেন যে, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওরসে হেলান দিতেন। আর তিনি কুরআন পড়তেন অথচ তিনি ঋতুবতী। এটি প্রমান করে যে, ঋতুবতী নারীর দেহ পবিত্র, হায়যের কারণে তা অপবিত্র হয় না।
সূত্র
تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ.
تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى 1426هـ.
عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ.
صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ.
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.
عَنْ كَثِيرِ بن زِيَاد، قال: حدثتني الأزْدِيَّة يعني مُسَّةَ قالت: حَجَجْتُ فَدَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْتُ: يَا أُمَّ المؤْمِنِين، إِنَّ سَمُرَةَ بن جندب يَأْمُرُ النِّسَاءَ يَقْضِينَ صَلَاةَ الْمَحِيضِ فَقَالَتْ: «لَا يَقْضِينَ كَانَتِ المَرْأَةُ من نِسَاءِ النبي صلى الله عليه وسلم تَقْعُدُ فِي النِّفَاسِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً لَا يَأْمُرُهَا النبي صلى الله عليه وسلم بِقَضَاءِ صَلَاةِ النِّفَاسِ»
وفي رواية: و«كنا نطلي على وُجُوهنا بِالوَرْسِ -تعني- من الكَلَف».
কাসীর ইবন যিয়াদ বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-উরদিয়্যাহ অর্থাৎ মুস্সাতা, তিনি বলেন, আমি হজ করলাম এবং উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম হে উম্মুল মুমিনীন সামুরাহ বিনতে জুনদাব নারীদেরকে মাসিক অবস্থার সালাত কাযা করার নির্দেশ দেন। তখন তিনি বললেন, তারা কাযা করবে না। রাসূলের স্ত্রীদের মধ্যে নারীগণ প্রসূতি অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত করত কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিফাস অবস্থার সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন না। আর অপর বর্ণনায় এসেছে, “আর আমরা আমাদের চেহারা হলদে ঘাস দ্বারা ধৌত করতাম।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানহাসান
ব্যাখ্যা
আমাদের মাতা উম্মে সালমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বিশিষ্ট সাহাবী সামুরাহ ইবন জুনদুবের ফাতওয়ার ওপর সংশোধনী দিয়েছেন। আর সেটা হচ্ছে, তিনি নারীদেরকে মাসিকের সময় ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন। উম্মে সালামাহ শুনে বললেন, “তারা সালাত কাযা করবে না।” তিনি এ ফাতওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলেন, “রাসূলের নারীদের থেকে কতক নারী প্রসূতি অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত করত কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা করার নির্দেশ দিতেন না।” তার নারীদের দ্বারা উদ্দেশ্য কন্যাগণ ও আত্মীয় স্বজন। নারী শব্দটি স্ত্রী শব্দ থেকে ব্যাপক। কারণ, কন্যাগণ এবং সমস্ত আত্মীয় এ শব্দের অন্তর্ভুক্ত। এখানে একটি আপত্তি রয়েছে। আর সেটা তার কথায়: (تقعد في النفاس ...إلخ) আর তা হলো, মুস্সাতা উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে মাসিক অবস্থার ছুটে যাওয়া সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং তাকে সংবাদ দেন যে, সামুরা তাকে কাযা করার আদেশ দেন, আর উম্মে সালমাহ উত্তর দিয়েছেন নিফাসের অবস্থার সালাত সম্পর্কে। এ আপত্তির উত্তর দু’টি: এক. উত্তর দ্বারা বুঝা যায় যে, এখানে মাহিয শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল নিফাস। দুই. উম্মে সালামাহ নিফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাত সম্পর্কে উত্তর দেন যা হায়েযের সময় থেকে কম। কারণ, হায়েয বছরে ১২ বার হয় আর নিফাস এত বার হয় না, বরং তা হায়েযের তুলনায় একেবারেই কম হয়ে থাকে। তাই তিনি বলেন, শরী‘আত প্রণেতা নিফাস অবস্থার সালাত মাওকুফ করে দিয়েছেন, যা বারবার আসে না, তাহলে তিনি হায়েয অবস্থার সালাত যা বারবার আসে কীভাবে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহই ভালো জানেন। তার বাণী “আমরা আমাদের চেহারর ওপর তেল মাখতাম।” তার বাণী: ওয়ারস অর্থ, সবুজ ঘাস। চেহারার জন্য তা থেকে রস গ্রহণ করত। الكَلَف দ্বারা উদ্দেশ্য কালো ও লাল বর্ণের মাঝামাঝি রং। আর তা হলো লাল মেটে রং চেহারার উপর দৃশ্যমান হয়।
সূত্র
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل للألباني، إشراف: زهير الشاويش، ط2، المكتب الإسلامي - بيروت، 1405هـ.
توضيح الأحكام للشيخ البسام، ط5، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، 1423هـ.
تسهيل الإلمام للشيخ صالح الفوزان، بعناية: عبدالسلام السليمان، ط1، 1427هـ.
منحة العلَّام للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1427هـ.
سنن أبي داود، تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد، المكتبة العصرية، بيروت.
فتاوى اللجنة الدائمة، المجموعة الأولى: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، جمع وترتيب: أحمد بن عبد الرزاق الدويش.
عن ابن عباس رضي الله عنهما ، عن النبي صلى الله عليه وسلم في الذي يأتي امرأته وهي حائض قال: «يتصدق بدينار أو نصف دينار».
ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি তার ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলো, তার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে এক দীনার বা অর্ধ দীনার দান-খয়রাত করবে।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা
এ হাদীসটিতে যে ব্যক্তি তার ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করলো তার কাফ্ফারা বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো এক দীনার বা অর্ধ দীনার সাদকা করা। আর হাদীসটি থেকে ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা হারাম হওয়ার বিষয়টি জানা গেল। কারণ, তিনি তার ওপর কাফ্ফার নির্ধারণ করেছেন। আর হাদীসটি সদকা করা ওয়াজিব হওয়ার ওপরও প্রমাণ। কারণ, তা গুনাহের বিপরীতে বলা হয়েছে।
সূত্র
توضيح الأحكام للشيخ البسام، ط5، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، 1423هـ.
سُبل السلام، للصنعاني، دار الحديث.
تسهيل الإلمام للشيخ صالح الفوزان، بعناية: عبدالسلام السليمان، ط1، 1427هـ.
فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام: الشيخ ابن عثيمين، تحقيق صبحي رمضان وآخر، ط1، المكتبة الإسلامية، مصر، 1427هـ.
سنن أبي داود، لسليمان بن الأشعث السِّجِسْتاني تحقيق: محمد محيي الدين عبد الحميد: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
سنن ابن ماجه: ابن ماجه أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي.
دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي.
مسند الإمام أحمد بن حنبل المحقق: شعيب الأرنؤوط - عادل مرشد، وآخرون إشراف: د عبد الله بن عبد المحسن التركي مؤسسة الرسالة الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
السنن الكبرى للنسائي، حققه وخرج أحاديثه: حسن عبد المنعم شلبي، أشرف عليه: شعيب الأرناءوط مؤسسة الرسالة – بيروت الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م.
سنن الدارمي، للدارمي، التميمي تحقيق: حسين سليم أسد الداراني، دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 2000 م.
فتاوى اللجنة الدائمة، المجموعة الأولى، المؤلف: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، جمع وترتيب: أحمد بن عبد الرزاق الدويش.
عن أنس رضي الله عنه : أن اليَهُود كانوا إذا حَاضَت المرأة فيهم لم يؤَاكِلُوها، ولم يُجَامِعُوهُن في البيوت فسأل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم النبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله تعالى: {ويسألونك عن المحيض قل هو أذى فاعتزلوا النساء في المحيض} [البقرة: 222] إلى آخر الآية، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «اصْنَعُوا كلَّ شيء إلا النكاح». فَبَلغ ذلك اليهود، فقالوا: ما يُريد هذا الرَّجُل أن يَدع من أمْرِنا شيئا إلا خَالفَنَا فيه، فجاء أُسَيْدُ بن حُضَيْر، وعَبَّاد بن بِشْر فقالا يا رسول الله، إن اليهود تقول: كذا وكذا، فلا نُجَامِعُهُن؟ فَتغيَّر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظَنَنَا أن قد وجَد عليهما، فخرجا فَاسْتَقْبَلَهُمَا هَدِيَّة من لَبَنٍ إلى النبي صلى الله عليه وسلم ، فأَرسَل في آثَارِهِما فَسَقَاهُمَا، فَعَرَفَا أن لم يَجِد عليهما.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, ইয়াহূদীরা ঋতুবর্তী মহিলাদের সাথে ঘরে একত্রে খেত না এবং তাদের সাথে মেলামেশা করত না। তখন রাসূলের সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন, “লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তাদের সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবকিছুই করতে পারো।” বিষয়টি ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছলে তারা বলল, এই লোকটি আমাদের দীনের কোনো বিষয়কেই বিরোধিতা করা ছাড়া ছাড়ছে না। উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ইয়াহূদীরা এমন এমন কথা বলে আমরা কি তাদের সাথে মেলা মেশা করব না? এ কথা শোনে রাসূলের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। এমনকি আমরা ধারণা করলাম তাদের থেকে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। তারপর তারা দুইজন বের হলো এ অবস্থায় রাসূলের জন্য প্রেরিত দুধের হাদিয়া তাদের সামনে পড়ল। তারপর তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন এবং তাদেরকে পান করালেন। ফলে তারা জানলেন যে, তাদের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হন নি।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, ইয়াহূদীরা ঋতুবতী মহিলাদের সাথে ঘরের মধ্যে কোনো ধরনের মেলামেশা করত না এবং তাদের সাথে পানাহার করত না।” অর্থাৎ ইয়াহূদীরা ঋতুবর্তী নারীদের সাথে পানাহার থেকে বিরত থাকত। তাদের বানানো কোন খাদ্য ও ঝুটা গ্রহণ করত না। কারণ, তারা বিশ্বাস করত যে, তারা অপবিত্র এবং তাদের ঘাম অপবিত্র। “তাদের সাথে ঘরের মধ্যে মেলামেশা করত না।” এখানে মেলামেশা দ্বারা উদ্দেশ্য বসবাস ও উঠবস করা। যখন নারীদের মাসিক হতো তখন ইয়াহূদীরা তাদের সাথে উঠবস করত না বরং তাদের ঘর থেকে বের করে দিত। যেমনটি আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত আবূ দাউদের হাদীসে রয়েছে: “ইয়াহূদী নারীদের যখন হায়েয আরম্ভ হতো। তারা তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিত। তারা তাদের সাথে পানাহার করত না তাদের সাথে এক ঘরে থাকত না।” অর্থাৎ যখন তারা মাসিকের সময় নারীদের দূরে রাখা বিষয়ে ইয়াহূদীদের অবস্থা জানতে পারলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন, “লোকে আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা তাদের সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবকিছুই করতে পারো।” সুতরাং তাদের সাথে মেলামেশা, পানাহার, উঠবস করা এবং একই বিছানায় ঘুমানো সবই বৈধ করেছেন। শুধুমাত্র লজ্জাস্থানে সঙ্গম করা ছাড়া। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “তোমরা সঙ্গম ব্যতীত সবকিছুই কর।” এতে রয়েছে আয়াতের সংক্ষিপ্তের বর্ণনা। কারণ, আল্লাহর বাণী “তোমরা নারীদের থেকে দূরে থাক।” নারীদের সাথে খাওয়া, পানাহার, মেলামেশা, উঠবস চলাফেরা করা সবকিছুকেই অন্তভুর্ক্ত করে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দূরে রাখা দ্বারা উদ্দেশ্য বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর তা হলো শুধু সহবাস ত্যাগ করা অন্য কিছু নয়। “বিষয়টি ইয়াহূদীদের কাছে পৌঁছলো” অর্থাৎ ইয়াহূদীদের নিকট খবর পৌঁছল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের হায়েয চলাকালে নারীদের সাথে সহবাস করা ছাড়া সবকিছুর অনুমতি দিয়েছেন। “তখন তারা বলল, এই লোকটি আমাদের দীনের কোনো বিষয়কেই বিরোধিতা করা ছাড়া ছাড়ছে না।” অর্থাৎ যখন দেখে আমরা কোনো কিছুর ওপর আমাল করছি তখন সে আমাদের বিরোধিতা করেন এবং তার বিপরীত নির্দেশ দেন। সে প্রতিটি বিষয়ে আমাদের বিরোধিতা করতে আগ্রহী। “তখন উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহর নিকট আসলেন। তারা দুইজন এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ইয়াহূদীরা এমন এমন কথা বলে আমরা কি তাদের সাথে সহবাস করব না।?” অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করলেন, তখন তা শোনে তারা যা বলল তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উসাইদ ইবন হুদাইর ও আব্বাদ ইবন বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তুলে ধরলেন। অতঃপর প্রতিটি বিষয়ে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা বাস্তবায়নের জন্য তারা দু’জন সহবাস করার বৈধতাও প্রার্থনা করলেন। অর্থাৎ আমরা যেহেতু নারীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করলাম, যেমন তারা তাদের সাথে মেলামেশা করে না, আর আমরা মেলামেশা করি, ঘুমাই, পানাহার করি সবই করি কেবল সহবাস ছাড়া। তাহলে আমরা কি তাদের সাথে সহবাস করব না যাতের সববিষয়ে তাদের বিরোধিতা করা সাব্যস্ত হয়। “এ কথা শোনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল।” অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল তাদের দু’জনকে তাদের ইজতিহাদের ওপর সমর্থন দেন নি; বরং তিনি ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর ক্ষুব্ধতার নিদর্শন তার চেহারায় ফুটে উঠল। কারণ, তাদের দু’জনের কথাটি ছিল শরী‘আতের পরিপন্থী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আপনি বলুন, তা অশুচি। অতএব, তোমরা ঋতুস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করো” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতে উল্লিখিত দূরে রাখা দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করেন। আর তা হলো মাসিকের সময় তাদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। “এমনকি আমরা ধারণা করলাম তাদের ওপর তিনি ক্ষেপেছেন।” অর্থাৎ তাদের দু’জনের কথার কারণে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। “তারপর তারা দু’জন বের হলো এ অবস্থায় রাসূলের জন্য প্রেরিত দুধের হাদিয়া তাদের সামনে পড়ল। তারপর তিনি তাদের পিছনে লোক ডেকে পাঠালেন এবং তাদের দু’জনকে পান করালেন।” তারা দু’জন তার নিকট থেকে বের হয়ে পড়লেন। আর তাদের বের হওয়ার সময় এক লোক তাদের সামনে পড়ল, তার সাথে ছিল দুধ। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা হাদীয়া দেন। যখন হাদিয়া দাতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করেন তখন আল্লাহর রাসূল এক লোককে তাদের ডেকে আনার জন্য পাঠালেন। তারপর যখন তারা দু’জন আসল, তাদের প্রতি করুণা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তাদেরকে এ দুধ থেকে পান করালেন। “ফলে তারা জানলেন যে, তাদের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ হন নি।” অর্থাৎ ক্ষুব্ধ হন নি। কারণ, তারা দু’জন যে বিষয়ে কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে তাদের নিয়ত সুন্দর হওয়ার কারণে তারা ছিল মার্যনীয় অথবা তার ক্ষোভ তাদের প্রতি স্থায়ী হয় নি, বরং সাথে সাথে তা দূর হয়ে গেছে। এটি তার উত্তম চরিত্র ও সাহাবীদের প্রতি নমনীয়তার বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র
صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 هـ _ 2006 م.
توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م.
فتح ذي الجلال والإكرام، شرح بلوغ المرام، تأليف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين، الناشر: المكتبة الإسلامية، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة.
المنهاج شرح صحيح مسلم، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي، الطبعة: الثانية 1392هـ.
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، تأليف: علي بن سلطان القاري، الناشر: دار الفكر، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
عون المعبود شرح سنن أبي داود، تأليف: محمد شمس الحق العظيم آبادي، الناشر: دار الكتب العلمية، الطبعة: الثانية، 1415هـ.
شرح سنن أبي داود، تأليف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن العباد، نسخة الإلكترونية.
عن أُمِّ عَطِيَّةَ رَضي الله عنها، وكَانَتْ بايَعَت النبيَّ صلى الله عليه وسلم، قالت: كُنَّا لا نَعُدّ الكُدرَةَ والصُّفْرَةَ بعدَ الطُّهرِ شيئًا.
উম্মে আতিয়্যা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: “আমরা(মাসিক স্রাব থেকে) পবিত্র হওয়ার পর হলদে ও মেটে বর্ণের স্রাবকে কিছুই গণ্য করতাম না।”
আবূ দাউদ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারীও বর্ণনা করেছেন, তবে (بعد الطهر) শব্দ ব্যতীত।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মহিলা সাহাবি উম্মু আতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে নারীরা হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর যে পানি যোনিপথ থেকে বের হয়-যার রং কালচে বা হলুদাভ-তাকে হায়েয (ঋতুস্রাব) হিসেবে গণ্য করত না। তাই তারা এই পানির কারণে সালাত বা সাওম ছেড়ে দিত না।
শিক্ষা
হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর নারীর যোনিপথ থেকে বের হওয়া পানি, তা যদি ঘোলাটে বা হলুদাভও হয়, তবুও তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না।
হায়েযের সময় বা ঋতুচক্রের সময় বের হওয়া ঘোলাটে বা হলুদাভ হায়েয হিসেবে গণ্য হবে, কারণ এটি নির্ধারিত সময়েরই রক্ত যদি পানি মিশ্রিত না হয় ।
হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পর ঘোলাটে বা হলুদাভ পানি বের হলে নারী সালাত বা সাওম ছেড়ে দেবে না; বরং সে অযু করে সালাত পড়বে এবং সাওম পালন করবে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 72) (326).
سنن أبي داود (1/ 226) (307).
توضيح الأحكام، للبسام (1/ 450).
سُبل السلام، للصنعاني (1/ 153).
এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com