মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ ও অভিযানসমূহ

১৬টি হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠান। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সাথে বের হলেন।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: «بعث رسولُ الله صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً إلَى نَجْدٍ فخرجَت فِيهَا، فَأَصَبْنَا إبِلاً وَغَنَماً، فبلغتْ سُهْمَانُنَا اثْنَيْ عَشَرَ بَعِيراً، وَنَفَّلَنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم بَعِيراً بَعِيراً».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠান। আমি তাদের সাথে বের হলাম। আমরা উট ও ছাগল লাভ করলাম। ফলে আমাদের অংশগুলো বারোটি উট পর্যন্ত পৌঁছল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি একটি উট অতিরিক্ত দান করলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা জানান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে একটি সৈন্য দলে নাজদের দিকে পাঠান। তারা অনেকগুলো উট ও ছাগল গণীমত হিসেবে লাভ করল। ফলে তারা প্রত্যেকের ভাগে বারোটি করে উট পেল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এর ওপর একটি করে উট তাদের অংশের ওপর অতিরিক্ত দান করলেন।

সূত্র

عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، ط2، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، 1408هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ. صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، 1423هـ. تأسيس الأحكام، للنجمي، ط2، دار علماء السلف، 1414هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وصنع فهارسه: محمد صبحي بن حسن حلاق، ط10، مكتبة الصحابة، الإمارات - مكتبة التابعين، القاهرة، 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আমাকে উপস্থিত করা হলো, তখন আমি চৌদ্দ বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (জিহাদে শরীক হতে) অনুমতি দেন নি।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: «عُرِضْتُ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم يوم أُحُدٍ، وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ؛ فَلَمْ يُجِزْنِي، وعرضت عليه يوم الخندق، وأنا ابنُ خَمْسَ عَشْرَةَ فَأَجَازَنِي».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমাকে উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থিত করা হলো, তখন আমি চৌদ্দ বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (জিহাদে শরীক হতে) অনুমতি দেন নি। পরে খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাকে তাঁর সামনে পেশ করা হয়। তখন আমি পনের বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (যুদ্ধে যোগদানের) অনুমতি দেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিয়েছেন যে, তাকে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে — আমীরের সামনে বাছাইয়ের জন্য সৈন্য উপস্থিত করার ন্যায়—উপস্থিত করা হয়েছিলো। এ ঘটনাটি ছিলো তৃতীয় হিজরীতে যখন তার বয়স ছিলো চৌদ্দ বছর। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প বয়সের কারণে তাকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন নি। অতপর পঞ্চম হিজরীতে খন্দকের যুদ্ধের দিন তাকে আবার তাঁর সামনে পেশ করা হলো। তখন তিনি পনের বছরের ছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যুদ্ধে যোগদানের অনুমতি দেন। সম্ভবত তিনি অহুদের যুদ্ধের সময় চৌদ্দ বছরের শুরুর দিকে ছিলেন আর খন্দকের যুদ্ধের সময় পনেরো বছরের শেষের দিকে ছিলেন।

সূত্র

- صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. - صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. - تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار المنهاج، الطبعة: 1427هـ. - مرقاة المفاتيح، علي بن سلطان القاري، دار الفكر، بيروت، لبنان، الطبعة: الأولى 1422هـ، 2002م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

উহুদের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আমার স্থান কোথায় হবে বলুন? তিনি বললেন, জান্নাতে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم يومَ أُحُدٍ: أَرَأَيْتَ إن قُتِلْتُ فَأَيْنَ أَنَا؟ قال: «في الجَنَّةِ» فأَلْقَى تَمراتٍ كُنَّ في يَدِه، ثم قاتل حتى قُتِلَ.
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, উহুদের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আমার স্থান কোথায় হবে বলুন? তিনি বলেন, জান্নাতে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দিচ্ছেন, উমায়ের ইবন হুমাম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নামে এক লোক উহুদ যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে যাই, অর্থাৎ এ যুদ্ধে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি ও শহীদ হয়ে যাই আমার পরিণতি কী হবে? তিনি বললেন, তুমি জান্নাতে যাবে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে বলল, এ খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত যদি জীবিত থাকি, তাহলে তা অনেক দীর্ঘ জীবন। অত:পর তিনি অগ্রসর হলেন ও যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন-রাদিয়াল্লাহু আনহু-

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. - صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ - تطريز رياض الصالحين؛ تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبد العزيز آل حمد، دار العاصمة-الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ. - فتح الباري لابن حجر العسقلاني، دار المعرفة، 1379.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহর কসম! তোমার দ্বারা যদি আল্লাহ একটি লোককেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উট অপেক্ষাও উত্তম হবে।”

عَنْ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ: «لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلًا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ، يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ»، قَالَ: فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّهُمْ يَرْجُو أَنْ يُعْطَاهَا، فَقَالَ: «أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ؟» فَقِيلَ: هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ، قَالَ: «فَأَرْسِلُوا إِلَيْهِ»، فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ، فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ، فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا؟ فَقَالَ: «انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ، وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِيهِ، فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا، خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ».
সাহল ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার দিবসে বলেন: অবশ্যই আগামীকাল আমি এই পতাকা এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ তা’আলা বিজয় দান করবেন, যে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন। রাবী বলেন: মানুষেরা সারারাত চিন্তার মধ্যে কাটালো যে, কাকে সেটি দেওয়া হবে। ভোর হতেই লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে উপস্থিত হলো। তারা প্রত্যেকেই আশা করছিলেন যে, পতাকা তাকেই দেওয়া হবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব কোথায়? বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল! তার চোখে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন: তার কাছে কাউকে পাঠাও। অতপর আলী রদিয়াল্লাহু আনহুকে আনা হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দু’চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন। তাতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তার চোখে কোন ধরণের রোগই ছিল না।অতপর তিনি পতাকাটি তার হাতে প্রদান করলেন। পতাকা হাতে নিয়ে ’আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! শত্রুদের বিরুদ্ধে আমি কি সেই অবধি যুদ্ধ করে যাব যে পর্যন্ত না তারা আমাদের মত হয়ে যায়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি ধীরে-সুস্থে চল, যতক্ষণ না তুমি তাদের অঙ্গনে পৌঁছুবে, তারপরে সর্বপ্রথম তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবে এবং তাদের উপরে আল্লাহ যা আবশ্যক করেছেন, তা সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করবে। আল্লাহর কসম! তোমার দ্বারা যদি আল্লাহ একটি লোককেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উট অপেক্ষাও উত্তম হবে।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরের দিন খায়বারের ইহুদীদের উপর মুসলমানদের বিজয়ের বিষয়ে সাহাবীদের অবহিত করেছিলেন, আর তা এভাবে যে, একজন ব্যক্তির হাতে পতাকা দেওয়া হবে, এটি হচ্ছে এমন পতাকা যা কোন সেনাবাহিনী তার নিজস্ব প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে। এ ব্যক্তির বিশেষ বৈশিষ্টে্যর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে সে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসে। সুতরাং সাহাবারা তাদের পুরো রাত ব্যাপী চিন্তা-ভাবনা ও আলোচনা করে কাটালেন যে, কাকে পতাকা দেওয়া হবে? কারণ তারা সকলেই এ মর্যাদাটির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। যখনই সকাল হল, তারা সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন, আর তারা প্রত্যেকেই মনে মনে এ মর্যাদাটি পেয়ে কৃতকার্য হওয়ার আশা করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবী ত্বালিব রদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বলা হল: তিনি অসুস্থ, তার দুই চোখ রোগে আক্রান্ত। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে লোক পাঠালেন, তারা তাকে সাথে নিয়ে আসলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর দুই চোখে তার থুথু/লালা নিয়ে লাগিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দু‘আ করলেন, তখন তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে, তার চোখে কখনো ব্যাথ্যাই হয়নি। তারপরে তিনি তার হাতে পতাকা তুলে দিলেন। এরপরে তিনি তাকে নসীহত করলেন যে, শত্রুর দূর্গের কাছাকাছি যাওয়া পর্যন্ত ধীরে সুস্থে যেতে হবে এবং সেখানে যেয়ে তাদেরকে ইসলামে প্রবেশের দাও‘আত দিতে হবে, যদি তারা সাড়া দেয় তাহলে তাদেরকে ফরয বিধানগুলি সম্পর্কে অবহিত করবে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার ফযীলত ব্যাখ্যা করলেন যে, একজন দায়ী (দীন প্রচারক) যদি একজন মানুষের হিদায়াতের কারণ হয়, তবে সেটা তার কাছে লাল উট থাকার চেয়ে উত্তম। লাল উট হচ্ছে আরবদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ,যার মালিকানা লাভ করা অথবা এটিকে দান করে দেওয়া।

শিক্ষা
  1. হাদীসে আলী ইবনু আবী ত্বালিব রদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত বর্ণিত হয়েছে এবং আলীর জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, আলী আল্লাহ এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ এবং তাঁর রসূলও তাকে ভালোবাসেন।
  2. নেক কাজ করার ক্ষেত্রে সাহাবাদের আগ্রহ এবং সেদিকে তাদের পারষ্পারিক প্রতিযোগিতার বর্ণনা।
  3. যুদ্ধের সময়েও শিষ্টাচার বজায় রাখার বৈধতা, বেপরোয়া কার্যক্রম এবং অপ্রয়োজনীয় বিরক্তিকর শব্দ পরিত্যাগ করা।
  4. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের প্রমাণসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: ইহুদীদের বিরুদ্ধে বিজয়ের সুসংবাদ দেওয়া এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আলী ইবনু আবী ত্বালিবের দুই চোখ তার হাতে সুস্থ হওয়া।
  5. জিহাদের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের ইসলামে প্রবেশ করা।
  6. দাও‘আতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক, সুতরাং একজন কাফিরের কাছে আগে ইসলাম গ্রহণের কথা বলতে হবে দুটি সাক্ষ্য উচ্চারণ করার মাধ্যমে এরপরে ইসলামের ফরজ বিষয়সমূহ সম্পর্কে তাকে আদেশ করতে হবে।
  7. ইসলামের প্রতি দাও‘আতের ফযীলত এবং এতে দাও‘আত প্রদানকারী এবং দাও‘আত গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্য যে কল্যাণ রয়েছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দাও‘আত যাকে দেওয়া হয়, কখনো কখনো হিদায়াতের পথ পেয়ে যায় আর দায়ীর জন্য অনেক বড় পুরষ্কার বরাদ্দ করা হয়।
সূত্র

صحيح البخاري (5/ 134) (4210). صحيح مسلم (4/ 1872) (2406). فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، (ص88). القول المفيد على كتاب التوحيد، (1/ 134). الملخص في شرح كتاب التوحيد، (ص57). الجديد في شرح كتاب التوحيد، (ص67). التمهيد لشرح كتاب التوحيد، (ص59).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনও ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে ‘আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما «أنَّ عمر بن الخَطَاب رضي الله عنه جاء يَومَ الخَندَقِ بَعدَ مَا غَرَبَت الشَّمسُ فَجَعَل يَسُبُّ كُفَّار قُرَيشٍ، وقال: يا رسول الله، مَا كِدتُّ أُصَلِّي العَصرَ حَتَّى كَادَت الشَّمسُ تَغرُبُ، فَقَال النَبِيُّ صلى الله عليه وسلم : والله مَا صَلَّيتُهَا، قال: فَقُمنَا إلَى بُطحَان، فَتَوَضَّأ للصَّلاَة، وتَوَضَأنَا لَهَا، فَصَلَّى العَصر بعد مَا غَرَبَت الشَّمسُ، ثُمَّ صَلَّى بعدَها المَغرِب».
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনও ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে ‘আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলের নিকট আসেন যে অবস্থায় তিনি কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে ছিলেন। কারণ, তারা তাকে ‘আসরের সালাত আদায় করতে দেয়নি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর শপথ করলেন অথচ তিনি পরম সত্যবাদী! তিনি এখনও সালাত আদায় করেনি যাতে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যে কারণে কষ্ট পাচ্ছিত সে বিষয়ে সে তৃপ্তি পায়। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং সাহাবীগণও তার সাথে উযূ করলেন; অতঃপর সূর্য ডুবে যাওয়ার পর ‘আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর আসরের সালাতের পর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।

সূত্র

الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى، 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الإمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة، 1426هـ. تنبيه الأفهام شرح عمدة الأحكام، محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة، الإمارات، الطبعة: الأولى، 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم، لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية، 1408هـ. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

সে অল্প আমল করে বেশি পুরস্কার পেলো।

عن البراء رضي الله عنه قال: أتَى النبي صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مُقَنَّعٌ بالحَديد، فقال: يا رسول الله، أُقَاتِلُ أَوْ أُسْلِمُ؟ قال: «أَسْلِم، ثم قَاتل»، فأسْلَم ثم قاتل فَقُتِل. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «عَمِل قليلاً وأُجر كثيراً».
আল-বারা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লৌহ বর্মে আবৃত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবো, না ইসলাম গ্রহণ করবো? তিনি বললেন, ‘ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর যুদ্ধে যাও।’ অতঃপর সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে যুদ্ধে গেল এবং শহীদ হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে অল্প আমল করে বেশি পুরস্কার পেলো।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জিহাদে শরীক হতে লৌহ বর্মে আবৃত হয়ে তাঁর কাছে আসল। সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। অতঃপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আগে জিহাদ করবো অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করবো? নাকি আগে ইসলাম গ্রহণ করব অতঃপর জিহাদ করবো? তিনি তাকে বললেন, “ইসলাম গ্রহণ করো, তারপর যুদ্ধে যাও।” সে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর জিহাদে গিয়ে তুমুল যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে গেলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে অল্প আমল করে বেশি পুরস্কার পেলো।” অর্থাৎ তার ইসলাম গ্রহণের সময় হিসেবে। তার ইসলাম গ্রহণ ও শহীদ হওয়ার মাঝে অত্যন্ত নগণ্য ব্যবধান ছিলো। এতদসত্ত্বেও তার সাওয়াব ছিলো অনেক। কেননা আল্লাহর দীনকে বুলন্দ করতে তাঁর পথে জিহাদ সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ আমল ও সর্বোচ্চ সাওয়াবের কাজ।

সূত্র

- رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه. - صحيح البخاري -للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم بن عيد الهلالي،دارابن الجوزي- الطبعة الأولى1418ه. - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشرة، 1407هـ. - شرح رياض الصالحين؛ للشيخ محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. - كنوز رياض الصالحين»، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى1430ه. -شرح صحيح البخارى لابن بطال الأندلسي،تحقيق: أبو تميم ياسر بن إبراهيم مكتبة الرشد - السعودية، الرياض الطبعة: الثانية، 1423هـ - 2003م. -التَّنويرُ شَرْحُ الجَامِع الصَّغِيرِ محمد بن إسماعيل الصنعاني، المحقق: د. محمَّد إسحاق محمَّد إبراهيم مكتبة دار السلام، الرياض -الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল।

عن أبي موسى رضي الله عنه قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاة ونحن سِتَّةُ نَفَرٍ بَيننا بعيرٌ نَعْتَقِبُهُ، فَنَقِبَتْ أقدامُنا وَنَقِبَت قَدَمِي، وسَقطت أَظْفَارِي، فكنَّا نَلُفُّ على أَرْجُلِنَا الْخِرَقَ ، فَسُمِّيَت غَزْوَة ذَاتُ الرِّقَاع لما كنَّا نَعْصِب على أرجُلنا من الخِرق، قال أبو بردة: فحدث أبو موسى بهذا الحديث، ثم كره ذلك، وقال: ما كنت أصنع بأن أَذْكُرَه! قال: كأنه كره أن يكون شيئا من عمله أفْشَاه.
আবূ মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, নখগুলো খসে পড়ল। এ কারণে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া জড়িয়ে বাঁধলাম। এ জন্য এ যুদ্ধকে যাতুর রিকা‘ যুদ্ধ বলা হয়। কেননা আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্টি বেঁধেছিলাম। আবু বুরদাহ বলেন, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেন। তিনি বলেন, আমি এভাবে বর্ণনা করাকে ভালো মনে করি না। সম্ভবত তিনি তার কোনো আমল প্রকাশ করাকে অপছন্দ করতেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসের অর্থ: আবূ মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক যুদ্ধে বের হলেন। তাঁর সাথে তাঁর কয়েকজন সাহাবী ছিলেন। তাদের সংখ্যা ছিল ছয়জন। কিন্তু তাদের সাথে মাত্র একটি উট ছিল। ফলে তারা পালাক্রমে তাতে আরোহণ করল। তাদের কেউ কিছুদূর আরোহণ করে যেতেন। তারপর তার পালা শেষ হলে অন্য আরেকজন আরোহণ করতেন। এভাবে তারা পালাক্রমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উদ্দিষ্ট স্থানে পৌঁছলেন। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, ফলে আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল, মরুভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে আমার নখগুলো খসে পড়ল। তাদের কাছে পা বাঁধার কিছু ছিল না। তারা খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এতে তাদের বিশাল সমস্যা হয়ে যায়। এতো কষ্ট সত্ত্বেও তারা শত্রুর মোকাবিলা করতে পথচলা বন্ধ করেন নি। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া পেঁচালাম। তার এ কথা প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ও মরুভূমির শক্ত পথের কারণে তাদের জুতা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তারা মরুভূমির শক্ত মাটি ও উষ্ণতা থেকে রক্ষা পেতে তাদের পায়ে নেকড়া পেঁচিয়েছিল। ফলে এ যুদ্ধকে ‘যাতুর রিকা‘’ যুদ্ধ বলা হয়। কেননা এতে আমরা আমাদের পায়ে নেকড়া দ্বারা পট্টি বেঁধেছিলাম। অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এ যুদ্ধকে পরবর্তীতে ‘যাতুর রিকা‘’ বলা হয়। এ ঘটনা এ যুদ্ধের নামকরণের একটি কারণ। আবূ বুরদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এ হাদীস বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি এ ঘটনা উল্লেখ করতে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, আমি এ ঘটনা উল্লেখ করে কি করব? আবু বুরদাহ বলেন, মনে হয় তিনি যেন তার আমলের কোনো কিছু মানুষের কাছে প্রকাশ করা অপছন্দ করেছেন। এ হাদীসের অর্থ হলো, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এ ঘটনা উল্লেখ করার পরে আকাঙ্খা করতেন যে, তিনি যদি এ হাদীসটিি আদতেই বর্ণনা না করতেন; কারণ এতে নিজের প্রশংসা রয়েছে। তাছাড়া সৎ আমল প্রকাশের চেয়ে গোপন রাখা অধিক উত্তম, তবে হ্যাঁ এতে যদি সর্বসাধারণের জন্য বিশেষে কোনো উপকারিতা থাকে যেমন কেউ এ আমল দেখে অনুসরণ করল, তখন ভিন্ন কথা। অন্য হাদীসে এসেছে, কেউ দান করে এমনভাবে গোপন করল যেন তার ডান হাত যা দান করেছে তা তার বাম হাতও জানলো না। মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، تأليف: حمد بن ناصر بن العمار، الناشر: دار كنوز أشبيليا، الطبعة الأولى، 1430هـ. بهجة الناظرين، تأليف: سليم بن عيد الهلالي، نسخة الكترونية، لا يوجد بها بيانات نشر. نزهة المتقين، تأليف: جمعٌ من المشايخ، الناشر: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى، 1397ه. صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ. صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت. فتح الباري شرح صحيح البخاري، تأليف: أحمد بن علي بن حجر، رقمه وبوب أحاديث: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار المعرفة، بيروت، 1379هـ. رياض الصالحين، تأليف: محيي الدين يحيى بن شرف النووي، تحقيق: د. ماهر بن ياسين الفحل، الطبعة الأولى، 1428هـ. تطريز رياض الصالحين، تأليف فيصل آل مبارك، تحقيق د. عبد العزيز آل حمد، دار العاصمة، الرياض، الطبعة الأولى، 1423هـ. - دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد بن علان الشافعي، تحقيق خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، الطبعة الرابعة، 1425ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আল্লাহ তাআলা মূসার উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।”

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: لما كان يوم حُنين آثر رسول الله صلى الله عليه وسلم ناسًا في القِسْمَة، فأعطى الأَقْرَع بن حَابِس مئة من الإبل، وأعطى عُيينة بن حِصن مثل ذلك، وأعطى نَاسًا من أشراف العَرب وآثَرَهُم يومئذ في القِسْمَة. فقال رجل: والله إن هذه قِسْمَة ما عُدل فيها، وما أُريد فيها وجه الله، فقلت: والله لأُخبرن رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتيته فأخبرته بما قال، فتغير وجهه حتى كان كالصِّرفِ. ثم قال: «فمن يَعْدِل إذا لم يعدل الله ورسوله؟» ثم قال: «يَرحم الله موسى، قد أُوذي بأكثر من هذا فصبر». فقلت: لا جَرم لا أرفع إليه بعدها حديثًا.
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বন্টনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে প্রাধান্য দিলেন। তিনি আকরা বিন হাবেসকে একশত উঁট দিলেন এবং উয়াইনা বিন হিসনকেও তার অনুরূপ দিলেন। অনুরূপ আরবের আরো কিছু সম্ভ্রান্ত মানুষকেও সেদিন দিলেন এবং গনিমতের সম্পদ বণ্টনে তাদেরকে অন্যদের উপর প্রাধান্য দিলেন। এক লোক তখন বলল, আল্লাহর কসম! এই বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কামনা করা হয়নি! ইবনে মাসউদ বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এই সংবাদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেবো। অতএব আমি তাঁর কাছে এসে কথাটি জানিয়ে দিলাম। ফলে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে লালবর্ণধারণ করলো। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি ইনসাফ না করেন, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।অবশেষে আমি মনে মনে বললাম যে, আমি এর পরে কোনো কথা তাঁর কাছে পৌঁছাবো না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা হুনাইনের যুদ্ধে অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের পর তায়েফের যুদ্ধে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং তাদের থেকে প্রচুর পরিমাণ উট, ছাগল, দিরহাম ও দীনার গণীমত লাভ করেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জি‘রানায় অবতরণ করেন। এটি হলো তায়েফের দিক থেকে হারামের সীমানার শেষ প্রান্তে একটি জায়গা। সেখানে অবতরণ করে এ যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গণীমতের মাল বন্টন করেন। তিনি আকরা বিন হাবেস এবং উয়াইনা বিন হিসনকে একশটি করে উট প্রদান করেন। এ ছাড়াও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে আরবের সম্ভ্রান্ত কিছু লোককেও গণীমত প্রদান করেন। এ অনুদান ও সম্পদ পাওয়ার কারণে যখন তাদের ইসলাম সুন্দর হলো তখন তাদের পথ ধরে তাদের অনুসারীরাও ইসলাম গ্রহণ করলো। তাতে ইসলামের শক্তি ও সম্মান অর্জিত হলো। আর যারা ঈমানে শক্তিশালী ছিল তাদের নিকট ঈমানের মতো সম্পদ থাকার কারণে অনুদান থেকে তাদের বিরত রাখলেন। বিভিন্ন গোত্রের সরদার ও সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে গণীমত বন্টন করা ও কতককে না দেওয়ার বিষয়ে রাসূলের অবস্থা দেখে এক লোক বলল, আল্লাহর কসম! এ বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে দৌঁড়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলেন। সে পূর্বে শপথ করেছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে তাকে বিষয়টি অবহিত করবে। যখন বিষয়টি তাকে জানানো হলো, তিনি কঠিন ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে খাঁটি লালবর্ণ ধারণ করলো। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসূল যদি ইনসাফ না করেন তবে কে ইনসাফ করবে? তার কথাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি একথা বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসার উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসূলের অবস্থা অবলোকন করেন তখন তিনি মনে মনে বললেন, যখন এসব লোকের থেকে এ ধরণের অপছন্দনীয় কথা শুনবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার সংবাদ দেব না। কেননা তিনি এর কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় প্রচন্ড রাগের আলামত প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বিশেষ করে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইসলামের উপর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকবে, তখন এ জাতীয় কথা তাঁকে না শুনানোর প্রতিজ্ঞা করলেন।

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، كنوز إشبيليا، الرياض، الطبعة: الأولى 1430هـ، 2009م. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1418 هـ، 1997م. تطريز رياض الصالحين، فيصل بن عبد العزيز المبارك، تحقيق: عبد العزيز بن عبد الله آل حمد، دار العاصمة للنشر والتوزيع، الرياض، الطبعة: الأولى 1423هـ، 2002م. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الطبعة الأولى. شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ. دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، محمد علي بن البكري بن علان، نشر دار الكتاب العربي، لم أقف على رقم الطبعة. رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ، 2007م. صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت،الطبعة: لا يوجد بيان لرقم الطبعة، 1423هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
১৬টির মধ্যে ৮
১৬টি হাদীস
  1. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠান। ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সাথে বের হলেন।
  2. উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আমাকে উপস্থিত করা হলো, তখন আমি চৌদ্দ বছরের তরুণ। তিনি আমাকে (জিহাদে শরীক হতে) অনুমতি দেন নি।
  3. উহুদের দিন এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আমার স্থান কোথায় হবে বলুন? তিনি বললেন, জান্নাতে। তারপর সে তার হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।
  4. আল্লাহর কসম! তোমার দ্বারা যদি আল্লাহ একটি লোককেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উট অপেক্ষাও উত্তম হবে।”
  5. হে আল্লাহর রাসূল! আমি এখনও ‘আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাতের জন্য উযূ করলেন এবং আমরাও উযূ করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে ‘আসরের সালাত আদায় করেন, তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।
  6. সে অল্প আমল করে বেশি পুরস্কার পেলো।
  7. এক যুদ্ধে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। আমাদের একটি মাত্র উট ছিল। পালাক্রমে আমরা এর পিঠে আরোহণ করতাম। (হেঁটে হেঁটে) আমাদের পা ফেটে যায়। আমার পা দু’খানাও ফেটে গেল।
  8. আল্লাহ তাআলা মূসার উপর রহম করুন। তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।”
  9. হে সা‘দ ইবন মু‘আয! কা‘বার রবের কসম, উহুদের দিক থেকে আমি নিশ্চিতভাবে জান্নাতের সুগন্ধ পাচ্ছি।
  10. যদি আমি এগুলো খাওয়া পর্যন্ত জীবিত থাকি, তবে এটাই তো দীর্ঘ হায়াত হবে (এত দেরি সহ্য হবে না), তাই সে তাঁর কাছে যত খেজুর ছিল, সব ফেলে দিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন, অবশেষে শহীদ হলেন।
  11. মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কায়) প্রবেশ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবন খাতাল কা‘বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেন, তাকে তোমরা হত্যা কর।
  12. তাবুকের যুদ্ধের সময়ে লোকেরা ক্ষুধায় আক্রান্ত হলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যবেহ করে তার গোশত খাই এবং আর চর্বি ব্যবহার করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তা করো।
  13. তা তো রিযিক, তা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য বের করেছেন, আমাদেরকে খাওয়ানোর মতো তোমাদের কাছে তার কিছু মাংস আছে কি?” আমরা তাঁর নিকট কিছু মাংস পাঠালাম, সুতরাং তিনি তা ভক্ষণ করলেন।
  14. আমরা ছোট শিশুদের সাথে (মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত) ‘সানিয়াতুল ওদা‘’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম।
  15. তাকে ফিরিশতাগণ নিজেদের ডানা দিয়ে সর্বদা ছায়া দান করছিল।
  16. “যদি তারা আগুনে ঝাঁপ দিত,তাহলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আর এ আগুন থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য (করতে হবে) কেবল সৎ কাজের”।

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com