عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أَنَّ عمرَ رضي الله عنه حِينَ تَأَيَّمَت بِنتُهُ حَفصَة، قَالَ: لَقِيتُ عثمانَ بن عفان رضي الله عنه فَعَرَضتُ عَلَيه حَفصَة، فَقُلتُ: إِنْ شِئْتَ أَنكَحْتُكَ حَفصَةَ بِنتَ عُمَر؟ قَال: سَأَنظُر فِي أَمْرِي، فَلَبِثتُ لَيَالِيَ ثُمَّ لَقِيَنِي، فَقَال: قَدْ بَدَا لِي أَنْ لاَ أَتَزَوَّجَ يَومِي هَذَا، فَلَقِيتُ أَبَا بَكر رضي الله عنه فقُلتُ: إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفصَةَ بِنتَ عُمَرَ، فَصَمَتَ أَبُو بَكر رضي الله عنه فَلَم يَرجِعْ إِلَيَّ شَيئًا! فَكُنْتُ عَلَيهِ أَوْجَدَ مِنِّي عَلَى عُثمَانَ، فَلَبِثَ لَيَالِيَ ثُمَّ خَطَبَهَا النَّبِي -صلَّى الله عليه وسلَّم- فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكر، فقَال: لَعَلَّكَ وَجَدتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفصَةَ فَلَمْ أرْجِع إِلَيكَ شَيئًا؟ فَقُلتُ: نَعَم، قَالَ: فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أرْجِع إِلَيكَ فِيمَا عَرَضتَ عَلَيَّ إِلاَّ أَنِّي كُنتُ عَلِمْتُ أَنَّ النبِيَّ -صلَّى الله عليه وسلَّم- ذَكَرَهَا، فَلَم أَكُن لِأُفْشِي سِرَّ رسُولَ الله -صلَّى الله عليه وسلَّم- وَلَو تَرَكَهَا النبيُّ -صلَّى الله عليه وسلم- لَقَبِلتُهَا.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, যখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর কন্যা হাফসা বিধবা হলেন, তখন তিনি বললেন যে, আমি উসমান ইবনে আফ্ফান-রাদিয়াল্লাহু আনু-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং হাফসাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়ে তাঁকে বললাম, ‘আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বিবাহ আমি উমারের কন্যা হাফসার সাথে দিয়ে দিচ্ছি?’ তিনি বললেন, ‘আমি আমার (এ) ব্যাপারে বিবেচনা করব।’ সুতরাং আমি কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আমার এখন বিয়ে না করাটাই ভাল মনে করছি।’ (উমার বলেন,) অতঃপর আমি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে দেখা ক’রে বললাম, ‘যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি আপনার বিবাহ হাফসার সাথে দিয়ে দিই।’ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। সুতরাং আমি উসমান অপেক্ষা তাঁর প্রতি বেশী দুঃখিত হলাম। তারপর কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাকে বিবাহের পায়গাম দিলেন। ফলে আমি হাফসার বিবাহ তাঁর সাথেই দিয়ে দিলাম। তারপর আবূ বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আপনি আমাকে হাফসাকে বিবাহ করার দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং আমি কোন উত্তর দিইনি। সেজন্য হয়তো আপনি আমার উপর দুঃখিত হয়েছেন? আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আমার আপনাকে উত্তর না দেওয়ার কারণ এই ছিল যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বিবাহ করার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। সুতরাং আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলাম না। যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বর্জন করতেন, তাহলে নিশ্চয়ই আমি তাকে গ্রহণ করতাম।’
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
হাদীসটিতে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দেন যে, উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর কন্যা হাফসা খুনাইস ইবন হুযাফাহ সাহমী থেকে বিধবা হন। যিনি আব্দুল্লাহ ইবন হুযাইফার ভাই, রাসূলের একজন সাহাবী ছিলেন। মদীনায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যু ছিল উহুদে আক্রান্ত একটি আঘাতে। এ ছাড়াও তিনি ইসলামে প্রবেশকারীদের প্রথম সারিতে ছিলেন এবং হাবশায় হিজরত করেন।
উমার বলেন, “আমি উসমান ইবনে আফ্ফানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম”। অর্থাৎ তার স্ত্রী রুকাইয়া বিনত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর।
উমার বলেন, “আমি তার নিকট হাফসাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিলাম”। এতে প্রমাণিত হয় একজন মানুষ তার নিজের মেয়েকে ভালো ও যোগ্য ব্যক্তির কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারবে তাতে কোন দুর্বলতা বা ক্ষতি নাই। যেমনটি এ দ্বারা ইমাম বুখারী শিরোনাম করেছেন।
উমার বলেন, “আমি বললাম ‘আপনি ইচ্ছা করলে আপনার বিবাহ আমি উমারের কন্যা হাফসার সাথে দিয়ে দিচ্ছি?” তিনি কথাটি শর্তের বাক্য দ্বারা ব্যক্ত করলেন। আর এ পদ্ধতি গ্রহণ করার কারণ হলো যাতে সম্বোধিত ব্যক্তি স্বাধীন থাকে। এটি বর্ণনার সৌন্দর্য ও উৎসাহী করে তুলে এবং গ্রহণ করার প্রতি আগ্রহ যোগায়। তার কন্যাকে তার দিকে নিসবত করার মধ্যে রয়েছে সংক্ষিপ্ততা। যেন তিনি বলেন, অর্থাৎ উমারের মেয়ে। আর তুমি তার অবস্থা জানো এবং তার সৎ সঙ্গ সম্পর্কে তুমি পরিচিত।
তখন উসমানের উত্তর ছিল, ‘আমি আমার (এ) ব্যাপারে বিবেচনা করব।’ অর্থাৎ আমি আমার বিষয়ে চিন্তা করব এখন বিবাহ করব না দেরি করব।
উমার বলেন, সুতরাং আমি কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ ক’রে বললেন, ‘আমার এখন বিয়ে না করাটাই ভাল মনে করছি।’ উসমান এ দ্বারা সাময়িক সময় উদ্দেশ্য নেন। অর্থাৎ এ সময়। এভাবে বলার কারণ হলো যাতে এ ধারণা না হয় যে, তিনি বৈরাগী হওয়া বা নারী থেকে বিরত থাকা যা নিষিদ্ধ এমন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উমার বলেন, অতঃপর আমি আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সাথে দেখা ক’রে বললাম, ‘যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি আপনার বিবাহ হাফসার সাথে দিয়ে দিই।’ আবূ বকর চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। আবূ বকর ইচ্ছা করেই চুপ ছিলেন এবং এমন একটি কারণে চুপ ছিলেন যা চুপ থাকার সাথেই অধিক খাস ছিল।
উমার বললেন, সুতরাং আমি উসমান অপেক্ষা তাঁর প্রতি বেশী দুঃখিত হলাম। কারণ, উসমান থেকে একটি উত্তর পাওয়া গেছে। আর সিদ্দীক কোন উত্তরই দিল না।
তারপর কয়েকটি রাত্রি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাকে বিবাহের পায়গাম দিলেন। ফলে আমি হাফসার বিবাহ তাঁর সাথেই দিয়ে দিলাম। তারপর আবূ বকর আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। অর্থাৎ বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর এবং বাস্তবতা বর্ণনা করার ক্ষতি দূর হওয়ার পর। সিদ্দীক বললেন, নিজের অপারগতা তুলে ধরা এবং ভাইয়ের অন্তরকে খুশি করার জন্য প্রথমে ‘লা‘আল্লাকা’ ‘শব্দ নিয়ে আসলেন। এটি অনুগ্রহের জন্য ব্যবহার হয়। উমারের সুন্দর চরিত্রের ওপর ভরসা করে এ শব্দটি নিয়ে এসেছেন। এ কারণে সে ক্ষুব্ধ হবেন না। কিন্তু তার থেকে ক্ষব্ধ হওয়ার বৈধতা মানবিক স্বভাব অনুযায়ী ছিল। তাই তাকে তা বললেন। সিদ্দীক বললেন, আপনি আমাকে হাফসাকে বিবাহ করার দরখাস্ত দিয়েছিলেন এবং আমি কোন উত্তর দিইনি। সেজন্য হয়তো আপনি আমার উপর দুঃখিত হয়েছেন? তখন উমার বলল, ‘হ্যাঁ।’ এটি উমার থেকে বাস্তবাতা সম্পর্কে খবর দেওয়া এবং সততার প্রতি আমল করা।
তখন আবূ বকর বললেন, ‘আমার আপনাকে উত্তর না দেওয়ার কারণ এই ছিল যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বিবাহ করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন তা আমি জানতাম। অর্থাৎ তাকে বিবাহ করার ইচ্ছা আমার ছিল। হতে পারে হাফসাকে বিবাহের প্রস্তাব বিষয়ে রাসূলের আগ্রহের আলোচনা কেবল সিদ্দীকের উপস্থিতিতে ছিল আর কেউ নয়। তাই তিনি মনে করলেন এটি তার গোপন বিষয় যা প্রকাশ করা বৈধ হবে না। এ কারণে তিনি বলেন, সুতরাং আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন কথা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলাম না। যে গোপন কথাটি আমার কাছে প্রকাশ এবং আলোচনা করেছেন।
যদি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে বর্জন করতেন, তার থেকে বিমুখ হয়ে তাহলে নিশ্চয়ই আমি তাকে গ্রহণ করতাম।’ কারণ, যার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করেছেন তাকে প্রস্তাব দেওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ যে তা জানে। এতে রয়েছে উম্মাতের জন্য এবং প্রতিটি লোকের জন্য শিক্ষা। একজন লোকের জন্য উচিত হলো গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং এ ক্ষেত্রে খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা। আশঙ্কার ক্ষেত্রে কোন প্রকার কথা না বল।
সূত্র
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415هـ.
دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين، لمحمد علي بن محمد بن علان، ط4، اعتنى بها: خليل مأمون شيحا، دار المعرفة، بيروت، 1425هـ.
رياض الصالحين، للنووي، ط1، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، 1428هـ.
كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ.
صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر، ط1، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، 1422هـ.
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها قالت: تُوُفِّيَ رسول الله صلى الله عليه وسلم وما في بيتي من شيء يَأكُلُهُ ذُو كَبدٍ إلا شَطْرُ شَعير في رَفٍّ لي، فأكَلتُ منه حتى طال عليَّ، فَكِلْتُهُ فَفَنِيَ.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় মারা গেলেন যে, একটা প্রাণীর খেয়ে বাঁচার মত কিছু খাদ্য আমার ঘরে ছিল না, তবে আমার তাকের মধ্যে যৎসামান্য যব ছিল। এ থেকে বেশ কিছুদিন খেলাম, কিন্তু যখন মেপে নিলাম তখন তা শেষ হয়ে গেল।’
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জানান যে, ‘রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন, অথচ তার ঘরে সামান্য যব ছাড়া আর কিছুই ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যব রেখে গিয়েছেন তা থেকে বেশ কিছুদিন সে খেতে থাকল, কিন্তু যখন তা ওজন করল, শেষ হয়ে গেল।
সূত্র
كنوز رياض الصالحين، أ.د. حمد بن ناصر بن عبد الرحمن العمار، دار كنوز إشبيليا، الطبعة الأولى: 1430 هـ.
بهجة الناظرين، الشيخ: سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي.
نزهة المتقين، د. مصطفى سعيد الخن، د. مصطفى البغا، محيي الدين مستو، علي الشرجبي، محمد أمين لطفي، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة الأولى: 1397 هـ 1977 م، الطبعة الرابعة عشرة 1407 هـ 1987م.
شرح صحيح البخاري لابن بطال، المؤلف: ابن بطال أبو الحسن علي بن خلف بن عبد الملك، تحقيق: أبو تميم ياسر بن إبراهيم، دار النشر: مكتبة الرشد - السعودية، الرياض، الطبعة: الثانية، 1423هـ - 2003م.
رياض الصالحين، د. ماهر بن ياسين الفحل، الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت، الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م.
صحيح مسلم، المؤلف: مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت.
صحيح البخاري، المؤلف: محمد بن إسماعيل أبو عبدالله البخاري الجعفي، المحقق: محمد زهير بن ناصر الناصر، الناشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422هـ.
المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج، المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي، الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت، الطبعة: الثانية، 1392.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعَنِ الأَسْوَدِ بنِ يَزِيدَ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ -تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ-، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ.
আসওয়াদ ইবনু ইয়াজিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারবর্গের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তিনি কীভাবে আচরণ করতেন? সে বলল: তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ ছিলেন এবং সেও তাই করতেন যা পুরুষরা তাদের বাড়িতে করেন, নিজের এবং পরিবারের সেবা করতেন। সে তার ভেড়ার দুধ দোহন করত, কাপড় সেলাই করত, জুতা সেলাই করত এবং বালতিতে প্যাচ লাগাইত, যখন সালাতের সময় আসত, তখন তিনি বিলম্ব না করে তার জন্য বেরিয়ে যেতেন।
শিক্ষা
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নম্রতার পরিপূর্ণতা এবং তার পরিবারের প্রতি তার দয়া।
- পার্থিব বিষয়গুলো যেন বান্দাকে সালাত থেকে বিচ্যুত না করে।
- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের প্রথম সময়ে তা আদায় করতেন।
- ইবনু হাজার বলেন: এটি নম্রতা, অহংকার ত্যাগ এবং একজন পুরুষকে তার পরিবারের সেবা করতে উৎসাহিত করে।
সূত্র
صحيح البخاري (1/ 136) (676).
بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 660).
شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 526).
شرح صحيح البخاري، لابن بطال (2/ 296).
نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 516).
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: جاء زيدُ بنُ حارثة يشكو، فجعل النبيُّ صلى الله عليه وسلم يقول: «اتَّقِ اللهَ، وأمسِكْ عليك زوجَك»، قال أنس: لو كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم كاتمًا شيئًا لكتم هذه، قال: فكانت زينبُ تَفْخرُ على أزواج النبي صلى الله عليه وسلم تقول: زوَّجَكنَّ أهاليكنَّ، وزوَّجني اللهُ تعالى من فوق سبع سموات، وعن ثابت: {وتُخفي في نفسِك ما اللهُ مُبْدِيهِ وتخشى الناسَ} [الأحزاب: 37]، «نزلت في شأن زينبَ وزيد بن حارثة».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যায়েদ ইবন হারিসাহ অভিযোগ নিয়ে আসলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও। আনাস বলল, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু গোপন করতেন, তবে এ বিষয়টি গোপন করতেন। তিনি বলেন, যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীর ওপর এ বলে অহংকার করতেন যে, তোমাদেরকে বিবাহ দিয়েছেন তোমাদের পরিবার, আর আমাকে সাত আসমানের উপর আমার আল্লাহ বিবাহ দিয়েছেন। আর সাবেত থেকে বর্ণিত, আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ যে বিষয়টি প্রকাশকারী তুমি তা তোমার অন্তরে গোপন করছ।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৭] “যয়নব ও যায়েদ ইবন হারিসাহ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
যায়েদ ইবন হারিসাহ তার স্ত্রী যয়নব বিনতে জাহাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার অভিযোগ নিয়ে রাসূলের কাছে তাকে তালাক দেওয়া বিষয়ে পরামর্শ করতে আসলেন। এদিকে যায়েদের তালাক দেওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন যে, তিনি অচিরেই যয়নবকে বিবাহ করবেন। যখন তিনি তাঁর নিকট অভিযোগ নিয়ে আসলেন এবং তালাকের ব্যাপারে পরার্মশ চাইলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছে রেখে দাও।” তখন তাকে আল্লাহ এ কথাটি “আর স্মরণ কর, আল্লাহ যার ওপর নি‘আমত দিয়েছিলেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলে, তুমি যখন তাকে বলেছিলে ‘তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর’। আর তুমি অন্তরে যা গোপন রাখছ আল্লাহ তা প্রকাশকারী এবং তুমি মানুষকে ভয় করছ অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম।” বলে ভৎসনা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়টি গোপন করতেন, তা হলো মানুষের সমালোচনার ভয়ে তাকে বিবাহ করাকে অপছন্দ করা। কারণ, লোকেরা বলবে সে তার পালক পুত্রবধুকে বিবাহ করেছে। তাঁর বাণী, আনাস বলল, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু গোপন করতেন, তবে এ বিষয়টি গোপন করতেন, অর্থ হচ্ছে: যদি শরঈভাবে নিষিদ্ধ কোনো অসম্ভবকে ধরে নেওয়া হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহীর কোনো অংশকে গোপন করেছেন, তাহলে তিনি এ আয়াতের বর্ণনাকে গোপন করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তা ঘটে নি; বরং শরী‘আতের ক্ষেত্রে এরূপ ঘটা সম্পূর্ণ অসম্ভব। যে ব্যক্তি এ আয়াতের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করবে তার জন্য এ আয়াতটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততার ওপর মহা প্রমাণসমূহের একটি অন্যতম প্রমান হবে। মানুষের ভয়ে তার অন্তরের যে ভয় দেখা দিয়েছিল, আল্লাহ তা জানিয়ে দেন এবং আয়াতটিতে তাঁর ওপর তিরস্কার থাকার পরও তিনি আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবে তা পৌছিয়ে দেন। মিথ্যাবাদীর অবস্থা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। কারণ, যে কর্মে তার অবমূল্যায়ন থাকবে তা বলার থেকে সে বিরত থাকবে। এ ধরনের আরেকটি আয়াত হলো, আল্লাহর বাণী, “ভ্রু-কুঞ্চিত করলেন ও মুখ ফিরিয়ে নিলেন।” আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এ ধরনের দৃষ্টান্ত কুরআনে অনেক রয়েছে। আর তার বাণী: “যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলের অন্যান্য স্ত্রীর ওপর এ বলে অহংকার করতেন” অর্থাৎ যয়নব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হিসাব করতেন যে, রাসূলুল্লাহর সাথে তার বিবাহ আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে। এটি তার জন্য মহা সৌভাগ্য। তার স্ত্রীদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে তার সমকক্ষ নয়। তাই তিনি বলতেন, তোমাদেরকে বিবাহ দিয়েছেন তোমাদের পরিবার, আর আমাকে সাত আসমানের উপর আমার আল্লাহ বিবাহ দিয়েছেন।” হাদীসের এ অংশটুকুর মধ্যে আল্লাহর উপরে হওয়া প্রমাণিত এবং মুমিনদের নিকট বিষয়টি মীমাংশিত। সুতরাং এটি সাধারণ মুসলিমের স্বীকৃত। বরং যাদের স্বভাব বিকৃত তাদের ছাড়া সমগ্র মাখলুকের নিকট এটি স্বীকৃত। এটি এমন একটি সিফাত যা দলীল, প্রমাণ, জ্ঞান ও স্বভাব দ্বারা বিকৃত স্বভাবের অধিকারী ছাড়া প্রতিটি মানুষেরই জানা। আর তার কথা, (আল্লাহ আমাকে বিবাহ দিয়েছেন) এর অর্থ, স্বীয় রাসূলকে এ কথা দ্বারা “অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল” তাকে বিবাহ করার নির্দেশ দেন। আল্লাহ নিজেই তার বিবাহের অভিভাবকত্ব করেন।
সূত্র
صحيح البخاري، نشر: دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى، 1422ه.
شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري، لعبد الله بن محمد الغنيمان، الناشر: مكتبة الدار، المدينة المنورة، الطبعة: الأولى، 1405 هـ.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها قالت: ما غِرْتُ على نساء النبي صلى الله عليه وسلم إلا على خديجة، وإني لم أُدركها، قالت: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا ذبح الشاة، فيقول: «أرسلوا بها إلى أصدقاء خديجة»، قالت: فأغضبتُه يوما، فقلتُ: خديجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «إني قد رُزِقْتُ حُبَّها».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আন্হার প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হতো, ততটা ঈর্ষা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি হতো না, অথচ আমি তাঁকে পায়নি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ছাগল যবাই করতেন, তখন বলতেন এটা খাদীজার বান্ধবীদের নিকট পাঠিয়ে দাও।” একবার আমি তাকে ক্ষুব্ধ করলাম। আমি বললাম,খাদীজা! তখন তিনি বললেন, “আমাকে তার মহব্বত প্রদান করা হয়েছে”।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দেন, খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আন্হার প্রতি তার যতটা ঈর্ষা হতো, ততটা ঈর্ষা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি হতো না, অথচ আয়েশার রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূলের বিবাহ হওয়ার পূর্বের খাদিজা মারা যান। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই ছাগল যবাই করতেন, তখনই তা খাদীজার বান্ধবীদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন। একবার আয়েশা রাসূলুল্লাহকে ক্ষেপালেন এবং তাকে বললেন, সে খাদিজার কথা বেশি বলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ দিলেন “আমাকে তার মহব্বত প্রদান করা হয়েছে”।
সূত্র
صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423 هـ.
إكمال المعلم بفوائد مسلم، عياض بن موسى اليحصبي السبتي، المحقق: يحيى إسماعيل، الناشر: دار الوفاء للطباعة والنشر والتوزيع، مصر، الطبعة: الأولى، 1419هـ، 1998م.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসعن عائشة رضي الله عنها ، قالت: «لم يتزوج النبي صلى الله عليه وسلم على خديجة حتى ماتت».
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা জীবিত থাকাকালীন আর কাউকে বিয়ে করেন নি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা বিনত খুওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা জীবিত থাকাকালীন আর কাউকে বিয়ে করেন নি। এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে খাদিজার মর্যাদা প্রমাণ করে। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী।
সূত্র
صحيح مسلم، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، نشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.
فتح الباري شرح صحيح البخاري، لابن حجر العسقلاني، تحقيق: محب الدين الخطيب، نشر: دار المعرفة-بيروت، 1379ه.
HadeethEnc.com-এ এই হাদীসএখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com