মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার ফযীলত

৩টি হাদীস

আল্লাহ যখনই কোন নবী প্রেরণ করেন এবং কোন খলীফা নির্বাচিত করেন, তখনই তাঁর জন্য দু’জন সঙ্গী নিযুক্ত করে দেন। একজন সঙ্গী তাঁকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর দ্বিতীয়জন সঙ্গী তাঁকে মন্দ কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর রক্ষা পান কেবলমাত্র তিনিই, যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।

عن أبي سعيد الخدري وأبي هريرة رضي الله عنهما مرفوعاً: "ما بعث الله من نبي ولا اسْتَخْلَفَ من خليفة إلا كانت له بطانتان: بطانة تأمره بالمعروف وتَحُضُّهُ عليه، وبطانة تأمره بالشر وتَحُضُّهُ عليه، والمعصوم من عصم الله".
আবূ সা‘ঈদ ও আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ যখনই কোন নবী প্রেরণ করেন এবং কোন খলীফা নির্বাচিত করেন, তখনই তাঁর জন্য দু’জন সঙ্গী নিযুক্ত করে দেন। একজন সঙ্গী তাঁকে ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর দ্বিতীয়জন সঙ্গী তাঁকে মন্দ কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে। আর রক্ষা পান কেবলমাত্র তিনিই, যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী ‘আলাইহিস সালাম বলেছেন যে, আল্লাহ যাকেই নবী হিসাবে প্রেরন করেন এবং খলীফা হিসাবে নিযুক্ত করেন, তার জন্য দু’জন করে (একান্ত) সঙ্গী থাকে। একজন ভালো সঙ্গী যে তাকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয় এবং তাকে তৎপ্রতি অনুপ্রাণিত করে। আর একজন খারাপ সঙ্গী যে তাকে মন্দ কাজের পরামর্শ দেয় এবং তৎপ্রতি উৎসাহিত করে। অকল্যাণকর সঙ্গী থেকে সেই নিষ্পাপ থাকে যাকে আল্লাহ রক্ষা করেন।

সূত্র

صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، سليم بن عيد الهلالي، دار ابن الجوزي، الطبعة: الأولى 1418 هـ، 1997م. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين، مؤسسة الرسالة، بيروت، الطبعة: الرابعة عشر، 1407هـ، 1987م. رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين، أبو زكريا محيي الدين النووي، تحقيق ماهر الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، الطبعة: الأولى 1428هـ، 2007م. شرح رياض الصالحين، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، الرياض، 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“সবচেয়ে মহান জিহাদ হচ্ছে জালিম শাসকের সামনে ন্যায্য কথা বলা”।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِنْ أَعْظَمِ الجِهَادِ كَلِمَةَ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ».
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সবচেয়ে মহান জিহাদ হচ্ছে জালিম শাসকের সামনে ন্যায্য কথা বলা”।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান লি-গাইরিহী
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাস্তায় সবচেয়ে উপকারী ও সবচেয়ে মহান কথা হলো জালিম গভর্নর অথবা জালিম শাসকের সামনে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ কথা বলা। কারণ, এটি হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার নিদর্শন ও আদর্শের ওপর আমল। এটি কথা, লিখা, কর্ম অথবা যে কোনো উপায়ে হতে পারে, যার দ্বারা উপকারী স্বার্থ হাসিল হয় এবং অনিষ্ট দূরীভূত হয়।

শিক্ষা
  1. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা জিহাদের অংশ।
  2. শাসককে উপদেশ প্রদান করা মহান জিহাদের অংশ, তবে সেটি ইলম, হিকমত ও নিশ্চয়তা ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
  3. খাত্তাবী বলেন: এটি সর্বোত্তম জিহাদ। কেননা যে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সে আশা ও ভয়ের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, সে জানে না সে বিজয়ী হবে নাকি পরাজিত হবে। আর ক্ষমতার অধিকারী শাসক তার হাতে পরাস্ত, সে যদি সত্য বলে এবং ন্যায়ের নির্দেশ দেয় তবে সে নিজেকে নিশ্চিত বিপদের সামনে পেশ করল এবং সে নিজেকে ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করল; তাই আশঙ্কার দিকটি বেশি হওয়ার কারণে এটি সেরা জিহাদ। আর কেউ বলেছেন: এটি উত্তম জিহাদ; কারণ শাসক তার কথা মেনে নিলে সুফল বহু সংখ্যক মানুষকে শামিল করবে এবং সবার জন্য সুফল অর্জিত হবে।
সূত্র

سنن الترمذي (4/ 45) (2174). سنن أبي داود (6/ 400) (4344). سنن ابن ماجه (5/ 144) (4011). مسند أحمد (17/ 227) (11143). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 283). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 453). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 216).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

مَثَلُ القَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ وَالوَاقِعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ، فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلاَهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا

عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَثَلُ القَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ وَالوَاقِعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ، فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلاَهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، فَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ المَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ، فَقَالُوا: لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبِنَا خَرْقًا وَلَمْ نُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا، فَإِنْ يَتْرُكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا، وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا، وَنَجَوْا جَمِيعًا».
নু‘মান ইবন বাশির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَثَلُ القَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللَّهِ وَالوَاقِعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ، فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلاَهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، فَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ المَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ، فَقَالُوا: لَوْ أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبِنَا خَرْقًا وَلَمْ نُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا، فَإِنْ يَتْرُكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا، وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا، وَنَجَوْا جَمِيعًا». “আল্লাহর নির্ধারিত সীমা প্রতিষ্ঠাকারী (অর্থাৎ সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে বাধাদানকারী) এবং ঐ সীমা লংঘনকারীর (উক্ত কাজ ত্যাগকারীর) উদাহরণ হলো এমন এক সম্প্রদায়ের মত; যারা একটি (দ্বিতলবিশিষ্ট) জাহাজে লটারি করে উঠেছে। সেখানে কিছু লোকের উপর তলায় এবং কিছু লোকের নিচের তলায় স্থান হল। পানির প্রয়োজনে তাদের নিচের তলার লোকদেরকে উপর তলায় যেতে হতো। (একসময়) নিচের তলার লোকেরা বলল: ‘আমরা যদি আমাদের অংশে (নিচের তলায় কোন স্থানে) ছিদ্র করে নেই তাহলে উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট দেয়ার দরকার হয় না। তখন যদি উপর তলার লোকেরা তাদেরকে নিজ ইচ্ছা ও কর্মের উপর ছেড়ে দেয়, তাহলে সকলেই (পানিতে ডুবে) ধ্বংস হয়ে যায়। আর যদি উপর তলার লোকেরা তাদের হাত ধরে বাধা দেয়, তাহলে তারা নিজেরাও বেঁচে যায় এবং সকলকেই বাঁচিয়ে নেয়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা প্রতিষ্ঠাকারী সৎকাজে আদেশকারী ও অসৎকাজে বাধাদানকারীর একটি উপমা পেশ করেছেন। এবং ঐ সীমা লংঘনকারী যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ না করে তাতে জড়িত হয়ে পড়ে, তাদের একটি উপমা পেশ করেছেন। এর পরিণামেই রয়েছে সকলের নাজাত। এর উদাহরণ হলো এমন এক সম্প্রদায়ের মত; যারা একটি (দ্বিতলবিশিষ্ট) জাহাজে লটারির মাধ্যমে আরোহণ করেছে, সেখানে কিছু লোক উপর তলায় এবং কিছু লোক নিচের তলায় বসলো। পানির প্রয়োজনে তাদের নিচের তলার লোকদের উপর তলায় যেতে হতো। (একসময়) নিচের তলার লোকেরা বলল: ‘আমরা যদি আমাদের নিচের তলার অংশের কোন স্থানে ছিদ্র করে নেই, তাহলে উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট দেয়ার দরকার হয় না। ফলে তখন যদি উপর তলার লোকেরা তাদেরকে নিজ ইচ্ছা ও কর্মের উপর ছেড়ে দেয়, তাহলে সকলেই পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়ে যায়। আর যদি উপর তলার লোকেরা নিচের তলার লোকদেরকে এ কাজ করতে বাধা দেয়, তাহলে তারা উভয় দলই বেঁচে যাবে।

শিক্ষা
  1. সমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে ও পরিত্রাণ পেতে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার গুরুত্ব অপরিসীম।
  2. শিক্ষার একটি পদ্ধতি হলো উদাহরণ পেশ করা, যাতে দৃশ্যমান পদ্ধতিতে বিষয়বস্তুর অর্থ মানুষের মনে গেঁথে যায়।
  3. প্রকাশ্য অন্যায় কাজে যদি কেউ বাঁধা না দেয়, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব সমাজের সকলের উপর পতিত হয়।
  4. যারা অন্যায় কাজ করে, তাদেরকে অন্যায় কাজে বাধা না দিয়ে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অনুমতি দেওয়ার পরিণাম হলো সমাজকে ধ্বংস করা।
  5. ভুল পদ্ধতি আর ভালো নিয়ত, আমল সঠিক হওয়ার জন্যে যথেষ্ট নয়।
  6. মুসলিম সমাজের দায়িত্ব পরস্পর ভাগাভাগি হয়, নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির উপর এককভাবে অর্পিত হয় না।
  7. কোন ব্যক্তির পাপ কাজে বাধা না দিলে এর শাস্তি সমাজের সকলকেই ভোগ করতে হয়।
  8. যারা অন্যায় কাজ করে তারা তাদের অন্যায় কাজকে এমনভাবে প্রকাশ করে যে, তা যেন সমাজের জন্য কল্যাণকর; ঠিক মুনাফিকরা যেভাবে করে থাকে।
সূত্র

صحيح البخاري (3/ 139) (2493). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 277). تطريز رياض الصالحين، لفيصل آل مبارك (ص149). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (2/ 430). كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (4/ 39). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين (1/ 210).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com