মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

“কোন আহবানকারী জান্নাতী লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখস্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُنَادِي مُنَادٍ: إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْأَسُوا أَبَدًا» فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43].
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, “কোন আহবানকারী জান্নাতী লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখস্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহা মহিম আল্লাহর বাণী: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43]. (আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে ’আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।) [সূরা আল আ’রাফ ৪৩] এর ব্যাখ্যা।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে একজন আহবানকারী জান্নাতবাসীদেরকে আহ্বান করবে যখন তারা তাতে স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে: "নিশ্চয়ই তোমরা সুস্থ থাক জান্নাতে কখন অসুস্থ হবে না, রোগের মাত্রা যত সামান্য হক; তোমরা জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না, এমনকি যদি এটি একটি ছোট মৃত্যুও হয়; তোমরা যৌবন থাকবে এতে কখনো বৃদ্ধ হবে না; তোমরা স্বাচ্ছন্দ ভোগ কর কখনো এতে দুঃখিত ও নিরাশ হবে না। এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43]. (আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে ’আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।) [আল আ’রাফ ৪৩]

শিক্ষা
  1. ব্যক্তি যত বেশী প্রাচুর্যে থাক না কেন চারটি জিনিস দুনিয়ার জীবনের সুখ ও স্বাচ্ছন্দকে সংকুচিত করে দেয়: অসুস্থতা, মৃত্যু, বার্ধক্য এবং শত্রু, দারিদ্র, যুদ্ধ ও অন্যান্য ভয়জনিত চিন্তা ও হাতাশা। জান্নাতীরা এসব থেকে নিরাপদ থাকবেন, ফলে তাদের জন্য পরিপূর্ণ নিয়ামত হাসিল হবে।
  2. জান্নাতের নিয়ামত দুনিয়াতে যেসব নিয়ামত রয়েছে তার থেকে ব্যতিক্রম হবে। কারণ জান্নাতের নিয়ামত হল তাতে ভয় থাকবে না, কিন্তু দুনিয়ার নিয়ামত স্থায়ী হয় না এবং তার ওপর বিভিন্ন প্রকার বিপদ ও রোগবালাই আপতিত হয়।
  3. নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করা যার দ্বারা জান্নাতের নিয়ামত পর্যন্ত পৌঁছা যাবে।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2182) (2837). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (3/ 348). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (6/ 732). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (2/ 1292).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com