মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কুরআন পাঠ ও হাফেযে কুরআনের আদব

৫টি হাদীস

একদিন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তুমি কুরআন পাঠ কর”

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأْ عَلَيَّ»، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَأَقْرَأُ عَلَيْكَ، وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَقَرَأْتُ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى أَتَيْتُ إِلَى هَذِهِ الآيَةِ: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ، وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا} [النساء: 41]، قَالَ: «حَسْبُكَ الآنَ» فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ، فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ.
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “তুমি কুরআন পাঠ কর”। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করব? অথচ তা তো আপনার ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, “হ্যাঁ”। এরপর আমি ’সূরাহ নিসা’ পাঠ করলাম। যখন আমি এই আয়াত পর্যন্ত আসলাম {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ، وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا} [চিন্তা করো আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং সকলের ওপরে তোমাকে সাক্ষী হিসাবে হাযির করব তখন তারা কী করবে। নিসা:৪১] নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আপাততঃ যথেষ্ট হয়েছে”। আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম, দেখলাম, তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, “আমার কাছে কুরআনের কিছু পাঠ করো।” তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে আপনার কাছে কুরআন তিলাওয়াত করব, যখন এটি তো আপনার ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে?!” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি চাই, অন্যের মুখ থেকে তা শুনতে।” তখন তিনি সূরাতুন নিসা থেকে তিলাওয়াত করতে লাগলেন। যখন এই আয়াতে পৌঁছালেন: {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ، وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاءِ شَهِيدًا} [তখন অবস্থা কী হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন সাক্ষী আনব, আর আপনাকে (হে নবী) এই সকলের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব?] অর্থাৎ যখন তোমাকে (হে নবী) তোমার উম্মতের বিরুদ্ধে সাক্ষী করে উপস্থিত করা হবে যে, তুমি তোমার রবের বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছো, তখন তোমার এবং তোমার উম্মতের অবস্থা কী হবে? এই আয়াত শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এখন তিলাওয়াত বন্ধ করো। ইবনু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকালাম, তখন দেখি তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, সেই ভয়াবহ দৃশ্যের ভয়ে আর তাঁর উম্মতের প্রতি দয়ায়।

শিক্ষা
  1. ইমাম নববী রহ. বলেন: কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা, তার প্রতি মনোযোগ প্রদান করা, তা শুনে কাঁদা এবং গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা মুস্তাহাব। অন্য কাউকে কুরআন তিলাওয়াত করতে অনুরোধ করা এবং তা মনোযোগ দিয়ে শোনা সুন্নাত; কেননা এটি নিজের তিলাওয়াতের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে হৃদয়ে এবং তা বোঝা ও অনুধাবনে আরও সহায়ক হয়।
  2. কুরআন তিলাওয়াত যেমন সাওয়াবের, তেমনি তা শোনাও সওয়াবের।
  3. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফযীলত ও মর্যাদা এখানেই প্রমাণিত হয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মুখ থেকে কুরআন শুনতে ভালোবাসতেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন শেখা, তা হিফজ ও সুন্দরভাবে আয়ত্ত করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।
  4. কুরআনের আয়াত শুনার সময় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে কান্না করা একটি ফযীলতপূর্ণ কাজ, যা অবশ্যই নিরবচিত্তে, সুন্দর নীরবতায় এবং চিৎকার না করে করা উচিত।
সূত্র

صحيح البخاري (6/ 196) (5050). صحيح مسلم (1/ 551) (800). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (7/ 133). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 515). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 402). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 342).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কুরআনের ধারকের উদাহরণ হলো বাঁধা উটের মালিকের মতো: যদি সে তাদের যত্ন নেয়, তবে সে তাদের রাখতে পারবে, কিন্তু যদি সে তাদের ছেড়ে দেয়, তবে তারা চলে যাবে।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ القُرْآنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الإِبِلِ المُعَقَّلَةِ، إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا، وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ».
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কুরআনের ধারকের উদাহরণ হলো বাঁধা উটের মালিকের মতো: যদি সে তাদের যত্ন নেয়, তবে সে তাদের রাখতে পারবে, কিন্তু যদি সে তাদের ছেড়ে দেয়, তবে তারা চলে যাবে।"
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করে এবং মুসহাফ দেখে অথবা মুখস্থ তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাকে উটের মালিকের সাথে তুলনা করেছেন, যা উটের হাঁটুতে দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে। যদি সে এটির যত্ন নেয়, তবে সে এটি ধরে রাখবে, কিন্তু যদি সে এর দড়ি ছেড়ে দেয়, তবে এটি চলে যাবে এবং পালিয়ে যাবে। তাই যদি কুরআনের ধারক দাঁড়িয়ে তেলাওয়াত করে, তবে সে এটি মনে রাখবে, কিন্তু যদি সে না দাঁড়ায়, তবে সে এটি ভুলে যাবে। অতএব যতক্ষণ যত্ন থাকবে ততক্ষণ সংরক্ষণও থাকবে।

শিক্ষা
  1. মানুষকে কুরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াত করতে উৎসাহিত করা এবং এটি ভুলে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা।
  2. নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করলে তার জিহ্বা অনুগত হয়ে পড়বে এবং তা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। যদি সে তা ত্যাগ করে, তাহলে তেলাওয়াত তার জন্য কঠিন এবং কষ্টকর হয়ে উঠবে।
  3. আল-কাধী বলেন: “কুরআনের ধারক” এর অর্থ হল: যে কুরআনের সাথে পরিচিত। المصاحبة (মহাব্বত রাখে) মানে পরিচিতি এবং তা থেকে: অমুক অমুকের সাথী এবং জান্নাতের সাথী ও জাহান্নামের সাথী বলা হয়।
  4. দাওয়াতের একটি কৌশল হল উদাহর দেওয়া।
  5. ইবনু হাজার বলেন: তিনি বিশেষভাবে উটের কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ এটি সমস্ত গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে পলায়ন প্রবণ এবং এটি পালানোর পরে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
সূত্র

صحيح البخاري (6/ 193) (5031). صحيح مسلم (1/ 543) (789). شرح صحيح مسلم، للنووي (6/ 77). فيض القدير شرح الجامع الصغير، لعبدالرؤوف المناوي (3/ 3). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (13/ 12).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি করে আয়াত পাঠ করতেন, তারপরে তারা পরবর্তী দশটি আয়াত আর গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এ আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা ইলম ও আমল সম্পর্কে তারা জানতে পারতেন

عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمي رحمه الله قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْ كَانَ يُقْرِئُنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقْتَرِئُونَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ آيَاتٍ، فَلَا يَأْخُذُونَ فِي الْعَشْرِ الْأُخْرَى حَتَّى يَعْلَمُوا مَا فِي هَذِهِ مِنَ الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ، قَالُوا: فَعَلِمْنَا الْعِلْمَ وَالْعَمَلَ.
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহবীদের মধ্য হতে আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন, এমন একজন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি করে আয়াত পাঠ করতেন, তারপরে তারা পরবর্তী দশটি আয়াত আর গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এ আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা ইলম ও আমল সম্পর্কে তারা জানতে পারতেন। তারা বলতেন: এভাবেই আমরা ইলম ও আমল (একত্রে) শিক্ষা করতাম।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআন গ্রহণ করতেন দশ আয়াত পরিমাণ করে। এরপরে তারা আর দশটি আয়াত শিক্ষা করতেন না, যতক্ষণ না তারা উক্ত দশটি আয়াতের ইলম হাসিল করে তার উপরে আমল না করতেন। আর তাই তারা ইলম ও আমল একই সাথে শিখে ফেলতেন।

শিক্ষা
  1. এ হাদীসটি সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের ফযীলত এবং কুরআন শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহের উপরে আলোকপাত করেছে।
  2. কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা হতে হবে ইলম ও আমলের সমন্বয়ে, শুধুমাত্র তার হিফয ও কিরাআতের মাধ্যমে নয়।
  3. ইলম শিখতে হবে কথা বলা ও কাজ করার আগে।
সূত্র

مسند أحمد (38/ 466) (23482).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা ছিলাম শক্তিশালী এবং সক্ষম যুবক। আমরা কুরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি, অতঃপর কুরআন শিখেছি এবং তার দ্বারা আমাদের ঈমান বেড়ে যায়।

عَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِتْيَانٌ حَزَاوِرَةٌ، فَتَعَلَّمْنَا الإِيمَانَ قَبْلَ أَنْ نَتَعَلَّمَ القُرْآنَ، ثُمَّ تَعَلَّمْنَا القُرْآنَ، فَازْدَدْنَا بِهِ إِيمَانًا.
জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমরা ছিলাম শক্তিশালী এবং সক্ষম যুবক। আমরা কুরআন শেখার পূর্বে ঈমান শিখেছি, অতঃপর কুরআন শিখেছি এবং তার দ্বারা আমাদের ঈমান বেড়ে যায়।
এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম, তখন আমরা কিশোর ছিলাম, বয়ঃসন্ধির কাছাকাছি, শক্তিশালী ও সাহসী। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রথমে ঈমান শিখেছি কুরআন শেখার আগে। তারপর আমরা কুরআন শিখেছি, ফলে তাতে আমাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষা
  1. ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কমে — এই বিষয়টি স্পষ্ট করা।
  2. তরুণ প্রজন্মকে লালন-পালনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং তাদের অন্তর ঈমান দ্বারা পূর্ণ করার প্রতি যত্নশীল হওয়া।
  3. কুরআন ঈমান বৃদ্ধি করে, হৃদয়কে আলোকিত করে এবং বক্ষকে প্রশস্ত করে।
সূত্র

سنن ابن ماجه (1/ 42) (61). مشارق الأنوار الوهاجة ومطالع الأسرار البهاجة في شرح سنن الإمام ابن ماجه (2/ 255). مرشد ذوي الحجا والحاجة إلى سنن ابن ماجه والقول المكتفى على سنن المصطفى (1/ 227).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন।

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْرِئُنَا القُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا.
’আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বাবস্থায় তাঁর সাহাবীদের কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং তাঁদেরকে তিলাওয়াত শোনাতেন, তবে স্ত্রী সহবাসজনিত অপবিত্র অবস্থায় (জানাবাত) না থাকলে।

শিক্ষা
  1. জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয় — যতক্ষণ না গোসল করে পবিত্র হয়।
  2. কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া।
সূত্র

سنن الترمذي (1/ 214) (146). سنن أبي داود (1/ 164) (229). سنن النسائي (1/ 144) (265). سنن ابن ماجه (1/ 375) (594). مسند أحمد (2/ 61) (627). النهاية في غريب الحديث والأثر (917-167).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com