মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

কুরআন ও মুসহাফসমূহের বিধান

৪টি হাদীস

তিনি বাইতুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বললেন, এটিই ঐ সত্ত্বার দাঁড়ানোর স্থান, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে।

عن عبد الرحمن بن يزيد النَّخَعِي: «أنه حج مع ابن مسعود فرآه يَرمي الجَمْرَةَ الكبرى بسبع حصَيات، فجعل البيت عن يساره، ومِنى عن يمينه، ثم قال: هذا مَقَامُ الذي أُنْزِلَتْ عليه سورة البقرة صلى الله عليه وسلم ».
‘আবদুর রাহমান ইবন ইয়াযীদ আন-নাখ‘ঈ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে হজ আদায় করলেন। তিনি তাকে দেখলেন বাইতুল্লাহকে নিজের বামে রেখে এবং মিনাকে ডানে রেখে বড় জামরাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, এটিই ঐ সত্ত্বার দাঁড়ানোর স্থান, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

কুরবানীর দিন ও তাশরীকের দিনসমূহে পাথর নিক্ষেপ করা একটি মহান ইবাদাত; তাতে রয়েছে আল্লাহর জন্য বিনয় হওয়া, তার আদেশ পালন করা এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুকরণ করা। কুরবানীর দিন হাজীগণ যে আমলটি প্রথম করে সেটি হচ্ছে বড় জামরায় পাথর মারা, যেন এটিই সকল আমলের ভূমিকাস্বরূপ হয়। সুতরাং জামরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁড়ানোর স্থানে দাঁড়াবে। পবিত্র কা‘বাকে ডানে এবং মিনাকে বামে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবে। আর প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে তাকবীর বলবে। যেমন, এভাবেই দাঁড়িয়েছিল ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। আর তিনি শপথ করে বলেন যে, এটিই ছিল সে মহান ব্যক্তির দাঁড়ানোর স্থান, যার উপর সূরা বাকারাহ অবতীর্ণ হয়েছে।

সূত্র

تيسير العلام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق محمد صبحي بن حسن حلاق، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة العاشرة، 1426 هـ. تأسيس الأحكام شرح عمدة الأحكام، تأليف: أحمد بن يحي النجمي: نسخة إلكترونية لا يوجد بها بيانات نشر. تنبيه الأفهام شرح عمدة الإحكام، تأليف: محمد بن صالح العثيمين، مكتبة الصحابة ومكتبة التابعين، الطبعة الأولى: 1426هـ. الإفهام في شرح عمدة الأحكام، للشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز، تحقيق: سعيد بن علي بن وهف القحطاني، الطبعة الأولى، 1435 هـ خلاصة الكلام على عمدة الأحكام، تأليف: فيصل بن عبد العزيز آل مبارك، الطبعة الثانية، 1412 هـ صحيح البخاري، تأليف: محمد بن إسماعيل البخاري ، تحقيق: محمد زهير الناصر، الناشر: دار طوق النجاة الطبعة: الأولى، 1422هـ صحيح مسلم، تأليف: مسلم بن الحجاج النيسابوري، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযামকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে রয়েছে যে, “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআনকে স্পর্শ করবে না।

عن عبد الله بن أبي بكر بن حزم، أن في الكتاب الذي كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم لعَمْرو بن حَزْم: «أن لا يَمَسَّ القرآن إلا طَاهر».
আব্দুল্লাহ ইবন আবূ বকর ইবন হাযাম থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযামকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে রয়েছে যে, “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআনকে স্পর্শ করবে না।”
এটি মালেক বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসটির অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযামকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে রয়েছে” অর্থাৎ আমর ইবন হাযাম যখন নাজরানের বিচারপতি ছিলেন, তখন তার কাছে একটি দীর্ঘ চিঠি লিখেন, যাতে শরী‘আতের অনেক বিধান যেমন, ফারায়েয, সাদাকাত, দিয়াত ইত্যাদি। এটি একটি প্রসিদ্ধ চিঠি যা উম্মত গ্রহণ করেছেন। তাতে রয়েছে: “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআনকে স্পর্শ করবে না” স্পর্শ করা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো প্রকার আড়াল ছাড়া ধরা। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কাপড়ের উপর ধরার বিষয়টি আলাদা। যেমন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাগ বা থলে বহন করল অথবা তার পৃষ্ঠাগুলো কোনো লাকড়ি বা লাকড়ি জাতীয় বস্তু দ্বারা উল্টালো প্রভৃতি এ নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ, স্পর্শ করা পাওয়া যায় নি। এখানে কুরআন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যাতে কুরআন লিপিবদ্ধ করা হয়। যেমন, তখতি, কাগজ, চামড়া ইত্যাদি। এখানে কুরআন দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর বাণী নয়। কারণ, বাণী শোনা যায় স্পর্শ করা যায় না। إلا طَاهر শব্দটির চারটি অর্থ এখানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এক. এখানে পবিত্র দ্বারা উদ্দেশ্য মুসলিম। যেমন, আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র।” দুই. নাপাকী থেকে পবিত্র উদ্দেশ্য। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়াল সম্পর্কে বলেছেন, “অবশ্যই তা অপবিত্র নয়।” তিন. বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা। চার. পবিত্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য ওযু অবস্থায় থাকা। শরী‘আতে স্বীকৃত এসব তাহারাত এ হাদীসটির অর্থে প্রয়োগ করার সম্ভাবনা ও অবকাশ রয়েছে। আমাদের নিকট এক অর্থকে অপর অর্থের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তবে উত্তম হলো তাকে সর্বনিম্ন অর্থে প্রয়োগ করা। আর তা হলো ছোট নাপাকী। কারণ, এটি নিশ্চিত। আর এটিই অধিকাংশ মতের অনুরূপ। তাদের মধ্যে রয়েছেন চার ইমাম এবং তাদের অনুসারীগণ। এটিই সতর্কতা ও উত্তম।

সূত্র

الموطأ، تأليف: مالك بن أنس الأصبحي، تحقيق: محمد مصطفى الأعظمي ، الناشر: مؤسسة زايد بن سلطان آل نهيان ، الطبعة: الأولى، 1425 هـ. سنن الدارمي، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، تحقيق: حسين سليم أسد الداراني الناشر: دار المغني للنشر والتوزيع، الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 2000 م. صحيح الجامع الصغير وزيادته، تأليف: محمد ناصر الدين الألباني، الناشر: المكتب الإسلامي. تسهيل الإلمام بفقه الأحاديث من بلوغ المرام، تأليف: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان، الطبعة: الأولى، 1427 ه - 2006 م. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، تأليف: عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام، الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة، 1423 هـ - 2003 م. فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام لمحمد بن صالح بن محمد العثيمين، تحقيق: صبحي بن محمد رمضان، وأُم إسراء بنت عرفة، ط1، المكتبة الإسلامية، مصر، 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকির করতেন।”

عن عائشة رضي الله عنها قالت: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ اللهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ.
‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকির করতেন।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মু’মিমীন আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের ব্যাপারে কর্ঠিন আগ্রহী ছিলেন। তিনি সবসময়, সর্বাবস্থায় ও সর্বত্র আল্লাহ তা‘আলার যিকির করতেন।

শিক্ষা
  1. আল্লাহর যিকিরের জন্য ছোট-বড় নাপাকী থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত নয়।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের ওপর থাকতেন।
  3. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণে সার্বক্ষণিক বেশি বেশি পরিমাণে আল্লাহ তা‘আলার যিকির করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে যেসব অবস্থায় যিকির করা নিষেধ যেমন, পেশাব পায়খানার সময়- সেসব অবস্থায় যিকির করা থেকে বিরত থাকা।
সূত্র

صحيح مسلم (1/ 282) (373). صحيح البخاري (1/ 68)، (1/ 129). توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، للبسام (1/ 315). فتح ذي الجلال والإكرام شرح بلوغ المرام، لابن عثيمين (1/ 273). مجموع فتاوى ومقالات، لابن باز (26/ 17).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন।

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْرِئُنَا القُرْآنَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا.
’আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: শরীর নাপাক না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাতেন।
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বাবস্থায় তাঁর সাহাবীদের কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং তাঁদেরকে তিলাওয়াত শোনাতেন, তবে স্ত্রী সহবাসজনিত অপবিত্র অবস্থায় (জানাবাত) না থাকলে।

শিক্ষা
  1. জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নয় — যতক্ষণ না গোসল করে পবিত্র হয়।
  2. কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া।
সূত্র

سنن الترمذي (1/ 214) (146). سنن أبي داود (1/ 164) (229). سنن النسائي (1/ 144) (265). سنن ابن ماجه (1/ 375) (594). مسند أحمد (2/ 61) (627). النهاية في غريب الحديث والأثر (917-167).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com