মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

“তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে”।

عَنْ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -خَادِمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিম আবূ হামযাহ আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো মুসলিমের পূর্ণ ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না দীন ও দুনিয়ার ইবাদত ও কল্যাণসমূহে সে তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে এবং তার জন্য তা অপছন্দ করে যা সে তার নিজের জন্য অপছন্দ করে, যদি সে তার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে তার দীনের ঘাটতি দেখে তবে সে তা সংশোধন করার চেষ্টা করে এবং যদি সে তার মধ্যে কোনো ভাল দেখে, তাকে সঠিক কথা বলে ও তাকে সাহায্য করে এবং তাকে তার দীন ও দুনিয়ার বিষয়ে ভালো উপদেশ দেয়।

শিক্ষা
  1. একজন ব্যক্তির তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করা ওয়াজিব যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। কেননা যে তার নিজের জন্য যা পছন্দ করে তা তার ভাইয়ের জন্য পছন্দ করে না এমন ব্যক্তির ঈমান অস্বীকার করা তা ওয়াজিবকে নির্দেশ করে।
  2. আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব বংশগতভাবে ভ্রাতৃত্বের উপরে, তাই এর হক (অধিকার) বেশী ওয়াজিব।
  3. এই ভালোবাসার বিপরীত হয় এমন সব কথা ও কাজ করা হারাম, যেমন প্রতারণা, গীবত, হিংসা এবং মুসলিমদের জান, সম্পত্তি বা সম্মানের প্রতি সীমালঙ্ঘন করা।
  4. কিছু শব্দ ব্যবহার করা যা কর্ম করতে অনুপ্রাণিত করে, যেমন তিনি বলেছেন, "তার ভাইয়ের জন্য"।
  5. আল-কিরমানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ঈমানের আরও অংশ হলো সে তার ভাইয়ের জন্য তা অপছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য অপছন্দ করে। তিনি এটি উল্লেখ করেননি। কেননা কোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা তার বিপরীত জিনিসের প্রতি ঘৃণাকে আবশ্যক করে, এটির উপর যথেষ্ট করে তিনি তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 12) (13). صحيح مسلم (1/ 67) (45). التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية، مطبعة دار نشر الثقافة، الإسكندرية، الطبعة: الأولى، 1380 هـ. شرح الأربعين النووية، للشيخ ابن عثيمين، دار الثريا للنشر. فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، دار ابن القيم، الدمام المملكة العربية السعودية، الطبعة: الأولى، 1424هـ/2003م. الفوائد المستنبطة من الأربعين النووية، للشيخ عبد الرحمن البراك، دار التوحيد للنشر، الرياض. الأحاديث الأربعون النووية وعليها الشرح الموجز المفيد، لعبد الله بن صالح المحسن، نشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، الطبعة: الثالثة، 404هـ/1984م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস
প্রশংসিত আচরণসমূহ

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com