মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

শরয়ী বিধান

৫টি হাদীস

“নিশ্চই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট

عن النُّعمان بن بَشير رضي الله عنه قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ -وَأَهْوَى النُّعْمَانُ بِإِصْبَعَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ-: «إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً، إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ».
নুমান ইবনু বাশীর রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: -এ সময় নু’মান রদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর দুই আঙ্গুল দ্বারা উভয় কানের দিকে ইঙ্গিত করেন-: “নিশ্চই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয়, অধিকাংশ লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এ সব অস্পষ্ট বিষয় থেকে দূরে থাকে, সে তার দীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে। আর যে লোক অস্পষ্ট বিষয়ে পতিত হবে, সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে যে, পশু তার অভ্যন্তরে যেয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে। যখন তা সুস্থ থাকে, তখন সমস্ত শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। মনে রেখো, তা হল ’ক্বলব’ (হৃদয়)।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বস্তু হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। ইসলামী শরী‘আতে সকল বস্তু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। ১। সুস্পষ্ট হালাল ২। সুস্পষ্ট হারাম ৩। হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে অস্পষ্ট , অধিকাংশ মানুষ যার হুকুম জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয়সমূহ পরিহার করে, সে ব্যক্তি হারামে পতিত হওয়া থেকে দূরে থেকে তার দীনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে। তাছাড়া সেসব সংশয় পূর্ণ জিনিসে পতিত হওয়ার কারণে মানুষের সমালোচনা থেকে মুক্ত থেকে তার মান-সম্মানও নিরাপদ থাকে। আর যে ব্যক্তি এসব সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকে না, সে হয় হারামে লিপ্ত হয়ে পড়ে অথবা মানুষ (তার সমালোচনা করে) তার সম্মানহানী করে। যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে একটি উপমা পেশ করেছেন যে, সে ব্যক্তি এমন একজন রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়। এটি সংরক্ষিত চারণভূমির অতি নিকটে হওয়ায় আশংকা রয়েছে যে, তার পশুগুলো এর অভ্যন্তরে গিয়ে ঘাস খেয়ে ফেলবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বস্তুতে লিপ্ত হয়, সেও উক্ত সন্দেহজনক কাজটির মাধ্যমে হারামের অতি নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, হতে পারে যে, সে অচিরেই হারামে নিপতিত হয়ে পড়বে। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষের দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে, যার নাম ক্বলব (অন্তর)। শরীরের সুস্থতা এর সুস্থতার মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং এর অসুস্থতার মাধ্যমেই শরীর অসুস্থ হয়ে থাকে।

শিক্ষা
  1. হাদীসে সেসব সন্দেহজনক বস্তু থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যেগুলোর হুকুম সুষ্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 20) (52). صحيح مسلم (3/ 1219) (1599). التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثا النووية (ص18). شرح الأربعين النووية، لابن عثيمين (ص105). فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين، للعباد (ص41). فتح الباري لابن حجر (4/ 291). شرح النووي على مسلم (11/ 28).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তোমাদের জন্য দু’প্রকারের মৃতজীব ও দু’ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃতজীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি। আর দু’প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «أُحِلَّتْ لكم مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ، فأما الميتتان: فَالْجَرَادُ والْحُوتُ، وأما الدَّمَانِ: فالكبد والطحال».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “তোমাদের জন্য দু’প্রকারের মৃতজীব ও দু’ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃতজীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি। আর দু’প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কিছু জিনিস ভক্ষণ করা বৈধ হওয়া সম্পর্কে ইসলামী শরী‘আতের ফিকহী হুকুম আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো, মৃত টিড্ডি ও মাছ। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো, দু’ধরণের রক্ত। তা হলো কলিজা ও প্লীহা। এ দু’ধরণের জিনিসকে মৃতপ্রাণী ও রক্ত খাওয়া হারামের ব্যাপক হুকুম থেকে পৃথক রাখা হয়েছে। দেখুন, ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলূগিল মারাম (১/১০৩)।

সূত্র

1. توضيح الأحكام للشيخ البسام، ط5، مكتبة الأسدي، مكة المكرمة، 1423ه. 2. سُبل السلام، للصنعاني، دار الحديث. 3. تسهيل الإلمام، للشيخ صالح الفوزان، بعناية: عبدالسلام السليمان، ط1، 1427ه. 4. شرح الشيخ ابن عثيمين للبلوغ، تحقيق صبحي رمضان وآخر، ط1، المكتبة الإسلامية، مصر، 1427ه. 5. منحة العلَّام للشيخ عبد الله بن صالح الفوزان، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1427ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করেছেন।

عن شريح بن هانئ، قال: أتيتُ عائشة أسألها عن المسح على الخُفَّين، فقالت: عَلَيْكَ بِابْنِ أبِي طالب، فَسَلْهُ فإِنَّه كان يُسَافِرُ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسألناه فقال: «جَعَلَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ للمسافر، ويوما وليلة للمُقيم».
শুরাইহ ইবন হানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশার কাছে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসলাম। তিনি বললেন, তোমার উচিত এ বিষয়ে ইবন আবি তালিবকে জিজ্ঞেস করা। কেননা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফর করতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত মোজার উপর মাসেহ নির্ধারণ করেছেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

শুরাইহ ইবন হানী ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর একজন বিশিষ্ট সঙ্গী ছিলেন। তিনি আমাদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনাহার কাছে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কাছে জিজ্ঞাসা করতে বললে তিনি (শুরাইহ) তার কাছে মোজার উপর মাসেহ করার মেয়াদ সম্পর্কে জানতে আসেন। যেহেতু ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মোজার উপর মাসেহ এর সুন্নাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা তাকে মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম” অর্থাৎ মোজার উপর মাসেহ এর মেয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আর মাসেহ হলো, ভেজা হাত অঙ্গে লাগিয়ে টেনে নেওয়া। আর খুফ হলো চামড়ার তৈরি জুতা যা দু’টাখনু ঢেকে রাখে। আর জাওরাব হলো, পায়ে মোড়ানোর জন্য চুল বা পশমের তৈরি পাতলা বা ঘন মোজা যা শীত নিবারণের জন্য পা থেকে টাখনুর উপর পর্যন্ত পরিধান করা হয়। ‘আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদেরকে জবাব দিলেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত মোজার উপর মাসেহ নির্ধারণ করেছেন।” এ হাদীস জমহূর আলেমদের দলিল যারা বলেছেন, মোজার উপর মাসেহের সময়সীমা মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একদিন একরাত। মুসাফিরের জন্য সময়সীমা বেশি হওয়ার কারণ হলো সফরের কষ্টের কারণে রুখসাত পাওয়ার ক্ষেত্রে তারাই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।

সূত্র

صحيح مسلم، مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، الطبعة: 1423 هـ. توضيح الأحكام مِن بلوغ المرام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، مكتبة الأسدي، مكة المكرّمة، الطبعة: الخامِسَة 1423هـ، 2003م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দেওয়া রুখসত (শরয়ী বিধানের ছাড়) গ্রহণ পছন্দ করেন, যেভাবে তিনি তাঁর আযীমাত (শরয়ী বিধানের বাধ্যবাধকতা) পালনকে পছন্দ করেন।”

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى رُخَصُهُ، كَمَا يُحِبُّ أَنْ تُؤْتَى عَزَائِمُهُ».
ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দেওয়া রুখসত (শরয়ী বিধানের ছাড়) গ্রহণ পছন্দ করেন, যেভাবে তিনি তাঁর আযীমাত (শরয়ী বিধানের বাধ্যবাধকতা) পালনকে পছন্দ করেন।”
ইবনু হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যেসব বিষয়ে তাঁর শরী‘আতের মধ্যে বিধানগত ছাড় প্রদান করেছেন, সেগুলো গ্রহণ করাকে তিনি পছন্দ করেন। যেমন ইবাদাত ও আহকামের মধ্যে যেগুলিকে তিনি হালকা করে দিয়েছেন এবং কোন ওযরের কারণে বান্দার উপরে সহজ করেছেন, যেমন: সফরের অবস্থায় সালাতকে কসর বা সংক্ষিপ্ত করা এবং একসাথে পড়ার বিধান ইত্যাদি। ঠিক যেভাবে তাঁর ‘আযীমাত বা আবশ্যকীয় আদেশগুলো পালন করাকে তিনি পছন্দ করেন; কেননা রুখসত ও ‘আযীমতের বিধান দেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ একই পর্যায়ের।

শিক্ষা
  1. এ হাদীসে বান্দাদের উপরে আল্লাহর রহমতের বর্ণনা রয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা বিধানগত দিক থেকে শরী‘আতে যে ছাড় প্রদান করেছেন, তা পালন করাকে পছন্দ করেন।
  2. হাদিসটিতে এই শরী‘আতের পূর্ণতা এবং মুসলিমদের থেকে কষ্টকর বিষয়সমূহ দূরীভুত করার বর্ণনা রয়েছে।
সূত্র

صحيح ابن حبان (2/ 69) (354)، فيض القدير (2/292)، نيل الأوطار (3/244).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি”।

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنينَ رَضِيَ اللهُ عَنْها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمَرَهُمْ أَمَرَهُمْ مِنَ الأَعْمَالِ بِمَا يُطِيقُونَ، قَالُوا: إِنَّا لَسْنَا كَهَيْئَتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ، فَيَغْضَبُ حَتَّى يُعْرَفَ الغَضَبُ فِي وَجْهِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: «إِنَّ أَتْقَاكُمْ وَأَعْلَمَكُمْ بِاللَّهِ أَنَا».
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের যখন কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ তা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠল। অতঃপর তিনি বললেনঃ “তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে অধিক ভয় করি ও বেশী জানি”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মানুষকে কোনো আমলের আদেশ দিতেন, তখন তিনি এমন আমলের আদেশ দিতেন যা তাদের জন্য সহজ হয়, কষ্টসাধ্য নয়—এই আশঙ্কায় যে, তারা যদি কঠিন কিছু গ্রহণ করে নেয়, তবে তা নিয়মিতভাবে পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। তিনি নিজেও সেই সহজ কাজগুলোই করতেন যা তিনি অন্যদের করতে বলতেন। তবে তারা তাঁর কাছে এমন আবেদন করল যা কঠিন — কারণ তারা মনে করত, উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে হলে অতিরঞ্জন করা জরুরি। তারা বলবে: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অবস্থা তো আমাদের মতো নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তিনি রাগান্বিত হতেন, এতটাই যে তা তাঁর চেহারায় প্রকাশ পেত। এরপর তিনি বলতেন: আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তাঁকে সবচেয়ে ভালো জানি আমি। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ মতো কাজ করো।

শিক্ষা
  1. ইবন হাজার বলেছেন: তিনি তাদেরকে এমন আমলের নির্দেশ দিয়েছেন যা তাদের জন্য সহজ হয়—যাতে তারা তা নিয়মিতভাবে করতে পারে; যেমন তিনি আরেক হাদীসে বলেছেন: "أحب العمل إلى الله أدومه" “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়”।
  2. একজন সৎ ব্যক্তির উচিত নয়, নিজের ভালো চরিত্র ও বিশুদ্ধতার উপর ভরসা করে নেক আমলে পরিশ্রম করা বন্ধ করে দেওয়া।
  3. কারো নিজের মধ্যে যে গুণ বা ফজিলত আছে, তা প্রয়োজন অনুযায়ী বলা বৈধ — যদি অহংকার বা বড়ত্বের আশঙ্কা না থাকে।
  4. ইবাদতের ক্ষেত্রে উত্তম হলো সংযম ও স্থায়িত্ব — অতিরঞ্জিত করা নয়, যা শেষে পরিত্যাগের দিকে নিয়ে যায়।
  5. ইবন হাজার বলেছেন: একজন বান্দা যখন ইবাদত ও তার ফলাফলের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়, তখন তা তাকে ইবাদতে নিয়মিত থাকার জন্য আরও বেশি উৎসাহিত করে — যেন সেই নিয়ামত বজায় থাকে এবং সে কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে তা আরও বাড়াতে পারে।
  6. শরয়ী আদেশের অবমাননা হলে রাগ করা জায়েজ এবং যার যথেষ্ট যোগ্যতা ও বোধশক্তি আছে, যদি সে অর্থ বুঝতে দেরি করে তবে তাকে জাগরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করে সমালোচনা করা উচিত।
  7. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের প্রতি কোমল ও দয়ালু ছিলেন এবং ইসলাম ধর্ম সহজ, আর শরীয়ত হল একনষ্ঠি ও উদারতাপূর্ণ।
  8. সাহাবীদের ইবাদতের প্রতি গভীর আগ্রহ ও নেককাজের বৃদ্ধি কামনা।
  9. শরীয়ত যে কঠোরতা ও ছাড় নির্ধারণ করেছে, তা মেনে চলা উচিত এবং বিশ্বাস করা যে শরীয়তের অনুকূলে নরমপন্থা গ্রহণ করা তার বিপরীত কঠোর পথে যাওয়ার থেকে শ্রেয়।
সূত্র

صحيح البخاري (1/ 13) (20). شرح صحيح البخاري لابن بطال (73/1). عمدة القاري شرح صحيح البخاري (1/ 166).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com