মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

শিকার করা

৩টি হাদীস

মাররুয-যাহরান নামী স্থানে আমরা একটি খরগোশকে উত্যক্ত করলাম। লোকেরা ছুটোছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল।

عن أنس رضي الله عنه قال: «أَنْفَجْنَا أَرْنَباً بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى الْقَوْمُ فَلَغَبُوا، وَأَدْرَكْتُهَا فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ، فَذَبَحَهَا وَبَعَثَ إلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم بِوَرِكِهَا وَفَخِذَيْهَا فَقَبِلَهُ».
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: মাররুয-যাহরান নামী স্থানে আমরা একটি খরগোশকে উত্যক্ত করলাম। লোকেরা ছুটোছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। আর আমি তাকে পেলাম এবং ধরলাম। তারপর তাকে নিয়ে আবূ তালহার নিকট আসলে সে তা জবেহ করল এবং রাসূলুল্লাহর নিকট তার নিতম্ব ও রান প্রেরণ করলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ একটি সফরে ছিলেন। হতে পারে তারা যে স্থানে অবতরণ করেন সেটি ছিল ‘মাররুয যাহরান’ নামী স্থান। এ স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে বিজয়ের বছর অবতরণ করেন। তারা একটি খরগোশকে তাড়া করল। সবাই সেটিকে ধরার জন্য তার পিছু নিল। তিনি বলেন তারা অক্ষম হলে আমি সেটিকে ধরে ফেলি। আনাস ইবন মালিক তখন তার যৌবনে পা দিয়েছেন মাত্র। তিনি সেটিকে ধরে তার মায়ের স্বামী আবু তালহার নিকট নিয়ে গেলে তিনি তা জবেহ করে দেন এবং তা থেকে নিতম্ব রাসূলের জন্য হাদিয়া দেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং হতে পারে তিনি তা থেকে খেলেন।

সূত্র

صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي، تحقيق: محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، الطبعة: الأولى 1422هـ. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، إسماعيل بن محمد الأنصاري، دار الفكر، دمشق، الطبعة: الأولى 1381هـ. تأسيس الأحكام، أحمد بن يحيى النجمي، دار علماء السلف، الطبعة: الثانية 1414هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله بن عبد الرحمن البسام، تحقيق: محمد صبحي حلاق، مكتبة الصحابة، الأمارات، مكتبة التابعين، القاهرة، الطبعة: العاشرة 1426هـ. عمدة الأحكام من كلام خير الأنام صلى الله عليه وسلم لعبد الغني المقدسي، دراسة وتحقيق: محمود الأرناؤوط، مراجعة وتقديم: عبد القادر الأرناؤوط، دار الثقافة العربية، دمشق، بيروت، مؤسسة قرطبة، الطبعة: الثانية 1408هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যে ব্যক্তি গবাদিপশু পাহারাদানকারী কিংবা শিকারী কুকুর ছাড়া অন্য কোন কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার ’আমল হতে দু’ ক্বীরাত্ব পরিমাণ হ্রাস পাবে।”

عَنْ ابنِ عُمَرَ رَضيَ اللهُ عنهما عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا إِلَّا كَلْبَ ضَارٍ أَوْ مَاشِيَةٍ نَقَصَ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ»، قَالَ سَالِمٌ: وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقُولُ: «أَوْ كَلْبَ حَرْثٍ»، وَكَانَ صَاحِبَ حَرْثٍ.
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি গবাদিপশু পাহারাদানকারী কিংবা শিকারী কুকুর ছাড়া অন্য কোন কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার ’আমল হতে দু’ ক্বীরাত্ব পরিমাণ হ্রাস পাবে।” সালিম রহ. বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলতেন: কিংবা ক্ষেত খামার পাহারার কুকুর। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছিলেন ক্ষেতের মালিক।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর পালনে সতর্ক করেছেন, তবে এটি শিকারের জন্য অথবা গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন হলে অনুমোদিত। যে ব্যক্তি এসব কারণ ছাড়া কুকুর পোষে, তার নেক আমলের সওয়াব থেকে প্রতিদিন দুই কীরাত কমে যায়, যার পরিমাণ আল্লাহ তা‘আলাই জানেন।

শিক্ষা
  1. মুসলমানের জন্য কুকুর পালন করা জায়েজ নয়, তবে যে ক্ষেত্রগুলোতে শরীয়তে অনুমোদিত হয়েছে, সেগুলো ব্যতিক্রম।
  2. কুকুর পালন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এতে অনেক ক্ষতি ও অনিষ্ট রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, ফেরেশতারা সেই ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর থাকে। এছাড়াও, কুকুরের লালা কঠিন নাপাক, যা শুধুমাত্র পানি ও মাটি দিয়ে বারবার ধোয়ার মাধ্যমে দূর করা যায়।
সূত্র

صحيح البخاري (7/ 87) (5480). صحيح مسلم (3/ 1202) (1574). تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، لعبد الله البسام (ص720).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

যখন তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও এবং আল্লাহর নাম নাও, তখন সে যা ধরে নিয়ে আসে তা তুমি খাও।

عن عديّ بن حاتم رضي الله عنه قال: قلتُ: يا رسول الله، إني أُرسلُ الكلاب المعلَّمة، فيُمسِكنَ عليّ، وأذكرُ اسم الله؟ فقال: "إذا أرسلتَ كلبَكَ المعلَّمَ، وذكرتَ اسمَ الله، فكُلْ ما أمسكَ عليك"، قلت: وإن قتلنَ؟ قال: "وإن قَتلْنَ، ما لم يَشْرَكْها كلبٌ ليس منها"، قلتُ له: فإني أرمي بالمِعْراض الصيدَ فأُصُيبُ؟ فقال: "إذا رميتَ بالمعراضِ فخزَقَ فكلْهُ، وإن أصابَه بعَرْضٍ فلا تأكلْهُ". وحديث الشعبي، عن عدي نحوه، وفيه: "إلا أن يأكل الكلب، فإن أكل فلا تأكل؛ فإني أخاف أن يكون إنما أمسك على نفسه، وإن خالطها كلاب من غيرها فلا تأكل؛ فإنما سميت على كلبك، ولم تسم على غيره". وفيه: "إذا أرسلت كلبك المكلب فاذكر اسم الله، فإن أمسك عليك فأدركته حيا فاذبحه، وإن أدركته قد قتل ولم يأكل منه فكله، فإنَّ أخْذَ الكلبِ ذَكَاته". وفيه أيضا: "إذا رميت بسهمك فاذكر اسم الله". وفيه: "فإن غاب عنك يوما أو يومين -وفي رواية: اليومين والثلاثة- فلم تجد فيه إلا أثر سهمك، فكل إن شئت، فإن وجدته غريقا في الماء فلا تأكل؛ فإنك لا تدري الماء قتله، أو سهمك؟
‘আদী ইব্নু হাতিম রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর প্রেরণ করি, সে ধরে নিয়ে আসে, আমি তার ওপর আল্লাহর নাম নেই। তিনি বললনে, যখন তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও এবং আল্লাহর নাম নাও, তখন সে যা ধরে নিয়ে আসে তা তুমি খাও। আমি বললাম যদি সে হত্যা করে ফেলে? তিনি বললেন, যদিও হত্যা করে ফেলে। যতক্ষণ না তার সাথে অন্য কোন কুকুর অংশ গ্রহণ না করে যা প্রেরিত নয়। আমি বললাম, আমি ধারালো তীর দ্বারা শিকারীকে আঘাত করলে সে আক্রান্ত হয় তার বিধান কি? তিনি বললেন, যখন তুমি ধারালো তীর দ্বারা আঘাত করো এবং তার দেহে প্রবেশ করে রক্ত বের করে। তাহলো তুমি তা খাও। আর যদি পাশ দিয়ে আঘাত করে তবে তুমি খেয়ো না। আদী থেকে শা‘আবীর হাদীস এ ধরনেরই। তাতে বলা হয়, তবে যদি কুকুর তার অংশবিশেষ খেয়ে ফেলে, তুমি তা খাবে না। কারণ আশঙ্কা করি যে, সে তা তার নিজের জন্যই শিকার করেছে। আর যদি তোমার কুকুরের সাথে অন্য কুকুর অংশ গ্রহণ করে, তবে খেয়ো না। কারণ তুমি বিসমিল্লাহ্ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বেলায় বিসমিল্লাহ্ বলনি। তাতে বলা হয়, “যখন তুমি তোমার শিকারী কুকুর প্রেরণ করবে তুমি আল্লাহর নাম নিবে। যদি সে তোমার জন্য জীবিত অবস্থায় ধরে নিয়ে আসে, তবে তুমি তাকে যবেহ কর। আর যদি তুমি তাকে পাও যে মেরে ফেলছে এবং তা থেকে একটুও খায়নি, তা থেকে তুমি খাও। কারণ, কুকুরের ধরা তার জন্য একপ্রকার যবেহ। তাতে আরও বলা হয়, “যদি সে একদিন বা দুইদিন অপর বর্ণনায় দুইদিন বা তিনদিন আর তাতে তুমি কেবল তোমার তীরের আঘাতই দেখতে পাও তাহলে যদি চাও তুমি খাও। আর যদি তুমি পানিতে ডোবা অবস্থায় পাও তবে তুমি খেয়ো না। কারণ, তুমি জানো না যে পানি তাকে হত্যা করেছে নাকি তোমার তীর?
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আদী ইবন হাতিম রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর যাকে তার মালিক শিকার করা শিখিয়েছেন তার দ্বারা শিকার করা জন্তুর বিধান জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললনে, যখন তুমি তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও এবং তখন তুমি তার ওপর আল্লাহর নাম নাও, তখন সে যা ধরে নিয়ে আসে তা তুমি খাও। যদি তুমি তার সাথে অন্য কোন কুকুর না পাও। আর যদি তার সাথে তুমি অন্য কোন কুকুর পাও তাহলে তুমি খেয়ো না। কারণ, তুমি তোমার কুকুরের ওপর আল্লাহর নাম নিয়েছ অন্য কারো কুকুরের ওপর আল্লাহর নাম নাওনি। অনুরূপভাবে যখন তুমি কোন ধারালো বস্তু-তীর নিক্ষেপ করো এবং তা তাকে আঘাত করল বা তার মধ্যে প্রবেশ করার ফলে তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হলো আল্লাহর নাম নেওয়ার শর্তে তুমি তা খাও। আর যদি তার এক পাশে আঘাত করা হয় এবং তাকে হত্যা করা হয়, তুমি খেয়ো না। কারণ, যে আঘাতের কারণে মারা গেছে। ফলে তা উপর থেকে পড়ে বা চাপা খেয়ে মরার মতো হয়ে গেছে। আর যখন স্বীয় কুকুর প্রেরণ করার পর শিকারকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল এবং কুকুর তা হত্যা করেনি তখন ওয়াজিব হলো তাকে জবেহ করা। তখন তা অবশ্যই হালাল হবে যদিও তার সাথে অন্য কোন কুকুর শরীক হয়ে থাকে। আর তীর নিক্ষেপ করে মারা জন্তুু সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যখন তার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তার বিধান হলো আক্রান্ত জন্তু খাওয়া হালাল। যদি এক বা দুই দিন তা খুঁজে পাওয়া না যাওয়ার পর পুণরায় পাওয়া গেলে যদি তার দেহে কেবল তার তীরের আঘাতই অবশিষ্ট থাকে তার জন্য তা থেকে খাওয়া হালাল হবে। আর যদি পানি ডুবন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তখন তা থেকে খাবে না। কারণ, সে জানেনা যে, জন্তুটিকে পানি হত্যা করছে নাকি তার তীরের আঘাত।

সূত্র

صحيح البخاري، تحقيق محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، ط 1422هـ. صحيح مسلم، ط دار إحياء التراث العربي، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي. الإلمام بشرح عمدة الأحكام، لإسماعيل الأنصاري، ط دار الفكر بدمشق، الطبعة الأولى، 1381هـ. تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، للبسام، ط دار الميمان، 1426هـ. تأسيس الأحكام للنجمي، ط دار المنهاج، 1427هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com