নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার ধরণের মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বহিষ্কৃত, নির্বাসিত ও অভিশপ্ত হওয়ার বদ দোআ করেছেন: প্রথমত: যে মহিলা নিজের বা অন্য কারো চুলে চুল যোগ করে। দ্বিতীয়ত: যে মহিলা আবেদনের প্রেক্ষিতে একজনের চুলের সাথে অন্যজনের চুল যোগ করে। তৃতীয়ত: যে ট্যাটু শিল্পী শরীরের কোন অংশে, যেমন মুখ, হাত বা বুকে, একটি সুচ ঢুকিয়ে তাতে কাজল বা অনুরূপ কিছু লাগায়, যতক্ষণ না এর প্রভাব নীল বা সবুজ হয়ে যায়; সাজসজ্জা এবং সৌন্দর্যের জন্য। চতুর্থত: ট্যাটু করানো মহিলা যিনি তার গায়ে ট্যাটু করানোর অনুরোধ করেন। এই কাজগুলো কবীরা পাপের অন্তর্ভুক্ত।
- ইবনু হাজার বলেন: "চুলের সাথে চুল লাগানো নিষিদ্ধ; তবে যদি সে চুল ছাড়া অন্য কিছুতে চুল আটকে দেয়, যেমন কাপড় বা অন্য কিছু, তাহলে তা নিষিদ্ধের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
- পাপ কাজে সহযোগিতা করা হারাম।
- আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা; কারণ এটি জালিয়াতি এবং প্রতারণা।
- যাদের উপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাধারণভাবে অভিশাপ দিয়েছেন, তাদের অভিশাপ দেওয়া জায়েয।
- আমাদের সময়ে হারাম কাজের মধ্যে রয়েছে পরচুলা পরা, যা হারাম। কারণ এতে কাফেরদের অনুকরণ করা হয় এবং এতে প্রতারণা ও ধোকা জড়িত।
- আল-খাত্তাবি বলেন: এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে কঠোর হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ এতে জালিয়াতি এবং প্রতারণা রয়েছে, যদি তার কোনটিতে অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে তা অন্য ধরণের জালিয়াতির অনুমতি দেওয়ার একটি উপায় হবে। অধিকন্তু এতে সৃষ্টির পরিবর্তন রয়েছে। ইবনু মাসউদের হাদিসে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যখন তিনি বলেছেন: "المُغيِّرات خلق الله" "আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তনকারী” আল্লাহই ভালো জানেন।
- আন-নওয়াবী বলেন: ট্যাটু করানো ব্যক্তি এবং যার সাথে এটি করা হয় উভয়ের জন্য এটি হারাম। ট্যাটু করা স্থানটি অপবিত্র হয়ে যায়। যদি চিকিৎসার মাধ্যমে এটি অপসারণ করা সম্ভব হয়, তাহলে তা করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি আঘাত ছাড়া এটি সম্ভব না হয়, তাহলে যদি সে ধ্বংস বা কোনও অঙ্গের ক্ষতি বা তার উপকারিতা বা দৃশ্যমান অঙ্গে অনেক বেশী ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে তা অপসারণ করা ওয়াজিব নয়। আর যদি সে তওবা করে, তাহলে তার উপর কোন পাপ নেই। কিন্তু যদি সে এর কোনটিই আশঙ্কা না করে, তাহলে তার উপর তা অপসারণ করা ওয়াজিব এবং বিলম্ব করলে সে পাপী হবে। শেষ হল।
صحيح البخاري (7/ 167) (5947). صحيح مسلم (3/ 1677) (2124). توضِيحُ الأحكَامِ مِن بُلوُغ المَرَام، للبسام (5/ 373). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (3/ 157). منحة العلام في شرح بلوغ المرام، لعبد الله الفوزان (7/ 354).