মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

ইলমুত তাজভীদ

৩টি হাদীস

তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি করে আয়াত পাঠ করতেন, তারপরে তারা পরবর্তী দশটি আয়াত আর গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এ আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা ইলম ও আমল সম্পর্কে তারা জানতে পারতেন

عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمي رحمه الله قَالَ: حَدَّثَنَا مَنْ كَانَ يُقْرِئُنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ كَانُوا يَقْتَرِئُونَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ آيَاتٍ، فَلَا يَأْخُذُونَ فِي الْعَشْرِ الْأُخْرَى حَتَّى يَعْلَمُوا مَا فِي هَذِهِ مِنَ الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ، قَالُوا: فَعَلِمْنَا الْعِلْمَ وَالْعَمَلَ.
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহবীদের মধ্য হতে আমাদেরকে কুরআন পড়াতেন, এমন একজন আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দশটি করে আয়াত পাঠ করতেন, তারপরে তারা পরবর্তী দশটি আয়াত আর গ্রহণ করতেন না, যতক্ষণ না এ আয়াতগুলোর মধ্যে থাকা ইলম ও আমল সম্পর্কে তারা জানতে পারতেন। তারা বলতেন: এভাবেই আমরা ইলম ও আমল (একত্রে) শিক্ষা করতাম।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানহাসান
ব্যাখ্যা

সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কুরআন গ্রহণ করতেন দশ আয়াত পরিমাণ করে। এরপরে তারা আর দশটি আয়াত শিক্ষা করতেন না, যতক্ষণ না তারা উক্ত দশটি আয়াতের ইলম হাসিল করে তার উপরে আমল না করতেন। আর তাই তারা ইলম ও আমল একই সাথে শিখে ফেলতেন।

শিক্ষা
  1. এ হাদীসটি সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমের ফযীলত এবং কুরআন শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহের উপরে আলোকপাত করেছে।
  2. কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা হতে হবে ইলম ও আমলের সমন্বয়ে, শুধুমাত্র তার হিফয ও কিরাআতের মাধ্যমে নয়।
  3. ইলম শিখতে হবে কথা বলা ও কাজ করার আগে।
সূত্র

مسند أحمد (38/ 466) (23482).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

আনাস-কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’কিরাআত’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তাঁর ’কিরাআত’ কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, “তাঁর কিরাআত মাদ বিশিষ্ট ছিল”

عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ: «كَانَتْ مَدًّا»، ثُمَّ قَرَأَ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] يَمُدُّ بِبِسْمِ اللَّهِ، وَيَمُدُّ بِالرَّحْمَنِ، وَيَمُدُّ بِالرَّحِيمِ.
কাতাদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস-কে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’কিরাআত’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তাঁর ’কিরাআত’ কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, “তাঁর কিরাআত মাদ বিশিষ্ট ছিল”। এরপর তিনি ’বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ [ফাতিহা:১] তিলাওয়াত করে শোনালেন এবং তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বিসমিল্লাহ্’’ ’আর-রহমান’, ’আর-রহীম’ পড়ার সময় মাদ করতেন।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন: তিনি তেলাওয়াত করতেন ধীরে ও সুন্দরভাবে স্বর টেনে। তিনি “اللَّه” (আল্লাহ) শব্দে "লা" (لام) অক্ষরটি টেনে পড়তেন, “الرَّحْمَن” (আর-রাহমান) শব্দে "মিম" (م) অক্ষরটি টেনে পড়তেন এবং “الرَّحِيم” (আর-রাহিম) শব্দে "হা" (ح) অক্ষরটি টেনে পড়তেন।

শিক্ষা
  1. মাদ (المد) হলো মাদ অক্ষরগুলোর (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) টান দিয়ে পড়া, যখন এই অক্ষরগুলো সাকিন অবস্থায় থাকে এবং তার পূর্বে এমন হারাকাত থাকে যা ওই অক্ষরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  2. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতি এর বিবরণ:
  3. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে কুরআন পড়তেন তা বাস্তব প্রয়োগের বিবরণ।
  4. আস-সিন্দী বলেন: ‘يمد صوته مدًا’ অর্থ হলো তিনি সেই অক্ষরগুলো দীর্ঘ করতেন যেগুলো দীর্ঘ করার উপযোগী, যাতে তা দ্বারা গভীর চিন্তা, ভাবনা এবং উপদেশ গ্রহণ করার ইচ্ছুকদের উপদেশ গ্রহণে সাহায্য করা হয়।
  5. তাজবীদ ও কুরআনের বিভিন্ন শাস্ত্রীয় ইলম অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  6. কুরআন ও হাদীসের অর্থ বুঝতে হলে আলিমদের স্মরণাপন্ন হতে হবে। যেমন আনাস রাযি আল্লাহু আনহু-কে প্রশ্ন করা হল, তিনি প্রশ্নকারীকে পরিষ্কার করে বুঝিয়েদিলেন।
সূত্র

صحيح البخاري (6/ 195) (5046). عمدة القاري (20/55).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআত

عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ: عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -قَالَ: أَبُو عَامِرٍ، قَالَ نَافِعٌ: أُرَاهَا حَفْصَةَ- أَنَّهَا سُئِلَتْ عَنْ قِرَاءَةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنَّكُمْ لَا تَسْتَطِيعُونَهَا قَالَ: فَقِيلَ لَهَا أَخْبِرِينَا بِهَا. قَالَ: فَقَرَأَتْ قِرَاءَةً تَرَسَّلَتْ فِيهَا قَالَ أَبُو عَامِرٍ: قَالَ نَافِعٌ: فَحَكَى لَنَا ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ {الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] ثُمَّ قَطَّعَ {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] ثُمَّ قَطَّعَ {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}.
আবূ মুলাইকা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের একজন থেকে বর্ণিত — আবু আমির বলেন, নাফি' বলেন: আমি মনে করি তিনি (সেই স্ত্রী) ছিলেন হাফসা। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে বললেন: তোমরা তা করতে পারবে না। তখন তাঁকে বলা হলো: আমাদেরকে সেটি বর্ণনা করে দিন। তখন তিনি একটি ধীরে-ধীরে, স্পষ্ট উচ্চারণে কিরাআত পড়লেন। আবু আমির বলেন, নাফি' বলেন: আমাদেরকে ইবনু আবি মুলাইকা হাদীসটি হুবহু বর্ণনা করলেন: الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2] — তারপর থামলেন, {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] — তারপর আবার থামলেন, {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} — তারপর আবার থামলেন।৪
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা, যিনি ছিলেন মু’মিনদের মা, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন: তোমরা তাঁর মতো (তিলাওয়াত) করতে সক্ষম হবে না। তখন তাকে বলা হলো: আমাদেরকে জানিয়ে দিন (তিনি কিভাবে তিলাওয়াত করতেন)। নাফি‘ বলেন: ইবনু আবি মুলাইকা আমাদের সামনে ধীরে-সুস্থে কিরাআত করলেন, যাতে তিনি তাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিরাআতের ধরণটি তুলে ধরতে ও নিকটবর্তী করতে পারেন। তিনি এভাবে তিলাওয়াত করলেন: {الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} — এরপর থামলেন, {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} — এরপর আবার থামলেন, {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} — এরপর আবার থামলেন।

শিক্ষা
  1. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতি এর বিবরণ:
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে কুরআন পড়তেন তা বাস্তব প্রয়োগের বিবরণ।
  3. কুরআন তিলাওয়াতে ধীরস্থিরভাবে পড়ার বিধান আছে, কারণ এটি কুরআনের ওপর চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) করার জন্য অধিক উপযোগী।
  4. সালাফে সালেহীন কুরআনুল কারীম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের প্রতি গভীর মনোযোগ ও আগ্রহ দেখিয়েছেন।
  5. তাজবীদ ও কুরআনের বিভিন্ন শাস্ত্রীয় ইলম অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র

مسند أحمد (44/ 70) (26470). الفتح الرباني لترتيب مسند أحمد الشيباني (3/237).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com