মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

ওয়াকফ

৬টি হাদীস

যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও তার সমস্ত প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন তার আমলের পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «مَنْ احْتَبَسَ فَرَسًا في سَبِيل الله، إيمانًا بالله، وتَصْدِيقًا بِوَعْدِه، فإن شِبَعَهُ وريَّه ورَوْثَهُ وبَوْلَه في مِيْزَانه يوم القيامة».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও তার প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন তার আমেলের পাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

হাদীসের অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় ঘোড়া ওয়াকফ করে রাখে, যাতে তার উপর আরোহন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুজাহিদগণ যুদ্ধ করতে পারে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাবের বিনিময়ে সাওয়াব প্রদান করবেন। এমনকি কিয়ামতের দিন এগুলো তার নেক আমলের পাল্লায় রাখবেন। কেননা আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমরা যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ দেওয়া হবে।” (সূরা আল- আনফাল, আয়াত: ৬০) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, “ঘোড়া তিন প্রকার: ঘোড়া কারো জন্য পাপ অর্জনের কারণ হয়। আবার কারো জন্য হয় আবরণ। আর কারো জন্য তা হয় সাওয়াবের কারণ। অতঃপর তিনি বললেন, যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবস্বরূপ হয় তা ঐ ব্যক্তির ঘোড়া, যে তার ঘোড়াকে আল্লাহর পথে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বাগান বা সবুজ তৃণভূমিতে বেঁধে রাখে। ঘোড়াটি ঐ চারণভূমি কিংবা বাগান থেকে যে পরিমাপ ভক্ষণ করে এর বিনিময়ে তাকে সাওয়াব দেওয়া হয়। এমনকি এর মল-মূত্রের বিনিময়েও তাকে সমপরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়। আর ঘোড়াটি যদি তার রশি ছিড়ে এক বা দু’টি টিলা অতিক্রম করে তবে তার প্রতিটি পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও তাকে সাওয়াব দেওয়া হয়। মালিক ঘোড়াটি নিয়ে কোন নদী অতিক্রম করলে মালিকের অনিচ্ছা সত্বেও সেসময় ঘোড়াটিকে যদি নদী থেকে পানি পান করে ফেললে, তাহলে যে পরিমাণ পানি পান করে তাকে সে পরিমাণ সাওয়াব দেওয়া হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

সূত্র

كنوز رياض الصالحين، مجموعة من الباحثين برئاسة حمد بن ناصر العمار، ط1، كنوز إشبيليا، الرياض، 1430هـ. بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين لسليم الهلالي، ط1، دار ابن الجوزي، الدمام، 1415ه. رياض الصالحين للنووي، تحقيق: ماهر ياسين الفحل، دار ابن كثير، دمشق، بيروت، ط1، 1428 هـ. رياض الصالحين، تحقيق: عصام هادي، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية القطرية، دار الريان، بيروت، ط4، 1428هـ. صحيح البخاري، تحقيق: محمد زهير بن ناصر الناصر دار طوق النجاة (مصورة عن السلطانية بإضافة ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي)، ط1، 1422ه. منار القاري شرح مختصر صحيح البخاري، لحمزة محمد قاسم، راجعه: الشيخ عبد القادر الأرناؤوط، مكتبة دار البيان، دمشق، مكتبة المؤيد، الطائف ، ط 1410 هـ. نزهة المتقين شرح رياض الصالحين لمجموعة من الباحثين، ط14، مؤسسة الرسالة، 1407هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

সাবাস! সেটা তো খুব লাভজনক সম্পদ, সেটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। তোমার কথা আমি শুনেছি। তবে আমি ভাল মনে করছি সেটা তুমি নিকট আত্মীয়দের মধ্যেই বণ্টন কর।

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كان أبو طلحة رضي الله عنه أكثر الأنصار بالمدينة مالا من نخل، وكان أحب أمواله إليه بَيْرَحَاء، وكانت مُسْتَقبِلَةَ المسجد وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخلها ويشرب من ماء فيها طيب. قال أنس: فلما نزلت هذه الآية: {لن تنالوا البر حتى تُنِفُقوا مما تُحبون} قام أبو طلحة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إن الله تعالى أنزل عليك: {لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون} وإن أحب مالي إلي بَيْرَحَاء، وإنها صدقة لله تعالى ، أرجو بِرَّهَا وذُخْرَهَا عند الله تعالى ، فَضَعْهَا يا رسول الله حيث أَرَاكَ الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «بَخٍ ذلك مال رَابِحٌ، ذلك مال رابح، وقد سمعتُ ما قلتَ، وإني أرى أن تجعلها في الأقربين»، فقال أبو طلحة: أفعل يا رسول الله، فقسمها أبو طلحة في أقاربه، وبني عمه.
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার আনসারীগণের মধ্যে আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সবচেয়ে অধিক খেজুর-বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাগানে প্রবেশ করে সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল; যার অর্থ, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ [আলে ইমরান, আয়াত:৯২] তখন আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ আপনার উপর (আয়াত) অবতীর্ণ করে বলেছেন, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করেছ।’’ আর বায়রুহা বাগানটি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সদকাহ করা হল। আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য জমা হয়ে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন, তাকে দান করে দিন।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘আরে! এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ। তুমি যা বলেছ, তা শুনেছি। আমি মনে করি, তুমি তোমার আপন-জনদের মধ্যে তা বণ্টন করে দাও।’’ আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাই করব।’ তারপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন, আপন চাচার বংশধরদের মধ্যে তা বণ্টন করে দিলেন।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কৃষী জমির মালিক ছিলেন। তার একটি বাগান ছিল মসজিদের কিবলার দিকে। তাতে সুমিষ্ট পানিও ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে যেতেন ও তার পানি পান করতেন। যখন আল্লাহর বাণী: {لن تنالوا البر حتى تُنِفُقوا مما تُحبون} “তোমরা কখনো কল্যাণ ও নেকি পাবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের পছন্দনীয় সম্পদ থেকে খরচ না কর।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯২) নাযিল হল, তখন আবু তালহা দ্রুত সবার আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো স্বীয় বাণী: {لن تنالوا البر حتى تُنِفُقوا مما تُحبون} নাযিল করেছেন।আর আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় বাগান হচ্ছে বায়রুহা। বায়রুহা তার প্রিয় বাগানটির নাম। এই বায়রুহাকে সাদকা স্বরূপ আল্লাহ ও তার রাসূলের সামনে পেশ করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুগ্ধ হয়ে বললেন। বাহ! বাহ! সেটি তো লাভজনক সম্পদ, সেটি তো লাভজনক সম্পদ। আমি পরামর্শ দিচ্ছি যে, এটা তুমি তোমার আত্মীয়দের ভেতরই সাদকা করে দাও। অত:পর তিনি তার নির্দেশ মোতাবেক তার আত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে সেটি বণ্টন করে দিলেন।

সূত্র

- شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين، نشر: دار الوطن للنشر، الرياض، الطبعة: 1426ه. - بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين؛ تأليف سليم الهلالي، دار ابن الجوزي- الطبعة الأولى 1418ه - رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين؛ للإمام أبي زكريا النووي، تحقيق د. ماهر الفحل، دار ابن كثير-دمشق، الطبعة الأولى، 1428ه . - نزهة المتقين شرح رياض الصالحين؛ تأليف د. مصطفى الخِن وغيره، مؤسسة الرسالة-بيروت، الطبعة الرابعة عشر، 1407هـ. - صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - كنوز رياض الصالحين، لحمد بن ناصر العمار، دار كنوز إشبيليا- الطبعة الأولى 1430ه.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহর রাসূল! আমি খায়বারে এমন একটি যমীন পেয়েছি, ইতোপূর্বে আমি কখনো তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন সম্পদ লাভ করি নি, আপনি তার বিষয়ে আমাকে কি নির্দেশনা দেন? তিনি বললেন: যদি চাও তুমি তার মালিকানা রেখে তার উৎপাদন সদকা করতে পার।

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: «قد أصاب عمر أرضًا بخيبر. فأتى النبي صلى الله عليه وسلم يستأمره فيها. فقال: يا رسول الله، إني أصبت أرضًا بخيبر، لم أُصِبْ مالًا قَطُّ هو أنفس عندي منه، فما تأمرني به؟ فقال: إن شِئْتَ حَبَّسْتَ أصلها، وتصدقت بها. قال: فتصدق بها، غير أنه لا يُباع أصلها، ولا يوهب، ولا يورث. قال: فتصدق عمر في الفقراء، وفي القربى، وفي الرقاب، وفي سبيل الله، وابن السبيل، والضيف. لا جناح على من وليها أن يأكل منها بالمعروف، أو يطعم صديقًا، غير مُتَمَوِّلٍ فيه»، وفي لفظ: «غير مُتَأثِّلٍ».
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খায়বারে একটি যমীন লাভ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তার ব্যাপারে পরামর্শ চান। যেমন তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি খায়বারে একটি যমীন পেয়েছি, ইতোপূর্বে আমি কখনো তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো সম্পদ লাভ করি নি, আপনি তার বিষয়ে আমাকে কি নির্দেশনা দেন? তিনি বললেন: যদি চাও তুমি তার মালিকানা রাখতে পার এবং উৎপাদনটা দান করতে পার। তিনি বললেন, তিনি তা সাদকা করে দিলেন। তবে মুল মালিকানা বিক্রি করা যাবে না, হেবা করা যাবে না এবং তার উত্তরাধিকারীও হওয়া যাবে না। তিনি বললেন, তারপর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তা ফকীর-মিসকীন, নিকটাত্মীয়কে, মুক্তিপণ আদায়ে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফির ও মেহমানদেরকে দান করে দেন। যে ব্যক্তি এ সম্পদের অভিভাবকত্ব করবে, তার জন্য জমা করার উদ্দেশ্য ব্যতীত তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভক্ষণ করা বা বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো অসুবিধা নেই।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খায়বারে একটি যমীন লাভ করেন। তার পরিমাণ একশ অংশ। এটি ছিল তার নিকট তার সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে মুল্যবান। কারণ, যমীনটি খুবই ভালো ও উর্বর ছিল। আর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম তো চিরন্তন কল্যাণের প্রতি আগ্রহী ও প্রতিযোগী ছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর বাণী: {لَنْ تَنَالوا البِرً حَتًى تُنْفِقُوا مِمًا تُحِبونَ } “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণ লাভ করবে না যতক্ষণ না তোমরা যা মহব্বত কর তা থেকে ব্যয় কর।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত:৯২] বাস্তবায়ন কল্পে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে সদকা করার পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। তিনি তাকে সাদকার উত্তম প্রদ্ধতি বললেন, আর তা হলো মুল সম্পদ ধরে রেখে তার উৎপাদন ওয়াকফ করা। উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাই করলেন, ফলে তার জমি ওয়াকফ হয়ে গেল। অতএব, তাতে বিক্রি অথবা দান অথবা উত্তরাধিকার ইত্যাদি কোনো প্রকার কর্তৃত্ব যাতে মালিকানা হস্তান্তর হয় বা তার কারণ হয় করা যাবে না। বরং তার উৎপাদন ফকীর, মিসকীন, নিকটাত্মীয় ও রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়ের স্বার্থে, এবং তার দ্বারা গোলামী থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে অথবা যাদের ওপর দিয়ত ওয়াজিব হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে দিয়ত হিসেবে এবং যারা আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত রাখতে ও তার দীনকে সাহায্য করতে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তাদের স্বার্থে; অথবা মুসাফির যার খাদ্য ও পানীয়ের খরচা অপরিচিত শহরে গিয়ে শেষ হয়ে গেছে ও মেহমানদেরকে মেহমানদারীর উদ্দেশ্যে খাওয়ানো ইত্যাদি কল্যাণমুলক কাজে ব্যয় করবে। মেহমানের মেহমানদারী করা আল্লাহর ওপর ঈমানের একটি অংশ। এ ছাড়াও এ সম্পদ তাদের প্রয়োজনে ব্যয় হবে যারা এই ওয়াকফের দায়-দায়িত্ব নেয় ও তার যত্ন করে। তারা তার থেকে ন্যায় সঙ্গতভাবে ভক্ষণ করবে। ফলে নিজের জন্যে সঞ্চয় করার উদ্দেশ্য পরিহার করে তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভক্ষণ করতে ও বন্ধুকে খাওয়ানোতে কোনো অসুবিধা নেই। এ সম্পদ একমাত্র কল্যাণ ও ইহসানের পথে ব্যয় করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে, কারো সম্পদ বৃদ্ধি বা পুঁজি বানানোর জন্য নয়। জ্ঞাতব্য: ওয়াকফ হচ্ছে, মুসলিম কোনো একটি কল্যাণকর ক্ষেত্রে তার এমন সম্পদকে সদকা করবে যার উৎপাদন রয়েছে, ফলে তার উৎপাদন ওই খাতে ব্যয় করবে আর মূল সম্পদ অক্ষত থাকবে। তার দৃষ্টান্ত: ফকীরদের জন্যে কোনো একটি ক্ষেত ওয়াক্ফ করা হলো, তখন যে সব ফল ও ফসল তা থেকে উৎপন্ন হবে, তা ফকীরদের দেওয়া হবে এবং ক্ষেতটি মালিকানাধীন থেকে যাবে।

সূত্র

- صحيح البخاري –الجامع الصحيح-؛ للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم؛ للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب-الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام للشيخ إسماعيل الأنصاري-مطبعة السعادة-الطبعة الثانية 1392ه. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام-عبد الله البسام-تحقيق محمد صبحي حسن حلاق- مكتبة الصحابة- الشارقة- الطبعة العاشرة- 1426ه. - خلاصة الكلام شرح عمدة الأحكام- فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي (المتوفى: 1376هـ)- الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে

عَنْ أَبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلَا فِضَّةٍ، لَا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا، إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، صُفِّحَتْ لَهُ صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ، فَأُحْمِيَ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ، فَيُكْوَى بِهَا جَنْبُهُ وَجَبِينُهُ وَظَهْرُهُ، كُلَّمَا بَرَدَتْ أُعِيدَتْ لَهُ، فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ، فَيَرَى سَبِيلَهُ، إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَالْإِبِلُ؟ قَالَ: «وَلَا صَاحِبُ إِبِلٍ لَا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا، وَمِنْ حَقِّهَا حَلَبُهَا يَوْمَ وِرْدِهَا، إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ، أَوْفَرَ مَا كَانَتْ، لَا يَفْقِدُ مِنْهَا فَصِيلًا وَاحِدًا، تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَعَضُّهُ بِأَفْوَاهِهَا، كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُولَاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا، فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ، فَيَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَالْبَقَرُ وَالْغَنَمُ؟ قَالَ: «وَلَا صَاحِبُ بَقَرٍ، وَلَا غَنَمٍ، لَا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا، إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ بُطِحَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ، لَا يَفْقِدُ مِنْهَا شَيْئًا، لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ، وَلَا جَلْحَاءُ، وَلَا عَضْبَاءُ تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلَافِهَا، كُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ أُولَاهَا رُدَّ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا، فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ، فَيَرَى سَبِيلَهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِمَّا إِلَى النَّارِ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَالْخَيْلُ؟ قَالَ: «الْخَيْلُ ثَلَاثَةٌ: هِيَ لِرَجُلٍ وِزْرٌ، وَهِيَ لِرَجُلٍ سِتْرٌ، وَهِيَ لِرَجُلٍ أَجْرٌ، فَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ وِزْرٌ، فَرَجُلٌ رَبَطَهَا رِيَاءً وَفَخْرًا وَنِوَاءً عَلَى أَهْلِ الْإِسْلَامِ، فَهِيَ لَهُ وِزْرٌ، وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ سِتْرٌ، فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ، ثُمَّ لَمْ يَنْسَ حَقَّ اللهِ فِي ظُهُورِهَا وَلَا رِقَابِهَا، فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ وَأَمَّا الَّتِي هِيَ لَهُ أَجْرٌ، فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ، فِي مَرْجٍ وَرَوْضَةٍ، فَمَا أَكَلَتْ مِنْ ذَلِكَ الْمَرْجِ، أَوِ الرَّوْضَةِ مِنْ شَيْءٍ، إِلَّا كُتِبَ لَهُ، عَدَدَ مَا أَكَلَتْ حَسَنَاتٌ، وَكُتِبَ لَهُ، عَدَدَ أَرْوَاثِهَا وَأَبْوَالِهَا، حَسَنَاتٌ، وَلَا تَقْطَعُ طِوَلَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا، أَوْ شَرَفَيْنِ، إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ عَدَدَ آثَارِهَا وَأَرْوَاثِهَا حَسَنَاتٍ، وَلَا مَرَّ بِهَا صَاحِبُهَا عَلَى نَهْرٍ، فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَا يُرِيدُ أَنْ يَسْقِيَهَا، إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ، عَدَدَ مَا شَرِبَتْ، حَسَنَاتٍ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَالْحُمُرُ؟ قَالَ: «مَا أُنْزِلَ عَلَيَّ فِي الْحُمُرِ شَيْءٌ، إِلَّا هَذِهِ الْآيَةَ الْفَاذَّةُ الْجَامِعَةُ»: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ، وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 8].
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরি করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ দেখবে জান্নাতের আর কেউ জাহান্নামের দিকে”। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, “যে উটের মালিক তার উটের হক আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হক, যখন কিয়ামতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে”। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, “যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে’। অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, “ঘোড়া তিন প্রকারের- যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং যে ঘোড়া মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হক ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে। আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চারণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সাওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সাওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সাওয়াব লেখা হবে। আর যদি তা রশি ছিড়ে একটি বা দুটি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার ’আমলনামায় সাওয়াব লেখা হবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক প্রকার সম্পদ এবং যে তার যাকাত দিবে না কিয়ামতের দিন তার শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে হল: প্রথমটি: সোনা ও রূপা এবং অনুরূপ সম্পদ ও ব্যবসায়িক পণ্য, যার মধ্যে যাকাত ওয়াজিব ছিল কিন্তু তার যাকাত প্রদান করা হয়নি, তাই কিয়ামতের দিন তা গলিয়ে পাতের সুরুতে ঢেলে দেওয়া হবে এবং জাহান্নামের আগুনে তা প্রজ্জলিত করা হবে এবং তার দ্বারা তার মালিককে শাস্তি দেওয়া হবে; তা দিয়ে তার কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠ সেকা দেওয়া হবে; যখনই তা ঠান্ডা হবে তখনই তা পোড়ানো হবে এবং শাস্তির এই অবস্থার ওপর কিয়ামতের দিন জুড়ে থাকবে যার সময়কাল পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করবেন। তারপর তারা জান্নাতবাসী হবে অথবা জাহান্নামবাসী হবে। দ্বিতীয়টি: উটের মালিক যে তার উটের ফরয যাকাত ও হক আদায় করে না, তার একটি হক হল হাজির দরিদ্রদের তার দুধ পান করানো, এই উটগুলি সংখ্যায় অনেক বেশি এবং মোটাতাজা করে আনা হবে এবং তাদের মালিককে কিয়ামতের দিন তাদের জন্য প্রশস্ত, সমতল প্রসারিত ভূমিতে ফেলে লম্বা করে শুইয়ে দেওয়া হবে; তাদের পায়ে মাড়াবে এবং দাঁত দিয়ে কামড় দেবে, যখনই তারা এর উপর দিয়ে যাবে তাদের মধ্যে শেষেরটি প্রথমটি পাবে। তাদের মধ্যে তাঁর কাছে ফিরে এসেছে, এবং তিনি এই আযাবের মধ্যে থাকবেন কেয়ামতের দিন, যা পঞ্চাশ হাজার বছর দীর্ঘ, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করেন এবং তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে থাকবেন নাকি জাহান্নামীদের মধ্যে থাকবেন। তৃতীয়: গরু ও ভেড়ার -দুম্বা ও ছাগলের- মালিক যে তাদের ফরজ জাকাত প্রদান করে না, সেগুলো আরো বেশী সংখ্যায় আনা হবে যা কোনো অঙ্গ ছাড়া থাকবে না এবং সেগুলোর জন্য তাদের মালিককে একটি প্রশস্ত, সমতল প্রসারিত ভূমিতে ছড়িয়ে লম্বা করে ফেলে রাখা হবে; তাতে বাঁকা শিং, শিং বিহীন এবং ভাঙ্গা শিংওয়ালা থাকবে না, বরং সেগুলো সবচেয়ে নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের ওপর হবে, এগুলো তাকে নিজের শিং দিয়ে আঘাত করবে, পায়ে দিয়ে মাড়াবে; যখনই তার ওপর দিয়ে শেষটি অতিক্রম করবে প্রথমটি আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এই আযাবের অবস্থা পঞ্চাশ হাজার বছর দীর্ঘ কেয়ামতের দিন জুড়ে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে বিচার করবেন, তারপর তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। চতুর্থ: ঘোড়ার মালিকেরা তিন প্রকার: প্রথম: ঘোড়া তার মালিকের জন্য বোঝা। যিনি এটিকে লোক দেখানো, অহংকার এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পোষেণ। দ্বিতীয়: ঘোড়া তার মালিকের জন্য আবরণ স্বরূপ। যিনি এটিকে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য পোষেণ, তারপর তার সাথে সদয় আচরণ করেন, তাকে পশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজন সরবরাহ করেন। আরেকটি সেবা হল মাদির ওপর নরকে চড়ানো। তৃতীয়: ঘোড়া তার মালিকের জন্য সাওয়াবের কারণ। যিনি এটি মুসলিমদের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে পোষেণ। এটি যখন চরানোর জন্য তৃণভূমি ও চারণগাহে থাকে তখন এটি এমন কিছু খায় না যার সংখ্যা অনুসারে তার জন্য তা নেক আমল হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয় না। তার গোবর ও প্রস্রাবের সংখ্যা অনুপাতেও তার জন্য নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয়। আর সে তার রশির দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে না এবং এমন চলন চলে না এবং এমন দৌড়ঝাঁপ করে না যার পদ চিহ্নের আলামত ও গোবরের সখ্যা অনুসারে তার জন্য নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয় না। এর মালিক এমন নদীর পাশ দিয়ে যায় নি যেখান থেকে সে পান করেছে এবং তাকে এমন পান করায়নি যার সংখ্যা অনুসারে তার জন্য আল্লাহ সাওয়াব লিপিবদ্ধ করেনি। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, সেটি কী ঘোড়ার মতই? তিনি বললেন, দুর্লভ উদাহরণ বিশিষ্ট এই আয়াতটি ছাড়া তার ব্যাপারে বিশেষ কোনো বিধান নাযিল হয়নি। এটি সকল প্রকার আনুগত্য ও পাপকে শামিল করে। আর তা হল আল্লাহর বাণী: {فمن يعمل مثقال ذرة خيرًا يره، ومن يعمل مثقال ذرة شرًا يره}. [الزلزلة: 8] [যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে।] অর্থাৎ যে গাধা পোষে আনুগত্য আঞ্জাম দিবে সে তার সাওয়াব দেখতে পাবে; যদি পাপ করে তাহলে তার শাস্তিও দেখতে পাবে। এটি প্রত্যেক আমলকে শামিল করে।

শিক্ষা
  1. যাকাত প্রদান করা ওয়াজিব এবং এটি প্রদান না করার ওপর কঠিন শাস্তি রয়েছে।
  2. অলসতা করে যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকাকে কুফর না বলা, তবে সে কঠিন হুমকির ওপর রয়েছে।
  3. আনুগত্যের কাজ সম্পাদন করার সময় আরো যেসব কাজ ঘটে তার জন্য মানুষকে সাওয়াব প্রদান করা হয়, যখন মূল কর্মটি করার ইচ্ছে করেন, যদিও বিস্তারিত বিবরণ উদ্দেশ্য না করেন।
  4. যাকাত ছাড়াও সম্পদে হক রয়েছে।
  5. উটের উপর একটি হক হল তার পানি পান করার জায়গায় উপস্থিত অভাবীদের দুধ খাওয়ানো; যাতে অভাবীদের জন্য বাড়ি ফেরা সহজ হয় এবং গবাদি পশুদের সাথেও সদয় আচরণ হয়। ইবনু বাত্তাল বলেছেন: সম্পদে দুটি হক রয়েছে: ফরজে আইন ও অন্যান্য হক। দুধ পান করানো হল মহান আচরণের সাথে সম্পর্কিত হকগুলোর একটি।
  6. উট, গরু এবং ভেড়ার ভেতর একটি আবশ্যক হক হল যদি নর উট ধার চাওয়া হয়, তাহলে (বীর্জের জন্য) তাকে ধার দেওয়া।
  7. গাধা এবং যেসব জিনিসের বিষয়ে দলিল বর্ণিত হয়নি সেসব আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (فمن يعمل مِثقال ذرة خيرًا يَره، ومن يعمل مِثقال ذرة شرًا يره) [যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দ ফল ভোগ করবে।] (যিলযাল ৮)
  8. আয়াতে কল্যাণকর কাজ যদি কমও হয় তার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং খারাপ কাজ যদি কমও হয় তার থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (6/ 175) (4962). صحيح مسلم (2/ 680) (987). كنوز رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين. بهجة الناظرين، لسليم الهلالي (2/ 350). نزهة المتقين، لمجموعة من الباحثين (2/ 862). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (5/ 253). تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، لعبد الرحمن آل سعدي (ص335). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لابن حجر (3/ 268). شرح الزرقاني على موطأ مالك، لمحمد الزرقاني (2/ 164). مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، لعلي القاري (4/ 1262).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ».
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। সাদাকা জারিয়াহ্(চালু থাকে এমন) অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে”।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তির আমল তার মৃত্যুর সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়, তার মৃত্যুর পরে তার কোন নেক আমল হাসিল হয় না এই তিনটি জিনিস ছাড়া: যেহেতু সে এগুলোর উপলক্ষ্য হয়েছিল: প্রথমটি: সদকা যার সাওয়াব চলমান এবং স্থায়ী, বন্ধ হয় না যেমন ওয়াকফ করা, মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করা ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি: এমন ইলম যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যেমন ইলমের কিতাব রচনা করা, বা কাউকে শিক্ষা দেওয়া; তারপর সেই ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার ইলম ছড়িয়ে দিল। তৃতীয়: সৎ মুমিন সন্তান যে তার পিতামাতার জন্য দোয়া করে।

শিক্ষা
  1. আলেমগণ সর্বসম্মতভাবে একমত যে, একজন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর যে সাওয়াব লাভ করে তার মধ্যে রয়েছে সদকা জারিয়াহ, উপকারী ইলম এবং দোয়া। অন্যান্য হাদিসে এসছে: হজও।
  2. এই হাদীসে বিশেষভাবে এই তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে: কারণ এগুলো কল্যাণের ভিত্তি এবং নেককার লোকেরা তাদের মৃত্যুর পর এগুলো অবশিষ্ট থাকুক তা ইচ্ছা করে থাকে।
  3. প্রত্যেক ইলম যা উপকারী তার দ্বারা সাওয়াব হাসিল হবে, কিন্তু এসবের প্রধান এবং শীর্ষে রয়েছে শরয়ী ইলম এবং তার সহযোগী ইলমসমূহ।
  4. এই তিনটির মধ্যে ইলম সবচেয়ে উপকারী; কারণ ইলম এমন যে তা শিখে তার দ্বারা সে উপকৃত হয়, ইলমে রয়েছে শরীয়তের সুরক্ষা এবং সাধারণভাবে মাখলুকের উপকার। ইলম হল সবচেয়ে ব্যাপক এবং ব্যাপ্তীময়। কারণ আপনার জীবনকালে যারা উপস্থিত আছে এবং আপনার মৃত্যুর পর যারা উপস্থিত থাকবে তারা সবাই আপনার ইলম থেকে শিখবে।
  5. উত্তম সন্তান লালন-পালনের জন্য উৎসাহ; তারাই যারা পরকালে তাদের পিতামাতার উপকার করবে। আর তাদের উপকারের মধ্যে একটি হল তারা তাদের জন্য দোয়া করবে।
  6. পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করা, এটিও এক ধরনের দয়া যা থেকে সন্তান উপকৃত হয়।
  7. দোয়া মৃতদের উপকার করে, যদিও তা সন্তান ব্যতীত অন্য কারো থেকে হয়, তবে সন্তানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত সে পিতা-মাতার জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে মারা যায়।
সূত্র

صحيح مسلم (3/ 1255) (1631)، البحر المحيط الثجاج في شرح صحيح الإمام مسلم بن الحجاج (28/ 413).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আল্লাহর রাসূল, উম্মু সা‘দ মারা গেছেন, কোন সদকা সবচেয়ে উত্তম হবে? তিনি বললেন: “পানি”, তিনি বলেন: সে একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন: এটি উম্মু সা‘দের জন্য।

عن سعد بن عبادة رضي الله عنه أنه قال: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ، فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟، قَالَ: «الْمَاءُ»، قَالَ: فَحَفَرَ بِئْرًا، وَقَالَ: هَذِهِ لِأُمِّ سَعْدٍ.
সাদ ইবন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, উম্মু সা‘দ মারা গেছেন, কোন সদকা সবচেয়ে উত্তম হবে? তিনি বললেন: “পানি”, তিনি বলেন: সে একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন: এটি উম্মু সা‘দের জন্য।
এটি আবূ দাঊদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।মানহাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্রের সমন্বয়ে হাসান।
ব্যাখ্যা

উম্মু সা‘দ ইবনু উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু মারা গেছেন, ফলে তিনি সর্বোত্তম সদকা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, যেন তার মায়ের পক্ষ থেকে তা সদকা করতে পারেন? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সংবাদ দিলেন: সর্বোত্তম সদকা হলো পানি, ফলে তিনি একটি কূপ খনন করলেন এবং তা মায়ের জন্য সদকা করলেন।

শিক্ষা
  1. পানি হল সদকার প্রকারসমূহের একটি শ্রেষ্ঠ প্রকার।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা‘দকে পানি সদকা করার জন্য নির্দেশ দেন। কেননা তা দ্বীনী ও পার্থিব বিষয়ে অধিক উপকারী, অধিকন্তু তীব্র গরম, প্রয়োজন ও পানির স্বল্পতা ছিল।
  3. সদকার সাওয়াব মৃতদের কাছে পৌঁছার প্রমাণ।
  4. সা‘দ ইবন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তার মা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার প্রতি সদাচারণ।
সূত্র

سنن أبي داود (3/ 109) (1681)، سنن النسائي (6/ 254) (3664)، سنن ابن ماجه (4/ 643) (3684)، شرح سنن أبي داود للعباد (204/ 19).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com