মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

সন্ধি ও প্রতিবেশীর বিধানাবলী

৪টি হাদীস

“আমাকে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম সর্বদা প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি, আমার ধারণা হয়, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন।”

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَا زَالَ يُوصِينِي جِبْرِيلُ بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ».
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম সর্বদা প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি, আমার ধারণা হয়, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক বারবার প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে অসীয়ত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। প্রবিবেশী হলো কারো গৃহের নিকটতম বসবাসকারীগণ। চাই সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়। তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদেরকে কষ্ট না দেওয়া, তাদের প্রতি ইহসান করা এবং তাদের দ্বারা কষ্ট পেলে তাতে ধৈর্যধারণ করা, এমনকি প্রতিবেশীর হকের যথাযথ সম্মান বজায় রাখার প্রতি জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক বারবার ওসিয়াত করায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধারণা করেছিলেন, শীঘ্রই প্রতিবেশীকে সম্পত্তির অধিকারী করে অহী নাযিল হবে, যা ব্যক্তির মৃত্যুর পরে তাদেরকে উত্তরাধিকারী করে দিবে।

শিক্ষা
  1. হাদীসে প্রতিবেশীর অধিকারের মহা গুরুত্ব এবং অধিকারের প্রতি যত্নবান হওয়ার আবশ্যকতা বুঝানো হয়েছে।
  2. ওসিয়াতের মাধ্যমে প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা তাদেরকে সম্মান করা, তাদের প্রতি বিনম্র হওয়া, তাদের প্রতি ইহসান করা, তাদের থেকে ক্ষতিকর জিনিস দূর করা ,অসুস্থ হলে সেবা শুশ্রূষা করা, সুসংবাদে তাদেরকে অভিবাদন জানানো এবং দু:খ-কষ্টে তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা দাবি করে।
  3. প্রতিবেশীর দরজা যতই নিকটবর্তী হবে তাদের অধিকারও ততবেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  4. ইসলামী শরী‘য়তের পরিপূর্ণতারঅন্যতম প্রমাণ হলো প্রতিবেশীর প্রতি ইহসান ও তাদের থেকে ক্ষতি দূর করে সমাজ সংস্কার ও সংশোধন করা।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 10) (6014)، (8/ 10) (6015). صحيح مسلم (4/ 2025) (2624)، (4/ 2025) (2625). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين (1/ 300). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 175).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

হে আবু যার, যখন তুমি ঝোল রান্না করবে, তখন পানি বাড়িয়ে দাও এবং তোমার প্রতিবেশীদের হক রক্ষা কর।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَأَكْثِرْ مَاءَهَا، وَتَعَاهَدْ جِيرَانَكَ».
আবূ যর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হে আবু যার, যখন তুমি ঝোল রান্না করবে, তখন পানি বাড়িয়ে দাও এবং তোমার প্রতিবেশীদের হক রক্ষা কর।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেনমানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে উদ্ভুদ্ধ করেছেন যে, হে আবূ যর, যখন ঝোল রান্না করবে, তখন পানি ও ঝোলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে এবং প্রতিবেশীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের খোঁজ-খবর নিবে।

শিক্ষা
  1. প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা।
  2. প্রতিবেশীদের মধ্যে উপহার বিনিময় মুস্তাহাব; কারণ এতে ভালোবাসা তৈরি হয় এবং স্নেহ বৃদ্ধি পায় এবং উপহারের এই আদান-প্রদান নিশ্চিত হয় যদি খাবারে সুগন্ধ থাকে এবং প্রতিবেশীর চাহিদা সম্পর্কে জানা থাকে।
  3. মানুষকে ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করা, এমনকি যদি তা ছোটও হয় এবং মুসলিমদের আনন্দ দেওয়া।
সূত্র

صحيح مسلم (4/ 2025) (2625). بهجة الناظرين شرح رياض الصالحين، لسليم الهلالي (1/ 386). شرح رياض الصالحين، لابن عثيمين (3/ 175). نزهة المتقين شرح رياض الصالحين، لمجموعة من الباحثين (1/ 301).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

কোনো প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ করবে না। তারপর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, কী হলো, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস থেকে উদাসীন দেখছি? আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস দ্বারা তোমাদের দুই কাঁধের মাঝে আঘাত করতে থাকব।

عن أبي هريرة رضي الله عنه أنّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يمَنَعَنَّ جارٌ جاره: أن يغرِزَ خَشَبَهُ في جداره، ثم يقول أبو هريرة: ما لي أراكم عنها مُعْرِضِين؟ والله لَأرْميَنّ َبها بين أكتافكم».
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “কোনো প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ করবে না। তারপর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস থেকে উদাসীন দেখছি? আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস দ্বারা তোমাদের দুই কাঁধের মাঝে আঘাত করতে থাকব।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

একজন প্রতিবেশীর জন্য অপর প্রতিবেশীর ওপর অসংখ্য অধিকার রয়েছে যা রক্ষা করা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, জিবরীল আলাইহিস সালাম সব সময় তাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে ওসীয়ত করতেন। এমনকি তিনি ধারণা করেন যে, প্রতিবেশীর বড় হক ও তার কল্যাণ কামনা করা ওয়াজিব হওয়ার কারণে জিবরীল তাকে তার উত্তরসূরী বানিয়ে দেবে। এ কারণেই তাদের পরস্পরের মধ্যে ওয়াজিব হলো সুন্দর ব্যবহার করা, একে অপরের অধিকার সংরক্ষণ করা, উত্তম আখলাক প্রদর্শন করা এবং কথা ও কর্মে কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। আর প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার হলো, তার অধিকার সংরক্ষণ করা। যেমন, তাদের কেউ কারো জন্য তার এমন লাভ ছেড়ে দিবে, যে লাভ ছাড়াতে প্রতিবেশীর উপকার হবে তবে তার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না। এ ধরনের একটি উপকার যেমন, একজন প্রতিবেশী তার নিজের প্রয়োজনে তার অপর প্রতিবেশীর দেয়ালে খুঁটি পুঁততে চাইলো এবং তাতে দেয়ালের মালিকের কোনো ক্ষতি নেই। তখন দেয়ালের মালিকের ওপর ওয়াজিব হলো সে তার প্রতিবেশীকে খুঁটি পুঁততে অনুমতি দেবে। কারণ, তাতে তার কোনো ক্ষতি নেই বরং তার প্রতিবেশীর উপকার রয়েছে। যদি সে অনুমতি না দেয়, তবে শাসক তাকে অনুমতি প্রদানে বাধ্য করবে। আর যদি ক্ষতি হয় অথবা কোনো প্রয়োজন না থাকে তখন এক ক্ষতি সমপরিমাণ ক্ষতি দ্বারা দূরীভুত হয় না। তখন মূলনীতি হলো একজন মুসলিম তার অধিকারে অপরকে বাঁধা দেবে এটাই স্বাভাবিক। তখন তার ওপর অনুমতি দেওয়া ওয়াজিব নয়। এ কারণেই আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন এ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত থেকে মহান শরী‘আত প্রণেতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হন, এর ওপর আমল করাতে তাদের উদাসীনতা অপছন্দ করেন। আর তিনি তাদের হুশিয়ারী করেন, এ সুন্নাতের বাস্তবায়ন তাদের ওপর বাধ্যতামুলক। কারণ, অবশ্যই প্রতিবেশীর কিছু হক রয়েছে যেগুলো আল্লাহ ফরয করেছেন যার সংরক্ষণ করা ও তা বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব। আর আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, প্রতিবেশীর দেয়ালে খুটি পুঁতা তার ক্ষতি করে তার অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে ক্ষতি করা বা ক্ষতি বহন করা কোনোটাই নেই।

সূত্র

- صحيح البخاري، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، عناية محمد زهير الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422هـ. - صحيح مسلم، للإمام مسلم بن الحجاج، حققه ورقمه محمد فؤاد عبد الباقي، دار عالم الكتب، الرياض، الطبعة الأولى، 1417هـ. - الإلمام بشرح عمدة الأحكام، للشيخ إسماعيل الأنصاري، مطبعة السعادة، الطبعة الثانية 1392هـ. - تيسير العلام شرح عمدة الأحكام، عبد الله البسام، تحقيق محمد صبحي حسن حلاق، مكتبة الصحابة، الشارقة، الطبعة العاشرة، 1426هـ.

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

“আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না।” জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ! কে সে? তিনি বললেন: “যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়।”

عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لاَ يُؤْمِنُ»، قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الَّذِي لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ».
আবূ শুরাইহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না।” জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ! কে সে? তিনি বললেন: “যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।মানসহীহ
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার শপথ করে বললেন: আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়, আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়, আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: কে, হে রাসুল আল্লাহ? তিনি বললেন: যে তার প্রতিবেশীকে তার প্রতারণা, অবিচার এবং খারাপ আচরণের থেকে নিরাপদ রাখে না।

শিক্ষা
  1. যে ব্যক্তির জুলুম ও অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, তার ঈমান নেই— এ কথা প্রমাণ করে যে এটি একটি কবীরা গুনাহ এবং এটি যে করে তার ঈমান অসম্পূর্ণ।
  2. প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ এবং তার ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার প্রতি জোরালো তাগিদ।
সূত্র

صحيح البخاري (8/ 10) (6016). التوضيح لشرح الجامع الصحيح (28/ 321). النهاية في غريب الحديث والأثر (93).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com