মূল অংশে যান
ব্যাখ্যাসহ হাদীস

প্রাচীন ফিরকা ও মতবাদসমূহ

১টি হাদীস

“তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না। আমি যিনি আসমানে আছেন তার আমানতদার। সকাল সন্ধ্যা আমার কাছে আকাশের সংবাদ আসে।”

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ رَضيَ اللهُ عنهُ قَالَ: بَعَثَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اليَمَنِ بِذُهَيْبَةٍ فِي أَدِيمٍ مَقْرُوظٍ، لَمْ تُحَصَّلْ مِنْ تُرَابِهَا، قَالَ: فَقَسَمَهَا بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ، بَيْنَ عُيَيْنَةَ بْنِ بَدْرٍ وَأَقْرَعَ بْنِ حابِسٍ وَزَيْدِ الخَيْلِ، وَالرَّابِعُ: إِمَّا عَلْقَمَةُ وَإِمَّا عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: كُنَّا نَحْنُ أَحَقَّ بِهَذَا مِنْ هَؤُلاَءِ، قَالَ: فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَلاَ تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ، يَأْتِينِي خَبَرُ السَّمَاءِ صَبَاحًا وَمَسَاءً»، قَالَ: فَقَامَ رَجُلٌ غَائِرُ العَيْنَيْنِ، مُشْرِفُ الوَجْنَتَيْنِ، نَاشِزُ الجَبْهَةِ، كَثُّ اللِّحْيَةِ، مَحْلُوقُ الرَّأْسِ، مُشَمَّرُ الإِزَارِ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اتَّقِ اللَّهَ، قَالَ: «وَيْلَكَ، أَوَلَسْتُ أَحَقَّ أَهْلِ الأَرْضِ أَنْ يَتَّقِيَ اللَّهَ» قَالَ: ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُ، قَالَ خَالِدُ بْنُ الوَلِيدِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلاَ أَضْرِبُ عُنُقَهُ؟ قَالَ: «لاَ، لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ يُصَلِّي» فَقَالَ خَالِدٌ: وَكَمْ مِنْ مُصَلٍّ يَقُولُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِي قَلْبِهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَمْ أُومَرْ أَنْ أَنْقُبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ وَلاَ أَشُقَّ بُطُونَهُمْ» قَالَ: ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْهِ وَهُوَ مُقَفٍّ، فَقَالَ: «إِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ رَطْبًا، لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ»، وَأَظُنُّهُ قَالَ: «لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لَأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثَمُودَ».
আর আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী ইবন আবূ তালেব রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামন থেকে একটি চামড়ার পাত্রে একটি স্বর্ণের টুকরা প্রেরণ করেন। স্বর্ণটি তখনো মাটি থেকে আলাদা করা হয়নি। তিনি বলেন, সেটি তিনি চার জনের মধ্যে ভাগ করে দেন। তারা হলেন, উয়াইনাহ ইবন বাদর, আকরা‘ ইবন হাবেস, যায়েদ আল খাইল আর চতুর্থ জন্য হয়ত আলকামাহ বা আমের আত-তুফাইল। তখন তার সাহাবীদের থেকে একজন বলল, তাদের তুলনায় আমরাই বেশি তার হকদার ছিলাম। তিনি বলেন, কথাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছল। তখন তিনি বললেন: “তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না। আমি যিনি আসমানে আছেন তার আমানতদার। সকাল সন্ধ্যা আমার কাছে আকাশের সংবাদ আসে।” তিনি বলেন, তখন দুই চোখ ডাবা, উঁচা ঘাল-চাবা ও কপাল, গণ দাঁড়ি বিশিষ্ট, মুণ্ডানো মাথা এবং উঁচা করে লুঙ্গি পরা এক লোক দাঁড়ালো এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। তিনি বললেন: “তুমি ধ্বংস হও! আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে আমি জমিনবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক হকদার নই?” বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি চলে গেল। খালেদ ইবন ওয়ালিদ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: “না। হতে পারে সে সালাত আদায় করে।” তখন খালেদ বললেন, অনেক মুসল্লি এমন আছে যারা এমন কথা বলে যা সে অন্তরে বিশ্বাস করে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমাকে মানুষের অন্তর ছিদ্র করা এবং তাদের পেট ফেঁটে দেখার আদেশ দেওয়া হয়নি।” তারপর তার দিকে দেখলেন সে পিঠ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন: “নিশ্চয় এর বংশ থেকে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মুখে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে, যা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না, দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হবে যেমন তীর ধনুক থেকে বের হয়।” আর আমার ধারণা তিনি বলেছেন: “আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে অবশ্যই তাদের সামূদ সম্প্রদায়ের মতো হত্যা করতাম।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমমানসহীহ
ব্যাখ্যা

আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়েমেন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার মোড়কে কিছু সোনা পাঠিয়েছিলেন, যা সম্পূর্ণরূপে মাটির মিশ্রণ থেকে মুক্ত ছিল না। তিনি বললেন: অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি চারজন ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করে দিলেন। উয়াইনা বিন বদর আল-ফাযারী, আকরা বিন হাবিস আল-হানযালী, যায়েদ আল-খাইল আন-নাবহানী এবং আলকামা বিন উলাসা আল-আমিরী। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন: আমরাই এ ব্যাপারে তাদের চেয়ে বেশি হকদার ছিলাম, তখন তিনি বললেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: “তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করো না, অথচ আমি সেই মহান সত্তার বিশ্বস্ত যিনি আসমানে রয়েছেন? আসমানের খবর সকাল-সন্ধ্যা আমার কাছে পৌঁছে।” তিনি বললেন: তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল যার চোখ দুটি গভীর কোটরে ডুবে ছিল, তার গালের হাড় উঁচু এবং স্পষ্ট, কপাল উঁচু, দাড়ি ঘন কিন্তু লম্বা নয়, মাথা মুণ্ডিত, এবং তার নিচের শরীর ঢাকার জন্য পরা ইজারটি উপরে উঠানো ছিল। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহকে ভয় করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ধিক তোমাকে! আমি কি পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার সবচেয়ে বেশি হকদার নই?!" তিনি বললেন: এরপর সেই ব্যক্তি চলে গেল। খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? তিনি বললেন: না, সম্ভবত সে নামাজ পড়ে। তখন খালিদ বললেন: কত নামাজি আছে যারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের হৃদয়ে নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমাকে মানুষের অন্তর খোঁজার বা তাদের পেট চিরে দেখার আদেশ দেওয়া হয়নি; বরং আমাকে তাদের বাহ্যিক বিষয়গুলোর ভিত্তিতে কাজ নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।" তারপর তিনি তার দিকে তাকালেন যখন সে ফিরে যাচ্ছিল, এবং বললেন: এ ব্যক্তি ও তার সঙ্গীদের বা তার গোত্রের মধ্য থেকে এমন একদল লোক বের হবে, যারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সুন্দর কণ্ঠে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করবে। তাদের জিহ্বা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে সদা সিক্ত থাকবে, কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, ফলে তা তাদের অন্তরে প্রবেশ করে তাদের সংশোধন করবে না। আল্লাহ তা উপরে উঠাবেননা এবং কবুল করবেন না। তারা ইসলাম থেকে এভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর লক্ষ্যভেদ করে দ্রুত ও সহজে বেরিয়ে যায়। "আমি মনে করি তিনি বলেছেন: যদি আমি তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে বিদ্রোহ করতে দেখি, তবে আমি তাদেরকে কঠোরভাবে হত্যা করব, যেমন সামুদ সম্প্রদায়কে হত্যা করা হয়েছিল।"

শিক্ষা
  1. এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহনশীলতা ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা প্রতীয়মান হয়।
  2. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুয়তের প্রমাণ এবং তিনি যা পেয়েছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী।
  3. মানুষের সাথে তাদের বাহ্যিক আচরণের উপর ভিত্তি করে আচরণ করা, আর আল্লাহ তাদের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলি দেখেন।
  4. প্রমাণিত হয়, নামাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং নামাজ আদায়কারীদেরকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী হত্যার উপযুক্ততা ছাড়া হত্যা না করা।
  5. খাওয়ারিজদের বিপদ এবং যখন তারা যুদ্ধ শুরু করে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বৈধ, যাতে তাদের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিহত করা যায়।
  6. ইমাম নববী বলেছেন: এতে রয়েছে,তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রতি উৎসাহ এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ফযীলত।
  7. কুরআন বুঝা, চিন্তা করা, তা অনুসরণ করা এবং দৃঢ়ভাবে ধরে রাখার গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।
সূত্র

صحيح البخاري (5/ 163) (4351). صحيح مسلم (2/ 741) (1064). عمدة القاري شرح صحيح البخاري، لمحمود العيني (18/ 7). المصباح المنير في غريب الشرح الكبير، لأحمد الفيومي (2/ 499). فتح الباري شرح صحيح البخاري، لابن حجر(12/ 292). إكمال المعلم بفوائد مسلم، للقاضي عياض (3/ 607). تاج العروس من جواهر القاموس، للزبيدي (2/ 452). شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري، لعبد الله الغنيمان (1/ 451). معجم اللغة العربية المعاصرة (2/ 1649).

HadeethEnc.com-এ এই হাদীস

এখানকার প্রতিটি হাদীস, মান, ব্যাখ্যা ও শিক্ষা HadeethEnc.com যেভাবে প্রকাশ করে হুবহু সেভাবেই দেখানো, তাদের পুনঃপ্রকাশের শর্ত মেনে। মানের সঙ্গে মান-নির্ধারকের নাম নেই। অনুবাদ ও ব্যাখ্যা এর লেখকদের নিজস্ব, এবং কোনো কোনোটিতে বিধান বলা আছে; সাবীলের পর্যালোচকেরা এগুলো যাচাই করেননি। আরবি হাদীসটিই মূল পাঠ। উৎস: HadeethEnc.com