প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ زَادَ " فَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ وَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيَدْعُ " .
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ .. পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে রয়েছেঃ সে যদি সওম পালনরত না হলে যেন খায়, আর সওম পালনকারী হলে যেন (দা‘ওয়াত দাতার জন্য) দু‘আ করে।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُجِبْ عُرْسًا كَانَ أَوْ نَحْوَهُ " .
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের দা‘ওয়াত দিলে সে যেন তা কবূল করে। তা বিবাহ অনুষ্ঠান বা প্রীতিভোজ যাই হউক না কেন।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে দা‘ওয়াত দেয়ার পরও সে তা কবূল করলো না, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করলো। আর যে ব্যক্তি দা‘ওয়াত ছাড়াই উপস্থিত হলো, সে চোর হয়ে ঢুকলো এবং লুটেরা হয়ে বের হলো।[1] দুর্বলঃ ইরওয়াহ (১৯৫৪), মিশকাত (৩২২২)।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলতেন, নিকৃষ্টতম খাদ্য হলো ঐ বিবাহ অনুষ্ঠানের খাদ্য, যেখানে শুধু ধনীদের দা‘ওয়াত দেয়া হয় এবং গরীবদের উপেক্ষা করা হয়। যে ব্যক্তি দা‘ওয়াত প্রত্যাখ্যান করে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
Sahih MuqufShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (5177) Sahih Muslim (1432)Zubair Ali Zai
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ ذُكِرَ تَزْوِيجُ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ عِنْدَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْلَمَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَائِهِ مَا أَوْلَمَ عَلَيْهَا أَوْلَمَ بِشَاةٍ .
। সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যাইনাব বিনতু জাহশের বিবাহের ঘটনা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট আলাপ করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাইনাবের বিয়েতে যেভাবে ওয়ালীমা অনুষ্ঠান করেছেন অন্য কোনো স্ত্রীর বেলায় তাঁকে তদ্রূপ করতে দেখেনি। তিনি একটি বকরী দিয়ে বিবাহ ভোজনের ব্যবস্থা করেছেন।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (5171) Sahih Muslim (1428)Zubair Ali Zai
। আব্দুল্লাহ ইবনু উসমান আস সাকাফী (রহঃ) থেকে তার গোত্রের এক অন্ধ ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ওয়ালীমা অনুষ্ঠান বিবাহের প্রথম দিনে করা জরূরী, দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান উত্তম এবং তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান লোক শুনানো ও লোক দেখানোর জন্য। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমাকে এক ব্যক্তি বলেছেন, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-কে ওয়ালীমাতে প্রথম দিন দা‘ওয়াত দেয়া হলে তিনি সাড়া দিলেন, দ্বিতীয় দিন দা‘ওয়াত দেয়া হলেও কবূল করলেন এবং তৃতীয় দিন দা‘ওয়াত দেয়া হলে তিনি দা‘ওয়াত কবূল করলেন না। তিনি বললেন, এ সব লোক মানুষকে দেখানোর জন্য এবং শুনানোর জন্য এসব করে থাকে।[1] দুর্বলঃ ইরওয়া
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। কাতাদাহ উল্লেখিত ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, তৃতীয় দিনে দা‘ওয়াত করা হলো, কিন্তু তিনি তা কবূল করেননি এবং যে লোক তাকে দা‘ওয়াত দিতে এসেছিল তিনি তার দিকে ঢিল ছুড়ে মারেন।[1] দুর্বল।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ نَحَرَ جَزُورًا أَوْ بَقَرَةً .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূকের সফর থেকে) মদীনায় ফিরে এসে একটি উট অথবা গরু যাবাহ করলেন।[1] সনদ সহীহ।
। আবূ শুরাইহ আল কা‘বি (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। উত্তমরূপে মেহমানদারীর সীমা একদিন এক রাত। মেহমানদারী তিনদিন। এরপর অতিরিক্ত দিনগুলোর মেহমানদারী সাদাকাহ হিসেবে গণ্য। তিনদিন পর আপ্যায়নকারীর বাড়ীতে তার বিনা অনুমতিতে মেহমানদের অবস্থান করা উচিত নয়। এতে সে বিরক্ত হতে পারে। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ 'জাইযাহ' একদিন ও এক রাত- এর অর্থ কি? তিনি বলেন, কথাটির অর্থ হলো, মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন, উপহার প্রদান ও তার নিরাপত্তা বিধান করা একদিন ও এক রাত। আর আতিথ্য প্রদান হচ্ছে তিনদিন।[1] আবূ সুরাইহ বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। মালিক ইবনু আনাসের বর্ণিত সনদ সহীহ মাকতূ।
উৎসে উল্লিখিত মান
Sahih Isnaad MaqtuAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
Sahih Bukhari (6135) Sahih Muslim (48 After 1726)Zubair Ali Zai
। আবূ কারীম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক রাত মেহমানদারী করা মুসলিমের কর্তব্য। যার আঙ্গিনায় মেহমান নামে, একদিন মেহমানদারী করা তার উপর ঋণ পরিশোধের সমান। সে ইচ্ছা করলে তার এ ঋণ ত্যাগ পরিশোধ করবে বা ত্যাগ করবে।[1] সহীহ।
। আল মিকদাম আবূ কারিমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট মেহমান হয়ে এলো, (অথচ) বঞ্চিত অবস্থায় তার সকাল হলো, তাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। তাদের খাদ্য ও মাল থেকে সে তার রাতের মেহমানদারীর পরিমাণ আদায় করে নিতে পারে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৪২৪৭)।
। উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে বাইরে প্রেরণ করে থাকেন। আমরা কোনো জনপদে গিয়ে যাত্রা বিরতি করি। তারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট অবতরণ করার পর তারা নিজেদের সামর্থ্য মোতাবেক তোমাদের আপ্যায়ন করে তবে তোমরা তা গ্রহণ করো। যদি তারা তা না করে, তবে তাদের কাছ থেকে তাদের সামর্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে মেহমানের অধিকার আদায় করবে।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (6137) Sahih Muslim (1727)Zubair Ali Zai
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না। তবে ব্যবসায়ে লেনদেন পরস্পরের সন্তোষের ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যক...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ২৯) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা অন্য কারো বাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করা অন্যায় ভাবলো। অতঃপর সূরা আন-নূরের মাধ্যমে উপরের আয়াতের হুকুম রহিত করা হলো। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘এতে কোনো দোষ নেই যে, কোনো ব্যক্তি নিজেদের ঘর থেকে খাবে... আলাদা আলাদাভাবে খাও।’’ (সূরা আন-নূরঃ ৬১) পর্যন্ত। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে অবস্থা এরূপ ছিলো যে, কোনো ধনী লোক কাউকে খাওয়া দা‘ওয়াত দিলে সে বলতো, আমি এর থেকে খাওয়া অন্যায় মনে করি। التَّجَنُّحُ অর্থ আপত্তি। সে আরো বলতো, এ খাদ্যে আমার চেয়ে দরিদ্ররাই অধিক হকদার। এর প্রেক্ষিতে অন্য মুসলিমের বাড়ীতে খাবার গ্রহণ বৈধ করা হয়, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে। আহলে কিতাবদের খাদ্য দ্রব্য হালাল করা হয়েছে।[1] সনদ হাসান।
। সাফীনাহ আবূ আব্দুর রাহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা একটি লোক আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-কে দা‘ওয়াত করে তার জন্য খাদ্য তৈরী করে (বাড়িয়ে) দিয়ে গেলো। ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডাকলে তিনি আমাদের সঙ্গে আহার করতেন। আলী (রাঃ) তাঁকে দা‘ওয়াত দিলেন এবং তিনি এসে দরজায় চৌকাঠের উপর নিজের হাত রাখলেন। তিনি একটি রঙ্গিন পর্দা ঘরের একদিকে টানিয়ে রাখা দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ না করে ফিরে গেলেন। ফাতিমাহ (রাঃ) আলী (রাঃ)-কে বললেন, গিয়ে দেখুন, তিনি কেন ফিরে যাচ্ছেন? সুতরাং আমি তাঁর অনুসরণ করলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে ফিরে আসতে বাধ্য করল? তিনি বললেনঃ আমার জন্য বা কোনো নবীর জন্য কারুকার্য খচিত সজ্জিত ঘরে প্রবেশ করা সমীচীন নয়।[1] হাসান।
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ الأَوْدِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اجْتَمَعَ الدَّاعِيَانِ فَأَجِبْ أَقْرَبَهُمَا بَابًا فَإِنَّ أَقْرَبَهُمَا بَابًا أَقْرَبُهُمَا جِوَارًا وَإِنْ سَبَقَ أَحَدُهُمَا فَأَجِبِ الَّذِي سَبَقَ " .
। হুমাইদ ইবনু আব্দর রাহমান আল হিমজারী (রহঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দু’ ব্যক্তি একই সাথে দা‘ওয়াত করলে তোমার বাড়ীর নিকটতর ব্যক্তির দা‘ওয়াত কবূল করবে। কেননা বাড়ীর নিকটবর্তী ব্যক্তি নিকটতর প্রতিবেশী। আর যদি একজন অন্যজনের আগে দা‘ওয়াত দিতে আসে তবে প্রথমে আসা ব্যক্তির দওয়াত কবূল করবে।[1] দুর্বলঃ ইরওয়াহ (১৯৫১), মিশকাত (৩২২৩)।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের রাতের খাবার উপস্থিত করা হলে এবং ‘ইশার সালাতের ইকামাত দেয়া হলে খাবার শেষ না করে সালাতে যাবে না। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ আব্দুল্লাহ ইবনু উমারের রাতের খাবার পরিবেশন করা হলে বা রাতের খাবার আনা হলে তিনি আহার শেষ না করে কখনো সালাতের জন্য উঠতেন না। এমন কি ইকামাত বা ইমামের কিরাআত শুনতে পেলেও তিনি আহার শেষ না করা পর্যন্ত উঠতেন না।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Isnaad Sahih Sahih Bukhari (677) Sahih Muslim (559)Zubair Ali Zai
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাবারের জন্য বা অন্য কোনো কারণে সালাতের জামা‘আত বিলম্বিত করা যাবে না।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (১০৭১)।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনু উমাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ)-এর সময় আমার পিতার সঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আব্বাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়র বললেন, আমরা শুনেছি, রাতের আহারকে সালাতের উপর (অর্থাৎ আগে খেয়ে নেয়ার) অগ্রাধিকার দেয়া হতো। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়! তুমি কি মনে করেছে আগেকার লোকদের রাতের আহার তোমার পিতার রাতের আহারের অনুরূপ ছিলো?[1] সনদ হাসান।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেট থেকে বেরিয়ে এলে তাঁর সামনে খাবার উপস্থিত করা হলো। সাহাবীগণ বললেন, আপনার জন্য উযুর পানি নিয়ে আনবো কি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো সালাতের জন্য উযু করার আদেশ দেয়া হয়েছে।[1] সহীহ।
। সালমান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আম তাওরাতে পড়েছিঃ ‘‘খাবার শুরুর আগে উযু করার মধ্যেই খাবারের বরকত নিহিত।’’ আমি এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেনঃ খাদ্য গ্রহণের আগে ও পরে উযু করার (হাত ধোয়ার) মধ্যে খাদ্যের বরকত নিহিত। সুফিয়ান (রহঃ) খাওয়ার পূর্বে উযু করা পছন্দ করতেন না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি যঈফ।[1] দুর্বলঃ যঈফাহ (১৬৮), মিশকাত (৪২০৮)।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব-পায়খানা সেরে গিরিপথ থেকে নামলেন। আমাদের সামনে ঢালের উপর খেজুর রাখা ছিলো। আমরা তাঁকে খেতে ডাকলে তিনি আমাদের সঙ্গে খেজুর খেলেন কিন্তু পানি স্পর্শ করলে না (হাত ধৌত করেননি)।[1] সনদ দুর্বল।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَا عَابَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا قَطُّ إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ .
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ হিসেবে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করেন নি। ভালো লাগলে তিনি খেতেন এবং খারাপ লাগলে বর্জন করতেন।
। ওয়াহশী ইবনু হারব থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারি না। তিনি বললেনঃ হয় তো তোমরা বিচ্ছিন্নভাবে খাও। তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা একত্রে আহার করো এবং খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের খাদ্যে বরকত দেয়া হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যদি তোমাকে কোথাও দা‘ওয়াত করা হয় এবং খাবার সামনে রাখা হয় তাহলে বাড়ির কর্তা অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত খাওয়া শুরু করবে না।[1] হাসান।
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ ও খাদ্য গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম নিলে শয়তান (তার সঙ্গীদের) বলে, রাতে এখানে তোমাদের থাকা-খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যখন কোনো ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম নেয় না, তখন শয়তান বলে, তোমরা রাতে থাকার স্থান পেলে। সে যখন খাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে না তখন শয়তান বলে, তোমরা রাতে থাকার জায়গা ও খাওয়ার দুটোর সুযোগই পেলে।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي حُذَيْفَةَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامًا لَمْ يَضَعْ أَحَدُنَا يَدَهُ حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ طَعَامًا فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ فَذَهَبَ لِيَضَعَ يَدَهُ فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ جَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّمَا تُدْفَعُ فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهَا وَقَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ الَّذِي لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذَا الأَعْرَابِيِّ يَسْتَحِلُّ بِهِ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَجَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ يَسْتَحِلُّ بِهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَدَهُ لَفِي يَدِي مَعَ أَيْدِيهِمَا " .
। হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে খেতে বসলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়া আরম্ভ করার পূর্বে আমাদের কেউ খাদ্যের দিকে হাত বাড়াতো না। একদা আমরা তাঁর সাথে খেতে বসি। তখন এক বেদুঈন এমনভাবে দৌড়ে এলো যেন কেউ তাকে পিছন থেকে তাড়া করছে। সে খাওয়ার পাত্রে হাত দিতে যাচ্ছিল তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর একটি বালিকা দৌড়িয়ে আসলো, যেন তাকেও কেউ পিছন থেকে তাড়া করছে। সেও খাদ্যের মধ্যে হাত ঢুকাতে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতও ধরে ফেললেন। তিনি বললেন, যে খাদ্য আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া হয় না তাতে শয়তান শরীক করে। সে প্রথমে বেদুঈনকে নিয়ে এসেছিল তার সঙ্গে খাদ্যে অনুপ্রবেশ করতে। আমি তার হাত ধরে ফেলি। ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শয়তানের হাত এখন এই দু’জনের হাতের সাথে আমার হাতের মধ্যে বন্দী।[1] সহীহ।
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ আহার করতে বসলে যেন বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করে। সে যদি প্রথমে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে যেন বলেঃ খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম শেষেও আল্লাহর নাম।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخُزَاعِيُّ، عَنْ عَمِّهِ، أُمَيَّةَ بْنِ مَخْشِيٍّ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا وَرَجُلٌ يَأْكُلُ فَلَمْ يُسَمِّ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْ طَعَامِهِ إِلاَّ لُقْمَةٌ فَلَمَّا رَفَعَهَا إِلَى فِيهِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مَا زَالَ الشَّيْطَانُ يَأْكُلُ مَعَهُ فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَقَاءَ مَا فِي بَطْنِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ جَابِرُ بْنُ صُبْحٍ جَدُّ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ مِنْ قِبَلِ أُمِّهِ .
। উমাইয়্যাহ ইবনু মাখশী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন। তখন এক লোক খাচ্ছিল, কিন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করেনি। মাত্র এক লোকমা খাবার বাকি থাকতে সে তা মুখে দেয়ার সময় বললো, খাবারের শুরুতে ও শেষ বিসমিল্লাহ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন এবং বললেনঃ শয়তান তার সঙ্গে খাচ্ছিল। যখন সে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলো, শয়তান তার পেটের খাবার বমি করে ফেলে দিলো।[1] দুর্বলঃ মিশকাত
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ آكُلُ مُتَّكِئًا " .
। আলী ইবনু আক্বমার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আসনে বসে হেলান দিয়ে খাবার খাই না।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَا رُئِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ مُتَّكِئًا قَطُّ وَلاَ يَطَأُ عَقِبَهُ رَجُلاَنِ .
। মুস‘আব ইবনু সুলাইম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কোনো এক কাজে প্রেরণ করলেন। আমি তাঁর নিকট ফিরে এসে দেখি তিনি বসে খেজুর খাচ্ছেন।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سُلَيْمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَوَجَدْتُهُ يَأْكُلُ تَمْرًا وَهُوَ مُقْعٍ .
। শু‘আইব ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো হেলান দিয়ে খাবার খেতে দেখা যায়নি এবং তাঁর পিছনে কখনো দু’ জন লোককে চলতে দেখা যায়নি।[1] সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ খাওয়ার সময় যেন পাত্রের মাঝখান থেকে না খায়, বরং সে যেন তার কিনারা থেকে খাওয়া শুরু করে। কেননা পাত্রের মাঝখানে বরকত নাযিল হয়।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِرْقٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ، قَالَ كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَصْعَةٌ يُقَالُ لَهَا الْغَرَّاءُ يَحْمِلُهَا أَرْبَعَةُ رِجَالٍ فَلَمَّا أَضْحَوْا وَسَجَدُوا الضُّحَى أُتِيَ بِتِلْكَ الْقَصْعَةِ - يَعْنِي وَقَدْ ثُرِدَ فِيهَا - فَالْتَفُّوا عَلَيْهَا فَلَمَّا كَثُرُوا جَثَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا هَذِهِ الْجِلْسَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ جَعَلَنِي عَبْدًا كَرِيمًا وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا عَنِيدًا " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُوا مِنْ حَوَالَيْهَا وَدَعُوا ذِرْوَتَهَا يُبَارَكْ فِيهَا " .
। আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি বড়ো কড়াই ছিলো। তা চারজন লোক বহন করতো। পাত্রটির নাম ছিলো ‘গাররাআ।’ বেলা কিছুটা উপরে উঠলে এবং লোকের চাশতের সালাত আদায় শেষ হলে পাত্রটি নিয়ে আসা হলো। অর্থাৎ তাতে ঝোল মিশ্রিত রুটি ছিলো। লোকেরা এর চারিদিকে বসলো। লোকের আধিক্যের কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটু গেড়ে বসলেন। এক বেদুঈন বললো, এটা কিভাবে বসা হলো! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে ভদ্র ও সম্মানিত বান্দা বানিয়েছেন। তিনি আমাকে অবাধ্য ও উচ্ছৃঙ্খল বানাননি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পাত্রের কিনারা থেকে খাও এবং মধ্যখান ছেড়ে দাও। এতে বরকত হবে।[1] সহীহ।
। সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ জায়গায় আহার করতে নিষেধ করেছেনঃ যে দস্তরখানে বসে মদ পান করা হয় এবং যেখানে উপুড় হয়ে বসে পেটের উপর ভর দিয়ে খাওয়া হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এটা মুনকার হাদীস। জা‘ফার ইবনু বুরকান হাদীসটি যুহরীর নিকট শুনেননি।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ খাওয়ার সময় যেন তার ডান হাতে খায় এবং যখন পান করে তখনও যেন তার ডান হাতে পান করে। কেননা শয়তান তার বাম হাতে পানাহার করে।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، لُوَيْنٌ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ أَبِي وَجْزَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ادْنُ بُنَىَّ فَسَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ " .
। উমার ইবনু আবূ সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার কাছে এসো, আল্লাহর নাম নাও, ডান হাতে খাও এবং তোমার সামনে থেকে খাও।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقْطَعُوا اللَّحْمَ بِالسِّكِّينِ فَإِنَّهُ مِنْ صَنِيعِ الأَعَاجِمِ وَانْهَسُوهُ فَإِنَّهُ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ هُوَ بِالْقَوِيِّ .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ছুরি দিয়ে গোশত কেটে (খাবে) না। কেননা এটা অনারাবদের রীতি, বরং তা দাঁত দিয়ে কামড়ে খাও। কারণ তা অধিক উপকারী ও স্বাস্থ্যকর। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি শক্তিশালী নয়।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (৪২১৫)।
। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আহার করছিলাম এবং হাড় থেকে গোশত ছিড়ে খাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হাড়টি তুলে মুখে নাও, এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে খাও, কারণ তা অধিক উপকারী ও স্বাস্থ্যকর। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, উসমান (রহঃ) সাফওয়ান (রহঃ) থেকে কিছু শুনেননি। এ বর্ণনাটি মুরসাল।[1] দুর্বলঃ যঈফাহ (২১৯৩)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْجِبُهُ الذِّرَاعُ . قَالَ وَسُمَّ فِي الذِّرَاعِ وَكَانَ يَرَى أَنَّ الْيَهُودَ هُمْ سَمُّوهُ .
। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) একই সনদ বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহুর গোশত অধিক পছন্দ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, এই বাহুর গোশতেই বিষ মিশানো হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন, ইয়াহুদীরা এতে বিষ মিশিয়ে ছিলো।[1] সহীহ।
। কাবীসাহ ইবনু হুলব (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, সে বললো, এমন খাবার আছে কি যা আমি অপছন্দ করবো? তিনি বললেনঃ তোমার মনে যেন কোন হালাল বস্তু সংশয় সৃষ্টি না করে। তাহলে তুমি নাসারাদের সদৃশ হবে। কেননা তারা প্রত্যেক জিনিসে সংশয় বোধ করতো।[1] হাসান।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْجَلاَّلَةِ وَأَلْبَانِهَا .
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাল্লালার (যে প্রাণী নাপাক বস্তু খায়) গোশত খেতে ও তার দুধ পান করতে নিষেধ করেছেন।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
Sahih LighairihiShuaib Al Arnaut
DaifZubair Ali Zai
১১৯টির মধ্যে ৫০
১১৯টি বর্ণনা · নম্বর ৩৭৩৬–৩৮৫৪
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।