প্রতিটি বর্ণনার নিচে ডেটাসেটের নিজস্ব অনুবাদ হুবহু দেখানো হয়েছে। এতে অনুবাদকের নাম নেই, এর স্বত্ব যাচাই হয়নি, এবং কেউ এটি আরবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেননি; কিছু বর্ণনার অনুবাদ নেই। মূল পাঠ আরবি।
অনূদিত নববী হাদীসের বিশ্বকোষে (HadeethEnc.com) কোনো বর্ণনার হুবহু পাঠ থাকলে, তার অনুবাদ সেই বর্ণনার নিচে উৎসের নামসহ দেখানো হয়েছে। দুটিকে প্রোগ্রামের সাহায্যে, কেবল আরবি পাঠ দেখে মেলানো হয়েছে: বিশ্বকোষের হাদীসের পুরো পাঠ, তাতে উল্লেখিত সাহাবীর নামসহ, বর্ণনাটির শেষ অংশের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে এক। এই মিল কেউ যাচাই করেননি, এবং সাবীলের পর্যালোচকেরা অনুবাদটি পরীক্ষা করেননি। মূল পাঠ আরবি।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। (আল্লাহর বাণী) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম পালন ফরয করা হয়েছে যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৩)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় (ইসলামের প্রথম যুগে) লোকেরা যখন এশার সালাত আদায় করতো তখন থেকে তাদের উপর খানাপিনা ও স্ত্রী-সহবাস হারাম হয়ে যেতো এবং তারা পরবর্তী রাত পর্যন্ত সওম পালন করতো। কিন্তু এক ব্যক্তি নফসের উপর খিয়ানাত করে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলে, অথচ সে এশার সালাত আদায় করেছে কিন্তু তখনও সে পূর্বের সওমের ইফতার করেনি। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ যেসব সাহাবী এ অন্যায়ে লিপ্ত হয়নি তাদের প্রতি সহনশীল ও কল্যাণ প্রদর্শনের ইচ্ছা করলেন এবং বললেনঃ ‘‘আল্লাহ জানেন, তোমরা নিজেদের নফসের সাথে খিয়ানাত করছিলে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৭)। এর দ্বারা আল্লাহ মানুষের উপকার করেছেন এবং এটা তাদের জন্য সহজ ও ঐচ্ছিক করে দিয়েছেন।[1] হাসান সহীহ।
। আল-বারাআ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন সওম পালন করতো তখন তাদের কেউ যদি কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়তো তাহলে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে কিছুই খেতে পারতো না। সিরমা ইবনু কায়িস আল-আনসারী (রাযি.) সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? স্ত্রী বললেন, না, তবে আমি খুঁজে দেখি আপনার জন্য কিছু যোগাড় করতে পারি কিনা। স্ত্রী খাবারের সন্ধানে গেলে স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো। স্ত্রী ফিরে এসে এ অবস্থা দেখে বললেন, তোমার জন্য বঞ্চনা। (ক্ষুদার কারণে) পরদিন দুপুর না হতেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ দিন তিনি নিজ ভূমিতে কাজকর্ম করছিলেন। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করা হলে আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘রামাযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়াতটির ‘ভোর পর্যন্ত’ তিলাওয়াত করেন।[1] সহীহ।
। সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহর বাণী) ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদের কারোর ইচ্ছে হলে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতে চাইলে তাই করতো। অতঃপর পরবর্তী আয়াত (২ঃ ১৮৫) দ্বারা উপরের প্রথম বিধানটি মানসূখ হয়ে যায়।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
Hasan SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (4507) Sahih Muslim (1145)Zubair Ali Zai
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর যে লোক প্রতিদিন খাওয়াতে সক্ষম ছিলো সে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতো, এভাবে তার সিয়াম পূর্ণ হতো। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘আর যে ব্যক্তি অধিক সাদাকাহ করবে তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা সওম পালন করো তবে তা অধিক উত্তম’’ আল্লাহ আরো বলেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা এ মাসে উপনীত হবে তারা সওম পালন করবে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে।’’[1] হাসান।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর বাণীঃ ‘‘যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৪)। তিনি বলেন, এ আয়াতে অতিবৃদ্ধ ও বৃদ্ধার জন্য সওম ভঙ্গের বিধান রয়েছে। এরা উভয়ে যখন সওম পালনের শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, এমতাবস্থায় সওম না রেখে প্রত্যেক দিন একজন মিসকীনকে খাবার দিবে। গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারিণী সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে তাদের জন্যেও সওম ভঙ্গের অনুমতি আছে।[1] শাযঃ ইরওয়া (৯১২)।
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা ‘উম্মী জাতি, লিখতে জানি না, হিসাব করতেও জানি না। তবে মাস এতো দিনে, এতো দিনে এবং এতো দিনে হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, সুলায়মান তৃতীয়বারে একটি আঙ্গুল গুটিয়ে নেন। অর্থাৎ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে এবং কখনো ত্রিশ দিনে হয়।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1913) Sahih Muslim (108)Zubair Ali Zai
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে হয়। সুতরাং চাঁদ না দেখে তোমরা সওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন বন্ধও করবে না। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণেও চাঁদ দেখা না গেলে তোমরা মাস ত্রিশদিন পুরা করবে। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ইবনু উমার (রাযি.) শা‘বানের ঊনত্রিশ দিনে পৌঁছলে আকাশের দিকে তাকাতেন, যদি চাঁদ দেখতে পেলে সওম রাখতেন। কিন্তু যদি না দেখতে পেতেন অথচ আকাশ মেঘ বা কুয়াশামুক্ত রয়েছে, তাহলে সওম রাখতেন না। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতো তাহলে তিনি পরদিন সওম রাখতেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু উমার (রাযি.) সেদিন সওম সমাপ্ত করতেন যেদিন লোকেরা ইফতার করতো (মাস শেষ করতো)। কিন্তু তিনি ঐ সওমটি গণনায় ধরতেন না।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنِي أَيُّوبُ، قَالَ كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَهْلِ الْبَصْرَةِ بَلَغَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَادَ وَإِنَّ أَحْسَنَ مَا يُقَدَّرُ لَهُ إِذَا رَأَيْنَا هِلاَلَ شَعْبَانَ لِكَذَا وَكَذَا فَالصَّوْمُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لِكَذَا وَكَذَا إِلاَّ أَنْ تَرَوُا الْهِلاَلَ قَبْلَ ذَلِكَ .
। আইয়ূব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনু আব্দুল ‘আযীয (রহ.) বাসরাহ্ অধিবাসীদের কাছে লিখে পাঠালেন, ইবনু উমার (রাযি.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে যেভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা হুবহু অমুক অমুক তারিখে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। তবে গণনার উত্তম পন্থা হলো, যখন আমরা শা‘বানের চাঁদ দেখবো তখন ইনশাআল্লাহ সওম রাখবো। তবে যদি এক দিন পূর্বেই (ঊনত্রিশে শা‘বানের) চাঁদ দেখা যায় তাহলে সেই হিসেবে সওম রাখবো।[1] সহীহ মাকতূ’।
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ত্রিশ দিন সওম পালনের তুলনায় বেশিরভাগই ঊনত্রিশ দিন সওম পালন করেছি।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " .
। আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ঈদের মাস সাধারণত ঊনত্রিশ দিনে হয় না। তা হলো রমাযান এবং যিলহজ মাস।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
Sahih Bukhari (1912) Sahih Muslim (1089)Zubair Ali Zai
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَفَّظُ مِنْ شَعْبَانَ مَا لاَ يَتَحَفَّظُ مِنْ غَيْرِهِ ثُمَّ يَصُومُ لِرُؤْيَةِ رَمَضَانَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِ عَدَّ ثَلاَثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامَ .
। আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ কায়িস (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাসের হিসাব এতো গুরুত্ব সহকারে রাখতেন যে, অন্য কোনো মাসের হিসাব ততোটা গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন না। অতঃপর তিনি রমাযানের চাঁগদ দেখেই সওম পালন করতেন। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তিনি শা‘বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর সওম রাখতেন।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الضَّبِّيُّ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُقَدِّمُوا الشَّهْرَ حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثُمَّ صُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ سُفْيَانُ وَغَيْرُهُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُسَمِّ حُذَيْفَةَ .
। হুযাইফাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখে কিংবা শা‘বানের ত্রিশ দিন পূর্ণ না করে (রমাযানকে) এগিয়ে আনবে না। আর (শাওয়াল মাসের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত অথবা রমাযানের ত্রিশ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সওম পালন করতে থাকবে। কতিপয় এ হাদীস বর্ণনায় হুযাইফাহ (রাযি.)-এর নাম উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমাযান মাস আগমনের একদিন অথবা দু‘দিন পূর্বে সওম পালন করবে না। তবে কেউ যদি (প্রতি মাসে) ঐ তারিখে সওম পালনে অভ্যস্ত হয়, সে রাখতে পারে। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখে সওম পালন করবে না এবং শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম অব্যাহত রাখবে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তবে সওম ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে, অতঃপর সওম ভঙ্গ করবে। আর মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাতিম ইবনু আবূ সাগীর, শু‘বাহ ও হাসান ইবনু সালিহ ‘সিমাক’ থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা ‘‘সওম ভঙ্গ করবে’’ এ কথাটি বর্ণনা করেননি।[1] সহীহ।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি শা‘বানের শেষ দিকে সওম রেখেছো? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সওম রাখোনি, তখন (রমাযানের শেষে) একদিন বা দুই দিন সওম রাখবে।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1983) Sahih Muslim (1161)Zubair Ali Zai
। আবুল আযহার আল-মুগীরাহ ইবনু ফারওয়াহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মু‘আবিয়াহ (রাযি.) হিমস শহরের প্রবেশ দ্বারে অবস্থিত মুসতাহিল বাজারে লোকদের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনগণ! আমরা অমুক দিন, অমুক দিন চাঁদ দেখেছি। সুতরাং আমরা সওম আরম্ভ করতে যাচ্ছি। আর যে ব্যক্তি ভালো মনে করে সে যেন এরূপ করে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মালিক ইবনু হুবাইরাহ আস-সাবঈ দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে মু‘আবিয়াহ! আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কিছু শুনেছেন, নাকি আপনার ব্যক্তিগত অভিমত? মু‘আবিয়াহ (রাযি.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা শা‘বান মাসে সওম পালন করো এবং বিশেষভাবে এর শেষদিকে।[1] দুর্বল।
। আবূ মুসহির (রহ.) বলেন, সাঈদ ইবনু ‘আব্দুল ‘আযীয (রহ.) বলতেন, ‘সাররাহ’ অর্থ শা‘বানের প্রথমভাগ।[1] শায। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, কারো মতে, মাসের মধ্যভাগ, কারো মতে, শেষভাগ। সহীহঃ মাসের শেষভাগ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব (রহ.) বলেন, উম্মুল ফাদল বিনতুল হারিস তাকে মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-এর নিকট সিরিয়াতে কোনো দরকারে পাঠালেন। কুরাইব বলেন, আমি সিরিয়া এসে তার কাজটি পুরা করি। এমতাবস্থায় রমাযানের চাঁদও উদিত হলো। আমরা সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখি। রমাযানের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরে এলে ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বিভিন্ন আলোচনার পর চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কখন চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, আমি বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি স্বচক্ষে চাঁদ দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সওম রেখেছে আর মু‘আবিয়াহ (রাযি.)-ও সওম রেখেছেন। তিনি বললেন, আমরা চাঁদ দেখেছি শুক্রবার সন্ধ্যায়। সুতরাং আমরা ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়া অথবা (শাওয়ালের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন অব্যাহত রাখবো। তখন আমি বললাম, মু‘আবিয়াহর চাঁদ দেখা ও তাঁর সওম পালন কি আপনার সওম পালন ও ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি উত্তর দিলেন, না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরূপই নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
। আল-হাসান (রহ.) সূত্রে কোনো এক শহরের অধিবাসী সম্পর্কে বর্ণিত। লোকটি সোমবার সওম পালন করে এবং দুই ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা রবিবার দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছে। তিনি বললেন, ঐ লোক এবং তার অধিবাসীকে সওম কাযা করতে হবে না যতক্ষণ না তারা জানতে পারে যে, ঐ জনপদের লোকেরা রবিবার সওম পালন করেছে। তাহলে তারা সওমের কাযা করবে।[1] সহীহ মাকতূ’।
। সিলাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সন্দেহজনক দিনে আম্মাম (রাযি.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন একটি ভূনা বকরী সেখানে উপস্থিত করা হলে কিছু লোক এক দিকে সরে গেলো (খাওয়া থেকে বিরত থাকলো)। তখন আম্মার (রাযি.) বললেন, যে ব্যক্তি সন্দেহজনক দিনে সওম রেখেছে, সে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাফরমানী করেছে।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা রমাযানের একদিন অথবা দু‘দিন পূর্বে সওম রাখবে না। অবশ্য কেউ প্রতি মাসে ঐ তারিখে সওম পালনে অভ্যস্ত হলে সে রাখতে পারে।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1914) Sahih Muslim (1082)Zubair Ali Zai
। উম্মু সালামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাস ছাড়া বছরের পূর্ণ একটি মাস কখনো সওম রাখতেন না। তিনি সওম অব্যাহত রেখে শা‘বানকে রমাযানের সাথে মিলাতেন।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَدِمَ عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ الْمَدِينَةَ فَمَالَ إِلَى مَجْلِسِ الْعَلاَءِ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَأَقَامَهُ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا انْتَصَفَ شَعْبَانُ فَلاَ تَصُومُوا " . فَقَالَ الْعَلاَءُ اللَّهُمَّ إِنَّ أَبِي حَدَّثَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ وَشِبْلُ بْنُ الْعَلاَءِ وَأَبُو عُمَيْسٍ وَزُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الْعَلاَءِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لاَ يُحَدِّثُ بِهِ قُلْتُ لأَحْمَدَ لِمَ قَالَ لأَنَّهُ كَانَ عِنْدَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ وَقَالَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خِلاَفَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ هَذَا عِنْدِي خِلاَفَهُ وَلَمْ يَجِئْ بِهِ غَيْرُ الْعَلاَءِ عَنْ أَبِيهِ .
। আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন, ‘আব্বাদ ইবনু কাসীর (রহ.) মদীনাহয় আগমন করে আল-আ‘লা (রহ.)-এর মাজলিসে উপস্থিত হলেন। তিনি তার হাত ধরে তাকে দাঁড় করালেন, অতঃপর বললেন, হে আল্লাহ! এ লোকটি তার পিতার সূত্রে আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তোমরা (নফল) সওম রাখবে না। আল-আ‘লা বলেন, আল্লাহ সাক্ষী, আমার পিতা আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উক্ত হাদীস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আস-সওরী, শিবল ইবনুল আলা, উমাইস ও যুহাইর ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) আল-আ‘লা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রহমান (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন না। আম ইমাম আহমাদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি, তা কেন? তিনি বলেন, তার কাছে হাদীস রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম পালনের দ্বারা শা‘বানকে রমাযানের সাথে মিলাতেন। কিন্তু আল-আ‘লা (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বিপরীত বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, আমার মতে, দুই হাদীসের মধ্যে বিরোধ নেই। আল-আ‘লা ছাড়া অন্য কেউ এটি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেননি।
। হুসাইন ইবনুল হারিস আল-জাদালী (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা মক্কায় আমীর ভাষণ প্রদানের সময় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে চাঁদ দেখে হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠান আদায়ের উপদেশ দিয়েছেন। যদি চাঁদ না দেখি তাহলে দু‘জন নিষ্ঠাবান ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যেন আমাদের হজের (হজ্জের) অনুষ্ঠানাদি পালন করি। আবূ মালিক (রহ.) বলেন, আমি হুসাইন ইবনুল হারিস (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি, মক্কার আমীর কে? তিনি বলেন, আমার জানা নেই। পরবর্তীতে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, মক্কার আমীর হলেন মুহাম্মাদ ইবনু হাতিবের ভাই হারিস ইবনু হাতিব। অতঃপর উক্ত আমীর বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি আমার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত। আর তিনিই একথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন। একথা বলে তিনি এক লোকের দিকে ইঙ্গিত করলেন। হুসাইন (রহ.) বলেন, আমার পাশে বসা এক বৃদ্ধ লোককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমীরের ইঙ্গিগকৃত এই লোকটি কে? তিনি বললেন, ইনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.)। তিনি যে বলেছেন, (ইবনু উমার) আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত, তাও সঠিক। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযি.) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْمُقْرِئُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ فَقَدِمَ أَعْرَابِيَّانِ فَشَهِدَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّهِ لأَهَلاَّ الْهِلاَلَ أَمْسِ عَشِيَّةً فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ أَنْ يُفْطِرُوا زَادَ خَلَفٌ فِي حَدِيثِهِ وَأَنْ يَغْدُوا إِلَى مُصَلاَّهُمْ .
। রিব‘ঈ ইবনু হিরাশ (রহ.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের শেষদিন সম্পর্কে লোকদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দিলো, এমতাবস্থায় দু‘জন বেদুঈন এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দিলেন যে, তারা উভয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে সওম ভঙ্গ করার নির্দেশ দিলেন। খালফ (রহ.) তার হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে সকালে তাদের ঈদগাহে গমনের নির্দেশ দিয়েছেন।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, আমি রমাযানের চাঁদ দেখেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে বিলাল! ঘোষণা করে দাও, লোকেরা যেন কাল সওম পালন করে।[1] দুর্বলঃ মিশকাত (১৯৭৮), যঈফ সুনান তিরমিযী (১০৮/৬৯৪), যঈফ সুনান নাসায়ী (১২১/২১১২), যঈফ সুনান ইবনু মাজাহ (৩৬৪), ইরওয়া (৯০৭)।
। ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা সাহাবীগণ রমাযানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হলে তারা তারাবীহ না পড়া ও সওম না রাখার ইচ্ছা করেন। এমন সময় হাররাহ এলাকা থেকে এক বেদুঈন এসে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বললো, হ্যাঁ, এবং সে সাক্ষ্য দিলো যে, সে চাঁদ দেখেছে। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযি.)-কে নির্দেশ দিলেনঃ লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, তারা যেন কিয়াম করে এবং সওম রাখে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, হাদীসটি এক জামা‘আত সিমাকের মাধ্যমে ইকরিমাহ (রহ.) সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি একে মারফূ করেছেন। তবে হাম্মাদ (রহ.) ছাড়া কেউই কিয়াম তথা তারাবীহ সালাতের কথা উল্লেখ করেননি।[1] দুর্বল।
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রমাযানের চাঁদ অন্বেষণ করছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। অতঃপর তিনি নিজেও সওম রাখলেন এবং লোকদেরকেও রমাযানের সওম পালনের নির্দেশ দিলেন।[1] সহীহ।
। আমর ইবনুল আস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও আহলে কিতাবের সওমের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সাহারী খাওয়া।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে আযান দেয় (বা আহবান জানায়) রাতের সালাত আদায়কারীদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য, আর যারা ঘুমিয়েছিল তাদেরকে জাগ্রত করতে। আর এরূপ না হওয়া পর্যন্ত ফজর হয় না। ইয়াহইয়া (রহ.) হাতের তালুকে একত্র করে বলেন, এরূপ, ইয়াহইয়া তর্জননীদ্বয়কে প্রসারিত করেন।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (621) Sahih Muslim (1093)Zubair Ali Zai
। কায়িস ইবনু তালক (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ খাও এবং পান করো। ঊর্ধ্বাকাশে ভোরের যে লম্বা রেখা ফুটে উঠে, তা যেন তোমাদেরকে (সাহারী খাওয়া থেকে) বিরত না রাখে। সুতরাং আকাশের দিগন্তে লাল রঙ্গের ফর্সা ফুটে উঠা পর্যন্ত তোমরা খাও এবং পান করো।[1] হাসান সহীহ।
। ‘আদী ইবনু হাতিম (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না রাতের কালো সুতা থেকে ভোরের সাদা সুতা (রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত হয়’’ (সূরা আল-বাকারাহঃ ১৮৭)। তখন আমি একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের সুতা নিয়ে আমার বালিশের নীচে রাখি। এরপর আমি তা দেখতে থাকি কিন্তু তা স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি হেসে হেসে উঠলেন এবং বললেনঃ বালিশ তো দৈঘ্য প্রস্থকারী। বরং এটা হচ্ছে রাত ও দিন। উসমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ তা তো রাতের অন্ধকার এবং দিনের শুভ্রতা।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1916) Sahih Muslim (1090)Zubair Ali Zai
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ ফজরের আযান শুনতে পায় অথচ খাবারের পাত্র তার হাতে থাকে, সে যেন তা রেখে না দেয় যতক্ষণ না তার প্রয়োজন পূরন হয়।[1] হাসান সহীহ।
। ‘আসিম ইবনু উমার (রাযি.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন এদিক (পূর্বদিকে) থেকে রাত আসে এবং এদিক(পশ্চিম দিক) থেকে দিন তিরোহিত হয় অর্থাৎ সূর্য অস্তমিত যায়, তখন সওম পালনকারীর ইফতারের সময়।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1954) Sahih Muslim (1100)Zubair Ali Zai
। আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাযি.) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে গেলাম। তখন তিনি সওম পালনরত ছিলেন। সূর্য ডুবে গেলে তিনি বললেনঃ হে বিলাল! সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সন্ধ্যা হতে দিন। তিনি বললেনঃ সওয়ারী থেকে নেমে আমাদের জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখনো তো দিন বাকী আছে। তিনি আবারও বললেনঃ নামো এবং আমাদের জন্য ছাতু বানাও। অতঃপর তিনি নেমে ছাতু তৈরী করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পান করে বললেনঃ যখন তোমরা এদিক (পূর্বদিক) থেকে রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে দেখবে তখনই সওম পালনকারীর ইফতার করবে। তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1955) Sahih Muslim (1101)Zubair Ali Zai
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَا وَمَسْرُوقٌ فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ قَالَتْ أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ . قَالَتْ كَذَلِكَ كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। আবূ ‘আতিয়্যাহ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও মাসরূক (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বলি, হে উম্মুল মু‘মিনীন! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজন সাহাবীর একজন সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করেন এবং খুব তাড়াতাড়ি (মাগরিবের) সালাত আদায় করে নেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন এবং সালাতও বিলম্বে আদায় করেন। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে ইফতার অনতিবিলম্বে করেন এবং সালাত তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বললাম, তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযি.)। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন।[1] সহীহ।
। মারওয়ান ইবনু সালিম আল-মুকাফফা‘ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু উমার (রাযি.)-কে তার দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে মুষ্টির বাড়তি অংশ কেটে ফেলতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেনঃ ‘পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, শিরা-উপশিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে।’[1] হাসান।
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় রমাযানে এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে ইফতার করার পূর্বে সূর্য প্রকাশ হয়ে পড়লো। আবূ উসামাহ (রহ.) বলেন, আমি হিশামকে বললাম, তাদেরকে কি তা কাযা করার নির্দেশ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, তা অবশ্যই করণীয়।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরতিহীন সওম পালন করতে নিষেধ করেছেন। লোকেরা বললো, আপনি তো সাওমে বিসাল রাখেন। তিনি বললেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। কেননা আমাকে পানাহার করানো হয়।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1962) Sahih Muslim (1102)Zubair Ali Zai
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা বিরতিহীন সওম পালন করো না। অবশ্য কেউ ‘সাওমে বিসাল’ করতে চাইলে সাহারী পর্যন্ত করতে পারে। সাহাবীরা বললেন, আপনি তো ক্রমাগত সওম পালন করেন? তিনি বলেনঃ আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। আমার খাদ্যদাতা ও পানীয়দাতা আছেন। তিনি আমাকে পানাহার করান।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি সওম পালন করেও মিথ্যা বলা ও অপকর্ম ত্যাগ না করে, তাহলে তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।[1] সহীহ।
উৎসে উল্লিখিত মান
SahihAl-Albani
SahihMuhammad Muhyi Al-Din Abdul Hamid
SahihShuaib Al Arnaut
Sahih Bukhari (1903)Zubair Ali Zai
১৬৪টির মধ্যে ৫০
১৬৪টি বর্ণনা · নম্বর ২৩১৩–২৪৭৬
আরবি পাঠ, নম্বর, অধ্যায়ের নাম ও মান — সবই একটি উন্মুক্ত ডেটাসেটে (hadith-api) যেমন আছে হুবহু তেমন দেখানো হয়েছে। সাবীল এখনও এর নির্ভুলতা বা স্বত্ব যাচাই করেনি, আর আলেমদের পর্যালোচনাও শুরু হয়নি। ততদিন কোনো বর্ণনার ওপর নির্ভর করার আগে ছাপা সংস্করণের সাথে মিলিয়ে নিন।